"ভারতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ইতিহাস" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

৪টি উৎস উদ্ধার করা হল ও ০টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল। #IABot (v2.0beta15)
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
(৪টি উৎস উদ্ধার করা হল ও ০টি অকার্যকর হিসেবে চিহ্নিত করা হল। #IABot (v2.0beta15))
খৃষ্টীয় ১ম শতাব্দীর শুরুর দিকেই গহনা ও পাত্র হিসাবে কাঁচের ব্যবহার শুরু হয়ে গিয়েছিল।<ref name=Ghosh/> ইউরোপীয় গ্রেকো-রোমান সভ্যতার সংস্পর্শে আসার দরুণ নতুন নতুন পদ্ধতি আত্মিকরণ হতে শুরু করে। ফলে স্থানীয় কারিগরেরা কাঁচের ঢালাই করা, নক্সা করা ও নানা রকম রং মেশানোর পদ্ধতি আয়ত্ত করে ফেলে খৃষ্টীয় প্রথম কয়েকটি শতাব্দীতেই।<ref name=Ghosh>Ghosh, 219</ref> The [[সাতবাহন সাম্রাজ্য|সাতবাহন সাম্রাজ্যে]]র সময় দেখা যায় মিশ্র কাঁচের ছোট ছোট চোঙ, যার কোনো কোনোটিতে হলুদ ও সবুজ রঙের সুন্দর ব্যবহার দেখা যায়।<ref name=Ghosh2>"Ornaments, Gems etc." (Ch. 10) in Ghosh 1990.</ref> খৃষ্টীয় প্রথম কিছু শতাব্দীতে ভারতেই ''উটজ''-এর প্রথম ব্যবহার শুরু হয়।<ref>Srinivasan & Ranganathan</ref> ইউরোপ, চীন ও আরব অঞ্চলে উটজ রপ্তানী করা হত। আরবে এটি দামাস্কাস ইস্পাত নামে প্রসিদ্ধ ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ থেকে জানা যায় দক্ষিণ ভারতে উটজ বানানোর পদ্ধতি জানা ছিল খৃষ্টের জন্মেরও আগে।<ref name=Srinivasan94>Srinivasan (1994)</ref><ref>Srinivasan & Griffiths</ref>
 
খৃষ্টীয় ২য় শতাব্দীতেই ভারতে [[ধুনুরি]] জাতীয় যন্ত্রের ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়।<ref name=Baber57>Baber, 57</ref> [[হীরক|হীরা]]র খনি ও রত্ন হিসাবে হীরার ব্যবহার ভারত থেকেই শুরু হয়।<ref name=Wenk1>Wenk, 535-539</ref> প্রাচীন ভারতে গোলকুন্ডায় একটি গুরুত্বপূর্ণ হীরার খনি ছিল।<ref name=Wenk1/> এখানের হীরা সারা বিশ্বে রপ্তানি করা হত।<ref name=Wenk1/> বিভিন্ন সংস্কৃত ভাষার প্রাচীন গ্রন্থে হীরার উল্লেখ পাওয়া গেছে।<ref name=Encarta11>{{en}}MSN Encarta (2007), [http://encarta.msn.com/encyclopedia_761557986/Diamond.html ''Diamond'']. [https://www.webcitation.org/5kwqi0eX3 Archived] 2009-10-31.</ref> ভারতে হীরক ব্যবসার উল্লেখ পাওয়া যায় ''[[অর্থশাস্ত্র (গ্রন্থ)|অর্থশাস্ত্রে]]''।<ref name=lee1>Lee, 685</ref> গুপ্ত সম্রাট [[দ্বিতীয় চন্দ্রগুপ্ত]] বা বিক্রমাদিত্যের সময়কালে (৩৭৫-৪১৩), স্থাপিত [[দিল্লির লৌহস্তম্ভ|দিল্লির লৌহস্তম্ভে]] আজ প্রায় ২০০০ বছর পরেও কোনো মরচে ধরেনি।<ref>Balasubramaniam, R., 2002</ref> খৃষ্টীয় অষ্টম শতাব্দীর ''রসরত্নসমুচ্চয়'' গ্রন্থে দস্তার দুটি আকরিকের কথা বলা আছে। একটি থেকে দস্তা ধাতু নিষ্কাশন সম্ভব, অন্যটি শুধুমাত্র ঔষধি প্রস্তুতে ব্যবহার করা যায়।<ref name=Craddock2>Craddock, 13</ref>[[File:Ship compartments.jpg|thumb|left|পূমবাহুর সৈকত থেকে ১৯ মাইল দূরে সমুদ্রের মধ্যে পাওয়া [[চোল সাম্রাজ্য|চোল সাম্রাজ্যে]]র সময়কালের (২০০-৮৪৮) জাহাজের ধংসাবশেষের ভিত্তিতে [[ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ|ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণে]]র বানানো কাঠামো। এটি থিরুনেভেলির সংগ্রহালয়ে সংরক্ষিত আছে।]]
 
চরকার উৎপত্তি নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা আছে, তবে ভারতকে একটি সম্ভাব্য উৎস হিসাবে মনে করা হয়।<ref>Britannica Concise Encyclopedia (2007), ''spinning wheel''.</ref><ref>Encyclopeedia Britnnica (2008). ''spinning''.</ref> খৃষ্টীয় ১৪শ শতাব্দীতে এটি ভারত থেকেই ইউরোপে গিয়েছিল।<ref>MSN Encarta (2008), [http://encarta.msn.com ''Spinning'']. [https://www.webcitation.org/query?id=1256962101378386 Archived] 2009-10-31.</ref> যান্ত্রিক উপায়ে তুলা বীজ থেকে তুলা ছাড়ানোর উপায় ভারতেই উদ্ভাবিত হয়, - কাঠের তৈরি এই যন্ত্রের নাম ছিল ''চরখি''।<ref name="Baber57">Baber, 57</ref> বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এই যন্ত্র হস্তচালিত হলেও কোনো কোনো এলাকায় জলশক্তিতেও এই যন্ত্র চালানো হত।<ref name="Baber57"/> [[অজন্তা গুহাসমূহ|অজন্তা গুহাচিত্র]] থেকে প্রমাণিত হয় খৃষ্টীয় ৫ম শতাব্দীতেও ভারতে এই যন্ত্র ব্যবহৃত হত।<ref name=Babergin>Baber, 56</ref> পরবর্তী পর্যায়ে পদচালিত তুলা ছাড়ানোর যন্ত্রের ব্যবহার শুরু হয়।<ref name=Babergin/> বিভিন্ন প্রাচীন চীনা নথি থেকে জানা যায়, ৬৪৭ সাল থেকে শুরু করে, ভারতে কমপক্ষে দুটি অভিযান হয়েছিল চিনি পরিশোধনের প্রযুক্তি আহরণের জন্য।<ref name=Kieschnick11>Kieschnick, 258</ref> কিন্তু, প্রতিটি অভিযানই চিনি পরিশোধনের বিষয়ে আলাদা আলাদা তথ্য নিয়ে ফেরে।<ref name=Kieschnick11/>
সঙ্গীত বিশারদ পিঙ্গল (খৃঃ পূঃ ৩০০-২০০) [[সংস্কৃত ভাষা]]য় ছন্দশাস্ত্র বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেন। এই গ্রন্থে প্রমাণ পাওয়া যায়, বিভিন্ন মাত্রার সমন্বয়ের গণনা করতে গিয়ে, পিঙ্গল [[প্যাস্কেলের ত্রিভূজ]] ও দ্বিপদ গুণাঙ্ক (Binomial coefficient) আবিষ্কার করেছিলেন। যদিও তিনি দ্বিপদ তত্ত্ব (Binomial theorem) জানতেন না।<ref name=fowler96>Fowler, 11</ref><ref name=singh36>Singh, 623-624</ref> পিঙ্গলের লেখায় [[বাইনারি সংখ্যা পদ্ধতি]]র ব্যাখ্যাও পাওয়া যায়।<ref>Sanchez & Canton, 37</ref> গুণের চিহ্নের ব্যবহার পদ্ধতি ভারতীয়দের সৃষ্টি। ঋণাত্বক সংখ্যা ও বিয়োজ্য সংখ্যা খৃঃ পূঃ ২য় শতাব্দী থেকেই পূর্ব এশিয়ায় ব্যবহৃত হত, আর খৃষ্টীয় ৭ম শতাব্দী থেকে ভারতীয় গাণিতিকেরা ঋণাত্বক সংখ্যা জানতেন,<ref name=Smith>Smith (1958), page 258</ref> এবং ঋণের গণনার ক্ষেত্রে এই সংখ্যার ব্যবহারও বুঝতেন।<ref name=bourbaki49>Bourbaki (1998), page 49</ref> যদিও ভারতীয়রা বিয়োজ্য সংখ্যার ব্যবহার প্রথম শুরু করেননি, তবে তাঁরা ধণাত্বক ও ঋণাত্বক সংখ্যার গুণের ক্ষেত্রে "চিহ্নের ব্যবহারে"র নিয়মাবলী প্রথম প্রতিষ্ঠা করেন। এই ব্যাপারটা পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন লেখায় ১২৯৯ সালের আগে দেখা যায় না।<ref name=Smith2>Smith (1958), page 257-258</ref> ঋণাত্মক সংখ্যা সঙ্গে কাজ করার জন্য প্রায় সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং সঠিক যে নিয়ম প্রণয়ন করা হয়েছিল, তা আরবীয়দের মাধ্যমে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।<ref name=bourbaki49/>
 
* MSNBC (2008), [http://www.msnbc.msn.com/id/12168308/ "Dig uncovers ancient roots of dentistry"].
* Nair, C.G.R. (2004), [https://web.archive.org/web/20060821195309/http://www.kerala.gov.in/keralcallsep04/p22-24.pdf "Science and technology in free India"], ''Government of Kerala—Kerala Call'', Retrieved on 2006-07-09.
* O'Connor, J. J. & Robertson, E.F. (1996), [https://wwwweb.webcitationarchive.org/6Auwxe6v3?url=web/20130120084848/http://www-gap.dcs.st-and.ac.uk/~history/HistTopics/Trigonometric_functions.html "Trigonometric functions"].
* O'Connor, J. J. & Robertson, E. F. (2000), [http://www-groups.dcs.st-and.ac.uk/~history/Biographies/Paramesvara.html "Paramesvara"].
* Partington, James Riddick & Hall, Bert S. (1999), ''A History of Greek Fire and Gunpowder'', Johns Hopkins University Press, {{ISBN|0-8018-5954-9}}.
৯৭,৮০২টি

সম্পাদনা