"পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(→‎আত্মসমর্পণ দলিলের ভাষ্য: দলিলের চিত্র যোগ)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
 
== পরিপ্রেক্ষিত ==
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ব্রিটিশ শাসিত ভারত বিভক্ত হয়ে [[ভারত]][[পাকিস্তান]] নামের দুটি স্বাধীন দেশের জন্ম হয়। পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় অংশের নাম ছিল [[পূর্ব পাকিস্তান।পাকিস্তান]]। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ২৫ মার্চ রাতের অন্ধকারে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা শুরু করে। অতঃপর জনযুদ্ধের আদলে মুক্তিযুদ্ধ তথা [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ|স্বাধীনতা সংগ্রামের]] সূচনা ঘটে।
 
মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ক্রমান্বয়ে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে পড়ে যে উপায়ন্তর না দেখে ঘটনা ভিন্ন খাতে পরিচালিত করতে তারা ডিসেম্বরের ৩ তারিখ ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। এতে ভারতের প্রধান মন্ত্রী বলেন যে “বাংলাদেশে যে যুদ্ধ চলে আসছিল তা ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।” ভারতের সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের মুক্তিবাহিনীর সাথে যুক্ত হয়ে যৌথবাহিনী তৈরি করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। ৪ঠা ডিসেম্বর ১৯৭১ থেকে ভারতীয় স্থলবাহিনীর সম্মুখ অভিযান শুরু হয় চারটি অঞ্চল থেকে: (১) পূর্বে [[ত্রিপুরা|ত্রিপুরা রাজ্য]] থেকে তিন ডিভিশনের সমবায়ে গঠিত ৪র্থ কোর [[সিলেট]]-[[ব্রাহ্মণবাড়িয়া]]-[[কুমিল্লা]]-[[নোয়াখালী]] অভিমুখে; (২) উত্তরাঞ্চল থেকে দু’ডিভিশনের সমবায়ে গঠিত ৩৩তম কোর [[রংপুর]]-[[দিনাজপুর]]-[[বগুড়া]] অভিমুখে; (৩) পশ্চিমাঞ্চল থেকে দু’ডিভিশনের সমবায়ে গঠিত ২য় কোর [[যশোর]]-[[খুলনা]]-[[কুষ্টিয়া]]-[[ফরিদপুর]] অভিমুখে; এবং (৪) [[মেঘালয়]] রাজ্যের তুরা থেকে ডিভিশন অপেক্ষা কম আর একটি বাহিনী [[জামালপুর]]-[[ময়মনসিংহ]] অভিমুখে।[৩০] যৌথবাহিনীর প্রবল আক্রমণের মুখে সারা দেশের সীমান্তবর্তী যুদ্ধক্ষেত্রগুলো থেকে পাকিস্তানীরা পিছু হটতে শুরু করে। একের পর এক পাকিস্তানী ঘাঁটির পতন হতে থাকে। পাকিস্তানীরা অল্প কিছু জায়গায় তাদের সামরিক শক্তি জড় করেছিল; যৌথবাহিনী তাদের এড়িয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে [[ঢাকা|ঢাকার]] দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। বাংলাদেশের আপামর জনতাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার মাত্র ১৩ দিনের মাথায় [[মিত্র বাহিনী|যৌথবাহিনী]] ঢাকার দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়। [[মুক্তিবাহিনী]] ও ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সম্মিলিত আক্রমণের মুখে ইতোমধ্যে পর্যদুস্ত ও হতোদ্যম পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তান ৯৩,০০০ হাজার সৈন্যসহ আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে। স্বাক্ষরিত হয় আত্মসমর্পণের দলিল। এরই মাধ্যমে নয় মাস ব্যাপী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের অবসান হয়; প্রতিষ্ঠিত হয় [[বাঙ্গালী]] জাতির প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র [[বাংলাদেশ]]।
 
== আত্মসমর্পণ দলিলের ভাষ্য ==
আত্মসমর্পণ দলিলের লেখা এখন [[বাংলাদেশ]], [[পাকিস্তান]] এবং [[ভারত]] সরকারের পাবলিক সম্পত্তি এবং এটি দিল্লি জাতীয় যাদুঘর প্রদর্শনের জন্য রাখা আছে (জানুয়ারি ২০১২ হিসাবে)। দলিলের লেখা ইংরেজিতে ছিল এবং তা হল:<ref name="Story of Pakistan">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শেষাংশ=SoP|শিরোনাম=The Separation of East Pakistan|ইউআরএল=http://storyofpakistan.com/the-separation-of-east-pakistan/|প্রকাশক=স্টোরি অব পাকিস্তান|সংগ্রহের-তারিখ=20 July 2012|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=পূর্ব পাকিস্তানের বিচ্ছেদ}}</ref>
{| class="wikitable" style="font-size: 88%;"
| colspan="2" | The PAKISTAN Eastern Command agree to surrender all PAKISTAN Armed Forces in BANGLA DESH to Lieutenant-General JAGJIT SINGH AURORA, General Officer Commanding in Chief of Indian and BANGLA DESH forces in the Eastern Theater. This surrender includes all PAKISTAN land, air and naval forces as also all para-military forces and civil armed forces. These forces will lay down their arms and surrender at the places where they are currently located to the nearest regular troops under the command of Lieutenant-General JAGJIT SINGH AURORA.
;অনুবাদ<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=আত্মসমর্পণের দলিল|ইউআরএল=http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2011-04-14/news/141567|ওয়েবসাইট=প্রথম আলো|তারিখ=২৫ মার্চ ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20171215213620/http://archive.prothom-alo.com/detail/date/2011-04-14/news/141567|আর্কাইভের-তারিখ=১৬ ডিসেম্বর ২০১৭}}</ref>
{| class="wikitable" style="font-size: 88%;"
| colspan="2" | পূর্ব রণাঙ্গনে ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল [[জগজিত সিং অরোরা|জগজিৎ সিং অরোরার]] কাছে পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানের সকল সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণে সম্মত হলো। পাকিস্তানের সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ সব আধা-সামরিক ও বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ প্রযোজ্য হবে। এই বাহিনীগুলো যে যেখানে আছে, সেখান থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কর্তৃত্বাধীন নিয়মিত সবচেয়ে নিকটস্থ সেনাদের কাছে অস্ত্রসমর্পণ ও আত্মসমর্পণ করবে।
 
এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট-জেনারেল অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার প্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পণের শর্তাবলীর অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে, লেফটেন্যান্ট-জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
৭৪৭টি

সম্পাদনা