"হামিদুজ্জামান খান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(++)
হামিদুজ্জামান খান ১৯৮৮ সালে [[দক্ষিণ কোরিয়া|দক্ষিণ কোরিয়ার]] সিউল অলিম্পিক কমিটি থেকে তাঁর একটি ভাস্কর্য স্থায়ীভাবে স্থাপনের জন্য আমন্ত্রণ পান। ভাস্কর্যটির নাম ''স্টেপস্ (সিড়ি)''। এটি কপার দিয়ে তৈরি, উচ্চতা ১৩ ফুট।<ref name=way>[http://www.waymarking.com/waymarks/WMD6KG_The_Steps_5066851221_Olympic_Park__Seoul_Korea "The Steps (여정) - Olympic Park - Seoul, Korea - Abstract Public Sculptures on Waymarking.com"].</ref> সিউল অলিম্পিক পার্কের ভাস্কর্য উদ্যানে একশ পঞ্চাশটি দেশের ভাস্কর্যের পাশাপাশি এটি বাংলাদেশের অংশগ্রহণ হিসেবে স্থান পায়। [[জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়|জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের]] কেন্দ্রীয় পাঠাগারের সম্মুখে ১৯৮৯ সালে হামিদের ''সংশপ্তক'' নামে একটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়। মূল ভাস্কর্যটির উচ্চতা ১২ ফুট এবং বেদীর উচ্চতা ১৩ ফুট। বেদী লাল ইট দ্বারা নির্মিত এবং মূল ভাস্কর্য ব্রোঞ্জের পাত দিয়ে তৈরি। এতে শত্রুর আঘাতে দেহ থেকে একটি হাত ও একটি পা বিচ্ছিন্ন হওয়া একজন মুক্তিযোদ্ধার অবয়বকে আধুনিক শৈলীতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা প্রচণ্ড গতিতে ধাবমান, কোন বাধাই তাকে আটকাতে পারছে না। ''সংশপ্তক'' বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের উপর নির্মিত ভাস্কর্যগুলোর মধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।<ref>{{Cite news |date=2020-02-14 |title=Haphazard structures cannot enhance beauty: Hamiduzzaman Khan |url=https://www.newagebd.net/article/99534/haphazard-structures-cannot-enhance-beauty-hamiduzzaman-khan |url-status= |work=The Daily Star|access-date=2020-04-11}}</ref> এই ভাস্কর্যটির অবয়বের উপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে বিভিন্ন উপাদান ও আঙ্গিকে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে হামিদ ভাস্কর্য স্থাপন করেন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল ২০০৩ সালে ঢাকার পান্থপথে ইউটিসি ভবনের প্রবেশপথের দেয়ালে ''ফ্রিডম ফাইটার (মুক্তিযোদ্ধা)'' শীর্ষক ইস্পাতের ভাস্কর্য। ১৯৯৯ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার পুয়ো ইন্টারন্যাশনাল মডার্ন স্কাল্পচার সিম্পোজিয়ামে হামিদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এই সিম্পোজিয়াম উপলক্ষ্যে তিনি ১০ ফুট উচ্চতার একটি ইস্পাতের ভাস্কর্য নির্মাণ করেন, যেটি পুয়ো বোদরেক পার্কে স্থাপিত হয়। [[ময়মনসিংহ সেনানিবাস|ময়মনসিংহ সেনানিবাসে]] ১৯৯৯ সালে ''মুক্তিযোদ্ধা'' নামে হামিদের আরেকটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ভাস্কর্য স্থাপিত হয়।<ref name=book1/>
 
===২০০০ থেকে বর্তমান===
হামিদুজ্জামান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অন্তর্ভুক্ত ভাস্কর্য বিভাগে অধ্যাপক হন ২০০০ সালে। ২০০১ সালে [[ঢাকা সেনানিবাস|ঢাকা সেনানিবাসে]] ''বিজয় কেতন'' নামে হামিদের একটি ভাস্করযয স্থাপিত হয়। এতে একদল মুক্তিযোদ্ধার অবয়ব পরিস্ফুটিত হয়েছে। [[গুলশান|গুলশানের]] ইউনাইটেড ভবনের প্রবেশপথে ''পাখি'' নামে তাঁর একটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। ভাস্কর্যে পাখিগুলো বিমূর্ত ধারায় উপস্থাপিত হয়েছে। ২০০৪ সালে ঢাকার আগারগাও-এ [[বিশ্বব্যাংক]] দপ্তরে হামিদের একাধিক শিল্পকর্ম স্থাপন করা হয়। দপ্তরের প্রবেশমুখে রিলিফ ভাস্কর্য, ভবনের ভেতরে ১৮টি তৈলচিত্র, টেরাকোটা, মাছের প্রতিকৃতি বিশিষ্ট ধাতব ভাস্কর্য ও মুরাল স্থাপন করা হয়। এছাড়া ভবনের ভেতরে অ্যাট্রিয়ামে হামিদের ''ফ্লাইং বার্ড্‌স (উড়ন্ত পাখি)'' ৫৬ ফুট উচ্চতার ভাস্কর্য স্থাপিত হয়, যার নাম পাখি। এতে বিমূর্ত আঙ্গিকে পাখির অবয়ব বিশিষ্ট একই ধরনের তিনটি ফর্ম ঝুলন্ত ভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
 
২০০৫ সালে [[ঢাকা সিটি কর্পোরেশন]] হামিদকে [[ফার্মগেট|ফার্মগেটে]] একটি ভাস্কর্য নির্মাণের জন্য অনুরোধ করে। ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সম্মুখে ''মাছ'' নামে ভাস্কর্যটি স্থাপিত হয়েছে, যাতে স্বতঃস্ফূর্ত ভঙ্গিতে তিনটি মাছ উপস্থাপিত হয়েছে। এটি নির্মিত হয়েছে ইস্পাত দ্বারা। ঢাকার [[বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার|বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভো থিয়েটার]] প্রাঙ্গনে হামিদের দুইটি ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়। গাজীপুরে অবস্থিত [[জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়|জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের]] প্রবেশপথে হামিদের ''শিখা'' নামে একটি বিমূর্ত ধারার ভাস্কর্য স্থাপিত হয়। এতে শিক্ষার ফলে মানবিক দ্যুতি ও জ্ঞানের বিকাশ ঘটার ধারণাকে উপস্থাপন করা হয়েছে। ভাস্কর্যটির উচ্চতা ৩২ ফুট, প্রস্থে ১৩ ফুট এবং এটি ধাতব নির্মিত।
 
২০০৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অনুরোধে হামিদ ''শান্তির পাখি'' নামে একটি ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। এটি [[ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ছাত্র-শিক্ষক কেন্দের]] সম্মুখে স্থাপিত হয়েছে। ভাস্কর্যটি স্টেইনলেস ইস্পাতে তৈরি এবং এতে একদল পাখি বিমূর্ত আঙ্গিকে একটি তির্যক কলামের উপরে উপস্থাপিত হয়েছে। ২০০৭ সালে হামিদুজ্জামান খান টিকাটুলিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক [[রোজ গার্ডেন|রোজ গার্ডেনকে]] কেন্দ্র ''রোজ গার্ডেন'' শিরোনামে করে একটি বই প্রকাশ করেন। এ বইতে তিনি রোজ গার্ডেন প্রাসাদের বিভিন্ন বিষয়বস্ত কালি-কলম, ক্রেয়ন এবং জলরঙ মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইতে ভবনের দেয়ালে কারুকাজ ছাড়াও তিনি চাঁদনী রাতে, বর্ষায়, দিবালোকে বিভিন্ন সময় রোজ গার্ডেন দেখতে কেমন লাগে, প্রাসাদ চত্বরের সাদা সিমেন্টের ভাস্কর্য, গোলাপ বাগানের সৌন্দর্যকে তুলে ধরেছেন। ২০১১ সালে মতিধিলে [[বাংলাদেশ ব্যাংক ভবন]] প্রাঙ্গনে ''ইউনিটি'' নামে হামিদের একটি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়। ইস্পাত দিয়ে নির্মিত ভাস্কর্যটির উচ্চতা ৩২ ফুট।
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য বিভাগ থেকে ২০১২ সালে হামিদ অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালে [[বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর]] ''হামিদুজ্জামান খান রেট্রোস্পেকটিভ'' নামে ১৯৬৪ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত তাঁর নির্মিত শিল্পকর্ম নিয়ে একটি প্রদর্শনী আয়োজন করে। এতে প্রায় ৩০০টি ভাস্কর্য এবং ২৫টি চিত্রকর্ম উপস্থাপন করা হয়। ২০১৮ সাল অবধি, হামিদের ৩৩টি একক প্রদর্শনী হয়েছে। চার দশকের বেশি সময়ের কর্মজীবনে হামিদের নির্মাণ করা ১৫০-এর বেশি ভাস্কর্য বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে স্থাপিত হয়েছে।
 
==শৈল্পিক ধারা==