"দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
== যুদ্ধ শুরু ==
=== পোল্যান্ড যুদ্ধ ===
[[চিত্র:Kobryn.png|thumb|350px|কোবরিনের যুদ্ধ (সেপ্টেম্বর ১৭,১৯৩৯)-মানচিত্রে জার্মান দ্বিতীয় মোটোরাইজড ডিভিশনের অগ্রযাত্রা এবং পোলিশ বাহিনীর পিছু হটা]] [[নাৎসি বাহিনীর পোল্যান্ড আক্রমণ]]এর মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নকে নিষ্ক্রিয় রাখার জন্য জার্মানীজার্মানি অনাক্রমণ চুক্তি করে। অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্স পোল্যান্ডের সাথে সহায়তা চুক্তি করে। ১৯৩৯ সালের ১লা সেপ্টেম্বর পোল্যান্ড [[অভিযান]] শুরু হল। ৩রা সেপ্টেম্বর মিত্রবাহিনী জার্মানীরজার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল এবং শুরু হল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ।
 
প্রথম দিনই জার্মান ঝটিকা বাহিনী পোল্যান্ডকে ছিন্নবিছিন্ন করে দিল। ফরাসি ও ব্রিটিশ বাহিনী সাহায্য করবার সুযোগ পেল না। এটি পশ্চিমের [[বিশ্বাস|বিশ্বাসভঙ্গতা]] হিসেবে পরিচিত। ১৭ই সেপ্টেম্বর গোপন সমঝোতা অনুসারে সোভিয়েত বাহিনীও [[আক্রমণ|আক্রমণে]] যোগ দিল। পরদিনই পোলিশ কর্তাব্যক্তিরা দেশ ছাড়লেন। ওয়ারস পতন হলো ২৭শে সেপ্টেম্বর। শেষ সেনাদল কক্ দুর্গে যুদ্ধ করে ৬ই অক্টোবর পর্যন্ত।
 
=== নরওয়ে ও ডেনমার্ক ===
নরওয়ে বিশ্বযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে তার ভৌগোলিক অবস্থানের জন্য। সুইডেনের কিরুনা খনি থেকে গরমকালে বাল্টিক সাগর দিয়ে এবং শীতকালে নরওয়ের বরফমুক্ত নারভিক বন্দর ও নরওয়ের রেলপথ দিয়ে [[লোহা]] চালান যেত জার্মানীতে।জার্মানিতে। প্রথমে হিটলার নরওয়েকে নিরপেক্ষ থাকতে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। ওদিকে মিত্রপক্ষ নারভিকের ঠিক বাইরের সমুদ্রে [[মাইন]] পেতে রাখার পরিকল্পনা করে। [[পরিকল্পনা|পরিকল্পনাটি]] ফাঁস হয়ে গেলে হিটলার ফ্রান্স আক্রমণের ইচ্ছা স্থগিত রেখে নরওয়ে অভিযানের নির্দেশ দিল। ১৯৪০ সালের ৯ই এপ্রিল একই সাথে নরওয়ে ও ডেনমার্কে <nowiki>আগ্রাসন শুরু হল সুইডেনের সাথে যোগাযোগের সুবিধার্থে</nowiki> ।
 
একদিকে নারভিকসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলি দখল করে নিল জার্মান বাহিনী। অন্যদিকে [[বিমানবন্দর|বিমানবন্দরগুলিতে]] অবতরণ করলো প্যারাশ্যুট বাহিনী। এরপর বিমানবন্দর দখল করে সেখান থেকে অতর্কিতে শহরে প্রবেশ করলো জার্মান সেনা। ডেনমার্ক বিনাবাধায় আত্মসমর্পণ করলেও নরওয়ে লড়াই করতে লাগলো। ১৪ই এপ্রিল মিত্রবাহিনী নামলো নরওয়েতে। কিন্ত মে মাসেই পিছু হটলো তারা। নারভিকে জার্মানরা পাঁচগুণ বেশি শত্রুর সাথে লড়াই চালিযে যাচ্ছিল ২৭শে মে পর্যন্ত। কিন্ত ততদিনে ফ্রান্সের পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে ওঠায় মিত্রসৈন্যদের ফিরিয়ে নিতে হল নরওয়ে থেকে। নরওয়ে বাহিনী আত্মসমর্পণ করলো এবং রাজা সপ্তম হাকোন ব্রিটেনে আশ্রয় নিলেন। জার্মানীরজার্মানির জন্য নরওয়ে আর্কটিক সাগর এবং ব্রিটেনের নিকটবর্তী একটি দরকারী নৌ ও বিমান ঘাঁটি হিসেবে কাজে দিল।
 
=== ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, লুক্সেমবার্গ ===
১০ই মে ১৯৪০ একসাথে চারটি দেশ আক্রমণ করে জার্মানী।জার্মানি। ফরাসিরা ভেবেছিল আক্রমণ আসবে ফ্রান্স জার্মানীজার্মানি সীমান্তের রণরেখা ম্যাগিনোট লাইনের ওপর। অথবা বেলজিয়ামের ভিতর দিয়ে আরদেন হয়ে। তারা ভেবেছিল জার্মানীরজার্মানির প্যানজার বাহিনী আরদেনের [[জঙ্গল]] ভেদ করে আসতে পারবে না। ১৪ই মে নেদারল্যান্ডের পতন ঘটলো। ১৪ই মে আরদেন থেকে জার্মান বাহিনী বেরিয়ে এসে দিশেহারা মিত্র সেনাদের ছিন্নবিছিন্ন করে প্রবল বেগে এগোতে থাকল। ডানকার্ক বন্দর দিয়ে তড়িঘড়ি ফরাসি ও ব্রিটিশ অভিযানবাহিনীর সেনা পশ্চাদপসরণ শুরু হলো। ২৬শে মে থেকে ৪ঠা জুন ইতিহাসের বৃহত্তম সেনা অপসারণের কাজ শেষ হলো। তবে ফেলে আসতে হলো বেশীরভাগ যন্ত্রাদি। এরমাঝে ২৭শে মে বেলজিয়ামের পতন হলো।
 
১০ই জুন ইতালিও যুদ্ধ ঘোষণা করল। তবে তারা আক্রমণ শুরু করে ২০শে জুন থেকে। ফরাসি সরকার প্রথমে তুর ও পরে বোর্দোতে সরে গেল। ১৪ই জুন প্যারিসের পতন ঘটল। ১৬ই জুন প্রধানমন্ত্রী [[রেনো]] পদত্যাগ করলেন ও তার বদলে এলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের নায়ক [[পেত্যাঁ]]। ২২শে জুন জার্মান-ফরাসি এবং ২৪শে জুন জার্মান-ইতালীয় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ফ্রান্সের বেশিরভাগ এলাকা জার্মানীজার্মানি নিয়ে নেয়। অল্প কিছু জায়গা জুড়ে পেঁত্যা একটি নিরপেক্ষ কিন্তু জার্মানীরজার্মানির প্রভাবাধীন সরকার গঠন করেন। এটি ''ভিশি ফ্রান্স'' নামে পরিচিত হয়।
 
=== বলকান অঞ্চল ===
 
=== উত্তর আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল সমূহে অভিযান ===
১৯৪০ এর জুন মাসের শুরুতে ইতালিয়ানরা মাল্টায় তাদের বিমান বাহিনী যোগে আক্রমণ করে এবং ব্রিটিশ উপনিবেশটিকে ঘেরাও করে। সে বছরেরই গ্রীষ্মের শেষ থেকে বসন্তের শুরুর সময়ের ভেতর ইতালিয়ানরা ব্রিটিশ সোমালিল্যান্ড দখল করে নেয় এবং স্থলপথে ব্রিটিশ অধিকৃত মিশরে হামলা চালায়। অক্টবরের দিকে ইতালিয়ানরা গ্রীসে অসফল একটি অভিযান পরিচালনা করে, যেটাতে তাদের পক্ষের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয় এবং আঞ্চলিক সীমানাতেও তেমন উল্লেখযোগ্য কোন পরিবর্তন আসেনি। ইতালিকে সাহায্যের উদ্দেশ্যে জার্মানীওজার্মানিও বলকানে হামলার প্রস্তুতি নিতে শুরু করল যেখানে তাদের মুল উদ্দেশ্য ছিল ইংরেজরা যাতে সেখানে শক্ত কোন অবস্থান নিতে না পারে (কারণ ইংরেজরা যদি বলকানে দখল নিতে পারত তাহলে রুমানিয়ার তৈলখনিগুলো জার্মান আওতার বাইরে চলে যেত) এবং একই সাথে ভুমধ্যসাগরে ব্রিটিশদের একাধীপত্তের ওপর আঘাত হানা।
 
১৯৪০ এর ডিসেম্বরে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সমরশক্তি মিশর ও ইতালী অধিকৃত পুর্ব আফ্রিকায় ইতালীয় ফ্যাসিস্ট বাহিনীর ওপর অত্যন্ত সফল পালটা হামলা পরিচালনা করে। এই হামলার ফলশ্রুতিতে ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারীর শুরুতেই ইতালী পুর্ব লিবিয়ার দখল হারাল এবং সেই সাথে তাদের বিপুল পরিমাণ সৈনিক বন্দি হল। স্থল শকির সাথে সাথে ইতালীয় নৌশক্তিও যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হল। তরান্তোর যুদ্ধে ব্রিটিশ রাজকীয় নৌ বহরের বিমানবাহী জাহাজের হামলায় তিনটি যুদ্ধজাহাজ অকেজো হয়ে গেল এবং কেইপ মাটাপানের যুদ্ধে আরো কিছু জাহাজ নষ্ট হল।
 
আফ্রিকা এবং ভূমধ্যসাগরে ইতালীয় বাহিনীর পরাজয় জার্মানীকেজার্মানিকে ওই অঞ্চলে একটি অভিযানকারী বাহিনী পাঠাতে বাধ্য করল এবং তার ফলশ্রুতিতে ১৯৪১ সালের মার্চের শেষে মার্শাল রোমেলের আফ্রিকা কর্পস আক্রমণ শুরু করে। মার্শাল রোমেলের বাহিনী কমনওয়েলথ বাহিনীকে পিছু হঠতে বাধ্য করল এবং মাসখানেকের ভেতর তারা পশ্চিম মিশর পর্যন্ত অগ্রসর হল এবং তব্রুক বন্দর ঘেরাও করল।
 
১৯৪১ সালের মার্চের শেষ দিকে বুলগেরিয়া এবং যুগোস্লাভিয়া ত্রিদলীয় চুক্তিতে (এটি বার্লিন চুক্তি নামেও পরিচিত) স্বাক্ষর করে, যদিও এর দুদিন পরেই ব্রিটিশ বিরোধী জাতীয়তাবাদীদের দ্বারা যুগোস্লাভ সরকারের পতন হয়। জার্মানীজার্মানি সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং যুগপৎ ভাবে ১৯৪১ সালের ৬ এপ্রিল যুগোস্লাভিয়া এবং গ্রীসে হামলা চালায়। উভয় দেশই মাসখানেকের ভেতর আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। মে মাসের শেষ দিকে গ্রীসের ক্রিট দ্বীপে ছত্রীসেনা অবতরণ অভিযানের ভেতর দিয়ে জার্মানির বলকান বিজয় অভিযান সম্পন্ন হয়। জার্মানি যদিও এই অঞ্চলে দ্রুত বিজয় লাভ করেছিল, কিন্তু এরপর পরই জার্মানির দখলদারিত্বের প্রতিবাদে যুগোস্লাভিয়াতে বৃহৎ আকারের প্রতিরোধ যুদ্ধ শুরু হয়ে যায় যেটা মহাযুদ্ধের শেষ সময় পর্যন্ত চালু ছিল।
 
সেই সময়, অর্থাৎ '৪১ সালের মে মাসে কমনওয়েলথ বাহিনী ইরাকে জার্মান সমর্থিত একটি অভ্যুত্থান বানচাল করে দেয়। এই অভ্যুত্থানে ভিশি ফ্রান্সের দখলে থাকা সিরিয়ার বিমান ঘাঁটি থেকে জার্মান বিমান বাহিনী প্রত্যক্ষ সহায়তা দিচ্ছিল। জুন জুলাই মাসের দিকে কমনওয়েলথ বাহিনীগুলো সিরিয়াতে ও লেবাননে সফল হামলা করে এবং উক্ত দেশদুটি দখলে নিয়ে আসে। এই অভিযানে তাদেরকে প্রত্যক্ষ সহায়তা দেয় মুক্ত ফ্রান্সের মুক্তিকামী সৈন্যরা।
 
=== '''অক্ষশক্তি কতৃক সোভিয়েত ইউনিয়ন আক্রমণ''' ===
<blockquote>''মুল নিবন্ধঃ [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুর্ব ফ্রন্ট]]'' </blockquote>মুলতঃ পুর্ব ফ্রন্ট নামে অধিক পরিচিত। সোভিয়েতদের কাছে পরিচিত "পিতৃভূমি রক্ষার যুদ্ধ" নামে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শুরুর দিককার সমস্ত আঁচ ছিল পশ্চিম ইয়োরোপের দেশগুলোর ওপর। যেসব দখলের মাধ্যমে জার্মানীজার্মানি বেশ ভালো রকমের রসদ পেয়েছিল যুদ্ধ চালিয়ে যাবার। একই সাথে জার্মানীরজার্মানির প্রধান একজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে দমিয়ে ফেলা হয়েছিল। যেটা ছিল ফ্রান্স। ফ্রান্সকে মাত্র ১মাসের ভেতর হারিয়ে দিয়ে হিটলার জার্মান জাতির প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অপমানের প্রতিশোধ নিয়ে ফেলে, যেটা জার্মান জনগণকে নাৎসিজমের সাথে এবং হিটলারের সাথে থাকতে উদ্বুদ্ধ করে।
 
উদ্ভুত পরিস্থিতকে সামনে রেখে জার্মানীজার্মানি, জাপান এবং সোভিয়েত রাশিয়া প্রস্তুতি নিতে থাকে। জাপানের সাথে রাশিয়ার অনাক্রমণ চুক্তি সম্পাদিত হয়ে যায়। জার্মানীওজার্মানিও রাশিয়ার সাহে একটা মতৈক্যে আসার চেষ্টায় ছিল, কারণ সেই সময়টায় হিটলারের লক্ষ্য ছিল ইংল্যান্ডকে বশে আনা।
 
ইংল্যান্ড যাতে করে আমেরিকা আর রাশিয়াকে যুদ্ধে টেনে আনতে না পারে সেই লক্ষ্যে হিটলার রাশিয়ার সাথে একটা চুক্তি চেয়েছিল। একই সাথে সে রাশিয়া আক্রমণের জন্য সীমান্তে বিশাল সৈন্য সমাবেশ করছিল। কারণ যদি সে রাশিয়ার সাথে চুক্তিতে ব্যর্থ হয় তবে রাশিয়ার ব্যাপারে চুড়ান্ত ফয়সালা করতে হবে যুদ্ধের মাধ্যমে।
 
বনিবনা না হওয়ায় রাশিয়া জার্মানীজার্মানি চুক্তি হল না, এবং ১৯৪০ সালের ১৮ ডিসেম্বর হিটলার রাশিয়া আক্রমনের প্রস্তুতি নেওয়ার আদেশ প্রদান করে।
 
২২জুন, ১৯৪১ সালে জার্মানীজার্মানি মিত্র ইতালি এবং রোমানিয়াকে নিয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে আক্রমন করে। এই অভিযান "[[অপারেশন বারবারোসা|অপারেশন বার্বারোসা]]" নামে পরিচিত। এই অভিযানের মুল লক্ষ্য ছিলো ১৯৪১ এর ভেতর রাশিয়ার বিশাল উর্বর অংশের এবং শিল্পাঞ্চলসমূহের দহল নেয়া, [[কমিউনিজম|কমিউনিজমে]]<nowiki/>র বিনাশ করা এবং জার্মানীরজার্মানির পরবর্তী শত্রুদের বিপরীতে যুদ্ধ পরিচালনার পর্যাপ্ত রসদ যোগানো।
 
<br />
১,৭৮,৫৭৪টি

সম্পাদনা