"বেশান্তর" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান সংশোধন
(বিষয়শ্রেণী:পোষাক সরিয়ে মূল বিষয়শ্রেণী বিষয়শ্রেণী:পোশাক স্থাপন)
(বানান সংশোধন)
যেসব ব্যক্তি বেশান্তরের কাজটিতে উত্তেজক যৌনতার অনুভূতি পান, তাদের [[বেশান্তরকামী]] (Transvestic fetishist) বলে। এরা অবশ্য যৌন পরিচয়ে প্রধানত [[বিষমকামী]] পুরুষ, কিন্তু মেয়েদের পোশাক পরা তথা 'মেয়ে সাজা'র প্রতি অদম্য চোরা যৌন আকর্ষণ থাকে এই ছেলেদের।
 
পুরুষ বেশান্তরকারীরা তাদের পুরুষ পোশাকের নীচেনিচে মহিলাদের [[অন্তর্বাস]] পরা-কে ''অন্তর্বসন'' (Underdressing) বলেন। বিখ্যাত চিত্রপরিচালক এডওয়ার্ড ডি. উড স্বীকার করেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীর পোশাকের নীচেনিচে তিনি প্রায়ই মেয়েদের অন্তর্বাস পরতেন।
 
কিছু মানুষ বেশান্তর করার সাথে সাথে নিজের চালচলন, কথা বলার ভঙ্গি, এমনকি যৌন চরিত্র বদলে নিজেকে বিপরীত লিঙ্গের একজন হিসেবে পরিপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেন। অর্থাৎ তিনি নিজেকে বেশান্তরকারী হিসেবে পরিচয় দেন না, বরং বিপরীত লিঙ্গের মানুষ হিসেবে বাঁচার বা “সময় কাটানো”র চেষ্টা করেন। এই প্রক্রিয়ায় ওই বেশান্তরকারীকে জনসমক্ষে আসতে হয়, তাই তিনি অন্য ব্যক্তির হাতে ধরাও পরতে পারেন। ছেলেরা কীভাবে আরো মেয়েলি চেহারা পেতে পারে— তা নিয়ে প্রচুর ভিডিও, বই আর ম্যাগাজ়িন রয়েছে।
আসলে কোন্‌টা বেশান্তর, আর কোন্‌টা নয় — তার সংজ্ঞা তৈরি করেছে আমাদের সমাজই। যেমন, পাশ্চাত্য সমাজে মহিলারা বহুকাল থেকে পোশাক হিসেবে ট্রাউজার পরে আসছে, তাই এটিকে কখনোই বেশান্তর বলা হয় না। আবার কিছু সংস্কৃতিতে পুরুষেরা [[লুঙ্গি]] ও কিল্টের মতো ঘাঘরা বা স্কার্ট-জাতীয় বস্ত্র পরে, এগুলিকে মেয়েদের পোশাক হিসেবে গণ্য হয় না, এবং এগুলি পরিধান করলেও কাউকে বেশান্তরকারী পুরুষ বলা চলে না। সামাজিক ব্যবস্থায় বিশ্বায়নের প্রভাব যত বাড়ছে, নারী-পুরুষ উভয়েই পোশাকের ক্ষেত্রে সংস্কৃতির আদান-প্রদান করছে। স্কার্টকে পুরুষদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য পোশাক হিসেবে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য ফ্যাশন ডিজাইনাররা বিক্ষিপ্ত কিছু প্রচেষ্টা করেছেন।
 
কস্‌প্লে (Cosplay বা চরিত্রান্তর) হল বেশান্তর করে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করা, যেখানে মেয়েরা পুরুষ সাজেন, অথবা উল্টোটাও হতে পারে। পুরুষ চরিত্রে অভিনয় করার জন্য মহিলাদের ‘স্তন বাইন্ডিং’ করাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। দেহগঠনে বেশি করে নারীত্ব আনতে পুরুষ বেশান্তরকারীরা পোশাকের নীচেনিচে বিভিন্ন সিলিকন ''ব্রেস্ট ফর্ম'' বা কৃত্রিম স্তন ব্যবহার করেন, যা সাধারণত শারীরিক ত্রুটির কারণে নারীরাই ব্যবহার করেন।
 
পোশাক-নির্বাচনে নারী বেশান্তরকারীরা অনেকটাই উন্মুক্ত, যে-কোনো পুরুষের পোশাক পরতে পারেন। ছেলেদের জন্য বেশান্তর অনেক বৈচিত্র্যময়। বেশিরভাগ শখের পুরুষ বেশান্তরকারী যদিও আধুনিক হালকা নারীপোশাক পছন্দ করেন, কিন্তু বেশান্তরকামী বা ফেটিশিস্ট পুরুষেরা যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় ও খোলামেলা পোশাক পরতে ভালোবাসেন। তাদের কথায়, তারা এই মেয়েলি পোশাক গায়ে দিয়ে প্রচণ্ড উত্তেজিত হন ও মজা পান। তাই তারা ব্রাইডাল গাউন, [[ব্রা]], সুইমওয়্যার, হিল জুতো, স্টকিং পরে নিজেদের আবিষ্কার করতে থাকেন। ফিতে ও জড়ির কাজ-করা সাবেকি বস্ত্র আর ছোট মেয়েদের [[ফ্রক]] এদের অত্যন্ত প্রিয়। ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষ বেশান্তরকারীরা বিলিতি পোশাকের চেয়ে [[শাড়ি]], [[ব্লাউজ|ব্লাউজ়]], চুড়িদারের মতো দেশীয় পোশাকেই বেশি স্বচ্ছন্দ। এরা নিজেদের বধূবেশে দেখতে পছন্দ করেন, তাই, বেশান্তরের সময় [[সিঁদুর]], [[চুড়ি]], গয়নাতেও নিজেদের সাজান।
৫০,১৩৭টি

সম্পাদনা