"ইন্দোনেশিয়া" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(হটক্যাটের মাধ্যমে বিষয়শ্রেণী:মুসলিম রাষ্ট্র যোগ)
'''ইন্দোনেশিয়া''' [[দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া]]র একটি দ্বীপ রাষ্ট্র। [[ল্যাটিন]] ইন্ডাস থেকে '''ইন্দোনেশিয়া''' শব্দটি এসেছে।<ref name=status-qp/> [[ল্যাটিন]] শব্দটির অর্থ দাঁড়ায় দ্বীপ। ডাচ উপনিবেশের কারণে তাদের দেয়া নামটি ওই অঞ্চলের জন্য প্রচলিত হয়। ১৯০০ সাল থেকে জায়গাটি '''ইন্দোনেশিয়া''' নামে পরিচিতি পায়।<ref name=status-qp/> প্রায় ৫,০০০ দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত এই দেশটি পৃথিবীর বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। এর রাজধানীর নাম [[জাকার্তা]]। সরকারী ভাবে ইন্দোনেশিয়ার নাম '''ইন্দোনেশীয় প্রজাতন্ত্রী''' ([[ইন্দোনেশীয় ভাষা]]য় ''Republik Indonesia'').
 
দেশটিতে মানুষ বসতির ইতিহাস বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো। যাদের বলা হয় '''জাভাম্যান'''। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া হয়ে তাইওয়ান থেকে একটি মানব প্রবাহের ধারা ইন্দোনেশিয়ায় যায় খ্রিষ্টজন্মের দুই হাজার বছর আগে।<ref name=status-qp/> তারা আদিবাসীদের ধীরে ধীরে আরো পূর্ব দিকে নিয়ে যায়। প্রথম শতাব্দীতে সভ্যতার বিস্তার ঘটে। কৃষিকেন্দ্রিক গ্রামীণ সমাজ গঠিত হয়। গড়ে ওঠে অসংখ্য শহর-নগর-বন্দর। সমুদ্র উপকূলে বিস্তার ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্য। [[চীন|চীনের]] সাথে [[ভারতীয় উপমহাদেশ|ভারতীয় উপমহাদেশের]] বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইন্দোনেশিয়া হয়ে। এর ফলে দেশটিতে এক দিক থেকে [[হিন্দুধর্ম|হিন্দু ধর্ম]] অন্য দিক থেকে আসে [[বৌদ্ধ ধর্ম।ধর্ম]]। দু’টি ধর্ম জীবনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে।<ref name=status-qp/>
 
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে [[মুসলিম|মুসলিমদের]] আগমন ঘটে। উত্তর সুমাত্রা হয়ে ক্রমে মুসলমানরা ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার মাইলের বিস্তৃত ইন্দোনেশিয়ায়। ষোড়শ শতাব্দীতে দেশটির প্রধান ধর্ম হয়ে যায় ইসলাম। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি ক্রমেই ছাপিয়ে গিয়েছিল বৌদ্ধ আর হিন্দুপ্রধান এ অঞ্চলে। এর পর ধাপে ধাপে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে দেশটিতে। ব্রিটিশ আর ডাচরা তাদের সাম্রাজ্য স্থাপন করলেও ধর্ম ও সংস্কৃতিতে তারা কোনো প্রভাব রাখতে পারেনি।<ref name=status-qp/>
 
== ইতিহাস ==
২০শ শতকের প্রথম দশকে ইন্দোনেশীয় স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয় এবং দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যবর্তী সময়ে ব্যাপক বিস্তার লাভ করে। তরুণ কর্মজীবী ও ছাত্রদের একটি ক্ষুদ্র দল এর নেতৃত্বে ছিল। এদের কেউ কেউ নেদারল্যান্ড্‌সে শিক্ষালাভ করেছিল। অনেক আন্দোলনকারীকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য কারাবন্দী করা হয়, যাদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার প্রথম রাষ্ট্রপতি সুকর্ণও ছিলেন।
 
[[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] সময় [[১৯৪২]] থেকে [[১৯৪৫]] সাল পর্যন্ত তিন বছর [[জাপান|জাপানিরা]] ইন্দোনেশিয়া দখল করে। ১৯৪৫ সালের ১৭ই আগস্ট মিত্রশক্তির হাতে [[জাপান|জাপানের]] আত্মসমর্পণের তিন দিন পর সুকর্ণ এবং মোহাম্মাদ আতার নেতৃত্বে একটি ক্ষুদ্র ইন্দোনেশীয় দল ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং ইন্দোনেশিয়া প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। তারা একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে এবং নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশ চালাবার জন্য একটি সংবিধান রচনা করে। ওলন্দাজরা পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে শক্ত বাধার সম্মুখীন হয়। চার বছর যুদ্ধ ও আলাপ আলোচনার পর ওলন্দাজেরা ইন্দোনেশীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। [[১৯৫০]] সালে ইন্দোনেশিয়া [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘে]] ৬০তম সদস্য হিসেবে যোগদান করে।
 
১৯৪৯ সালে ওলন্দাজদের সাথে শত্রুতার অবসানের কিছু পর ইন্দোনেশিয়া একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করে যাতে একটি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। নির্বাহী সংসদের দ্বারা নির্বাচিত হন এবং সংসদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য ছিলেন। ১৯৫৫ সালের প্রথম দেশব্যাপী নির্বাচনের আগে ও পরে ইন্দোনেশিয়ার সংসদ বহু দলের মধ্যে বিভক্ত ছিল এবং স্থিতিশীল কোয়ালিশন গঠন ছিল দুরূহ। ইন্দোনেশিয়াতে ইসলামের ভূমিকা একটি বিভাজক ইস্যুতে পরিণত হয়। সুকর্ণ "পঞ্চশীলা" নামের রাষ্ট্রের পাঁচ মূলনীতি অণুসারে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের পক্ষে ছিলেন। পাঁচটি মূলনীতি ছিল ধর্মীয় একত্ববাদ, মানবতাবাদ, জাতীয় ঐক্য, ঐকমত্যভিত্তিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্র এবং সামাজিক ন্যায়বিচার; এগুলি ১৯৪৫ সালের সংবিধানে লিপিবদ্ধ করা হয়। কিন্তু কিছু মুসলিম দল হয় একটি ইসলামী রাষ্ট্র কিংবা মুসলিমদের জন্য আলাদা ইসলামী আইন প্রয়োগের পক্ষপাতী ছিল।
== ভূগোল ==
[[চিত্র:Indonesia map.png|300px|right|thumb]]
ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জীববৈচিত্র্যের দেশ ([[ব্রাজিল|ব্রাজিলের]] পর)। এর জীব ও উদ্ভিদ শ্রেণীর মধ্যে এশীয় ও অস্ট্রেলীয় সংমিশ্রণ দেখা যায়। সুমাত্রা, জাভা, বোর্নিও এবং বালিতে এশীয় প্রাণীদের বিচিত্র সমারোহ। এখানে রয়েছে [[হাতি]], [[বাঘ]], [[চিতা]], [[গণ্ডার]] ও বৃহদাকার বানর।[[বানর]]। দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ বনভূমি। [[অস্ট্রেলিয়া|অস্ট্রেলিয়ার]] কাছাঁকাছি অবস্থিত পাপুয়ায় ৬০০ প্রজাতির পাখির বাস। পাখিদের ২৬ শতাংশ পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। দেশটির সমুদ্র উপকূলের দৈর্ঘ্য ৮০ হাজার কিলোমিটার। দেশটির জীববৈচিত্র্যের প্রধান কারণ এ দীর্ঘ উপকূলরেখা। দ্রুত শিল্পায়নের ফলে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।<ref name=status-qp/>
 
== অর্থনীতি ==
 
== ধর্ম ও সংস্কৃতি ==
সরকার ঘোষিত ৬টি ধর্ম হলো [[ইসলাম]], [[খ্রিস্ট ধর্ম|খ্রিষ্টানদের]] দু’টি গ্রুপ, [[হিন্দু ধর্ম|হিন্দু]], [[বৌদ্ধ ধর্ম|বৌদ্ধ]] ও [[কনফুসীয় ধর্ম|কনফুসীয়]]। জনসংখ্যার ৮৬ দশমিক ১ শতাংশ মুসলিম। খ্র্রিষ্টান ধর্মানুসারী ৮ দশমিক ৭ শতাংশ এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ৩ শতাংশ। বর্তমানে এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ লোক ইসলাম ধর্মাবলম্বী। ইন্দোনেশিয়া মিশ্র সংস্কৃতির দেশ। দেশটিতে ব্যাপক সাংস্কৃতিক ভিন্নতা রয়েছে। আরবীয়, [[ভারতীয়]], [[চীনা]], মালয় ও ইউরোপীয় সংস্কৃতির মিশেল রয়েছে জীবনাচরণে। আদিবাসী দ্বীপবাসীদের সংস্কৃতির সাথে এখানে বাণিজ্য করতে আসা এশীয় ও ইউরোপীয় লোকেদের সংস্কৃতির মিলন ঘটেছে।<ref name=status-qp/>
 
== পর্যটন ==
ইন্দোনেশিয়ার প্রায় ৫৭% ভূমি এলাকা ক্রান্তীয় অরণ্যে ঢাকা। এইসব অরণ্যতে অনেক পর্যটক ঘুরতে ভালবাসেন। এছাড়া রয়েছে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত। সবচেয়ে জনপ্রিয় সৈকতগুলির মধ্যে রয়েছে বালি, লোম্বক, বিনতান, ও নিয়াস দ্বীপের সৈকতগুলি। তবে এগুলিতে পর্যটকদের সংখ্যাধিক্যের কারণে ঠিকমত সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন কিন্তু ভালভাবে সংরক্ষিত সৈকতগুলির মধ্যে আছে কারিমুনজাওয়া, টোগীয় দ্বীপপুঞ্জ, বান্দা দ্বীপপুঞ্জের সৈকতগুলি। সমুদ্রের তীরে সার্ফিং এবং অনেক জায়গায় ডাইভিঙের ব্যবস্থাও আছে। আরও আছে বিস্তীর্ণ প্রবাল দ্বীপ। আর হরেক প্রজাতির প্রশান্ত ও ভারত মহাসাগরীয় উদ্ভিদ ও প্রাণী।
 
ইন্দোনেশিয়ায় আরও রয়েছে অনেক পর্বত, এবং এদের মধ্যে কিছু কিছু আবার আগ্নেয়গিরিও।[[আগ্নেয়গিরি|আগ্নেয়গিরিও]]। এগুলিতে অনেক পর্যটক পর্বতারোহণ করতে ভালবাসেন।
 
== ভাষা ==
৭৪৭টি

সম্পাদনা