"প্রথম চেচেন যুদ্ধ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
গ্রোজনির পতনের পর রুশ সরকার ধীরে ধীরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে চেচনিয়ার নিম্নভূমিতে এবং এরপর পার্বত্য অঞ্চলসমূহে নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করে। ৭ এপ্রিল [[ওমন]] ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সীমান্তবর্তী [[সামাশকি]] গ্রাম দখলের সময় কমপক্ষে ১০৩ জন বেসামরিক লোককে হত্যা করে এবং আরো কয়েক শত বেসামরিক মানুষকে বন্দি করে নির্যাতন করে<ref name="human">[https://www.hrw.org/reports/1996/WR96/Helsinki-16.htm The Russian Federation Human Rights Developments] Human Rights Watch</ref>। ১৫ এপ্রিল দক্ষিণের পার্বত্য অঞ্চলে রুশরা ২০০–৩০০ সাঁজোয়া যানের সুবৃহৎ বহর নিয়ে অগ্রসর হয়<ref>[http://smallwarsjournal.com/documents/alikhadzhievinterview.pdf Alikhadzhiev interview]</ref>। চেচেন যোদ্ধারা সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ [[শালি]] শহরে তাদের সামরিক সদর দপ্তর স্থানান্তর করে [[আর্গুন]] শহরটি রক্ষা করে, এরপর [[সের্ঝেন-ইয়ুর্ত|সের্ঝেন-ইয়ুর্তে]] সদর দপ্তরটি স্থানান্তর করে এবং সবশেষে [[ভেদেনো]]য় [[শামিল বাসায়েভ|শামিল বাসায়েভের]] জন্মস্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়। চেচনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর [[গুদের্মেস]] বিনা যুদ্ধে রুশদের নিকট আত্মসমর্পণ করে, কিন্তু [[রুসলান গেলায়েভ|রুসলান গেলায়েভের]] নেতৃত্বাধীন যোদ্ধারা [[শাতোয়]] গ্রামটি রক্ষা করে। পরবর্তীতে চেচেন কমান্ড ভেদেনো থেকে দার্গো গ্রামে, এবং সেখান থেকে [[বেনোয়|বেনোয়ে]] সরে যায়<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=Iskhanov interview |ইউআরএল=http://smallwarsjournal.com/documents/iskhanovinterview.pdf |সংগ্রহের-তারিখ=নভেম্বর ২৫, ২০১৭ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20080308081720/http://smallwarsjournal.com/documents/iskhanovinterview.pdf |আর্কাইভের-তারিখ=মার্চ ৮, ২০০৮ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ }}</ref>। [[মার্কিন সেনাবাহিনী]]র একটি বিশ্লেষণমূলক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে রুশ সৈন্যবাহিনী নিয়মিত যুদ্ধের মাধ্যমে চেচনিয়ার অধিকাংশ দখল করে নেয় এবং এসময় প্রায় ২,৮০০ রুশ সৈন্য নিহত, ১০,০০০ সৈন্য আহত ও ৫০০-এরও বেশি সৈন্য নিখোঁজ অথবা বন্দি হয়<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.inetres.com/gp/military/FM3-06_11H.html|শিরোনাম=FM 3-06.11 Appendix H|কর্ম=inetres.com}}</ref>। তবে কিছু চেচেন যোদ্ধা প্রত্যাবর্তনকারী শরণার্থীদের ভিড়ে লুকিয়ে রুশ-অধিকৃত অঞ্চলে অনুপ্রবেশ করতে সক্ষম হয়<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=Foreign Military Studies Office Publications – Combat Stress in Chechnya: "The Equal Opportunity Disorder"<!-- Bot generated title --> |ইউআরএল=http://leav-www.army.mil/fmso/documents/stress.htm |সংগ্রহের-তারিখ=২০১৭-১১-২৫ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://archive.is/20070801170345/http://leav-www.army.mil/fmso/documents/stress.htm |আর্কাইভের-তারিখ=২০০৭-০৮-০১ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ }}</ref>।
 
{{আরো দেখুন|বুদিয়োন্নোভস্ক হাসপাতাল জিম্মি সঙ্কট}}
যুদ্ধ চলতে থাকলে চেচেন বিদ্রোহীরা ব্যাপক হারে বেসামরিক জনগণকে জিম্মি করতে আরম্ভ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রুশ জনসাধারণ ও নেতৃবৃন্দের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করা। ১৯৯৫ সালের জুনে শামিল বাসায়েভের নেতৃত্বে একদল চেচেন যোদ্ধা দক্ষিণ রাশিয়ার [[বুদিয়োন্নভস্ক]] শহরের একটি হাসপাতালে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করে; বাসায়েভ ও রুশ প্রধানমন্ত্রী [[ভিক্তর চের্নোমির্দিন|ভিক্তর চের্নোমির্দিনের]] মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে প্রায় ১২০ জন বেসামরিক রুশ নিহত হয়। এই আক্রমণের ফলে রুশরা সাময়িকভাবে চেচনিয়ায় তাদের সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখে এবং এই সুযোগে চেচেনরা তাদের শক্তিবৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। চেচনিয়ায় পুরোমাত্রার রুশ আক্রমণের ফলে দুদায়েভের অনেক বিরোধীও তাঁর সঙ্গে যোগদান করে এবং হাজার হাজার চেচেন স্বেচ্ছাসেবক বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেয়। অনেক এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ তাদের এলাকাগুলোকে রুশ আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় আত্মরক্ষামূলক মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে। ১৯৯৫ সালের শেষদিকে এসব মিলিশিয়া বাহিনীতে ৫,০০০–৬,০০০ সশস্ত্র যোদ্ধা ছিল। চেচেন কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, চেচেন বিদ্রোহীরা সর্বমোট ১০,০০০–১২,০০০ পূর্ণকালীন যোদ্ধা মাঠে নামিয়েছিল। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, চেচেন বিদ্রোহীদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ছিল এবং বিদ্রোহীদের একটি বড় অংশ ছিল শিশু, যাদের কারো কারো বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর<ref>[http://www1.umn.edu/humanrts/commission/country52/1996_13.htm The situation of human rights in the Republic of Chechnya of the Russian Federation] [[United Nations]]</ref>। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ভূমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে তারা শত্রুর অধিকৃত এলাকায় [[বুবি ট্র্যাপ]] ও [[ভূমি মাইন]] ব্যবহারসহ গেরিলাযুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করে। এসবের মধ্যে বিস্ফোরকের ব্যবহার ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; তাছাড়া চেচেনরা কার্যকারিতার সঙ্গে মাইন ও চোরাগোপ্তা হামলাকে সমন্বিতভাবে রুশদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে।
 
যুদ্ধ চলতে থাকলে চেচেন বিদ্রোহীরা ব্যাপক হারে বেসামরিক জনগণকে জিম্মি করতে আরম্ভ করে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল রুশ জনসাধারণ ও নেতৃবৃন্দের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি করা। ১৯৯৫ সালের জুনে শামিল বাসায়েভের নেতৃত্বে একদল চেচেন যোদ্ধা দক্ষিণ রাশিয়ার [[বুদিয়োন্নভস্কবুদিয়োন্নোভস্ক]] শহরের একটি হাসপাতালে ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষকে জিম্মি করে; বাসায়েভ ও রুশ প্রধানমন্ত্রী [[ভিক্তর চের্নোমির্দিন|ভিক্তর চের্নোমির্দিনের]] মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে একটি যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হওয়ার পূর্বে প্রায় ১২০ জন বেসামরিক রুশ নিহত হয়।হয়<ref>[http://exhibition.ipvnews.org/page_08.php The Chronicles of Hell] {{webarchive |url=https://web.archive.org/web/20070919182132/http://exhibition.ipvnews.org/page_08.php |date=19 September 2007 }}</ref>। এই আক্রমণের ফলে রুশরা সাময়িকভাবে চেচনিয়ায় তাদের সামরিক কার্যকলাপ বন্ধ রাখে এবং এই সুযোগে চেচেনরা তাদের শক্তিবৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়। চেচনিয়ায় পুরোমাত্রার রুশ আক্রমণের ফলে দুদায়েভের অনেক বিরোধীও তাঁর সঙ্গে যোগদান করে এবং হাজার হাজার চেচেন স্বেচ্ছাসেবক বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেয়। অনেক এলাকায় স্থানীয় জনসাধারণ তাদের এলাকাগুলোকে রুশ আক্রমণ থেকে রক্ষা করার জন্য স্থানীয় আত্মরক্ষামূলক মিলিশিয়া বাহিনী গঠন করে। ১৯৯৫ সালের শেষদিকে এসব মিলিশিয়া বাহিনীতে ৫,০০০–৬,০০০ সশস্ত্র যোদ্ধা ছিল। চেচেন কমান্ডের বক্তব্য অনুযায়ী, চেচেন বিদ্রোহীরা সর্বমোট ১০,০০০–১২,০০০ পূর্ণকালীন যোদ্ধা মাঠে নামিয়েছিল। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, চেচেন বিদ্রোহীদের মধ্যে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও ছিল এবং বিদ্রোহীদের একটি বড় অংশ ছিল শিশু, যাদের কারো কারো বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর<ref>[http://www1.umn.edu/humanrts/commission/country52/1996_13.htm The situation of human rights in the Republic of Chechnya of the Russian Federation] [[United Nations]]</ref>। বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত ভূমির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে তারা শত্রুর অধিকৃত এলাকায় [[বুবি ট্র্যাপ]] ও [[ভূমি মাইন]] ব্যবহারসহ গেরিলাযুদ্ধের কৌশল অবলম্বন করে। এসবের মধ্যে বিস্ফোরকের ব্যবহার ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; তাছাড়া চেচেনরা কার্যকারিতার সঙ্গে মাইন ও চোরাগোপ্তা হামলাকে সমন্বিতভাবে রুশদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে।
 
১৯৯৫ সালের শেষদিকে চেচনিয়ায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল [[আনাতোলি রোমানভ]] গ্রোজনিতে একটি বোমা হামলায় গুরুতরভাবে আহত হন। ঘটনাটিকে ঘিরে রুশ সেনাবাহিনীর একটি অংশের ওপর সন্দেহের সৃষ্টি হয়, কারণ এই হামলার ফলে জেনারেল রোমানভ ও চেচেন প্রধান সেনাপতি (এবং সোভিয়েত সেনাবাহিনীর প্রাক্তন কর্নেল) আসলান মাসখাদভের সমঝোতার ভিত্তিতে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়<ref>[http://www.sptimes.ru/index.php?action_id=2&story_id=11071 Honoring a General Who is Silenced]''[[The St. Petersburg Times]]'' {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20140717102746/http://www.sptimes.ru/index.php?action_id=2&story_id=11071 |তারিখ=১৭ জুলাই ২০১৪ }}</ref>; আগস্টে তাঁরা দুইজন স্থানীয় নেতাদের বুঝিয়ে রুশ যুদ্ধবন্দিদের মুক্ত করার জন্য দক্ষিণ চেচনিয়ায় গিয়েছিলেন<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.jamestown.org/publications_details.php?volume_id=14&&issue_id=740|শিরোনাম=Programs – The Jamestown Foundation|কর্ম=jamestown.org|অকার্যকর-ইউআরএল=yes|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20061122084849/http://www.jamestown.org/publications_details.php?volume_id=14&&issue_id=740|আর্কাইভের-তারিখ=2006-11-22|df=}}</ref>। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রোজনিতে হাজার হাজার স্বাধীনতাকামী চেচেন একটি শান্তি মিছিল বের করলে রুশ ও রুশপন্থী চেচেন সৈন্যরা মিছিলটির ওপর গুলিবর্ষণ করে বহুসংখ্যক চেচেনকে হত্যা করে<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.hartford-hwp.com/archives/63/080.html|শিরোনাম=Chris Hunter, Mass protests in Grozny end in bloodshed|কর্ম=hartford-hwp.com}}</ref>। এর দুই দিন পর চেচেন স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত গ্রোজনির বিধ্বস্ত রাষ্ট্রপতি ভবনটি ধ্বংস করে ফেলা হয়।