হুমায়ুন আজাদ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
সম্পাদনা সারাংশ নেই
}}
| other_names =
| education = স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর (বাংলা, [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]])<br/>[[পিএইচডি]] ([[ভাষাবিজ্ঞান]], [[এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়]])
| education = [[পিএইচডি]]
| alma_mater = {{অ-বুলেটকৃত তালিকা
| [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]]
 
==জীবন==
===প্রারম্ভিকপূর্ব জীবন===
====শৈশব ও কৈশোর (১৯৪৭ - ১৯৬২)====
হুমায়ুন আজাদ ২৮ এপ্রিল ১৯৪৭ সালে তার মাতামহের বাড়ি, তৎকালীন [[ব্রিটিশ ভারত|ব্রিটিশ ভারতের]]<!--দেখুন: [[বঙ্গভঙ্গ (১৯৪৭)]]--> (বর্তমানে [[বাংলাদেশ]]) অধীন [[বিক্রমপুর|বিক্রমপুরের]] কামারগাঁয় জন্ম নেন; যেটি বর্তমানে [[মুন্সিগঞ্জ জেলা|মুন্সিগঞ্জ জেলার]] [[শ্রীনগর উপজেলা|শ্রীনগর উপজেলার]] অন্তর্গত।<ref name="জন্মস্থান">{{harvnb|আজাদ|২০১১|p=১১}}: আজাদের জন্ম দক্ষিণ রাঢ়িখাল গ্রামে নয় (অনেকেই তাই-ই ভাবেন), তার নানান বাড়ি কামারগাঁয়ে।; {{harvnb|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=৮}}: আমি জন্মেছিলাম আমার নানাবাড়িতে&ndash; তখন নানাবাড়িতে জন্ম নেয়াই রীতি ছিলো&ndash;, আমাদের গ্রাম থেকে পশ্চিমে একটি গাছপালাছায়াঢাকা গ্রামে, কামারগাঁয়ে।</ref> তার জন্ম নাম ছিল হুমায়ুন কবীর। ১৯৮৮ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তনের মাধ্যম তিনি বর্তমান নাম ধারণ করেন।<ref name="বাংলাপিডিয়া">{{বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি |অধ্যায়=আজাদ,_হুমায়ুন |লেখক=মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম}}</ref> তার বাবা আবদুর রাশেদ প্রথম জীবনে বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা{{r|বাংলাপিডিয়া}} ও পোস্টমাস্টারির চাকুরি করতেন,{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=৩৬}} পরে ব্যবসায়ী হন। ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তার বাবার মৃত্যু ঘটে।{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=১০}} মা জোবেদা খাতুন ছিলেন গৃহিণী,{{r|বাংলাপিডিয়া}} যিনি ২০০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.dibalok.com/news/details/Literature/3994|শিরোনাম=প্রথাবিরোধী লেখক হুমায়ুন আজাদ'র প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী|তারিখ=11 August 2017|সংগ্রহের-তারিখ=31 December 2019|ওয়েবসাইট=দিবালোক}}</ref> তিন ভাই এবং দুই বোনের মধ্যে আজাদ ছিলেন পিতামাতার দ্বিতীয় পুত্রসন্তান।{{refn|group=বিদ্র|আমার বাবার নাম আবদুর রাশেদ, মায়ের নাম জোবেদা খাতুন। আমি তাদের দ্বিতীয় পুত্র, ও তৃতীয় সন্তান। তাদের প্রথম পুত্রটি জন্মের পরেই ম'রে গিয়েছিলো, আমি তাই প্রথম পুত্ররূপে গণ্য হয়েছি..।: (প্রাথমিক উৎস){{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=৯}}}} ছেলেবেলায় তার ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি রাড়িখাল গ্রামে বেড়ে ওঠেন।<ref>{{harvnb|আজাদ|২০১১|p=১২}}: ..সেই বাল্যকাল তথা রাড়িখালের মাত্র ১৫ বছর জীবনযাপন ছিল তার জীবনের সবচেয়ে সুখকর অধ্যায়।; {{harvnb|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=৯}}: ১৫ বছর পর্যন্ত আমি বড় হয়েছি আমাদের গ্রামে রাড়িখালে।</ref> পরবর্তীতে তার লেখার বিভিন্ন ভাবে রাড়িখাল গ্রামের বর্ণনা উঠে এসেছে; এবং এ গ্রাম নিয়ে তিনি "রাড়িখাল : ঘুমের ভেতরে নিবিড় শ্রাবণধারা" নামে একটি লেখা প্রকাশ করেন।{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=৯}} আজাদের মতে তার শৈশব ও কৈশর ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ খণ্ড, যে সময়ের কথা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে তার ''[[ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না]]'' (১৯৮৫), ''[[নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু]]'' (২০০০), ''[[শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা]]'' (২০০২) এবং বিভিন্ন লেখায় উঠে এসেছে।<ref>{{harvnb|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|pp=১১}}: আমার বাল্যকাল আমার লেখায় নানাভাবে এসেছ,&ndash; ''ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না'', ''নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু'', ''শ্রাবণের বৃষ্টিতে রক্তজবা'' এবং আরো নানা বইতে আমি আমার বাল্যকালকে ধরে রাখতে চেয়েছি। (প্রাথমিক উৎস)</ref> আজাদের গ্রামের মাইল দুয়েক দক্ষিণে রয়েছে [[পদ্মা নদী]], রাতের বেলায় নদীতে স্টিমার চলার ধ্বনি শৈশবে তাকে প্রভাবিত করায় তিনি তার প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম দেন ''[[অলৌকিক ইস্টিমার]]'' (১৯৭৩)।<ref>{{harvnb|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|pp=১২}}: আমাদের গ্রামের মাইল দুয়েক দক্ষিণ দিয়ে বয়ে যায় পদ্মা, তখন বিশাল ছিলো; এপার থেকে ওপার ১২ মাইল শুনেছি। ওই পদ্মানদী দিয়ে রাতের বেলা ইস্টিমার যেতো, ভাগ্যকূলে ভিড়তো; কতো রাতে ঘুম ভেঙে গেছে আমার ইস্টিমারের সিঁটিতে। ঘুম ভেঙে মনে হতো কোন সুদূর থেকে ভেসে আসে এই ধ্বনি, আমি জেগে জেগে স্বপ্ন দেখতে থাকতাম। আমার প্রথম কবিতার বইয়ের নাম রেখেছিলাম ''অলৌকিক ইস্টিমার'', কেননা আজো আমি পদ্মায় মধ্যরাতের জাহাজের সিঁটি শুনি।</ref>
 
১৯৫২ সালে আাজাদ দক্ষিণ রাড়িখাল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইনফ্যান্ট (তৎকালীন প্রথম শ্রেণী) শ্রেণীতে ভর্তি হন,<ref>{{harvnb|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|pp=১২-১৩}}: আমি ওই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই সবচেয়ে নিচের ক্লাশে, তার নাম ছিলো 'ইনফ্যান্ট ক্লাশ'..।</ref> সেখানে তিন বছর ইনফ্যান্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণী পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন।{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=১৬}} যদিও ১৯৫৫সালে তৃতীয় শ্রেণী বাদ দিয়ে তিনি সরাসরি চতুর্থ শ্রেণীতে ভর্তি হন রাড়িখালের [[স্যার জে সি বোস ইনস্টিটিউশন|স্যার জে সি বোস ইনস্টিটিউশনে]]।{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|pp=১৬-১৭}} ছেলেবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী। এ বিদ্যালয় থেকে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১৯৬২ সালে ম্যাট্রিকুলেশন ([[মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট|মাধ্যমিক]]) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।{{r|বাংলাপিডিয়া}}{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=২৩}}
 
===উচ্চশিক্ষা এবং কর্মজীবন===
====যৌবন (১৯৬২ - ১৯৮৭)====
 
১৯৬২ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য আজাদ [[ঢাকা|ঢাকায়]] চলে আসেন। মানবিক বিভাগে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও বাবার ইচ্ছায় ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি [[ঢাকা কলেজ|ঢাকা কলেজে]] বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তি হন।<ref>{{harvnb|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|pp=৪০}}: প্রবেশিকা পাঠ করার পর আমি ঠিক করেছিলাম এইসএসসিতে মানবিক পড়বো।.. আমি ঢাকা কলেজে বিজ্ঞানে এইসএসসি শ্রেণীতে ভর্তি হই; ১৯৬২ সালের সেপ্টেম্বরে। (প্রাথমিক উৎস)</ref> ১৯৬৪ সালে ঢাকা কলেজ থেকে [[উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট|উচ্চ মাধ্যমিক]] পাশ করেন।{{r|বাংলাপিডিয়া}} এরপর একই বছর তিনি [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের]] কলা অনুষদে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৬৭ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে [[বাংলা সাহিত্য|বাংলা সাহিত্যে]] [[স্নাতক]] ডিগ্রি এবং ১৯৬৮ সালে একই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।{{r|বাংলাপিডিয়া}} উভয় পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন।{{sfn|উদ্দিন|বুলবুল|২০০৪|p=৪২}} ২০১৬ সালে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের এক বন্ধু স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, আজাদ লেখাপড়ায় খুবই মনোযোগী ছিলেন এবং তিনি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বই পড়ে অনেক সময় ব্যয় করতেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://swapno71.com/2016/08/12/humayun-azad-and-me/|শিরোনাম=Humayun Azad and me in the university life.|লেখক=টুলু মতিন (হুমায়ুন আজাদের বন্ধু)|ওয়েবসাইট=swapno71.com|তারিখ=12 August 2016|সংগ্রহের-তারিখ=6 November 2017|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20160815031056/http://swapno71.com/2016/08/12/humayun-azad-and-me/|আর্কাইভের-তারিখ=১৫ আগস্ট ২০১৬|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref>
===উপন্যাস===
[[চিত্র:নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু (২০০০).jpg|thumb|left|২০০০ সালে প্রকাশিত কিশোর-উপন্যাস ''[[নিজের সঙ্গে নিজের জীবনের মধু]]'' যে উপন্যাসটিকে হুমায়ুন আজাদ [[বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়|বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের]] ''[[পথের পাঁচালী (উপন্যাস)|পথের পাঁচালীর]]'' সঙ্গে তুলনা করেছিলেন]]
মূলত কবি, গবেষক ও প্রাবন্ধিক হলেও হুমায়ূন আজাদ ১৯৯০-এর দশকে ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০০৪ সালে মৃত্যু অবধি তার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা ছিলো ১২টি।<!--তার ভাষা দৃঢ়, কাহিনির গঠন সংহতিপূর্ণ এবং রাজনৈতিক দর্শন স্বতঃস্ফূর্ত। সামাজিক-ধর্মীয় নিপীড়ন, রাজনৈতিক প্রণোদনা, প্রেম, তার রচনার প্রধান বিষয় ছিলো। ভাষা-ভঙ্গী ও কাহিনি- দুই দিক দিয়েই তার লেখায় আক্রমণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যক্ষ করা যায়। ((তথ্যসূত্র দেয়া দরকার এখানে))-->
 
১৯৯৪ সালে তিনি ঔপন্যাসিক হিসেবে নিজেকে আত্মপ্রকাশ করেন প্রথম উপন্যাস ''[[ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল]]''-এর মধ্যে দিয়ে।{{refn|group=বিদ্র|আমার একটি নতুন পরিচত এ-বছর থেকে শুরু হলো, এখন আমি নামের আগে ঔপন্যাসিক অভিধাটিও দেখি, দেখে আমার বেশ মজা লাগে, অনেকক্ষণ ধরে আমি বুঝতে পারিনা ঐ নামটি আমার কিনা? যখন নিশ্চিত হই নামটা আমারই তখন মজা লাগে।: (প্রাথমিক উৎস){{sfn|আততায়ীদের সঙ্গে কথোপকথন (হুমায়ুন আজাদের সাক্ষাৎকারগ্রন্থ)|১৯৯৫|p=১১১}}}} [[বাংলাদেশে সামরিক অভ্যুত্থান|বাংলাদেশের সামরিক শাসন]] প্রেক্ষাপটে রচিত উপন্যাসটি তিনি উৎসর্গ করেছেন উপন্যাসের প্রধান চরিত্র রাশেদকে, তার বাবার নামও ছিলো রাশেদ, তিনি উপন্যাসের উৎসর্গ পাতায় এভাবে লিখেছিলেন, 'উৎসর্গ পরলোকগত পিতা, আমি একটি নাম খুঁজছিলাম, আপনার নামটিই-রাশেদ-মনে পড়লো আমার'।<ref name="ছাহাব">{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ১=আজাদ |প্রথমাংশ১=হুমায়ুন |তারিখ=ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪ |শিরোনাম=ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল |প্রকাশক=[[আগামী প্রকাশনী]] |পাতা=৫}}</ref> ১৯৯৫ সালে প্রকাশিত হয় নারী-পুরুষের মধ্যেকার শারীরিক ও হৃদয়সম্পর্কের নানা আবর্তন এবং পরিণতির আখ্যানমূলক উপন্যাস ''[[সব কিছু ভেঙে পড়ে]]''।<ref name="জীবনবাদী">{{সংবাদ উদ্ধৃতি |লেখক=ড. জাহারাবী রিপন |তারিখ=আগস্ট ১১, ২০০৮ |শিরোনাম=সব কিছু ভেঙে পড়ে : জীবনবাদী শিল্পদ্রষ্টা হুমায়ুন আজাদ |ইউআরএল=http://munshigonj24.com/2011/08/12/%E0%A6%B8%E0%A6%AC-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A7%81-%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%99%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%80/ |প্রকাশক=মুন্সিগঞ্জ.কম |সংগ্রহের-তারিখ=নভেম্বর ৪, ২০১৭ }}</ref> ''সব কিছু ভেঙে পড়ে''র পর তিনি ''[[মানুষ হিসেবে আমার অপরাধসমূহ]]'' উপন্যাস লিখেছিলেন যেটি ছিলো একজন সরকারি কর্মকর্তার তার বন্ধুর স্ত্রীকে বিয়ে করা নিয়ে এবং তিনি এ-উপন্যাসটি বাংলাদেশের খ্যাতিমান আইনজীবী [[এম আমীর-উল ইসলাম|ব্যারিস্টার আমির উল ইসলাম]]কে উৎসর্গ করে লিখেছিলেন।
৩০৬টি

সম্পাদনা