"প্রথম চেচেন যুদ্ধ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
[[File:Evstafiev-chechnya-tank-helmet.jpg|thumb|একটি বোর্জ সাব-মেশিনগান হাতে একজন চেচেন অনিয়মিত যোদ্ধা]]
 
চেচনিয়ার প্রধান মুফতি [[আখমাদআহমাদ কাদিরভ]] কর্তৃক রাশিয়ার বিরুদ্ধে [[জিহাদ]] ঘোষণা রাশিয়ার অন্যান্য অঞ্চল এবং বহির্বিশ্ব থেকে জিহাদিদের চেচনিয়ায় এসে সেখানকার যুদ্ধে অংশ নিতে অনুপ্রাণিত করে। এক হিসাব অনুযায়ী, ৫,০০০-এরও বেশি অ-চেচেন স্বেচ্ছাসেবক ধর্মীয় অথবা জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রুশদের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধে অংশ নেয়।
 
রুশ সমরনায়করা চেচেন যোদ্ধাদের খোঁজে চেচনিয়ার পার্শ্ববর্তী ক্ষুদ্র প্রজাতন্ত্র [[ইঙ্গুশেতিয়া]]য় সৈন্য প্রেরণ করলে যুদ্ধটি সীমিত আকারে সেখানেও ছড়িয়ে পড়ে। ইঙ্গুশেতিয়ায় চেচনিয়া ও উত্তর ওসেটিয়া থেকে প্রায় ২,০০,০০০ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছিল এবং এর ফলে প্রজাতন্ত্রটির ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি ঘটনায় ইঙ্গুশ রাষ্ট্রপতি [[রুসলান আউশেভ]] তাঁর প্রজাতন্ত্রে রুশ সৈন্যদের আক্রমণের প্রতিবাদ জানান এবং এসব আক্রমণের ফলে ইঙ্গুশেতিয়ায় সংঘটিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://psi.ece.jhu.edu/~kaplan/IRUSS/ARCHIVE/2.94.html|শিরোনাম=July archive|কর্ম=jhu.edu|সংগ্রহের-তারিখ=২৬ নভেম্বর ২০১৭|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20160608021010/http://psi.ece.jhu.edu/~kaplan/IRUSS/ARCHIVE/2.94.html|আর্কাইভের-তারিখ=৮ জুন ২০১৬|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref>। বিশৃঙ্খল রুশ সৈন্যরা ইঙ্গুশেতিয়ায়ও হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও লুণ্ঠনে লিপ্ত হয় (একটি ঘটনায় ইঙ্গুশেতিয়ায় সফররত রুশ [[দুমা]] সদস্যরা মাতাল রুশ সৈন্যদের গুলিতে কমপক্ষে ৯ জন বেসামরিক ইঙ্গুশ ও ১ জন বাশকির সৈন্য নিহত হওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন; এর পূর্বে রুশ সৈন্যরা মাতাল অবস্থায় আরেকজন রুশ সৈন্য, ৫ জন ইঙ্গুশ গ্রামবাসী এবং এমনকি ইঙ্গুশেতিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রীকেও হত্যা করেছিল)<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=Army demoralized |ইউআরএল=http://www.nupi.no/cgi-win/Russland/krono.exe?3271 |সংগ্রহের-তারিখ=নভেম্বর ২৬, ২০১৭ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20070927213430/http://www.nupi.no/cgi-win/Russland/krono.exe?3271 |আর্কাইভের-তারিখ=সেপ্টেম্বর ২৭, ২০০৭ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ }}</ref>। এর চেয়ে বড় আকারের যুদ্ধাপরাধ পার্শ্ববর্তী [[দাগেস্তান]] প্রজাতন্ত্রে সংঘটিত হয়। বিশেষত, দাগেস্তানের কিজলিয়ারের চেচেন বিদ্রোহীদের দ্বারা সৃষ্ট জিম্মি সঙ্কটের প্রত্যুত্তরে ১৯৯৬ সালের জানুয়ারিতে রুশ সৈন্যরা দাগেস্তানের সীমান্তবর্তী পার্ভোমায়স্কি গ্রামটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। এর ফলে তখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রতি অনুগত প্রজাতন্ত্রটির নেতৃবৃন্দ রুশ বাহিনীর প্রতি তীব্র নিন্দা জানায় এবং প্রজাতন্ত্রটির জনসাধারণ অসন্তুষ্ট হয়। দক্ষিণ রাশিয়ার [[দন কসাক]]রা প্রকৃতপক্ষে চেচেনদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল, কিন্তু তাদের রুশঘেঁষা সংস্কৃতি এবং গ্রোজনির চেয়ে মস্কোর সঙ্গে অধিক সখ্যেররসখ্যের কারণে (স্থানীয় জনসাধারণ, বিশেষত চেচেনদের সঙ্গে তাদের ঐতিহাসিক দ্বন্দ্বের বিষয়টিও বিবেচ্য) তারা চেচেনদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন হয়ে ওঠে; [[কুবান কসাক]]রাও চেচেনদের বিরুদ্ধে নিজেদেরকে সংগঠিত করতে আরম্ভ করে এবং তাদের বাসভূমিতে চেচেনদের অনুপ্রবেশ রোধ করার জন্য আধা-সামরিক রোডব্লকরাস্তা-প্রতিবন্ধক স্থাপন করতে শুরু করে।
 
এদিকে চেচনিয়ার যুদ্ধ রাশিয়ার অভ্যন্তরে অন্য ধরনের বিদ্রোহী কার্যকলাপের জন্ম দেয়। চেচনিয়ার যুদ্ধে অংশ নেয়ার জন্য সেনাবাহিনীতে যোগদানের প্রতি রাশিয়ায় অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগুলোর মধ্যে তীব্র অনীহার সৃষ্টি হয়, এবং রাশিয়ার অনেকগুলো প্রজাতন্ত্র এই বিষয়ে নতুন আইন ও অধ্যাদেশ জারি করে। উদাহরণস্বরূপ, [[চুভাশিয়া]] প্রজাতন্ত্রের সরকার প্রজাতন্ত্রটির যেসকল সৈন্য চেচেন যুদ্ধে অংশ নিতে অনাগ্রহী ছিল তাদেরকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করে একটি অধ্যাদেশ জারি করে এবং রাশিয়ার অভ্যন্তরে জাতিগত বা আঞ্চলিক সংঘাতসমূহে কেন্দ্রীয় সৈন্যবাহিনীর ব্যবহারের ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। কিছু কিছু আঞ্চলিক ও স্থানীয় আইনসভা অভ্যন্তরীণ সংঘাতে অনিয়মিত সৈন্যদের ব্যবহার নিষিদ্ধ করার দাবি জানায়, এবং অন্য আইনসভাগুলো এ ধরনের সংঘাতে সশস্ত্রবাহিনী ব্যবহারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি করে। রুশ সরকারি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করতে থাকেন যে, চেচেন যুদ্ধে বিজয় লাভ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে যুদ্ধটি শেষ হলে রাশিয়ার অন্যান্য জাতিগত সংখ্যালঘুরাও স্বাধীনতা দাবি করে বসবে।