"সূত্র" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।
(৩টি উৎস উদ্ধার করা হল ও ০টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল।) #IABot (v2.0)
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
[[চিত্র:Kalpa_sutra-Jina's_mother_dreams_c1465.jpg|থাম্ব|360x360পিক্সেল|কাল্পা সূত্র (জৈন) থেকে একটি পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা]]
 
'''সূত্র''' (সংস্কৃতঃ sūtra) হল [[দক্ষিণ এশিয়া|দক্ষিণ এশিয়ার]] [[ধর্ম]] বিশেষ করে [[হিন্দুধর্ম]], [[বৌদ্ধ ধর্ম|বৌদ্ধধর্ম]] এবং [[জৈন ধর্ম|জৈনধর্মের]] এক ধরণেরধরনের [[নীতিশাস্ত্র|নীতিবচন]] বা শিক্ষা।<ref>{{cite dictionary|title=sutra|dictionary=Dictionary.com|url=http://www.dictionary.com/browse/sutra?s=t|accessdate=November 8, 2017}}</ref><ref name="monierwilliamssutra2">[http://www.ibiblio.org/sripedia/ebooks/mw/1200/mw__1274.html Monier Williams, ''Sanskrit English Dictionary'', Oxford University Press, Entry for ''sutra'', page 1241]</ref><ref name="winternitz2492" /> সূত্র শব্দটি কখনো একটি নীতিবচন বুঝাতে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো [[ধর্মগ্রন্থ|উপাসনা গ্রন্থে]] লিখিতরুপে একাধিক নীতিবচনের সমষ্টি বুঝাতেও ব্যবহৃত হয়। সূত্র হল [[প্রাচীন ভারত|প্রাচীন]] ও [[মধ্যযুগীয় সাহিত্য|মধ্যযুগীয়]] [[ভারতীয় সাহিত্য|ভারতীয় গ্রন্থের]] একটি ধারা।<ref name="winternitz249" />
 
[[হিন্দুধর্ম|হিন্দুধর্মে]] সূত্র হল [[নীতিশাস্ত্র|নীতিবচন]] সংকলন, যা এক ধরণেরধরনের সাহিত্য ধারা।<ref name="winternitz2493" /><ref name="gavinfloodaith54">Gavin Flood (1996), ''An Introduction to Hinduism'', Cambridge University Press, {{ISBN|978-0-521-43878-0}}, pages 54–55</ref> প্রত্যেকটি সূত্র হল কিছু শব্দের মধ্যে সমাপতিত সংক্ষিপ্ত নিয়ম যা শাস্ত্রীয় শিক্ষা, দর্শন ব্যকরণ বা অন্য কোন জ্ঞান ধারণ করে।<ref name="monierwilliamssutra" /><ref name="winternitz2494" /> [[বেদ]] এর [[ব্রাহ্মণ (হিন্দুশাস্ত্র)|ব্রাহ্মণ]] ও [[আরণ্যক (হিন্দুশাস্ত্র)|আরণ্যক]] অধ্যায়ে হিন্দুধর্মের পুরাতন সূত্রগুলো পাওয়া যায় 108 টা উপনিষদ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো গোপাল তাপনী উপনিষদ।<ref name="maxmullerhas108" /><ref name="winternitz252" /> [[হিন্দু দর্শন]] এর প্রতিটি স্কুল, আচার-অনুষ্ঠানের জন্য বেদীয় নির্দেশিকা, কলার বিভিন্ন ক্ষেত্র, আইন এবং সামাজিক নৈতিকতা বিভিন্ন সূত্র গড়ে তুলেছে যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে শিক্ষা ও ধ্যানধারণা পৌছে দিতে সাহায্য করে।<ref name="gavinfloodaith542" /><ref name="maxmullerhas74" /><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=White|প্রথমাংশ=David Gordon|বছর=2014|শিরোনাম=The Yoga Sutra of Patanjali: A Biography|প্রকাশক=Princeton University Press|আইএসবিএন=978-0-691-14377-4|পাতাসমূহ=194–195}}</ref>
 
সুত্র বৌদ্ধধর্মে [[গৌতম বুদ্ধ|গৌতম বুদ্ধের]] বিভিন্ন মৌখিক শিক্ষাকে লিখিত রূপে ধরে রাখে এবং অনেকসময় ''সুত্ত'' নামেও পরিচিত। ''সুত্ত'' শব্দটির পালি রূপ যা আদি [[পালিশাস্ত্র|পালিশাস্ত্রের]] বিভিন্ন অনুশাসন বুঝায়।
বেদের ছয়টি বেদান্ত বা ছয়টি অঙ্গের মধ্যে হিন্দুধর্মের প্রাচীন সূত্র একটি বড় সংকলন পাওয়া যায়।<ref name="maxmullerhas1083" /> [[বেদ|বেদকে]] নিখুঁতভাবে আয়ত্তের জন্য এই ছয়টি বিষয় প্রয়োজনীয় বলে বলা হয়েছিল। এই ছয়টি বিষয় ছিল জ্যোতির্বিজ্ঞান ([[জ্যোতিষশাস্ত্র|জ্যোতিষ]]), উচ্চারণ([[শিক্ষা]]), ছন্দ(ছন্দ), ব্যাকরণ([[ব্যাকরণ]]), শব্দ ব্যাখ্যা([[নিরুক্ত]]) এবং আনুষ্ঠানিক রীতিনীতি ([[কল্পসূত্র|(কল্পসূত্র]])।<ref name="maxmullerhas1084" /> [[মাক্স মুলার|ম্যাক্স মুলার]] বলেন,প্রথম দুটি বৈদিক যুগে বেদ পড়ার জন্য এবং শেষ দুটি অগ্নি পূজারীদের বৈদিক জ্ঞান লাভের জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করা হতো।<ref name="maxmullerhas1085">Max Muller, [https://archive.org/stream/historyofancient00mluoft#page/108/mode/2up History of Ancient Sanskrit Literature], Oxford University Press, pages 108–113</ref> এইগুলির সাথে সম্পর্কযুক্ত সূত্রগুলি বেদের [[ব্রাহ্মণ (হিন্দুশাস্ত্র)|ব্রাহ্মণ]] এবং [[আরণ্যক (হিন্দুশাস্ত্র)|আরণ্যক]] অধ্যায়গুলির মধ্যে অবস্থিত। তৈত্তিরীয় আরণ্যকে ৭ নং বইয়ের কিছু সূত্র কিছু শব্দেরমালার সঠিক উচ্চারণ দেয় যেমন- "চিঠিপত্র", "আকৃতি", "পরিমাণ", "পৌঁছান" এবং "ইউফোনিক নিয়ম"।<ref name="maxmullerhas113">Max Muller, [https://archive.org/stream/historyofancient00mluoft#page/108/mode/2up History of Ancient Sanskrit Literature], Oxford University Press, pages 113–115</ref>
 
[[তৈত্তিরীয় উপনিষদ|তৈত্তিরীয় উপনিষদের]] মতই বেদের দার্শনিক ও দৃষ্টিনন্দন উপনিষদগুলিতেও অনেক ধরণেরধরনের সূত্র পাওয়া যায়।<ref name="maxmullerhas1132" />
 
প্রাচীন বৈদিক সূত্র সাহিত্যের যে সংমিশ্রণ টিকে আছে সেগুলো অনেকভাগে বিভক্ত যেমন- [[কল্পসূত্র]], [[শ্রাত্য সূত্র]], [[শ্রুতি গীতবিতান|শ্রুত সূত্র]], [[ধর্মসূত্র]], [[গৃহ্যসূত্র]] এবং [[শুল্ব সূত্র]]।<ref>Max Muller, [https://archive.org/stream/historyofancient00mluoft#page/108/mode/2up History of Ancient Sanskrit Literature], Oxford University Press, pages 108–145</ref> সূত্রের অন্যান্য ভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যুৎপত্তি, ধ্বনিতত্ত্ব এবং ব্যকরণ।{{Hinduism}}
===বেদ-পরবর্তী সূত্র===
হিন্দু দর্শনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কিছু সূত্র গ্রন্থের উদাহরণ নিম্ন্রুপঃ
* [[ব্রহ্মসূত্র]] (বা বেদান্ত সূত্র) - ২০০ খ্রিষ্টপূর্ব থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দেরখ্রিষ্টাব্দের মধ্যে কোন এক সময়ে বৌধায়ন দ্বারা গঠিত একটি সংস্কৃত গ্রন্থ।<ref name="nvisaeva35">NV Isaeva (1992), Shankara and Indian Philosophy, State University of New York Press, {{ISBN|978-0-7914-1281-7}}, page 35 with footnote 30</ref> [[উপনিষদ্‌]] গুলোতে চারটি অধ্যায়ে ৫৫৫ টি সূত্র আছে যা দার্শনিক এবং আধ্যাত্মিক ধারণাগুলোর সারাংশ প্রকাশ করে।<ref name="jamesloch124">James Lochtefeld, Brahman, The Illustrated Encyclopedia of Hinduism, Vol. 1: A–M, Rosen Publishing, {{ISBN|978-0-8239-3179-8}}, page 124</ref> [[হিন্দু দর্শন|হিন্দু দর্শনশাস্ত্র]] [[বেদান্ত]] এর মূল একটি মূল গ্রন্থ।<ref name="jamesloch1242" />
* [[যোগসূত্র]] - আটটি অঙ্গ ও ধ্যান সহ [[যোগ (হিন্দুধর্ম)|যোগ]] ব্যায়ামের তে ১৯৬ টি সূত্র রয়েছে। ঐতিহ্যগত যোগ থেকে উপাদান নিয়ে ৪০০ অব্দের দিকে [[পতঞ্জলি]] ''যোগসূত্র'' গুলি একত্র করেন।<ref>{{Citation|last=Wujastyk|first=Dominik|year=2011|title=The Path to Liberation through Yogic Mindfulness in Early Ayurveda. In: David Gordon White (ed.), "Yoga in practice"|publisher=Princeton University Press|page=33}}</ref> এই পাঠ্যটি ভারতীয় সংস্কৃতি এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের উপর অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং এটি মধ্যযুগে প্রাচীন ভারতীয় পাঠ্যাংশের মধ্যে সবচেয়ে অনুবাদিত গ্রন্থ, যা প্রায় 40 টি ভারতীয় ভাষায় অনুদিত হয়েছে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=White|প্রথমাংশ=David Gordon|বছর=2014|শিরোনাম=The Yoga Sutra of Patanjali: A Biography|প্রকাশক=Princeton University Press|আইএসবিএন=978-0-691-14377-4|পাতা=xvi}}</ref>
* [[সমখ্য সূত্র]] - হিন্দু দর্শনশাস্ত্রের সমখ্য শাখায় সংস্কৃত গ্রন্থের একটি সংগ্রহ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে কপিলের দ্বৈতধর্মের সূত্র। [38] এর ছয়টি বই এ ৫২৬ টি সূত্র রয়েছে।
জৈন ঐতিহ্যের মধ্যে, সূত্রগুলি "স্থায়ী পাঠ্য" হিসেবে স্মরণ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=M. Whitney Kelting |লেখক-সংযোগ=Mary Whitney Kelting|শিরোনাম=Singing to the Jinas: Jain Laywomen, Mandal Singing, and the Negotiations of Jain Devotion|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=elcn1IEJ3CEC |বছর=2001|প্রকাশক=Oxford University Press|আইএসবিএন=978-0-19-803211-3|পাতাসমূহ=84–85}}</ref>
 
উদাহরণস্বরূপ, [[কালপা সূত্র]],জৈন তীর্থঙ্করদের জীবনীর পাশাপাশি মঠের নিয়মগুলির শাস্ত্রের সাথে এক ধরণেরধরনের জৈন পাঠ,<ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=John Cort |শিরোনাম=Framing the Jina: Narratives of Icons and Idols in Jain History |ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=MDBpq23-0QoC |বছর=2010|প্রকাশক=Oxford University Press |আইএসবিএন=978-0-19-973957-8 |পাতাসমূহ=138–139 }}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি | শেষাংশ =Jacobi | প্রথমাংশ =Hermann |সম্পাদক=Max Müller | শিরোনাম =Kalpa Sutra, Jain Sutras Part I | প্রকাশক =Oxford University Press | বছর =1884 }}</ref> অনেক সূত্রই তপস্বীদের ও জৈন ধর্মানুসারীদের জীবনপ্রণালী নিয়ে আলোচনা করে। এম হুইটনি কেল্টিং এর মতানুসারে ১ম সহস্রাব্দ এর অনেক প্রাচীন সূত্র ভক্তিবাদকে একটি জৈন অনুশীলনের একটি কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।<ref name=kelting111>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক= M. Whitney Kelting| লেখক-সংযোগ=Mary Whitney Kelting | শিরোনাম= Singing to the Jinas: Jain Laywomen, Mandal Singing, and the Negotiations of Jain Devotion |ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=elcn1IEJ3CEC |বছর=2001|প্রকাশক= Oxford University Press|আইএসবিএন=978-0-19-803211-3 |পাতাসমূহ=111–112 }}</ref>
 
জৈন ঐতিহ্যের টিকে থাকা ধর্মগ্রন্থ, [[অকারঙ্গা সূত্র]], সূত্র আকারে লিখিত।<ref name=jainigasjd32>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=Padmanabh S. Jaini |শিরোনাম=Gender and Salvation: Jaina Debates on the Spiritual Liberation of Women |ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=GRA-uoUFz3MC |তারিখ=1991 |প্রকাশক=University of California Press |আইএসবিএন=978-0-520-06820-9 |পাতা=32 }}</ref> এছাড়া [[তত্তভার্থ সূত্র]] রয়েছে যা মূলত একটি সংস্কৃত পাঠ এবং জৈনধর্মের চারটি সম্প্রদায়ের সবগুলো দ্বারা গৃহীত এবং যা সর্বাধিক প্রামাণিক দার্শনিক পাঠ যা জৈনবাদের ভিত্তিকে সম্পূর্ণরূপে সমার্থক করে তোলে। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=K. V. Mardia|শিরোনাম=The Scientific Foundations of Jainism|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=T_VCbRgKKNYC|বছর=1990|প্রকাশক=Motilal Banarsidass|আইএসবিএন=978-81-208-0658-0|পাতা=103|উক্তি= '''Quote:''' Thus, there is a vast literature available but it seems that Tattvartha Sutra of Umasvati can be regarded as the main philosophical text of the religion and is recognized as authoritative by all Jains."}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ=Jaini|প্রথমাংশ=Padmanabh S. |শিরোনাম=The Jaina path of purification |ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=wE6v6ahxHi8C&pg=PA113 |বছর=1998|প্রকাশক=Motilal Banarsidass|আইএসবিএন=81-208-1578-5|পাতা=82}}</ref>
১,৮৫,২০১টি

সম্পাদনা