"হামিদুজ্জামান খান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

==শৈল্পিক ধারা==
হামিদুজ্জামান খান তাঁর ভাস্কর্য প্রধানত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, পাখি, মানব শরীর ও নৈসর্গিক উপাদানকে বিষয়বস্তু করে নির্মাণ করেন। এছাড়া বেশ কিছু ভাস্কর্যে তাঁর ব্যক্তিগত স্মৃতি ও অভিজ্ঞতাও বিষয়বস্তু হিসেবে স্থান পেয়েছে। তাঁর অধিকাংশ ভাস্কর্য ব্রোঞ্জ ও ইস্পাতে তৈরি। তবে তিনি পাথর, অ্যালুমিনিয়াম, সাদা গ্রানাইট, মার্বেল এবং মিশ্র-মাধ্যমেও কাজ করেছেন। তাঁর বৃহদায়তনের ভাস্কর্যগুলি সাধারণত কংক্রিট ও ব্রোঞ্জে তৈরি। কর্মজীবনের প্রথমদিকে তিনি এক্সপ্রেশনিস্ট ধারায় ভাস্কর্য নির্মাণ করলেও ২০০০-এর পরবর্তী কাজগুলোতে মিনিমালিজম বা অল্পায়ন বৈশিষ্ট্য প্রাধান্য পেয়েছে। কর্মজীবনের দ্বিতীয় ভাগে হামিদ ফর্মের পরিমিতি ও শুদ্ধতা অন্বেষণে জোড় দিয়েছেন। তাছাড়া উপাদানের অন্তর্গত স্বভাব ও ক্ষমতাও তিনি নিরীক্ষা করেন। তাঁর ভাস্কর্যের বিন্যাসে স্থাপত্যিক ও জ্যামিতিক আকৃতির প্রয়োগ রয়েছে। হামিদের ভাস্কর্য সম্পর্কে বিশিষ্ট শিল্প-সমালোচক মইনুদ্দীন খালেদ লিখেছেন:
<blockquote> ''"হামিদেরহামিদ ষাটের দশকের হলেও উত্থান তাঁর সত্তরের দশকে, এবং তাঁর কাজ ১৯৭১-এর যুদ্ধস্মৃতিতে আকীর্ণ। এ জন্য ফর্মের নানামুখী ভাঙনের মধ্যে তাঁর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠে। তাছাড়া হামিদ আধুনিক ও সমকালীন ভাস্করের যে নিরীক্ষা দেখেছেন দেশের বাইরে তাতে রিপ্রেজেন্টেশনাল নিয়মে বা [[ওগুস্ত রদ্যাঁ|রদ্যাঁ]], বা[[হেনরি মুর|মুরে]] থাকা তাঁর সম্ভব হয়নি। বরং ভাস্করদের মধ্যে তিনি অনেকখানি নিয়েছেন রুমানিয়ার ব্রকুজির অমল ফর্মের ভাস্কর্য থেকে। তবে তাঁর মূল অভিনিবেশ মিনিমালিজমে। অল্পায়ন বা মিনিমালিজমে ফর্মকে যাভেব শোধিত করা হয়, তার প্রতি স্পষ্ট সমর্থন অনুভব করা যায় হামিদের ভাস্কর্যে।।।ভাস্কর্যে।...প্রগাড়ভাবে অল্পায়নে তিনি বিশ্বাসী। তাঁর কাজ নৈসর্গিক জ্যামিতি ধারণ করে আছে। বিশদ প্রকৃতি নেই, বিশোধিত নিসর্গ নির্যাস তাতে প্রত্যক্ষ করা যায়।...তাঁর কাজে স্থিরত্বের ব্যঞ্জনা নেই বললেই চলে। ফরাসি দার্শনিক [[অঁরি বের্গসন]] বলেছেন যে বিবর্তন প্রক্রিয়া ও শৈল্পিক সৃজনশীলতা অর্থাৎ প্রকৃতির বিকাশশক্তি ও মানুষের সৃজন-আবেগ একই উৎস থেকে উৎসারিত। হামিদের মনোভঙ্গিতে এই দার্শনিক তত্ত্বের সমর্থন মেলে। এই ভাস্কর প্রধানত কৌনিক, তীর্যক, উড্ডীন ভঙ্গির ফর্মে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। হামিদ প্রধানত গতিরই শিল্পী। শিল্পী জীবনের শুরুতে তিনি যে এক্সপ্রেশনিজমের অনুসারী হয়েছিলেন তা-ই যেন এখন আরো পরিশ্রুতি পেয়েছে।"''</blockquote>
ভাস্হাকর হিসেবে সুপরিচিত হলেও হামিদ জলরঙে বিশিষ্টতা অর্জন করেছেন। প্রখ্যাত শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ারের হাতে হামিদুজ্জামান খানের জলরঙে হাতেখড়ি। হামিদ তাঁর শিক্ষক মুস্তাফা মনোয়ার অঙ্কন রীতি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। [[চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|চারুকলা অনুষদের]] ছাত্র থাকাকালে হামিদের জলরঙের প্রসংশা করে জয়নুল আবেদীন বলেছিলেন: <blockquote> ''"হামিদ, তোমার হাতে জলরং-এ আঁকা ছবি ভাল হয়। জলরঙ কখনও ছেড়ে দিবে না। দেখবে এই জলরঙই তোমাকে একদিন বহুদূর নিয়ে যাবে।"''</blockquote> হামিদের জলরঙ ও অ্যাক্রিলিক চিত্রকর্মের বিষয়বস্ত হিসেবে প্রাধান্য পেয়েছে নৈসর্গিক উপাদান ও ল্যান্ডস্কেপ, হাওড় বা নদী, পাখি, গ্রামীণ দৃশ্য, বন, পর্বত ইত্যাদি। শিল্পীজীবনের প্রথমদিকে তিনি নগর জীবনের অনেক ছবি এঁকেছেন। জলরঙে বাস্তববাদী পরিস্ফুটনের পাশাপাশি তিনি বিমূর্ত আঙ্গিকের প্রয়োগ করেছেন। তাঁর চিত্রকর্মের ক্যানভাসে স্থানিক বিন্যাসের প্রয়োগ লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া চিত্রকর্মে ভাস্কর্যের ফর্ম বা আকৃতির প্রভাব প্রচ্ছন্ন।