"জনি ক্যাশ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

"Johnny Cash" পাতাটি অনুবাদ করে তৈরি করা হয়েছে
("Johnny Cash" পাতাটি অনুবাদ করে তৈরি করা হয়েছে)
("Johnny Cash" পাতাটি অনুবাদ করে তৈরি করা হয়েছে)
== বিবাহ এবং পরিবার ==
১৯৫১ সালের ১৮ জুলাই বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালীন ক্যাশ তার স্থানীয় [[স্যান অ্যান্টোনিও|সান আন্তোনিওতে]] রোলার স্কেটিং রিঙ্কের সময় ১৭ বছর বয়সি ইতালিয়ান-আমেরিকান ভিভিয়ান লিবার্তোর সাথে পরিচিত হন। <ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.history.com/news/why-hate-groups-went-after-johnny-cash-in-the-1960s|শিরোনাম=Why Hate Groups Went After Johnny Cash in the 1960s|ওয়েবসাইট=History|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=November 7, 2018}}</ref> ক্যাশকে তিন বছরের ট্যুরের জন্য জার্মানিতে মোতায়েন করার আগে তিন সপ্তাহের জন্য তাঁরা প্রেম করেন। এই সময়ের মাঝেই এই প্রেমিকযুগলটি কয়েকশ পৃষ্ঠার [[প্রেমপত্র|প্রেমের চিঠি]] আদান-প্রদান করে। {{Sfn|Turner|2004}} ১৯৫৪ সালের আগস্টে বিমানবাহিনীর অব্যহতির এক মাস পরেই তারা সান আন্তোনিওয়ের সেন্ট অ্যান রোমান ক্যাথলিক গির্জার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। অনুষ্ঠানটি তাঁর চাচা ভিনসেন্ট লিবার্তো আয়োজন করেছিলেন। তাদের চার কন্যা ছিল: রোজান, ক্যাথি, সিন্ডি এবং তারা। ১৯৬১ সালে, জনি সপরিবারে ক্যালিফোর্নিয়ার ক্যাসিটাস স্প্রিংস হাইওয়ে ৩৩ এর ওজাইয়ের দক্ষিণে একটি ছোট্ট শহরে পাহাড়চূড়োর বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। এর আগে তিনি তার পিতামাতাকে ''জনি ক্যাশ ট্রেলার পার্ক'' নামে একটি ছোট ট্রেলার পার্কটি চালানোর জন্য এই অঞ্চলে নিয়ে গিয়েছিলেন। জনির মদ্যপানের ফলে স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে তার কয়েকবার টক্কর লেগে যায়। পরে লিবার্তো বলেছিলেন যে ক্যাশের অতিরিক্ত মাদক গ্রহণ ও অ্যালকোহলের অপব্যবহার, সার্বক্ষণিক ঘোরাঘুরি, অন্যান্য মেয়েদের সাথে প্রেমের সম্পর্ক এবং জুন কার্টারের সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ১৯৬৬ সালে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন। তাদের চার কন্যা তখন থেকে মায়ের কাছে বড় হয়েছিল।
[[চিত্র:JohnnyCashJuneCarterCash1969.jpg|ডান|থাম্ব| জনি ক্যাশ এবং তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, জুন কার্টার, 1969 ]]
ট্যুরে ভ্রমণের সময় বিখ্যাত কার্টার পরিবারের গায়িকা জুন কার্টারের সাথে ক্যাশের পরিচয় হয় এবং দু'জন একে অপরের প্রতি মোহিত হন। ১৯৬৮ সালে, প্রথম সাক্ষাতের (গ্র্যান্ড অলে ওপ্রেতে ব্যাকস্টেজে) ১৩ বছর পর অন্টারিওর লন্ডনে লাইভ পারফরম্যান্সের সময় জুনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ক্যাশ<ref>{{উদ্ধৃতি|title=Johnny Cash}}</ref> এই দম্পতি কেনটাকি ফ্র্যাঙ্কলিনে ৬৮র পয়লা মার্চে বিয়ে করেছিলেন। তাদের একটি সন্তান জন্ম নেয় ৭০ সালের তেসরা মার্চে, জন কার্টার ক্যাশ। জনি এবং জুন দুজনেরই ক্ষেত্রে সে ছিল প্রথম সন্তান।
 
২০০৩ সালের মে মাসে জুনের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কার্টার আর ক্যাশ একসাথে সন্তানকে বড় করা, সংগীত তৈরি এবং একসাথে ভ্রমণ চালিয়ে যান। বিয়ের পর থেকেই জুন ক্যাশকে অ্যাম্ফিটামিনের নেশা থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। মাঝে মধ্যেই টয়লেটে ওসব ফেলে ফ্ল্যাশ করে দেওয়ার ঘটনা তিনি ঘটিয়েছেন। ক্যাশকে একাধিকবার রিহ্যাবে যেতে হয়েছে তাও, পুরোটা সময় জুন তার সঙ্গেই ছিলেন। জুনের মৃত্যুর পরে ক্যাশ বলেছিলেন তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র কারণ এখন সংগীত। <ref>Puterbaugh, Parke. "Essential Johnny Cash." ''Rolling Stone'', October 16, 2003: 78.
International Index to Music Periodicals Full Text [ProQuest]. Web. June 12, 2016.</ref> স্ত্রীর মৃত্যুর পর ক্যাশ মাত্র চার মাস বেঁচেছিলেন। <ref name="Streissguth_profile">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=BBRDZoBeI88C|শিরোনাম=Johnny Cash: a biography|শেষাংশ=Streissguth|প্রথমাংশ=M.|বছর=2006|প্রকাশক=Da Capo|পাতা=196|আইএসবিএন=9780306813689}}</ref>
 
== পেশা ==
 
=== প্রারম্ভিক কর্মজীবন ===
[[চিত্র:Johnny_Cash_Sun_Records_promotional_portrait.jpg|বাম|থাম্ব| সান রেকর্ডস, ১৯৫৫ সালের পাবলিসিটি ফটো ]]
১৯৫৪ সালে ক্যাশ আর ভিভিয়ান [[মেম্ফিস|টেনেসির মেমফিসে]] বসবাস শুরু করেন। বেতারঘোষকের কাজে অধ্যয়নের যাবতীয় সরঞ্জাম তিনি এখানে এসে  বিক্রি করে দেন।  প্রতিরাতে গিটারিস্ট লুথার পার্কিনস ও বেজিস্ট মার্শাল গ্রান্টের সাথে সঙ্গীত চর্চা করা শুরু করেছিলেন তখন। পার্কিন্স এবং গ্র্যান্টকে মানুষ টেনেসি টু নামে চিনত। এক পর্যায়ে তিনি সান রেকর্ডস ষ্টুডিওতে যাওয়ার সাহস অর্জন করলেন। আশা করছিলেন রেকর্ডিংয়ের জন্য চুক্তিবদ্ধ হতে পারবেন। <ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.achievement.org/achiever/johnny-cash/#interview|শিরোনাম=Johnny Cash Biography and Interview|ওয়েবসাইট=www.achievement.org|প্রকাশক=[[American Academy of Achievement]]}}</ref> স্যাম ফিলিপসের  সঙ্গে তার প্রথম অডিশন হয়েছিল। সেখানে তিনি মূলতঃ গেয়েছিলেন গসপেল। ফিলিপস জানালেন এখন আর তারা গসপেল রেকর্ড করেন না।  শোনা যায় ফিলিপসবাই ক্যাশকে এমনটাও বলেছিলেন, “বাড়ি গিয়ে কিছু পাপ করে এস, তারপর হয়ত এমন গান তোমার থেকে বের হবে যা আমি বাজারজাত করতে পারব।” অবশ্য ২০০২ সালের এক সাক্ষাতকারে ক্যাশ ফিলিপসের এমন কোনও বক্তব্য অস্বীকার করেন। <ref>{{উদ্ধৃতি|title=The Man in Black's Musical Journey Continues}}</ref> পৰৱর্তীতে ক্যাশ ঠিকই ভিন্ন গান গেয়ে প্রডিউসার সাহেবের মন জয় করে নেন। সান থেকেই তিনি তার প্রথম রেকর্ডিং বের করেন, জুন মাসে রিলিজ পাওয়া “হেই পোর্টার” এবং “ক্রাই! ক্রাই! ক্রাই!” কান্ট্রি হিট হিসেবে ব্যাপক সফলতা পায়।
 
১৯৫৬ সাল। ডিসেম্বরের ৪ তারিখে ফিলিপসের ষ্টুডিওতে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য এসেছিলেন এলভিস প্রিসলি। তখন কার্ল পার্কিন্স নতুন এক গান নিয়ে কাজ করছিলেন, জেরি লি ছিলেন পিয়ানোতে। ষ্টুডিওতে ক্যাশও ছিলেন, চারজন মিলে জ্যাম সেশন শুরু করেছিলেন তারা। ফিলিপস রেকর্ডিং শুরু করে দিয়েছেন ততক্ষণে, অর্ধেকই গসপেলধর্মী গান। তখন থেকেই তারা “মিলিয়ন দলের কার্লেট” নাম রিলিজ পেতে শুরু করেন। ক্যাশ: দ্য অটোবায়োগ্রাফি বইয়ে তিনি লিখেছেন, এলভিসের সাথে গলা মেলানোর জন্য তিনি মাইক্রোফোন থেকে যত সম্ভব দূরে অবস্থান নিয়েছিলেন, তারপর গেয়েছিলেন হাই পিচে।
 
ক্যাশের পরবর্তী রেকর্ড, “ফলসম প্রিজন ব্লুজ” কান্ট্রি টপ ফাইভে স্থান করে নেয়। তার “আই ওয়াক দ্য লাইন” কান্ট্রি সং তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে, ঢুকে যায় পপ তালিকার শ্রেষ্ঠ বিশেও। এরপর রিলিজ পায় জুলাই ১৯৫৭ সালে রেকর্ড করা  “হোম অফ দ্য বলুজ।” এ বছরই ক্যাশ প্রথম সান আর্টিস্ট হিসেবে দীর্ঘ সময়সীমার অ্যালবাম বের করেন। সান ষ্টুডিওর সর্বাধিক বিক্রিত গায়ক হওয়ার পরও লেবেলে তার পরিকায় করানো হচ্ছে এই বিষয়টি ক্যাশকে পীড়া দিচ্ছিলো। ফিলিপস গসপেল রেকর্ড করতে তেমন একটা উৎসাহী ছিলেন না। সাধারণতঃ গায়কদের যে ৫% দেওয়া হয় তার বদলে ক্যাশ পাচ্ছিলেন ৩%। প্রিসলি ততদিনে সান থেকে বিদায় নিয়েছেন। ফিলিপসের পূর্ণ মনযোগ তখন লুইসের প্রতি।
 
১৯৫৮ সালে কলম্বিয়া রেকর্ডসের দারুণ এক অফার লুফে নেন, সেই সঙ্গে শেষ হয় তার সান রেকর্ড ক্যারিয়ার। “টেক ইওর গানস টু টাউন” তার সর্বাধিক জনপ্রিয় একক অ্যালবামের  একটিতে পরিণত হয়, কলাম্বিয়ার জন্য অ্যালবাম তিনি গসপেল গেয়েই রেকর্ড করেন। এদিকে সান ছেড়ে এলেও অনেক অপ্রকাশিত গান তখনও ওখানে রয়ে গেছিল। কাজেই ফিলিপস সেসব প্রকাশ করতে শুরু করলেন, একদম ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সেই রিলিজ চলতে  থাকে। ক্যাশ এখানে দুটো লেবেল থেকে প্রকাশিত হওয়ার এক বিরল সুজোগ পেয়ে জান. সান থেকে প্রকাশিত ১৯৬০ সালের “ওহ লোনসাম মি”র কাভার সি&ডব্লিউ চার্টের ১৩ তম স্থান অধিকার করে।
 
(আরসিএ ভিক্টর প্রিসলিকে সাইন করানোর সময় তার সান রেকর্ড মাস্টারগুলোও কিনে নিয়েছিল, তবে ক্যাশ প্রসঙ্গে ফিলিপস সান মাস্টার বিক্রি করতে রাজি হননি। কাজেই কলাম্বিয়া কিছু রেকর্ডিংয়ের মরণোত্তর স্বত্ব  কিনে রাখে।)
[[চিত্র:Johnny_Cash_and_The_Tennessee_Three_1963.JPG|ডান|থাম্ব|১৯৬৩ সালে দ্য টেনিসি থ্রির সাথে ক্যাশ]]
ক্যারিয়ারের প্রথমদিকে ক্যাশকে তার সহকর্মীর মজা করে “আজরাইল” বলে ডাকতেন। কারণ, তিনি সব সময় কালো জামা পরে গান করতে অভ্যস্ত ছিলেন। এর ব্যাখ্যায় তিনি জানান, দীর্ঘ টুরে কালো পড়লে সব সময় পরিচ্ছন্ন দেখায়। <ref>{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.rollingstone.com/music/news/10-things-you-didnt-know-about-johnny-cash-20131031|তারিখ=2013-10-31|সংগ্রহের-তারিখ=August 29, 2014}}</ref>
 
ষাটের দশকের শুরুতে ক্যাশ কার্টার পরিবারে সঙ্গে কিছু টুরে  গিয়েছিলেন। মেবিলির মেয়েরাও সেখানে ছিল: অনিতা, জুন এবং হেলেন। পরবর্তীতে জুন মনে করতে পারেন এই টুরের পুরো সময়টিই দূর থেকে মুগ্ধতা নিয়ে ক্যাশকে দেখেছিলেন তিনি। ষাটের দশকে স্বল্প সময়ের জন্য পিট্ সিগারের টেলিভিশন সিরিজ রেইনবো কুয়েস্টে অংশও নেন ক্যাশ। <ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.richardandmimi.com/rainbowquest.html|শিরোনাম=Rainbow Quest|তারিখ=February 26, 1966|প্রকাশক=Richardandmimi.com|সংগ্রহের-তারিখ=August 1, 2012}}</ref> ফাইভ মিনিটস টু লিভ নামক এক চলচ্চিত্রের প্রারম্ভ সঙ্গীত লিখেছিলেন, কণ্ঠও দিয়েছেন। পরবর্তীতে এই গানটি ডোর টু ডোর ম্যানিয়াক নাম আলাদা করেও বাজারে এসেছিল।
 
লন্ডন ও অন্টারিওর প্রমোটার সল হলিফ ক্যাশের ক্যারিয়ারের দেখভাল করছিলেন তখন।  তাদের এই সম্পর্ক নিয়েই পরবর্তীতে সলের ছেলে একটি বায়োপিক নির্মাণ করেন, নাম “মাই ফাদার এন্ড দ্য ম্যান ইন ব্ল্যাক।” .<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://johnny-and-saul.com|শিরোনাম=My Father and The Man in Black|প্রকাশক=Johnny-and-saul.com|সংগ্রহের-তারিখ=April 25, 2014}}</ref>
 
=== আউটল ইমেজ ===
পঞ্চাশের দশকে যখন ক্যারিয়ারে নানা রকম সফলতার দেখা পাচ্ছিলেন, একই সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেলেন অত্যাধিক  মদ্যপানে। আসক্ত হয়ে পড়েন অ্যাম্ফিট্যামিন ও বারবিচুরেটে। সাময়িক সময়ের জন্যতিনি ন্যাশভিলের এক আপার্টমেন্টে বসবাস করেন, সেখানে ছিল ওয়েলন  জেনিংস, একজন অ্যাম্ফিট্যামিন আসক্ত। বন্ধুরা তার অল্পে ঘাবড়ে যাওয়া আর অস্থিরতা নিয়ে মজা করত। তখন কেউ বুঝতে পারেননি তা ছিল মাদকাসক্তিতে আরও গভীরভাবে ডুবে যাওয়ার লক্ষণ।
 
এতো সমস্যায় জড়িয়েও তিনি তার কাজে সৃজনশীলতার অনবদ্য স্বাক্ষর রেখেই যাচ্ছিলেন। “রিং অফ ফায়ার” গানটির অনুবাদটি দারুণ হিট হয়েছিল। কান্ট্রি চার্টে আবারও প্রথম হল গানটি, ঢুকে গেল পপ গানের শ্রেষ্ঠ বিশে। গানটি মূলতঃ করেছিল জুনের বোন, তবে ক্যাশ তার নিজস্ব ধাঁচের ম্যারিয়াকি স্টাইলের স্বাক্ষর রাখার কারণেই তা অন্যে এক উচ্চতায় পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে ক্যাশ বলেন, গানটি স্বপ্নে পেয়েছিলেন তিনি। ভিভিয়ান লিবার্তো অবশ্য আরেকটা গল্প বলেছেন তার “আই ওয়াকড দ্য লাইন: মাই লাইফ উইথ জনি” বইয়ে. সেখানে তিনি উল্লেখ করেন গীতিকারের কৃতিত্ব অর্ধেকটা কার্টারকে দেওয়ার পেছনে অর্থনৈতিক ভূমিকা ছিল। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=TmkBUE0f3HAC&pg=PA294#v=onepage&q&f=false|শিরোনাম=I Walked the Line: My Life with Johnny|শেষাংশ=Cash|প্রথমাংশ=Vivian|শেষাংশ২=Sharpsteen|প্রথমাংশ২=Ann|তারিখ=2007|প্রকাশক=[[Simon & Schuster]]|পাতা=294|আইএসবিএন=978-1416532927|সংগ্রহের-তারিখ=February 28, 2019|সংস্করণ=Hardcover}}</ref>
 
১৯৬৫ সালের জুন মাসে লস পাদ্রেস ন্যাশনাল ফরেস্টে এক মাছধরার প্রমোদভ্রমণে গিয়েছিলেন তিনি, সঙ্গে ছিল ভাতিজা ডেমন ফিল্ডার। ক্যাশের ক্যাম্পারে সেবার আগুন ধরে যায়. সেখান থেকে ছড়িয়ে যায় গোটা বনেই। সে যাত্রায় আরেকটু হলেই প্রাণ হারিয়েছিলেন তিনি। ক্যাশ দাবী করেন, আগুনটা ধরেছিল তার ক্যাম্পারের ত্রূটিপূর্ণ এগজস্ট সিস্টেমের কারণে। তার বক্তব্য অবশ্য ফিল্ডার গ্রহণ করেননি। তিনি মনে করেন আগুনটা ক্যাশ নিজেই ধরিয়েছিলেন, মাতাল অবস্থায় উষ্ণতার খোঁজে। পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায়  তা-ই ছড়িয়ে গেছে বনের মধ্যে। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Johnny Cash: The Life|শেষাংশ=Hilburn|প্রথমাংশ=Robert|তারিখ=October 29, 2013|প্রকাশক=Little, Brown and Company|আইএসবিএন=978-0-316-19475-4|সংস্করণ=ebook}}</ref> বিচারক যখন ক্যাশকে প্রশ্ন করলেন তিনি কেন এমনটা  করেছেন,উত্তরে তিনি বলেছিলেন “আমি তো করিনি। করেছে আমার ট্রাক। সে এখন বেঁচে  নেই, কাজেই তাকে আপনি কোনও প্রশ্ন করতে পারছেন না।”
 
এই দাবানলে ৫০৮ একর বনভূমি ধ্বংস হয়েছিল, তিনটি পাহাড়ের সব পর্ণরাজি পুড়ে চাই হয়ে যায়, সেই সাথে বিপন্নপ্রায় ৫৩ ক্যালিফোর্নিয়ার শকুনের ৪৯ টিই গৃহহীন হয়ে যায়। তথ্যটি জানার পর ক্যাশকে মোটেও অনুতপ্ত হতে দেখা যায়নি। বরং তিনি কেবল বলেছিলেন, “তোমাদের ওসব হলুদ পাখি নিয়ে আমার কোনও মাথাব্যথা নেই!”<ref name="LAT Hilburn">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://articles.latimes.com/2013/oct/12/entertainment/la-et-ms-johnny-cash-calif|শিরোনাম=Johnny Cash's dark California days|শেষাংশ=Hilburn|প্রথমাংশ=Robert|তারিখ=October 12, 2013|কর্ম=[[LA Times]]|সংগ্রহের-তারিখ=20 February 2018}}</ref> ফেডারেল গভর্নমেন্ট তার থেকে ১২৫,১৭২ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবী করে, শেষতক মামলাটা মিটমাট হয়েছিল ক্যাশ ৮২,০০১ ডলার দেওয়ার পর। ২০১৭ সালের হিসেবে অনুসারে গোটা বিশ্বেই বন্য এবং সংরক্ষিত সব মিলিয়ে মাত্র ৪৬৩টি ক্যালিফোর্নিয়া কনডোর রয়েছে।
 
এমন এক আইনবিরোধী ইতিহাস থাকার পরও ক্যাশকে কখনও জেলে যেতে হয়নি। সাত বার আদালতে হাজির হয়েছিলেন তিনি, অথচ প্রতিবার হাজতে মাত্র এক রাত কাটিয়েই বেরিয়ে গেছেন তিনি। ১৯৬৫ সালের মে মাসের ১১ তারিখ তাকে স্টার্কভাইলে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অপরাধ: অন্যের জমিতে ঢুকে ফুল তুলছিলেন। এই ঘটনার কথা তিনি লিখেছিলেন স্টার্কভাইল সিটি জেইল গানে। একই বছর অক্টবরের ৪ তারিখ টেক্সাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন নারকোটিক স্কোয়াডের হাতে। তাদের সন্দেহ ছিল মেক্সিকো থেকে তিনি হেরোইন পাচার করছিলেন। তার বদলে ওরা গায়কের গিটারের মধ্যে খুঁজে পেল ৬৮৮টি ডেক্সাড্রাইন ক্যাপসুল (মূলতঃ অ্যাম্ফিট্যামিন) আর ৪৭৫টি ইকুয়ারিল (সিডেটিভ)। অবৈধ মাদকদ্রব্যর বদলে প্রেসক্রিপশন ড্রাগস নিয়ে ধরা পড়েই বেঁচে গেলেন তিনি। স্বল্প সময়ের জন্য সাজা হল সে যাত্রা। ১৫০০ ডলারের  একটি বন্ড স্বাক্ষর করে তবেই ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। <ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://articles.latimes.com/2013/oct/12/entertainment/la-et-ms-johnny-cash-calif/3|শিরোনাম=Johnny Cash's dark California days|শেষাংশ=Hilburn|প্রথমাংশ=Robert|তারিখ=2013-10-12|কর্ম=Los Angeles Times|সংগ্রহের-তারিখ=2018-11-08|ভাষা=en-US|issn=0458-3035}}</ref>
 
ষাটের দশকের মাঝামাঝি ক্যাশ বেশ কয়েকটি কনসেপ্ট অ্যালবাম প্রকাশ করেন। তার বিটার টিয়ার্স (১৯৬৪) অ্যালবাম তিনি নেটিভ আমেরিকানদের জন্য লিখেছিলেন, বলেছিলেন সরকারের করা তাদের প্রতি যত অনাচারের কথা। হিট চার্টে গানগুলি বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও তীব্র সমালোচনা হয়েছিল রেডিও ও ভক্তদের মধ্যে। তাদের ধারণা ছিল এই গানগুলো থেকে সমাজে বিতর্ক জন্ম নিতে পারে। ২০১১ সালে এক বইয়ে এই অ্যালবামের কথা লেখা হওয়ার আগে ব্যাপারটি মানুষ ভুলেই গিয়েছিল। পরবর্তীতে পুরো অ্যালবামটিকেই সমসাময়িক  গায়কদের সহায়তায় রি-রেকর্ড করা হয়। নির্মিত হয় এই অ্যালবামের জন্য ক্যাশের প্রচেষ্টা নিয়ে এক প্রামাণ্যচিত্রও। ২০১৬র ফেব্রূয়ারি ও নভেম্বরে সেই ফিল্ম সম্প্রচারিত হয় পিবিএসে। তার “হিজ সিংস  দ্য ব্যালাডস অফ দ্য টু ওয়েস্ট (১৯৬৫)” ছিল এক পরীক্ষামূলক কাজ, ওখানে প্রান্তিক গায়কদের সঙ্গে কণ্ঠ মিলিয়েছিলেন ক্যাশ।
 
ধ্বংসাত্মক এই কাজগুলোর পাশাপাশি মাদকের আসক্তির কারণে প্রথম বিয়েটা টিকল না আর। শুধু বৈবাহিক জীবনই নয়, ক্যাশ বেশ কয়েকটি শো ক্যান্সেল করতে বাধ্য হন একই কারণে। অবশেষে ১৯৬৭ থেকে আবারও সফলতার দেখা পেতে শুরু করলেন তিনিম জুন কার্টারের সাথে জ্যাকসন গানে ডুয়েট করে একটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড পেয়ে যান তিনি। <ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.grammy.com/nominees/search?artist=%22johnny+cash%22&field_nominee_work_value=&year=All&genre=All/|শিরোনাম=Past Winners Search|তারিখ=2017-04-30|ওয়েবসাইট=The GRAMMYs}}</ref>
 
শেষবার ক্যাশ গ্রেফতার হয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে, জর্জিয়ার ওয়াকার কাউন্টিতে। সেবার গাড়ি দুর্ঘটনার পর যথারীতি এক ব্যাগ প্রেসক্রিপশন ড্রাগস পাওয়া গেল, পরিস্থিতি আরও খারাপ করতেই হয়ত তিনি সেই পুলিশ অফিসারকে ঘুষ সেধে বসলেন। নীতিপরায়ণ এই পুলিশ সেই ঘুষটি নেননি। বিখ্যাত গায়কের সেই রাতটা জর্জিয়ার লাফ্যায়াটের জেলে। শেরিফ রালফ জোনস তাকে ছাড়ার আগে দীর্ঘ এক ভাষণ দিয়ে তবেই  ছাড়লেন,মনে করিয়ে দিলেন তিনি কিভাবে নিজের প্রতিভা নষ্ট করছেন। পরবর্তীতে এই ঘটনাটিকে তার পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে স্বীকার করেছেন ক্যাশ। এমনকি লাফ্যায়াটেতে এক বেনিফিট কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন তিনি। লোক এসেছিল ১২,০০০ অথচ শহরের অধিবাসীর সংখ্যাই তখন ৯০০০ এর কম। ৭৫,০০০ ডলার উঠেছিল সেই কনসার্ট থেকে। পুরোটাই চলে গেছিল হাই স্কুলের জন্য।<ref>{{উদ্ধৃতি|title=12 000 at LaFayette show}}</ref> ১৯৯৭ সালের এক ইন্টারভিউয়ে তিনি অতীতের কথা মনে করতে গিয়ে বলেছিলেন, “শুরুতে আমি পিল  খেতাম,পরে পিলগুলোই আমাকে খেতে শুরু করল।”
 
১৯৬৭ সালের এক ঘটনার কথা জানা যায়, অবশ্য কেউ এই ঘটনার সত্যতা নিরূপণ করতে পারেননি, নিক্যাজ্যাক গুহায় তিনি অলৌকিক দর্শনের দেখা পেয়েছিলেন। গুজব অনুসারে, মাদকাসক্তির এক পর্যায়ে ক্যাশ আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন। গুহার গভীরে ঢুকে নিজেকে ছেড়ে দিয়েছিলেন তিনি, বাইরে আর ফেরার ইচ্ছে তার ছিল না। মরতে তিনি অবশ্য পারেননি, বরং জ্ঞান হারিয়ে পরে ছিলেন মেঝেতে। ক্রমভাবে হতাশ হয়ে তিনি হৃদয়ের মধ্যে যিশুর উপস্থিতি অনুভব করেন এবং এক সময় অনুভব করেন অদ্ভুত এক আলো তাকে গুহার বাইরে যাওয়ার পথ দেখাচ্ছে। <ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://edition.cnn.com/2013/12/30/showbiz/music/johnny-cash-biography/index.html|শিরোনাম=The stories of Johnny Cash - CNN|শেষাংশ=CNN|প্রথমাংশ=By Todd Leopold,|কর্ম=CNN|সংগ্রহের-তারিখ=2018-11-08}}</ref> তার মনে হয়েছিল এই ঘটনার মাধ্যমে তিনি পূণর্জন্ম লাভ করেছেন। জুন, মেবেল আর এজরা কার্টার ক্যাশের প্রাসাদে চলেই এলেন তাঁকে আসক্তি থেকে দূরে থাকায় সাহায্য করতে। এরপর ১৯৬৮ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারীতে লাইভ পারফরম্যান্সে স্টেজের ওপরই জুনকে প্রস্তাব দেন তিনি। কানাডার অন্টারিওর সেই প্রস্তাবনার এক সপ্তাহ পরুই এই প্রেমিকযুগল বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ক্যাশ নেশার পথ থেকে সরে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই জুন সে প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন বলে তিনি পরবর্তীতে জানান। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Will You Miss Me When I'm Gone: The Carter Family and Their Legacy in American Music|শেষাংশ=Zwonitzer|প্রথমাংশ=Mark|বছর=2002|প্রকাশক=Simon & Schuster|আইএসবিএন=978-0-684-85763-3}}</ref>
 
ক্যাশের জীবনী প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, খ্রিস্টান ধর্মে নতুন করে ফিরে আসার এক ইতিহাস তাঁর আছে। এভানজেল মন্দির নামক ন্যাশভিলের এক ছোট চার্চে তিনি অল্টার কল নিয়েছিলেন। যাযক রেবারেন্ড জিমি রজার স্নো সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ভদ্রলোক আবার কান্ট্রি মিউজিক লিজেন্ড হ্যাংক স্নোর ছেলে। মার্শাল গ্র্যান্টের তথ্য মোতাবেক ক্যাশ অবশ্য ১৯৬৮ সালে অ্যাম্ফেটামিনের অপব্যবহার বন্ধ করেননি। তিনি একেবারে ১৯৭০ পর্যন্ত অন্য সব মাদক নিয়ে গেছেন, তারপর সাত বছর এসব থেকে দয়্রে ছিলেন। গ্র্যান্ট বলেছিলেন জন ও জুনের প্রথম সন্তান জন কার্টার ক্যাশের জন্মের পর তিনি মাদক থেকে সরে আসার জন্য যথেষ্ট অণুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। <ref name="Grant page 92">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://archive.org/details/iwastherewhenith00mars/page/92|শিরোনাম=I Was There When It Happened&nbsp;– My Life With Johnny Cash|শেষাংশ=Grant|প্রথমাংশ=Marshall|বছর=2005|প্রকাশক=Cumberland House|পাতাসমূহ=[https://archive.org/details/iwastherewhenith00mars/page/92 92, 177]|আইএসবিএন=978-1-58182-510-7}}</ref>
 
১৯৭৭ সালে তিনি আবারও অ্যাম্ফেটামিনের জগতে ফিরে আসেন। এ দফায় তিনি এত বেশি আসক্ত হয়ে পড়েন যে ১৯৮৩ সালে বেটি ফোর্ড ক্লিনিকে তাকে ভর্তি হতে হয়। তারপর আবারও কয়েক বছর ড্রাগস থেকে দূরে থাকার পর আবারও পদস্খলন হয় তার। ১৯৮৯ সালে আবারও মাদকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। তারপর ন্যাশভাইলের কাম্বারল্যান্ড ফাইটস অ্যালকোহল অ্যান্ড ড্রাগস ট্রিটমেন্ট সেন্টারে আবারও ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৯২ সালে লোমা লিন্ডা বিহ্যাভিওরাল মেডিকেল সেন্টার ছিলো তার সর্বশেষ রিহ্যাব। এর কয়েক মাস পর অবশ্য একই ফ্যাসিলিটিতে তার ছেলেও চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। <ref name="Grant">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://archive.org/details/iwastherewhenith00mars|শিরোনাম=I Was There When It Happened&nbsp;– My Life With Johnny Cash|শেষাংশ=Grant|প্রথমাংশ=Marshall|বছর=2005|প্রকাশক=Cumberland House|আইএসবিএন=978-1-58182-510-7}}</ref><ref name="John Carter Cash">{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Anchored in Love|শেষাংশ=Cash|প্রথমাংশ=John Carter|বছর=2007|প্রকাশক=Thomas Nelson|আইএসবিএন=978-0-8499-0187-4}}</ref>
 
== মৃত্যু ==
ন্যাশভাইলের ব্যাপ্টিস্ট হসপিটালে ভর্তি থাকা অবস্থাতেই [[বহুমূত্র রোগ|ডায়াবেটিসের]] কারণে মারা যান তিনি। মৃত্যুর সময় ছিলো রাত দুটো, সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ, ২০০৩ সাল। ৭১ বছর বয়সে স্ত্রীর মৃত্যুর চার মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। কার্টারের পাশেই তাঁকে টেনিসির হেন্ডারসনভিল মেমরি গার্ডেনসে কবর দেওয়া হয়।
 
আত্মজীবনীতে ক্যাশ লিখেছিলেন ১৯৭৭ সালে নিউ ইয়র্কের এক ট্রিপে থাকা অবস্থায় তার দেহে শাই-ড্র্যাগার সিনড্রোম ধরা পড়েছিল। <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Cash: The Autobiography|শেষাংশ=Cash|প্রথমাংশ=Johnny|শেষাংশ২=Carr|প্রথমাংশ২=Patrick|তারিখ=1998|প্রকাশক=HarperCollins Publishers|পাতাসমূহ=400–403|আইএসবিএন=0061013579}}</ref>
[[বিষয়শ্রেণী:২০শ শতাব্দীর মার্কিন অভিনেতা]]
[[বিষয়শ্রেণী:২০শ শতাব্দীর মার্কিন গিটারবাদক]]
১১৬টি

সম্পাদনা