"জাপানের ইতিহাস" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।
(1টি উৎস উদ্ধার করা হল ও 0টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল। #IABot (v2.0beta10ehf1))
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
[[জাপান দ্বীপপুঞ্জ|জাপান দ্বীপপুঞ্জে]] মানুষ প্রথম বসতি স্থাপন করে প্রাগৈতিহাসিক কালে।<ref>[http://web-japan.org/trends00/honbun/tj990615.html][http://www.jomon.or.jp/ebulletin11.html "Ancient Jomon of Japan", Habu Jinko, Cambridge Press, 2004] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20070827214726/http://www.jomon.or.jp/ebulletin11.html |তারিখ=২৭ আগস্ট ২০০৭ }}</ref> খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম সহস্রাব্দে জাপানের আদি [[জোমোন সংস্কৃতি]] (যার নামকরণ হয়েছে স্বতন্ত্র "দড়ির দাগ দেওয়া" মাটির বাসন থেকে) ক্রমশ [[য়ায়োই]] সংস্কৃতির দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে যায়।<ref name="keally-yayoi">{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.t-net.ne.jp/~keally/yayoi.html |শিরোনাম=Yayoi Culture |প্রথমাংশ=Charles T. |শেষাংশ=Keally |তারিখ=2006-06-03 |কর্ম=Japanese Archaeology |প্রকাশক=Charles T. Keally |সংগ্রহের-তারিখ=2010-03-19}}</ref> য়ায়োই যুগে মূল এশীয় ভূখণ্ড থেকে জাপানে নতুন প্রযুক্তির আগমন ঘটেছিল। খ্রিষ্টীয় প্রথম শতাব্দীতে [[চীন|চীনের]] ''[[হান গ্রন্থ|হান গ্রন্থে]]'' জাপানের প্রথম লিখিত উল্লেখ পাওয়া যায়। খ্রিষ্টীয় তৃতীয় থেকে অষ্টম শতাব্দীর মধ্যে জাপানের বহুসংখ্যক রাজ্য ও উপজাতিসমূহ একটি কেন্দ্রীভূত শাসনব্যবস্থার অধীনে একত্র হয়, যার প্রশাসনিক প্রধান হন [[জাপানের সম্রাট|সম্রাট]]। এই সময়ে প্রতিষ্ঠিত [[জাপানের রাজবংশ]] আজ অবধি নিরবচ্ছিন্নভাবে জাপান শাসন করে আসছে। ৭৯৪ খ্রিঃ [[হেইআন-ক্যো]] (আধুনিক [[কিয়োতো]]) শহরে নতুন রাজধানী স্থাপন হয়; এই ঘটনা [[হেইআন যুগ|হেইআন যুগের]] সূচনা নির্দেশ করে। ১১৮৫ খ্রিঃ পর্যন্ত এই যুগ স্থায়ী হয় এবং একে জাপানের ধ্রুপদী [[জাপানের সংস্কৃতি|সংস্কৃতির]] স্বর্ণযুগ বলে গণ্য করা হয়। এই সময় থেকে জাপানের ধর্মবিশ্বাসে [[কোরিয়া]] থেকে আগত [[বৌদ্ধধর্ম]] এবং জাপানের নিজস্ব [[শিন্তো]] ধর্মের এক মিশ্রণ লক্ষ্য করা যায়।
 
পরবর্তী শতাব্দীগুলিতে সম্রাট ও তাঁরতার পার্ষদদের ক্ষমতা ক্রমশ খর্ব হয় এবং বিভিন্ন সামরিক গোষ্ঠী ও তাদের অনুগত [[সামুরাই]] যোদ্ধারা দেশের সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। ১১৮০-৮৫ খ্রিঃ গেন্‌পেই যুদ্ধে [[মিনামোতো নো য়োরিতোমো]]র নেতৃত্বে [[মিনামোতো গোষ্ঠী]] জয়লাভ করে। ক্ষমতা দখলের পর য়োরিতোমো কামাকুরায় তাঁরতার রাজধানী স্থাপন করেন এবং ''[[শোগুন]]'' উপাধি নেন। ১২৭৪ এবং ১২৮১ খ্রিঃ দু'বার কামাকুরা শোগুনতন্ত্র [[জাপানে মঙ্গোল আক্রমণ|মঙ্গোল আক্রমণ]] প্রতিহত করে। কিন্তু ১৩৩৩ খ্রিঃ শোগুন পদের এক প্রতিদ্বন্দ্বী দাবিদারের কাছে তারা পরাস্ত হলে মুরোমাচি যুগ আরম্ভ হয়। মুরোমাচি যুগে শোগুনের ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং তাঁরতার অধীনস্থ স্থানীয় যোদ্ধা-নেতারা ক্ষমতা বহুলাংশে কুক্ষিগত করেন। এই যোদ্ধা-নেতাদের [[ডাইমিয়ো]] বলা হত। ক্রমশ জাপানে [[সেন্‌গোকু যুগ|গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি]] সৃষ্টি হয়। ষোড়শ শতাব্দীর শেষভাগে জনৈক দাইমিও ওদা নোবুনাগা ও তাঁরতার উত্তরাধিকারী তোয়োতোমি হিদেয়োশির নেতৃত্বে জাপানের রাজনৈতিক সংহতি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫৯৮ খ্রিঃ হিদেয়োশির মৃত্যুর পর তোকুগাওয়া ইএয়াসু ক্ষমতা লাভ করেন এবং সম্রাট কর্তৃক শোগুন পদে নিযুক্ত হন। [[তোকুগাওয়া শোগুনতন্ত্র|তোকুগাওয়া শোগুনতন্ত্রের]] রাজধানী ছিল [[এদো]] (বর্তমান [[তোকিও]]) শহরে এবং এই শোগুনতন্ত্রের শাসনকাল [[এদো যুগ]] (১৬০০-১৮৬৮) ছিল আপেক্ষিকভাবে সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ। তোকুগাওয়া শোগুনতন্ত্র জাপানের সমাজে কঠোর জাতিভেদ প্রতিষ্ঠা করে এবং অবশিষ্ট বিশ্বের সাথে জাপানের সমস্ত যোগাযোগ [[সাকোকু|বিচ্ছিন্ন]] করে দেয়।
 
১৮৫৩-৫৪ খ্রিঃ মার্কিন [[পেরি অভিযান]] জাপানের সচেতন বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটায়। এরই পরোক্ষ ফল হিসেবে [[বাকুমাৎসু|শোগুনতন্ত্রের পতন]] হয় এবং ১৮৬৮ খ্রিঃ পুনরায় [[মেইজি পুনর্গঠন|সম্রাটের ক্ষমতায়ন]] হয়। এইভাবে শুরু হওয়া [[মেইজি যুগ|মেইজি যুগের]] [[মেইজি অল্পতন্ত্র|নব্য জাতীয় নেতৃত্ব]] জাপানকে একটি বিচ্ছিন্ন, অনুন্নত দ্বীপরাষ্ট্র থেকে [[জাপান সাম্রাজ্য|সাম্রাজ্যে]] পরিণত করে। পাশ্চাত্য নকশা অনুসরণ করে জাপান এই সময় অন্যতম বিশ্বশক্তি হয়ে ওঠে। [[তাইশো যুগ|তাইশো যুগে]] (১৯১২-২৬) জাপানে গণতন্ত্রের আগমন ঘটলেও জাপানি সেনাবাহিনীর অনিয়ন্ত্রিত স্বায়ত্তশাসন ছিল, আর তারা ১৯২০ ও ৩০ এর দশকে নাগরিক নেতৃত্বকে নিয়মিত উপেক্ষা করত। ১৯৩১ এ জাপানি সেনাবাহিনী [[জাপানের মাঞ্চুরিয়া অধিকার|মাঞ্চুরিয়া অধিকার]] করে, এবং ১৯৩৭ থেকে চীনের সাথে জাপানের [[দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধ|দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের]] সূত্রপাত হয়। ১৯৪১ এর ডিসেম্বরে [[পার্ল হারবার আক্রমণ|পার্ল হারবার আক্রমণের]] মাধ্যমে জাপানের সাথে [[প্রশান্ত মহাসাগরীয় ক্ষেত্র (দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ)|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ]] আরম্ভ হয়। জাপানি সমরশক্তি ক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে দুর্বল হয়ে যায়, কিন্তু [[জাপানে বিমান আক্রমণ|মার্কিন বিমান আক্রমণের]] মাধ্যমে জনসাধারণের অত্যধিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও সেনাবাহিনী অনমনীয় থাকে। [[সোভিয়েত ইউনিয়নের মাঞ্চুরিয়া অধিকার]] ও [[হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণ|হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমাবর্ষণের]] অব্যবহিত পরে ১৪ই আগস্ট ১৯৪৫ এ জাপান [[জাপানের আত্মসমর্পণ|নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ]] করে।
১,৭৪,২৯৯টি

সম্পাদনা