"আলাউদ্দিন খিলজি" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(সংশোধন)
'''আলাউদ্দিন-খিলজি'''(শাসন কালঃ[[১২৯৬]]-[[১৩১৬]])তিনি ছিলেন [[খিলজি রাজবংশ|খিলজি]] বংশের দ্বিতীয় এবং সবচেয়ে শক্তিশালী শাসক। যিনি [[দিল্লি]]তে বসে ভারতীয় উপমহাদেশে খিলজি শাসন পরিচালনা করেছেন।তিনি চেয়েছিলেন ভারতীয় ইতিহাসেও একজন [[মহান আলেকজান্ডার|আলেকজেন্ডারের]] মতো শক্তিশালী কারো কথা উল্লেখ করা থাকুক। তাই তিনি নিজেকে ২য় আলেকজেন্ডার (সিকান্দার-এ-সানি) হিসেবে পরিচিত করার চেষ্টা চালিয়ে যান। তিনি নিজের নামে মুদ্রা প্রচলন করেন এবং জুম্মাহের খুতবার আগের বয়ানে নিজের কৃতিত্ব বর্ণনার আদেশ দেন।
 
আলাউদ্দিন খিলজি ছিলেন খিলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা [[জালালউদ্দিন খিলজি|জালালুদ্দিন]] খিলজির ভাতিজা এবং জামাতা। [[বীরভূম জেলা|বীরভূমদেরকে]] পরাজিত করে জালালুদ্দিন খিলজি যখন [[দিল্লি]] দখল করে নেন, তখন আলাউদ্দিন খিলজিকে আমির-ই-তুজুখ বা উদযাপন মন্ত্রী পদ দেওয়া হয়। ১২৯১ সালে জালালুদ্দিন খিলজি তার ভাতিজা আলাউদ্দিন খিলজির হাতে কারা্ ([[কানপুর|কানপুরের]] নিকটবর্তী এক এলাকা) নামক অঞ্চলের শাসনভার তুলে দেন। ১২৯৬ সালে আলাউদ্দিন খিলজি বসিলা অবরোধ করে জালালুদ্দিন খিলজির কাছে থেকে আবাধ ([[উত্তরপ্রদেশ|উত্তর-প্রদেশ]]) দখল করেন। ১২৯৬ সালে দেভাগিরি অবরোধ করেন এবং জালালুদ্দিনের বিপুল পরিমানের সম্পদ দখল করে নেন। জালালুদ্দিন খিলজিকে হত্যা করে, তিনি দিল্লিতে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন এবং পরবর্তীতে জালালুদ্দিনের ছেলের কাছ থেকে [[মুলতান]] দখল করে নেন।
 
অল্পকিছুদিনের মধ্যেই আলাউদ্দিন খিলজি দক্ষভাবে বেশ কিছু মঙ্গোলীয় অঞ্চলকে নিজের ভারতীয় সাম্রজ্যের মধ্যে অন্তর্গত করেন। তার কত গুলো সফল অভিযানের মাঝে বিখ্যেত অভিযান গুলো হলঃ (১২৯৭–১২৯৮)জারান-মাঞ্জুর(বর্তমান [[পাঞ্জাব, ভারত|পাঞ্জাব]] এর কিছু এলাকা নিয়ে বিস্তৃত ছিল),শিবিস্থান (বিভক্ত [[পাকিস্তান|পাকিস্থান]]) (শিবিস্থান-১২৯৮),কিলি (প্রাচীন দিল্লির একটি এলাকা) (১২৯৯), দেলি [[দিল্লি]](১৩০৩),এবং [[উত্তরপ্রদেশ|উত্তর-প্রদেশ]] আম্রহা (১৩০৫) ,১৩০৬ সালে তার সৈন্যগণ মঙ্গোলীয়দের কাছ থেকে একটি সফল অভিযান শেষে রভি নদীর উপতক্যা দখল করে নেয় এবং সেই বছরই তারা মঙ্গলীয়দের বিশেষ আবাসস্থান বর্তমানের আফগানিস্থান দখল করে নেয়।যে সকল সেনাপতি মঙ্গোলীয়দের বিপক্ষে দক্ষ হাতে সফল অভিযান পরিচালনা করেছিলেন তারা হলেন সেনা-অধ্যক্ষ জাফর খান (জাফর খান),সেনাপতি উলুগ খান(উলুগ খান ) এবং একসময়ের গোলাম কিন্তু পরবর্তী সময়ের জেনারেল [[মালিক গফুর|মালিক কাফুর]]।
 
বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকাও আলাউদ্দদিন দখল করে নিজের দখলে নিয়েছিলেন এগুলো হলঃ [[রাথাম্বোর]] (১৩০১),[[চিত্তুর]] (১৩০৩),[[মালওয়া (পাঞ্জাব)]] (১৩০৫), [[সিবানা]] (১৩০৮) এবং জালোর (১৩১১).কতগুলো হিন্দু এলাকা দখল করার মাধমে অভিযান গুলো শেষ করেন। অভিযান গুলোর মাঝে আছে পারামারাছ, ভগল্‌স, রনাস্থাম্বাপুরার ছামানাছ এবং জালরি, গুইলাসের রাওয়াল এলাকা, এবং জাবাপ্লাস। সেনাপতি মালিক কাফুর প্রাচীন ভিন্দাস , এলাকার দক্ষিণে বেশ কয়েকটি সফল সফল অভিযান পরিচালনা করেন। দেভগিরি (১৩০৮), ভেরঙ্গল (১৩১০) থেকে বিপুল পরিমাণের সম্পদ জব্দ করে নিয়ে আসেন। তাঁর সৈন্যদের ভয়ে জাভাদা রাজা রামচন্দ্র কাকাতিয়ার রাজা [[প্রতাপ রুদ্র]] এবং হয়সালার রাজা বাল্ললা চলে আসেন আলাউদ্দিন খিলজির করের অধীনে। মহাবীর সেনাপতি কাফুর আবার পাণ্ডু রাজ্য(১৩১১) অবরোধ করে বিপুল সম্পদ, হাতি এবং ঘোড়া জব্দ করেন।
 
== প্রাথমিক জীবন ==
সমসাময়িক ইতিহাসবিদরা আলাউদ্দিনের শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি কিছু লেখেননি। ১৬শ / ১ ৭শ শতাব্দীর ইতিহাসবিদ হাজী-উদ-দবিরের মতে, [[রণথম্বোর|রণথম্বোরে]] যাত্রা শুরু করার সময় আলাউদ্দিনের বয়স ছিল ৩৪ বছর (১৩০০-১৩০১)। এটি সঠিক বলে ধরে নিলে আলাউদ্দিনের জন্ম ১২৬৬–১২৬৭ সালে হতে পারে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=2XXqAQAACAAJ|শিরোনাম=History of the Khaljis, A.D. 1290-1320|শেষাংশ=Lal|প্রথমাংশ=Kishori Saran|তারিখ=1968|প্রকাশক=Asia Publishing House|ভাষা=en}}</ref>
 
==রাজ্য জয়==
[[File:Delhi_Sultanate_under_Khalji_dynasty_-_based_on_A_Historical_Atlas_of_South_Asia.svg|সংযোগ=https://en.wikipedia.org/wiki/File:Delhi_Sultanate_under_Khalji_dynasty_-_based_on_A_Historical_Atlas_of_South_Asia.svg|alt=|থাম্ব|302x302পিক্সেল|খিলজি সাম্রাজ্য (গাড় সবুজ অংশ) এবং খিলজি শাখা অঞ্চল সমুহ (হালকা সবুজ অংশ)]]
আলাউদ্দিন খলজি খুব উচ্চাকাঙক্ষী শাসক ছিলেন । গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের মতো তিনিও বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখতেন । কিন্তু কাজি আলা-উল-মূলকের পরামর্শে তিনি এই অসম্ভব পরিকল্পনা ত্যাগ করে সারা ভারত জুড়ে এক বিশাল সাম্রাজ্য স্থাপনের নীতি গ্রহণ করেছিলেন । বিশ্বজয়ের পরিকল্পনা ত্যাগ করলেও মুদ্রায় নিজেকে ‘'''দ্বিতীয় আলেকজান্ডার'''’ হিসাবে উল্লেখ করতেন । ভারতে সাম্রাজ্য স্থাপনের পাশাপাশি তিনি উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে মোঙ্গল আক্রমণের হাত থেকেও ভারতকে রক্ষা করেন । প্রথমে তিনি ভারতের গুজরাটের রাজা [[কর্ণদেব]], রণ-থম্ভোরের রাজপুত নেতা '''হামির দেব''' , মেবারের রাজা  [[রতন সিং]] ও মালবের অধিপতি '''মহ্লক দেব'''কে পরাজিত করেন । এরপর তিনি [[মলিক কাফুর|মলিক কাফুরের]] নেতৃত্বে দক্ষিণ ভারতে অভিযান প্রেরণ করেন । কাফুর দেবগিরির রাজা  '''রামচন্দ্র''', বরঙ্গলের কাকতীয়রাজ  '''প্রতাপ রুদ্র''', দোরসমুদ্রের হোয়্সলরাজ  '''তৃতীয় বল্লাল'''কে পরাজিত করবার পর ভাতৃবিরোধের সুযোগ নিয়ে  '''[[পান্ড্য রাজবংশ|পান্ড্য]]''' রাজ্য অধিকার করেন । এরপর তিনি [[রামেশ্বরম]] পর্যন্ত অগ্রসর হন । আলাউদ্দিন খলজি অবশ্য দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি সরাসরি সাম্রাজ্যভুক্ত না করে সেখানকার রাজাদের মৌখিক আনুগত্য ও করদানের প্রতিশ্রুতি নিয়েই '''করদ রাজ্যে''' (কর ডাকে স্বীকৃত) পরিণত করেন । বিজেতা হিসাবে আলাউদ্দিন খলজি ছিলেন দিল্লির সুলতানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ । স্যার উলসলে হেগের মতে, তার রাজত্বের সঙ্গে সঙ্গেই সুলতানি সাম্রাজ্যবাদের সুত্রপাত হয় । তার আমলেই প্রথম দক্ষিণ ভারতে সুলতানি সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশ ঘটে । বিজেতা হিসাবে অনেকে তাকে আকবরের সঙ্গে তুলনা করেন। আলাউদ্দিনের দৃঢ়তা ও তার অসীম সাহসিকতাপূর্ণ যুদ্ধকৌশলের কারনে  তিনি ইতিহাস বিখ্যাত হয়ে আছেন।
 
==শাসনব্যবস্থা==
কিন্তু প্রজাপালন এবং জনকল্যাণ যদি কোনো রাষ্ট্রনায়কের শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাটি হয়, তাহলে আলাউদ্দিন খলজিকে সুলতানি আমলের শ্রেষ্ঠ সম্রাট বলা যায় না ।
 
== তথ্যসূত্র ==
{{সূত্র তালিকা}}
{{পূর্বনির্ধারিতবাছাই:খিলজি রাজবংশ}}
[[বিষয়শ্রেণী:দিল্লি সালতানাত]]
২,৭৮২টি

সম্পাদনা