"হামিদুজ্জামান খান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(সংশোধন ও তথ্য যোগ)
 
===দুর্ঘটনা এবং ইউরোপ ভ্রমণ===
ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্র থাকাকালীন ১৯৬৭ সালে হামিদুজ্জামান সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। এতে তাঁর মাথার [[করোটি]] ক্ষতিগ্রস্থ হয়। [[ঢাকা মেডিকেল কলেজ|ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের]] তৎকালীন প্রধান সার্জন ডা. আছিরউদ্দিনের পরামর্শে ও সহায়তায় তিনি করোটির অস্ত্রোপচারের জন্যে ১৯৬৯ সালে সমুদ্রপথে যুক্তরাজ্যে যাত্রা করেন। [[ডাকার|ডাকারে]] যাত্রাবিরতিকালে হামিদুজ্জামান আফ্রিকান ঐতিহ্যবাহী দারুশিল্প ও মুখোশ দেখে আকৃষ্ট হন। এছাড়া [[কেপটাউন|কেপটাউনের]] পাথুরে পর্বত, ঝর্ণা ও সমুদ্র তাকে আকৃষ্ট করে। যুক্তরাজ্যে পৌছে হামিদুজ্জামান এডিনবরা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করেন। ডাক্তারের পরামর্শে হাসপাতাল ত্যাগের পর তিনি প্রায় এক মাস [[এডিনবরা|এডিনবরায়]] অবস্থান করেন। এসময় তিনি [[স্কটিশ জাতীয় জাদুঘর]] এবং এডিনবরায় একটি উদ্যানে বিখ্যাত ভাস্কর [[হেনরি মুর|হেনরি মুরের]] ভাস্কর্য দেখে অভিভূত হন। এরপর লন্ডনে তিনি চারমাস অবস্থান করেন। লন্ডনে হামিদুজ্জামান [[ব্রিটিশ মিউজিয়াম]], [[ভিক্টোরিয়া এন্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়াম]], [[ন্যাশনাল গ্যালারি]] এবং [[টেট গ্যালারি|টেট গ্যালারির]] প্রাচীন ভাস্কর্য, ব্রিটিশ চিত্রশিল্পীদের ছবি ও শিল্পকর্ম দেখেন। টার্নার জন কনস্টেবলের নৈসর্গিক চিত্রকর্ম তাঁকে আকৃষ্ট করে। এডিনবরা ও লন্ডনে আধুনিক শৈলীর ভাস্কর্যে বিমূর্ত আঙ্গিকের প্রভাব, নাগরিক পরিবেশ ও ভূদৃশ্যের নান্দনিক গুণ বৃদ্ধিতে বৃহদায়তন ভাস্কর্যের ব্যবহার হামিদকে বিশেষভাবে ভাস্কর্যের ব্যাপারে আগ্রহী করে। প্যারিসে দুই সপ্তাহ অবস্থানকালে তিনি [[লুভ্‌র জাদুঘর]],|লুভ্‌র সুইস ভাস্কর [[জিওকোমিতি|জিওকোমিতিরজাদুঘরে]] একক প্রদর্শনী দেখেন। জিওকোমিতির শিল্পকর্ম দেখে তাঁর ভাস্কর্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। [[পিকাসো]], [[অঁরি মাতিস|মাতিস]], [[ওগুস্ত রদ্যাঁ|রদ্যাঁ]] প্রমুখ শিল্পীদের শিল্পকর্ম দেখেন। সুইস ভাস্কর [[জিওকোমিতি|জিওকোমিতির]] একক প্রদর্শনী তাঁকে আধুনিক ধাঁচের ভাস্কর্যের প্রতি আকৃষ্ট করে। এছাড়া প্যারিসের উন্মুক্ত অঙ্গনে অসংখ্যা ব্রোঞ্জ ও মার্বেল পাথরের ভাস্কর্য দেখে তিনি অভিভূত হন। এরপর ইতালিতে সেন্ট পিটার্স চার্চে অসংখ্যা ভাস্কর্য এবং বিশেষ করে [[মাইকেলেঞ্জেলো|মাইকেলেঞ্জেলোর]] [[পিয়েতা (মাইকেলেঞ্জেলো)|পিয়েতা]], সিস্টিন চ্যাপেল সিলিং প্রত্যক্ষ করেন। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও ইতালি ভ্রমণকালে প্রখ্যাত শিল্পীদের ভাস্কর্য ও শিল্পকর্ম পরিদর্শন হামিদুজ্জামানকে প্রবলভাবে আলোড়িত করে এবং বিশেষভাবে ভাস্কর্যের প্রতি আগ্রহী করে তোলে। ১৯৬৯ সালে হামিদ চিকিৎসা ও বিদেশ ভ্রমণ শেষে ঢাকায় ফিরে আসেন। ইতোমধ্যে আর্ট কলেজে প্রখ্যাত শিল্পী [[আবদুর রাজ্জাক (চিত্রশিল্পী)|আবদুর রাজ্জাকের]] নেতৃত্বে ভাস্কর্য বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। হামিদ ভাস্কর্য শেখার ইচ্ছার কথা আবদুর রাজ্জাকের কাছে প্রকাশ করেন। পরবর্তীতে হামিদ তাঁর শিক্ষক আবদুর রাজ্জাকের অধীনের ছয় মাস ভাস্কর্য শেখেন।<ref name=book1>{{cite book |last=রায় |first=সুমন্ত |authorlink= |date=2008 |title=ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান – জীবন ও কর্ম |page=২৬-৩২ |publisher=ডেলভিস্তা ফাউন্ডেশন}}</ref>
 
===ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষালাভ===