"রাজস্ব নীতি" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্প্রসারণ, সংশোধন, বানান সংশোধন
(সম্প্রসারণ, তথ্যসূত্র যোগ/সংশোধন)
(সম্প্রসারণ, সংশোধন, বানান সংশোধন)
{{কাজ চলছে/বিশেষ এডিটাথন ২০২০}}{{সামষ্টিক অর্থনীতি পার্শ্বদন্ড}}
'''রাজস্ব নীতি''' বলতে একটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর প্রভাব বিস্তারকারী উপাদনসমূহ নিয়ন্ত্রণের কৌশলকে বুঝায়। অন্যভাবে বলা যায়, একটি দেশের সরকারের আয় এবং ব্যয় ব্যবস্থাপনার কলা-কৌশলকে রাজস্ব নীতি বলে। [[সামষ্টিক অর্থনীতি|সামষ্টিক অর্থনৈতিক]] কার্যকলাপ পরিচলনা ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করে। সাধারণত, সরকার নির্দিষ্ট অর্থবছরের নির্ধারিত ব্যয় সমন্বয় করার উদ্দেশে রাজস্ব বা আয় নিরূপণ করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com.bd/books?id=vPxAHAAACAAJ&dq=isbn:9780130630858&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwj_ptPCgeboAhVL73MBHRcJDBEQ6AEIJjAA|শিরোনাম=Economics: Principles in Action|শেষাংশ=O'Sullivan|প্রথমাংশ=Arthur|শেষাংশ২=Sheffrin|প্রথমাংশ২=Steven M.|তারিখ=2003|প্রকাশক=Prentice Hall|ভাষা=en|আইএসবিএন=978-0-13-063085-8}}</ref> অর্থাৎ, সরকার প্রথমে ব্যয় নির্ধারণ করে এবং নির্ধারিত ব্যয়ের সাথে সমন্বয় করে রাজস্ব বা আয় নির্ধারণ করে।সাধারণতকরে। সাধারণত জাতীয় বাজেটে সরকারের রাজস্ব নীতির প্রয়োগ ঘটে থাকে। [[জাতীয় বাজেট]] হচ্ছে দেশের সরকার প্রণীত রাষ্ট্রের বাৎসরিক আয়-ব্যয়ের পরিকল্পনা যেটি প্রতিবেদন বা দলিল আকারে প্রকাশ করা হয়। মূলত, সরকারীসরকারি রাজস্ব বা আয় এবং ব্যয় নিরূপণ ও বাজেট প্রণয়ন সম্পর্কিত নীতিই রাজস্ব নীতি হিসেবে পরিচিত। রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য জনকল্যাণ।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.elsevier.com/books/introductory-economics/veseth/978-0-12-719565-0|শিরোনাম=Introductory Economics - 1st Edition|ওয়েবসাইট=www.elsevier.com|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-13}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.jugantor.com/old/economics/2013/10/27/37431|শিরোনাম=রাজস্ব নীতি সহজ করতে করণীয়|ওয়েবসাইট=www.jugantor.com|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-13}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.britannica.com/topic/fiscal-policy|শিরোনাম=fiscal policy {{!}} Definition, Examples, Importance, & Facts|ওয়েবসাইট=Encyclopedia Britannica|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-14}}</ref>
 
== রাজস্ব নীতির লক্ষ্য ==
দেশ বা সরকারভেদে রাজস্ব নীতির ভিন্নতা লক্ষ্য করা যায়। তবে দেশ-সরকার নির্বিশেষে সকল রাজস্ব নীতির মূল লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যই জনকল্যাণ।আরজনকল্যাণ। আর এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার উন্নয়ন, জাতীয় আয়ের সঠিক ব্যবহার এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ফলে উক্ত সামষ্টিক অর্থনৈতিক উপাদানসমূহের সঠিক ব্যবস্থাপনাই রাজস্ব নীতির লক্ষ্য হিসেবে বিবেচ্য।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.econlib.org/library/Topics/College/fiscalpolicy.html|শিরোনাম=Fiscal Policy|ওয়েবসাইট=Econlib|ভাষা=en-US|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-13}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.britannica.com/topic/government-budget|শিরোনাম=Government budget|ওয়েবসাইট=Encyclopedia Britannica|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-14}}</ref>
 
== রাজস্ব নীতির ধরণ ==
রাজস্ব নীতি কেমন হবে সেটি নির্ভর করে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার উপর। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার রাজস্ব নীতি নির্ধারণ করে থাকে অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও রাজস্ব নির্ধারণ করে থাকে।রাজস্ব নীতি সাধারণত নিন্মক্ত ধরণের হয়ে থাকে-<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com.bd/books?id=vPxAHAAACAAJ&dq=isbn:0130630853&hl=en&sa=X&ved=0ahUKEwjXwbWl4ejoAhUScCsKHT00At4Q6AEIJjAA|শিরোনাম=Economics: Principles in Action|শেষাংশ=O'Sullivan|প্রথমাংশ=Arthur|শেষাংশ২=Sheffrin|প্রথমাংশ২=Steven M.|তারিখ=2003|প্রকাশক=Prentice Hall|ভাষা=en|আইএসবিএন=978-0-13-063085-8}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://economictimes.indiatimes.com/budget-faqs/what-are-the-three-types-of-government-budgets/articleshow/67466774.cms?from=mdr|শিরোনাম=What are the three types of government budgets?|তারিখ=2020-01-10|কর্ম=The Economic Times|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-14}}</ref>
 
* '''নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি-''' সাধারণত অর্থনৈতিক অবস্থা যখন স্থিতিশীল থাকে তখন নিরপেক্ষ রাজস্ব নীতি অবলম্বন করা হয় অর্থাৎ যখন অর্থনৈতিক প্রসার বা অর্থনৈতিক মন্দা কোনটাই ঘটে না। এক্ষেত্রে সরকারের রাজস্ব এবং ব্যয় প্রায় সমান থাকে এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর রাজস্ব নীতির আলাদা কোন প্রভাব থাকে না বরং নিরপেক্ষ থাকে।
* '''সম্প্রসারণমূলক রাজস্ব নীতি-''' সাধারণত অর্থনৈতিক মন্দা চলাকালীন সময়ে সরকার অর্থনৈতিক চক্র সংকোচন মোকাবেলায় এই নীতি অনুসরণ করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকার রাজস্ব আয়ের থেকে ব্যয় বেশি করে। বিশেষ করে জনসাধারণের সুবিধায় ব্যবহার্য অবকাঠামো নির্মাণ ও উন্নয়ন এবং ক্ষেত্রবিশেষ প্রণোদনা দিয়ে থাকে। সেই সাথে কর হার কমিয়ে দেয় যাতে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। রাজস্ব নীতির জাতীয় বাজেটভিত্তিক প্রয়োগ বিবেচনায় এক্ষেত্রে ঘাটতি বাজেট প্রণয়ন করা হয়।
* '''সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি-'''এই ধরণের রাজস্ব নীতি সরকার সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিলে গ্রহণ করে থাকে। এক্ষেত্রে সরকার হয় কর হার বাড়িয়ে দেয় অথবা সামগ্রিক সরকারী ব্যয় কমাতে চায় অথবা উভয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কর হার বৃদ্ধি পেলে জনসাধারণের তথা ব্যবসায়ীদের খরচযোগ্য কমে যায়। অন্যদিকে সরকারের ব্যয় কমে গেলে সেটা মোট দেশজ উৎপাদনে সরাসরি প্রভাব ফেলে অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনে কমে যায়। এতে মুদ্রাস্ফীতির উপর চাপ কমে কিন্তু সেই সাথে বেকারত্ব বেড়ে যায়।
* '''সংকোচনমূলক রাজস্ব নীতি-'''
 
== রাজস্ব নীতির হাতিয়ারসমূহ ==
যেহেতু জাতীয় বাজেটেই রাজস্ব নীতির প্রতিফলন ঘটে থাকে, সেহেতু রাজস্ব নীতির হাতিয়ার বা রাজস্ব নীতি অর্থায়নের মাধ্যম বলতে আসলে বাজেট অর্থায়নের হাতিয়ার বা মাধ্যমগুলোকে বুঝানো হয়। সাধারণত বাজেটের অর্থায়ন হয় নিন্মক্ত উৎস থেকে-<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://openlibrary.org/books/OL23140153M/The_concise_encyclopedia_of_economics|শিরোনাম=The concise encyclopedia of economics|শেষাংশ=Henderson|প্রথমাংশ=David R.|তারিখ=2007|প্রকাশক=Liberty Fund, Inc.|অবস্থান=Indianapolis|আইএসবিএন=978-0-86597-665-8}}</ref>
 
=== '''সরকারি রাজস্ব''' ===
বাজেটের অর্থায়নের মূল উৎস হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন রাজস্ব আয়। সরকারি রাজস্বকে সাধারণত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথাঃ
 
* '''কর রাজস্ব-''' কর রাজস্বের মধ্যে আছে [[আয়কর|আয়কর]], [[মূল্য সংযোজন কর]], বাণিজ্য শুল্ক, [[আবগারী শুল্ক]], সম্পূরক শুল্ক, ভুমি রাজস্ব, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প এবং অন্যান্য করসমুহ।
* '''কর বহির্ভূত রাজস্ব-''' কর বহির্ভূত রাজস্বের মধ্যে আছে সরকারি প্রতিষ্ঠান হতে লভ্যাংশ ও মুনাফা, সরকার প্রদত্ত ঋণের থেকে প্রাপ্ত সুদ, সরকারি সেবা খাত থেকে প্রাপ্ত আয় এবং বিভিন্ন দণ্ড ও জরিমান থেকে প্রাপ্ত অর্থ।
 
=== '''ঋণগ্রহণ''' ===
সরকার ঘাটতি বাজেট অর্থায়নের জন্য দেশ অথবা বিদেশ থেকে ঋণ গ্রহন করে থাকে। দেশীয় উৎস থেকে সাধারণত ট্রেজারি বিল, সরকারি বিভিন্ন মেয়াদী সিকিউরিটিজ এবং বন্ডসমূহ বিক্রি করে করে ঋণ নেয়া হয়। দেশি-বিদেশি উভয়ক্ষেত্রেই সরকারকে উক্ত ঋণের বিপরীতে নির্দিষ্ট পরিমান সুদ দিতে হয়।
 
=== '''অনুদান''' ===
ক্ষেত্রবিশেষ ঘাটতি বাজেট অর্থায়নের জন্য বিদেশি অনুদান গ্রহন করা হয়। সাধারণত [[উন্নত দেশ|উন্নত দেশসমুহ]] অনুন্নত ও [[উন্নয়নশীল দেশ|উন্নয়নশীল দেশসমূহকে]] অনুদান দিয়ে থাকে। তবে, এই অনুদান শুধুমাত্র নগদ অর্থের মাধ্যমেই হয় না বরং অন্য অনেক উপায়ে হতে পারে।  
 
=== '''পূর্ববর্তী উদ্বৃত্ত বাজেট থেকে অর্থায়ন''' ===
সরকার পূর্ববর্তী উদ্বৃত্ত বাজেটের অর্থ থেকে পরবর্তী বছরের বাজেট অর্থায়ন করতে পারে।
 
=== '''স্থায়ী সম্পদের বিক্রয়''' ===
বিশেষ ক্ষেত্রে সরকার ঘাটতি বাজেট অর্থায়নের জন্য সরকারি স্থায়ী সম্পদ বিক্রয় করতে পারে। যদিও এ ধরণের অর্থায়ন খুব একটা দেখা যায় না।
 
== রাজস্ব নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব ==
দশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপের উপর প্রভাব বিস্তারের জন্য সরকার রাজস্ব নীতির ব্যবহার করে থাকে। ফলে অর্থনীতিতে রাজস্ব নীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। সরকার বিশেষ করে সামগ্রিক চাহিদাকে প্রভাবিত করে নির্দিষ্ট কিছু অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। এসব লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.epi.org/publication/econ_stmt_2003/|শিরোনাম=Economists&#8217; statement opposing the Bush tax cuts (2003)|ওয়েবসাইট=Economic Policy Institute|ভাষা=en-US|সংগ্রহের-তারিখ=2020-04-14}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://archive.org/details/economists0000unse|শিরোনাম=The economists|শেষাংশ=Silk|প্রথমাংশ=Leonard Solomon|তারিখ=1974|প্রকাশক=New York, Basic Books|অন্যান্য=Internet Archive}}</ref>
 
* মূল্য স্থিতিশীলতা
* সম্পূর্ণ কর্মসংস্থান এবং
* অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি
 
== তথ্যসূত্র ==
১,৩৩৯টি

সম্পাদনা