"প্রথম চেচেন যুদ্ধ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো রুশ বাহিনীকে চেচনিয়ার জনসাধারণের বিরুদ্ধে নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ করে (উদাহরণস্বরূপ, [[হিউম্যান রাইটস ওয়াচ]]-এর মতে, ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে গুদের্মেসে বিদ্রোহীদের আক্রমণকালে রুশ গোলাবর্ষণ ও রকেট হামলায় কমপক্ষে ২৬৭ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়<ref name="human" />)। এই যুদ্ধে রুশদের মূল রণকৌশল ছিল ব্যাপক হারে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা, যার ফলে কিছু পশ্চিমা ও চেচেন সূত্র রুশ বিমান হামলাগুলোকে ইচ্ছাকৃত ''সন্ত্রাসী বোমাবর্ষণ'' হিসেবে অভিহিত করে<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.dtic.mil/doctrine/jel/research_pubs/chechna.pdf |শিরোনাম=404w Page Not Found (DTIC) |কর্ম=dtic.mil |অকার্যকর-ইউআরএল=yes |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110629055057/http://www.dtic.mil/doctrine/jel/research_pubs/chechna.pdf |আর্কাইভের-তারিখ=June 29, 2011 }}</ref>।
 
ভাগ্যের পরিহাসক্রমে, গ্রোজনিতে বসবাসকারী জাতিগত চেচেনরা গ্রামাঞ্চলগুলোতে আশ্রয় নিতে সক্ষম হয়, কিন্তু জাতিগত রুশদের সেরকম কোনো আশ্রয়স্থল না থাকায় প্রাথমিক বেসামরিক হতাহতদের মধ্যে তাদের সংখ্যাই ছিল বেশি। পরবর্তীতে অবশ্য চেচেন গ্রামগুলোও রুশ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়; উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯৫ সালের ৩ জানুয়ারিজানুয়ারিতে শালি গ্রামে রুশ বিমান হামলায় ৫৫ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়। রুশ সৈন্যরা প্রায়ই বেসামরিক জনসাধারণকে বিপজ্জনক অঞ্চলগুলো থেকে স্থানান্তরিত হতে বাধা দেয় এবং বিভিন্ন সংগঠন দুর্দশাগ্রস্ত জনসাধারণকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করলে তাদেরকেও বাধা দান করে। তাছাড়া রুশ সৈন্যরা, বিশেষত [[অভ্যন্তরীণ সৈন্যবাহিনী]]র সদস্যরা বিদ্রোহীদের প্রতি সহানুভূতিসম্পন্ন বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক হারে এবং ক্ষেত্রবিশেষে নিয়মতান্ত্রিকভাবে নির্যাতন চালায় এবং অনেককে বিনা বিচারে হত্যা করে। মানবাধিকার সংগঠন এবং সাহায্য সংস্থাগুলোর বিবরণ অনুযায়ী, রুশ সৈন্যরা চেচনিয়ায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ জনগণের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং লুণ্ঠনে লিপ্ত হয়েছিল। চেচেন বিদ্রোহীরাও ব্যাপক হারে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে, রুশদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এই সন্দেহে বহু চেচেনকে হত্যা বা অপহরণ করে এবং যুদ্ধবন্দি সৈন্য (বিশেষত পাইলটবৈমানিক) ও বেসামরিক লোকেদের ওপর নির্যাতন চালায়। রুশ সৈন্যরা এবং চেচেন বিদ্রোহীরা উভয় পক্ষই মুক্তিপণ আদায়ের জন্য বেসামরিক জনসাধারণকে অপহরণ করে এবং যুদ্ধ ও সৈন্য চলাচলের সময় বেসামরিক জনগণকে 'মানব ঢাল' হিসেবে ব্যবহার করে (উদাহরণস্বরূপ, একদল অবরুদ্ধ রুশ সৈন্য গ্রোজনির ৯ম পৌর হাসপাতালে প্রায় ৫০০ বেসামরিক লোককে জিম্মি করেছিল)<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.memo.ru/hr/hotpoints/chechen/szczyt/eng/Chapter7.htm|শিরোনাম=Grozny, August 1996. Occupation of Municipal Hospital No. 9 Memorial |কর্ম=memo.ru}}</ref>।
 
রুশ সামরিক কর্মকর্তারা তাঁদের সৈন্যদের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধসমূহ সাধারণত দেখেও না দেখার ভান করেন এবং এরকম কোনো ঘটনার তদন্ত হলেও দোষী ব্যক্তিদের শাস্তি দিতে অস্বীকৃতি জানান ([[ভ্লাদিমির গ্লেবভ|ভ্লাদিমির গ্লেবভের]] ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ)। কিন্তু রুশ প্রচারমাধ্যম বিস্তারিতভাবে এসব বর্বরতার বিবরণ রুশ জনগণের কাছে তুলে ধরে। এর ফলে রুশ সরকারের প্রতি জনসাধারণের আস্থা অনেকাংশে হ্রাস পায় এবং রাষ্ট্রপতি ইয়েলৎসিনের জনপ্রিয়তায়ও ধস নামে। ১৯৯৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সময় চেচনিয়া ইয়েলৎসিনের সবচেয়ে বড় নির্বাচনী বোঝাগুলোর একটি হিসেবে আবির্ভূত হয়। এর পাশাপাশি, চেচনিয়ার প্রলম্বিত যুদ্ধ এবং চেচেন জনসাধারণের প্রতি রুশ বাহিনীর বর্বর আচরণ রাশিয়ায় বসবাসকারী অন্যান্য জাতির মধ্যে রুশদের প্রতি আতঙ্ক ও ঘৃণার সৃষ্টি করে।