"ক্রিটেশিয়াস–প্যালিওজিন বিলুপ্তি ঘটনা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

 
বেন্থিক ফোরামিনিফেরার অনেক প্রজাতি এই বিলুপ্তি ঘটনায় লোপ পায়, হয়তো খাদ্যের জন্য জৈব বর্জ্যের উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে। সমসাময়িক সমুদ্রে জৈব বর্জ্যের পরিমাণ কমে গিয়েছিল ধারণা করা হয়। অবশ্য বিলোপনের ধাক্কা সামলে ওঠার পর সামুদ্রিক অণুজীবদের পুনরায় বংশবৃদ্ধি আরম্ভ হলে বর্ধিত খাদ্যের উৎসের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেন্থিক ফোরামিনিফেরাদেরও প্রজাতিকরণের হার বৃদ্ধি পায়। আদি প্যালিওসিনে বহুসংখ্যক কর্কর ভক্ষক বেন্থিক ফোরামিনিফেরার ভরণপোষণের জন্য উপযুক্ত সংখ্যায় ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন জন্মাতে থাকে। সব মিলিয়ে আদি প্যালিওসিনের বহু লক্ষ বছর ধরে ধীর গতিতে বেন্থিক অণুজীবরা প্রাক্‌-K-Pg সীমানার সঙ্গে তুলনীয় সংখ্যায় ফিরে আসে।
 
=== সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী ===
K-Pg সীমানা জুড়ে সামুদ্রিক মেরুদণ্ডীদের বিলোপনের হারের খতিয়ানে যথেষ্ট তারতম্য আছে। আপাতভাবে যে বিলোপনের হার সামনে আসে, তা সম্ভবতঃ প্রকৃত বিলোপনের চেয়ে জীবাশ্মের অভাবের দ্বারাই বেশি প্রভাবিত।
 
 
অস্ট্রাকড নামক ক্ষুদ্র কবচীদের (ক্রাস্টেশিয়ান) এক গোষ্ঠী আদি মাস্ট্রিক্টিয়ানে প্রভাবশালী ছিল, এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় জীবাশ্ম রেখে গেছে। এই সমস্ত জীবাশ্মের পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় অস্ট্রাকডদের বৈচিত্র্য গোটা সিনোজোয়িক অধিযুগের মধ্যে প্যালিওজিন যুগেই সবচেয়ে কম ছিল। অবশ্য সাম্প্রতিক গবেষণার দ্বারাও এই বিষয়টি পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি যে, বৈচিত্র্যের এই হ্রাস K-Pg সীমানার সমসাময়িক কিনা।
 
 
অন্ত্য ক্রিটেশিয়াসের স্ক্লেরাটিনিয়া প্রবাল গণেদের প্রায় ৬০% K-Pg সীমানা পার করতে সক্ষম হয়নি। এই প্রবালদের বিলোপনের পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, উষ্ণ ও অগভীর ক্রান্তীয় সমুদ্রে বসবাসকারী ঔপনিবেশিক প্রবালের প্রায় ৯৮% এই সময়ে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু যে সমস্ত প্রবাল একা থাকে অর্থাৎ যারা প্রবাল প্রাচীর নির্মাণ করে না এবং সমুদ্রের শীতলতর ও গভীরতর অঞ্চলে (আলোকিত অঞ্চলের নীচে) বাস করে, তাদের উপর উক্ত সীমানার বিলোপনের প্রভাব তেমন নয়। ঔপনিবেশিক প্রবালরা সালোকসংশ্লেষকারী শৈবালদের সঙ্গে মিথোজীবী জীবন কাটায়, আর ঐ সমস্ত শৈবাল K-Pg সীমানাঘটিত বিপর্যয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। অবশ্য প্রবালের জীবাশ্ম থেকে আহরিত তথ্য দিয়ে K-Pg বিলোপন ও পরবর্তী প্যালিওসিন পুনরুত্থানের তত্ত্ব সমর্থন করতে গেলে গোটা K-Pg সীমানা জুড়ে প্রবাল বাস্তুতন্ত্রসমূহে যে ক্রমপরিবর্তন ঘটে চলেছিল, তার কথাও বিবেচনা করতে হবে।
 
 
K-Pg সীমানার অব্যবহিত পরে সেফালোপড, কন্টকত্বকী, ও ঝিনুকের গণসমূহ রীতিমত স্পষ্ট ক্ষয়ক্ষতি প্রদর্শন করে। যদিও সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডীদের একটি ক্ষুদ্র পর্ব ব্র্যাকিওপডরা K-Pg বিলুপ্তি ঘটনা কাটিয়ে ওঠে এবং আদি প্যালিওসিনে বহু শাখায় বিভক্ত হয়।
 
 
নটিলয়েড (আধুনিক নটিলিডা পর্ব যাদের জ্ঞাতি) এবং সিলয়েড (যা ক্রিটেশিয়াসেই আধুনিক অক্টোপাস, স্কুইড ও কাট্‌ল মাছে ভাগ হয়ে গিয়েছিল) ছাড়া অন্য সমস্ত সেফালোপোডা জাতীয় কম্বোজ শ্রেণির প্রাণি K-Pg সীমানায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। এদের মধ্যে ছিল বাস্তুতন্ত্রগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেলেম্‌নয়েড, এবং অতি বিচিত্র ও পরিব্যাপ্ত বাসস্থানের অধিকারী, খোলকযুক্ত সেফালোপড অ্যামোনয়েড। গবেষকরা দেখিয়েছেন, বেঁচে যাওয়া নটিলয়েডদের অল্পসংখ্যক ও বৃহত্তর ডিম দিয়ে প্রজননের পদ্ধতিটি বিলুপ্তি ঘটনার সময়ে অ্যামোনয়েডদের থেকে তাদেরকে এগিয়ে রাখতে পেরেছিল। অ্যামোনয়েডরা প্রজননের জন্য প্ল্যাঙ্কটনীয় পদ্ধতি অনুসরণ করত (অসংখ্য ডিম ও প্ল্যাঙ্কটনীয় লার্ভা), যা K-Pg বিলুপ্তি ঘটনায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। অতিরিক্ত গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী বাস্তুতন্ত্র থেকে অ্যামোনয়েডদের বিলুপ্তির পর থেকে নটিলয়েডরা এক বিবর্তনীয় বিকিরণের মধ্য দিয়ে যায় এবং ক্রমশঃ অ্যামোনাইটদের মত জটিল খোলক ও অন্যান্য জটিল শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়াকলাপ প্রদর্শন করে।
 
 
কন্টকত্বকী গণের প্রায় ৩৫% K-Pg সীমানায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এদের মধ্যে যারা অন্ত্য ক্রিটেশিয়াসে ক্রান্তীয় অঞ্চলের অগভীর সমুদ্রে বাস করত, তারাই সবচেয়ে বেশি হারে বিলুপ্ত হয়। গভীর সমুদ্র ও মধ্য অক্ষাংশবাসী গণগুলির উপর এই বিলোপনের প্রভাব নগণ্য। বিলুপ্তির এই বিন্যাস থেকে বোঝা যায় বিশেষ করে অগভীর সমুদ্রে প্রবাল প্রাচীর-সম্বলিত সমস্ত কার্বনেট প্ল্যাটফর্মের নিমজ্জন ও তজ্জনিত বাসস্থান লোপের ফলে বিলুপ্তি বেড়েছিল।
 
 
রুডিস্ট (প্রাচীর নির্মাতা ঝিনুক) ও ইনোসেরামিড (আধুনিক নোনাজলের ঝিনুকের দৈত্যাকার জ্ঞাতি) সমেত অন্যান্য অমেরুদণ্ডী গোষ্ঠীও K-Pg সীমানায় বিলুপ্ত হয়েছিল।
 
== তথ্যসূত্র ==