"রুডলফ কারনাপ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান সংশোধন
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
(বানান সংশোধন)
|era = [[বিংশ শতাব্দীর দর্শন]]
|image = |caption =
|name = রুডলফ কারনাপকারণাপ
|birth_date = {{জন্ম তারিখ|1891|5|18}}
|birth_place = [[রনস্‌ড্রফ]], [[Lennep district|লেনেপ]], [[Düsseldorf (region)|Düsseldorf]], [[রাইন প্রদেশ|রাইন]], [[প্রুশিয়া রাজত্ব|প্রুশিয়া]], [[জার্মান সাম্রাজ্য]]
|influenced = [[উইলিয়ার্দ ভ্যান অর্মান কুইন|কুইন]]{{·}}[[এ. জে. এয়ার|এয়ার]]{{·}}[[ইয়েহোসুয়া বার-হিলেল|বার-হিলেল]]{{·}}[[কার্ল পপার|পপার]]{{·}}[[আলফ্রেড তার্স্কি|তার্স্কি]]<br/> [[কুর্ট গ্যোডেল|গ্যোডেল]]{{·}}[[কার্ল গুস্তাভ হেম্পেল|হেম্পেল]]{{·}}[[হান্স রাইচেনবাক|রাইচেনবাক]]{{·}}[[ফ্রিড্রিশ ওয়াইজম্যান|ওয়াইজম্যান]]<br/> [[টমাস স্যামুয়েল কুন|কুন]]{{·}}[[আইমের লাকাতোস|লাকাতোস]]{{·}}[[ডোনাল্ড ডেভিডসন (দার্শনিক)|ডেভিডসন]]{{·}}[[মাইকেল দামেতি|দামেতি]]{{·}}[[ডেভিড লুইস (দার্শনিক)|লুইস]]<br/> [[নেলসন গুডম্যান|গুডম্যান]]{{·}}[[ডেভিড কাপলান (দার্শনিক)|কাপলান]]{{·}}[[উইলফ্রিড সেলার্স|সেলার্স]]{{·}}[[রিচার্ড জেফ্রি|জেফ্রি]]{{·}}[[হার্বার্ট এ. সিমন|সিমন]]
}}
'''রুডলফ কারনাপকারণাপ''' ([[জার্মান ভাষা|জার্মান]]: Rudolf Carnap) (মে ১৮, ১৮৯১ – সেপ্টেম্বর ১৪, ১৯৭০) একজন [[জার্মানি|জার্মান]] দার্শনিক যিনি ১৯৩৫ সালের আগে [[ইউরোপ|ইউরোপে]] এবং এরপর থেকে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে]] সক্রিয় ছিলেন। তিনি [[ভিয়েনা চক্র|ভিয়েনা চক্রের]] প্রধান সারির সদস্য এবং [[যৌক্তিক ইতিবাদ|যৌক্তিক ইতিবাদের]] প্রখ্যাত সমর্থক। <ref>http://texts.cdlib.org/view?docId=hb6h4nb3q7&doc.view=frames&chunk.id=div00004&toc.depth=1&toc.id=</ref>
==দার্শনিক কর্ম==
কারনাপকারণাপ [[জেনা বিশ্ববিদ্যালয়|জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে]] স্থান-কালের [[স্বতঃসিদ্ধ ব্যবস্থা]] নামের একটি থিসিস লেখার কাজ সম্পন্ন করেন। [[পদার্থবিদ্যা]] বিভাগের কাছে তার এ-থিসিস ‘খুব দার্শনিকতাপূর্ণ’ (Too much philosophical) এবং দর্শন বিভাগের [[:en:Bruno Bauch|ব্রুনো বাউখের]] কাছে ‘বিশুদ্ধ পদার্থবিদ্যা’ (pure physics) মনে হলো। ব্রুনো বাউখের দীক্ষায় এই থিসিস সম্পন্ন করার সময় তিনি সতর্কতার সাথে কান্তের ক্রিটিক অব পিওর রিজন (critique of pure reason) পড়েছিলেন। ব্রুনো বাউখের পরিদর্শনে তিনি আরো একটি থিসিস লেখার কাজ সম্পন্ন করেন, যেটা অনেকটা গোঁড়া কান্তীয় (Kantian)। এ-থিসিস ‘দার রউম’ (Der Raum, ১৯২২, বাংলায়, ‘স্থান’) নামে প্রকাশিত হয়েছিলো। এই থিসিসে তিনি ফরমাল, ফিজিক্যাল ও পারসেপচ্যুয়াল স্থানের (formal, physical and perceptual (e.g., visual) spaces) মধ্যকার পার্থক্য পরিষ্কার করেন।
[[গাণিতিক যুক্তিবিজ্ঞান|গাণিতিক যুক্তিবিজ্ঞানের]] [[গট্‌লব ফ্রেগে|গটলব প্রেগের]] কোর্সের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। ফ্রেগের কোর্সটা ছিল [[বার্ট্রান্ড রাসেল|বার্ট্রান্ড রাসেলের]] যুক্তিবিদ্যক ও দার্শনিক কাজের উপর। কোর্সটা থেকে তিনি একটা দার্শনিক বোধ লাভ করেন, যেটা পরবর্তীতে তার কাজের সহায়ক হয়েছিলো। তিনি যৌক্তিক অগ্রসরণের সাথে গতানুগতিক দর্শনকে অতিক্রম করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। তিনি রাসেলকে চিঠি লিখেছেন। রাসেল কারনাপেরকারণাপের উপকারের স্বার্থে তার Principia Mathematica থেকে একটা দীর্ঘ গদ্য দেওয়ার মাধ্যমে সাড়া দিয়েছেন। ১৯২৪ ও ১৯২৫ সালের দিকে তিনি ফেনোমেনোলজির প্রবর্তক এডমুন্ড হুসার্ল আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থিত হন।
কারনাপকারণাপ ১৯২৩ সালের কনফারেন্সে [[হ্যান্স রিচেনবাখ|হ্যান্স রিচেনবাখের]] সাথে যখন পরিচিত হন, তখন এক আত্মীযতামূলক প্রেরণা আবিষ্কার করেন। রিচেনবাখ তাকে [[ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়|ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের]] অধ্যাপক [[মরিস শ্লিক|মরিস শ্লিকের]] সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। শ্লিক কারনাপকেকারণাপকে পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে তার বিভাগে শিক্ষকতা করার সুযোগ করে দেন। তিনি [[ভিয়েনা চক্র|ভিয়েনা চক্রের]] সদস্য হন। এ-চক্রের সাথে বিখ্যাত আর যারা ছিলেন: হ্যান্স হ্যান, ফেডরিখ ভাইজম্যান, ওটো নিউরাথ ও হার্বাট ফেইগল। যখন [[লুডভিগ ভিতগেনস্তাইন|ভিতগেনস্তাইন]] ভিয়েনা পরিদর্শনে এসেছেন, তার সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান তিনি। তিনি হান ও নিউরাথের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯২৯ সালে ভিয়েনা চক্রের মেনিফেস্টো রচনা করেন এবং হ্যান্স রিচেনবাখের সাথে দর্শন-জার্নাল ''[[:en:Erkenntnis|Erkenntnis]]'' সম্পাদনা করেন।
 
===যৌক্তিক ইতিবাদ===
রুডলফ কারনাপকারণাপ [[যৌক্তিক ইতিবাদ|যৌক্তিক ইতিবাদের]] প্রখ্যাত প্রখ্যাত সমর্থক।
==== ছদ্ম-বাক্য====
ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণের উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি [[অধিবিদ্যা]] বর্জন করেন। অধিবিদ্যার বাক্যগুলোকে প্রকৃত বাক্য হিসেবে গণ্য না করে ছদ্ম-বাক্য হিসেবে গণ্য করেন। ফলে এগুলো সত্য মিথ্যা কোনোটাই নয়, বরং অর্থহীন। যেসব বাক্য আপাতদৃষ্টিতে বাক্য বলে প্রতীয়মান হয়, কিন্তু ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণে টিকে না, সেগুলোকে তিনি ছদ্ম-বাক্য বা ছদ্ম-বচন (pseudo-statement) বলে উল্লেখ করেন। দু’ধরনের ছদ্ম-বাক্য আছে বলে তিনি মনে করেন: প্রথমত, এমন কতগুলো [[অধিবিদ্যা|অধিবিদ্যক]] বচন রয়েছে, যেগুলোর প্রায়োগিক মূল্য আছে বলে সাধারণভাবে মনে করা হয়, কিন্তু ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণে পড়ে এগুলো ব্যবহারিক গুরুত্ব হারায়; দ্বিতীয়ত, আরেক ধরনের ছদ্ম-বাক্য রয়েছে যার অন্তর্ভুক্ত শব্দগুলো অর্থপূর্ণ হলেও ভাষার যৌক্তিক অন্বয়ের (Logical Syntax of Language) নিয়ম লঙ্ঘনের ফলে অর্থহীন হয়ে পড়ে। অধিবিদ্যক বাক্যগুলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বলে অর্থহীন। অভিজ্ঞতাভিত্তিক [[ভাষা]] এমন সব শব্দ নিয়ে গঠিত যেগুলোর অর্থ ইন্দ্রিয়-প্রত্যক্ষণ থেকে প্রাপ্ত। অধিবিদ্যা অতীন্দ্রিয় সত্তা সম্পর্কে আমাদের কোনো নতুন তথ্য দেয় না। ফলে, সত্তা সম্পর্কীয় এসব বাক্য অর্থহীন।
 
====যাচাইকরণ নীতি====
কারনাপকারণাপ অন্যান্য যৌক্তিক ইতিবাদীর মতোই উল্লেখ করেন, কোনো বাক্য অর্থপূর্ণ হতে হলে তার যাচাইযোগ্যতা (verifiability) থাকতে হবে। তিনি দু’ধরনের যাচাইয়ের কথা উল্লেখ করেন: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ। প্রটোকল (protocol) উক্তি বা বাক্যকেই সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যায়। কারণ এগলো অভিজ্ঞতার আওতায় রয়েছে। পক্ষান্তরে, অন্যান্য বাক্য, যেমন- একক বা বিশিষ্ট (singular proposition) ও সঠিক জাতীয় বাক্য কেবল পরোক্ষভাবে যাচাই করা যায়। পরোক্ষ যাচাই বলতে কারনাপকারণাপ বুঝিয়েছেন যে, যাচাইযোগ্য কোনো বাক্যকে অন্যান্য পূর্ব-যাচাইকৃত বাক্যের সাথে এমনভাবে নেওয়া যায়, যার ফলে এগুলোকেও প্রত্যক্ষভাবে যাচাইযোগ্য করা যায়। ‘পরম সত্তা অস্তিত্বশীল’ জাতীয় তত্ত্ববিদ্যক বা অধিবিদ্যক বাক্যকে কোনোভাবেই যাচাই করা যায় না। সুতরাং এ-জাতীয় বাক্য সত্যও নয়, মিথ্যাও নয়, বরং অর্থহীন।
 
কারনাপকারণাপ পরবর্তীতে ‘যাচাইযোগ্য’ (verifiable) শব্দটি বাদ দিয়ে ‘পরীক্ষাযোগ্য’ (testable) ও ‘নিশ্চয়যোগ্য’ (confirmable) শব্দের পেছনে ধাবিত হন।<ref>হালিম, মো. আবদুল, দার্শনিক প্রবন্ধাবলি : তত্ত্ব ও বিশ্লেষণ, মে ২০০৩, বাংলা একাডেমি, ঢাকা</ref> যে বাক্যের অভিজ্ঞতাভিত্তিক বা প্রায়োগিক মূল্য নেই সেই বাক্য অর্থহীন বলে তিনি মত দেন। অধিবিদ্যা ও নীতিবিদ্যার বাক্যগুলো অভিজ্ঞতাভিত্তিক ভাষায় প্রকাশ করা যায় না বলে এগুলো অর্থহীন।
 
====বাক্য====
কারনাপকারণাপ বলেন, দর্শনের একমাত্র কাজ হচ্ছে বিজ্ঞানের বাক্যসমূহকে যৌক্তিক বিশ্লেষণ করা এবং দর্শন ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণ ছাড়া আর কিছু নয়। দর্শনের অধিকাংশ কার্যাবলিই যুক্তিবিদ্যক। তার মতে, অসমাধানযোগ্য জটিল সমস্যা সম্বলিত [[দর্শন]] নামে পরিচিত বিদ্যার স্থান লজিক অব সায়েন্স (logic of science) দখল করে নেয়। কারনাপকারণাপ তিন ধরনের [[বাক্য|বাক্যের]] কথা উল্লেখ করেন, যেমন- পদান্বয়ী বাক্য (syntactical sentence), বস্তুসংক্রান্ত বাক্য (object sentence) ও ছদ্ম-বস্তুসংক্রান্ত বাক্য (pseudo object sentence)। পদান্বয়ী বাক্য ভাষার বর্ণনা দেয়। বস্তুসংক্রান্ত বাক্য প্রাকৃতিক বস্তুর বর্ণনা দেয় এবং ছদ্ম-বস্তুসংক্রান্ত বাক্য বস্তুসংক্রান্ত বাক্য বলে প্রতীয়মান হলেও বিশ্লেষণে পদান্বয়ী বাক্য বলে ব্যক্ত হয়। এভাবে কারনাপকারণাপ বিজ্ঞানের বাক্যসমূহকে যৌক্তিক বিশ্লেষণ বলে প্রদর্শন করেন এবং ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণই দর্শনের কাজ বলে অভিমত দেন।
 
== তথ্যসূত্র ==
* {{বই উদ্ধৃতি |শিরোনাম=The Cambridge companion to Quine |সম্পাদক=রজার এফ গিবসন |আইএসবিএন=0521639492 |বছর=২০০৪ |ইউআরএল=http://books.google.com/books?id=87BcFLgJmxMC&printsec=frontcover |প্রকাশক=কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস |ইউআরএল=http://books.google.com/books?id=Kvw-n1JIXHkC}}
* {{বই উদ্ধৃতি |শিরোনাম=In Search of Mathematical Roots |লেখক=[[আইভর গ্রাটন-গীনিস]] |আইএসবিএন=0521840155 |বছর=২০০০ |ইউআরএল= |প্রকাশক=প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি প্রেস}}
* {{বই উদ্ধৃতি |শিরোনাম=রুডলফ কারনাপকারণাপ (গ্রন্থ) |লেখক=[[টমাস মরমান]] |আইএসবিএন=0521840155 |বছর=২০০০ |ইউআরএল= |প্রকাশক=মানচেন, বেক}}
* [[উইলিয়ার্দ কুইন]]
** {{বই উদ্ধৃতি |শিরোনাম=The Philosophical Review 60: 20–43 |লেখক=[[টমাস মরমান]] |আইএসবিএন= |বছর=১৯৫১ (পুনর্মুদ্রন ১৯৫৩) |ইউআরএল= |প্রকাশক=হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস}}
{{কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ}}
 
{{পূর্বনির্ধারিতবাছাই:কারনাপকারণাপ, রুডলফ}}
[[বিষয়শ্রেণী:বিংশ শতাব্দীর দার্শনিক]]
[[বিষয়শ্রেণী:মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জার্মান দেশান্তরী]]
১২,০০৫টি

সম্পাদনা