নদী: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

৩০,১৫১ বাইট যোগ হয়েছে ,  ২ বছর পূর্বে
→‎অধিক পঠন: এটা আর সাহায্য করবেও
সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(→‎অধিক পঠন: এটা আর সাহায্য করবেও)
== বহি:সংযোগ ==
 
{{নদির কাজ}}নদীর তিনপ্রকার কার্যের (যথা – ক্ষয়কার্য, বহনকার্য ও অবক্ষেপণকার্য) মধ্যে ক্ষয়কার্যই হল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ । কারণ ক্ষয়কার্যের উপরেই নদীর অবশিষ্ট আর দুটি কার্য প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ – দুরকমভাবেই নির্ভর করে ।
{{অসম্পূর্ণ}}
 
'''☻সংজ্ঞাঃ''' নদী তার বিশেষ কয়েকটি ধর্ম যেমন – প্রবল গতিশক্তি, জলরাশির চাপ, দ্রবণ প্রভৃতি দ্বারা নদী উপত্যকাসংশ্লিষ্ট শিলাস্তরকে বিভিন্নমাত্রায় ও বিভিন্নভাবে ক্ষয় করতে করতে প্রবাহিত হতে থাকে । নদীর এরূপ কার্যকে '''নদীর ক্ষয়কার্য''' (Erosional Works of River) বলা হয় ।
 
'''বৈশিষ্ট্যঃ''' নদীর ক্ষয়কার্য – এর বৈশিষ্ট্যগুলি হলো নিম্নরূপ –
 
'''ক)''' নদীর ক্ষয়কার্যের পরিমান নির্ভর করে নদীর গতিবেগ, জলের পরিমান, স্থানীয় শিলাস্তরের গাঠনিক প্রকৃতি প্রভৃতি বিষয়ের উপর ।
 
'''খ)''' নদীর ক্ষয়কার্যই প্রকারান্তরে নদীর অপর দুটি কার্য যথা – বহন কার্য ও অবক্ষেপণ কার্যকে বহুলাংশে নিয়ন্ত্রন করে ।
 
'''গ)''' নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সামগ্রিক উচ্চতা ও প্রশস্ততা হ্রাস পেতে থাকে ।
 
'''ঘ)''' নদী অববাহিকার পরিবর্তন সাধিত হয় ।
 
'''☻প্রক্রিয়াঃ''' নদীর ক্ষয়কার্য – এর প্রক্রিয়া মূলতঃ পাঁচ প্রকার । যথা –
 
'''১. জলপ্রবাহজনিত ক্ষয়''' (Hydraulic Action): নদীর প্রবল গতিসম্পন্ন জলপ্রবাহের আঘাতে নদীখাত ও নদীপার্শ্বস্থ অপেক্ষাকৃত কোমল ও আলগা শিলাখন্ডগুলি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ভেঙ্গে যায় ও জলপ্রবাহ দ্বারা বাহিত হয়ে এগিয়ে চলে । একে নদীর '''জলপ্রবাহজনিত ক্ষয়''' (Hydraulic Action) বলে ।
 
'''২. ঘর্ষণজনিত ক্ষয়''' (Attrition): নদীবাহিত প্রস্তরখন্ডগুলি (Boulders) একটি অপরটির সাথে সংঘর্ষের ফলে ভেঙ্গে গিয়ে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রস্তরখন্ডে এবং অবশেষে বালুকণায় পরিনত হয় । একে নদীর '''ঘর্ষণজনিত ক্ষয়'''(Attrition) বলে ।
 
'''৩. অবঘর্ষজনিত ক্ষয়''' (Corrasion): নদীবাহিত প্রস্তরখন্ডগুলি চলতে চলতে নদীখাতের সাথে সংঘর্ষে সৃষ্টি করে । ফলে নদীবক্ষ ভীষণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । নদীর এরূপ ক্ষয়কে অ'''বঘর্ষজনিত ক্ষয়''' (Corrasion) বলে ।
 
'''৪. দ্রবণজনিত ক্ষয়''' (Solution): স্থানীয় শিলাস্তরের বিশেষ প্রকৃতি (যেমন – চুনাপাথর, লবণশিলা প্রভৃতি) অথবা নদীর জলের বিশেষ প্রকৃতি (যেমন – অত্যাধিক অম্লত্ব বা ক্ষারত্ব) জনিত কারণে অনেকসময় নদীর গতিপথে অবস্থিত শিলা দ্রুত গলে গিয়ে বা দ্রবীভূত হয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । নদীর এরূপ ক্ষয়কে '''দ্রবণজনিত ক্ষয়''' (Solution) বলে ।
 
এবং
 
'''৫. বুদবুদজনিত ক্ষয়''' (Bubble Erosion): নদীর জলস্রোতের মধ্যে বুদবুদ সৃষ্টি হয় । এই বুদবুদ্গুলি জলপ্রবাহের মধ্যে চাপা পড়ে থাকলে তার মধ্যে বাতাসের চাপ প্রচন্ড থাকে । পরবর্তীতে এই বুদবুদ্গুলি মুক্ত হলে তা নদীপার্শ্বস্থ বা নদীমধ্যস্থ শিলাস্তরের গাত্রে ফেটে যায় । এইভাবে অজস্র বুদবুদ ক্রমাগত শিলাগাত্রে ফাটতে থাকলে শিলাগাত্রে ক্রমশঃ মৌচাকের ছিদ্রের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গর্ত সৃষ্টি হয় । একে নদীর '''বুদবুদজনিত ক্ষয়''' (Bubble Erosion) বলে ।
 
নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন ভূমিরূপগুলির বর্ণনা / fluvial erosional landforms
 
নদীর ক্ষয়কার্যের ফলে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন ভূমিরূপঃ- উচ্চগতিতে নদীর গতিপথের ঢাল খুব বেশি থাকে ( সাধারণভাবে 22°-35°  ) ।  ফলেনদীর জলধারা প্রবলবেগে নিচের দিকে বয়ে চলে । এই অংশে নদীর প্রবল স্রোতের জন্য নদী উপত্যকা ভীষণভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় । ক্ষয়প্রাপ্তশিলাখণ্ডগুলিকে নদী নিচের দিকে বহন করে নিয়ে যায়  । তাই উচ্চগতিতে নদীর প্রধান কাজ ক্ষয় করা এবং ক্ষয়িত দ্রব্য বহন করা । এইঅংশে ঢালের  হঠাৎ পরিবর্তনের ফলে কিছু কিছু সঞ্চয় কাজও হয়ে থাকে । ব্যাপকভাবে ক্ষয় , বহন ও স্বল্প পরিমাণে সঞ্চয়ের ফলেউচ্চগতিতে নানাধরনের ভূমিরূপ গঠিত হয়ে থাকে । এগুলি হল –
 
=== ১. I– আকৃতির উপত্যকা – ===
পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল জলস্রোত ও বাহিত শিলাখণ্ডের সঙ্গে নদীখাতের ঘর্ষণের ফলে পার্শ্বক্ষয় অপেক্ষা নিম্নক্ষয় অধিক হয় । এর ফলে নদীউপত্যকা  সংকীর্ণ ও গভীর হয়ে ইংরেজি ‘I’ আকৃতির আকার ধারণ করে ।
 
=== ২. V-আকৃতির নদী উপত্যকা – ===
পার্বত্য অঞ্চলে প্রবল জলস্রোত ও শিলাখণ্ডের  ঘর্ষণের সঙ্গে ভুমিক্ষয় ও ধসের ফলে নিম্নক্ষয়ের সঙ্গে সঙ্গে সামান্য পার্শ্বক্ষয়ও ঘটে । ফলে নদীউপত্যকা অনেকটা ইংরেজি ‘V’ আকৃতির আকার ধারণ করে ।
 
=== ৩.  গিরিখাত – ===
বৃষ্টিবহুল অতি উচ্চ পার্বত্য অঞ্চলে নদীর নিম্নক্ষয়ের মাত্রা অত্যন্ত বেশি হওয়ায় নদী উপত্যকা সংকীর্ণ ও অতি গভীর হয় । এই ধরনেরঅতি গভীর ও সংকীর্ণ নদী উপত্যকাকেই গিরিখাত বলে । কোন কোন গিরিখাতের তলদেশের সঙ্গে সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পর্বতের চুড়ার উচ্চতারপার্থক্য প্রায় কয়েক হাজার মিটার হয় ।উদাহরণ – সাধারণত হিমালয় প্রভৃতি নবীন ভঙ্গিল পার্বত্য অঞ্চলে গিরিখাত দেখতে পাওয়া যায় ।দক্ষিণ পেরুর কল্কা নদীর গিরিখাতটি হল বিশ্বের গভীরতম গিরিখাত ( সর্বাধিক গভীরতা ৪৩৭৫ মিটার ) ।
 
=== ৪. ক্যানিয়ন – ===
মরুপ্রায় শুষ্ক অঞ্চলের অতিসংকীর্ন ও অতি গভীর গিরিখাতকে ক্যানিয়ন বলা হয় । উদাহরণ – আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো নদীরগ্র্যান্ড ক্যানিয়ন হল পৃথিবীর বৃহত্তম গিরিখাত । এর দৈর্ঘ্য  ৪৮৩ কিমি , প্রস্থ ১২ কিমি এবং সর্বাধিক গভীরতা ১.৯ কিমি । দক্ষিণ পেরুরকল্কা নদীর গিরিখাত ( এল-ক্যানন দ্য কলকা ) হল পৃথিবীর গভীরতম গিরিখাত ।
 
=== ৫. জলপ্রপাত – ===
নদীর প্রবাহগতির মধ্যে জলতলের প্রভেদকে জলপ্রপাত বলে । অর্থাৎ নদী তার প্রবাহপথে হঠাৎ খাড়া ঢাল বরাবর নিচে পড়লে জলপ্রপাতেরসৃষ্টি হয় ।
 
জলপ্রপাত নানা কারনে সৃষ্টি হতে পারে । যেমন –
 
==== ক. চ্যুতি  - ====
নদীর গতিপথে হঠাৎ কোন চ্যুতির সৃষ্টি হলে খাড়া ঢালের সৃষ্টি হয় । আফ্রিকার জাম্বেসী নদীর ওপর জাম্বেসী নদীর জাম্বেসী জলপ্রপাতএইভাবে সৃষ্টি হয়েছে ।
 
==== খ. লাভাপ্রবাহ  - ====
নদীর গতিপথে  কঠিন লাভাস্তর অবস্থান করলে জলতলের প্রভেদ ঘটে । ফলে জলপ্রপাত সৃষ্টি হতে পারে ।
 
==== গ. ভূ-আন্দোলোন- ====
ভূ-আন্দোলনের ফলে কোন স্থানে খাড়া ঢালের সৃষ্টি হতে পারে । এরুপ স্থানের মধ্য দিয়ে নদী প্রবাহিত হলে জলপ্রপাতের সৃষ্টি হয় ।
 
==== ঘ. ঝুলন্ত উপত্যকা – ====
পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহের ক্ষয়কাজের ফলে ঝুলন্ত উপত্যকার সৃষ্টি হয় । ক্যালিফোর্নিয়ার য়োসেমিতি জলপ্রপাত এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে ।
 
==== ঙ. মালভূমির প্রান্তভাগ – ====
মালভূমির প্রান্তভাগের খাড়া ঢালে জলপ্রপাত সৃষ্টি হয় । বিহারের সুবর্ণরেখা নদীর উপর হুড্রু জলপ্রপাত এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে ।
 
==== চ. কঠিন ও কোমল শিলাস্তরের পাশাপাশি অবস্থান – ====
কঠিন ও কোমল শিলাস্তর পাশাপাশি অবস্থান করলে কোমল শিলাস্তর দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে খাড়া ঢালের সৃষ্টি হয় । আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেরনায়াগ্রা জলপ্রপাত এইভাবে সৃষ্টি হয়েছে ।
 
==== উদাহরণ – ====
পৃথিবীতে প্রায় ১০০ টির মত বড় জলপ্রপাত আছে । পৃথিবীর সুন্দর জলপ্রপাতগুলির মধ্যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট লরেন্স নদীর ওপরনায়াগ্রা জলপ্রপাত এবং দক্ষিণ আফ্রিকার জাম্বেসী নদীর উপর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত উল্লেখযোগ্য । দক্ষিণ আমেরিকার ভেনিজুয়েলায়  রিওকরোনি নদীর এঞ্জেল জলপ্রপাত পৃথিবীর উচ্চতম জলপ্রপাত (৯৮০ মিটার )। ভারতের কর্নাটক রাজ্যের শরাবতী নদীর ওপর গেরসোপ্পা ওযোগ জলপ্রপাত দেশের সর্বোচ্চ জলপ্রপাত ( ২৭৫ মিটার ) ।
 
'''জলপ্রপাতের পশ্চাদপসরণঃ-'''
 
'''নরম শিলা ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হতে হতে একসময় অপসারিত হয় এবং কঠিন শিলাস্তরও ক্রমশ ক্ষয় পেতে থাকে । এরুপঅবস্থায় জলপ্রপাত পেছনের দিকে সরে যায় । একে জলপ্রপাতের পশ্চাদপসরণ বলে ।'''
 
=== ৬. খরস্রোতঃ- ===
পার্বত্য অঞ্চলে কঠিন ও কোমল শিলাস্তর যদি পাশাপাশি উলম্বভাবে অবস্থান করে , তাহলে নরম শিলা দ্রুত ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে ধাপযুক্ত প্রবলগতিসম্পন্ন জলস্রোতের সৃষ্টি করে । একে  খরস্রোত বলে । খার্তুম থেকে আসোয়ান পর্যন্ত নীল নদের গতিপথে ৬ টি বিখ্যাত খরস্রোত লক্ষ্যকরা যায় ।
 
=== ৭. কর্তিত শৈলশিরাঃ- ===
পার্বত্য অঞ্চলে নদীপথের ঢাল হঠাৎ বৃদ্ধি পেলে তীব্র জলস্রোতের প্রভাবে শৈলশিরা ব্যাপকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় এবং নদী সোজা পথে বয়ে চলে। তিস্তা , তোর্সা , মহানন্দা প্রভৃতি নদী এইভাবে শৈলশিরা কেটে প্রবাহিত হয়েছে ।
 
=== ৮. আবদ্ধ অভিক্ষিপ্তাংশঃ- ===
পার্বত্য অঞ্চলে নদীর গতিপথে শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশ অবস্থান করলে নদী সামান্য বাক নিয়ে প্রবাহিত হয় । এরুপ অবস্থায় দূর থেকেদেখলে শৈলশিরাগুলিকে আবদ্ধ দেখা যায় এবং নদীর গতিপথ আড়াল হয়ে যায় । এরুপ অবস্থাকে আবদ্ধ অভিক্ষিপ্তাংশ বলে ।
 
=== ৯. মন্থকূপ – ===
উচ্চগতিতে নদীর প্রবল স্রোতের টানে বাহিত শিলাখণ্ডগুলি নদীখাতের সঙ্গে ধাক্কা খেতে খেতে অগ্রসর হয় । জলপ্রপাত বা খরস্রোতেরপাদদেশে জলের ব্যাপক ঘুর্ণীর ফলে এই সমস্ত শিলাখণ্ড নদীখাতে গোলাকার গর্তের সৃষ্টি করে । এই সমস্ত গর্তগুলিকে মন্থকূপ বলে ।
 
=== ১০. প্রপাতকূপ – ===
জলপ্রপাতের জলধারা সজোরে আছড়ে পড়ার ফলে জলপ্রপাতের নিচে প্রবল জলস্রোতের আঘাত ও জলঘুর্নির সৃষ্টি হওয়ায় বুদবুদ ক্ষয়েরমাধ্যমে প্রায় গোলাকার গর্তের সৃষ্টি হয় তাকে প্রপাতকূপ বলে ।
 
নদীর পার্বত্যগতি ও সৃষ্ট ভূমিরূপ
 
►'''নদীর পার্বত্য গতি : নদীর ক্ষয়সাধন ও বহনের ফলে সৃষ্ট ভূমিরূপ:'''
 
পার্বত্যঅঞ্চলে নদীর প্রাথমিক গতি । এখানে নদীর স্রোত খুব প্রবল ও গভীরতা খুব বেশি । নদী এখানে খুব বেশি চওড়া হয় না । পর্বতের গা দিয়ে আঁকা বাঁকা পথে নদী এখানে বইতে থাকে এবং নানা রকমের ভূমিরূপ গঠন করে থাকে ।
 
 
♦ '''আড়াআড়ি পাড়''' '''বা  অন্তর্বদ্ধ শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশ''' [Interlocking Spur]: পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, '''আড়াআড়ি পাড় বা  অন্তর্বদ্ধ শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশ''' [Interlocking Spur] হল তাদের মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । পার্বত্য অঞ্চলে হিমবাহ বা নদীর প্রবাহ পথে, নদীর ঘর্ষণের ফলে ক্ষয়প্রাপ্ত  ও খাঁজ-কাটা শৈলশিরাগুলিকে অভিক্ষিপ্তাংশ বলে। পার্বত্য অঞ্চলে কোনও নদীর গতিপথে অনেক সময় পাহাড়গুলির অভিক্ষিপ্তাংশ এমন ভাবে বিন্যস্ত থাকে যে, নদীর প্রবাহপথের একটি অংশ আর একটি অংশ থেকে আড়াল হয়ে যায় এবং নদীটি সামান্য একটু বাঁক নিয়ে এঁকে বেঁকে প্রবাহিত হতে বাধ্য হয় । এই অবস্থায় দূর থেকে দেখলে নদীটির গতিপথ আড়াল হয়ে এবং মনে হয় শৈলশিরাগুলি যেন আবদ্ধ অবস্থায় আছে, একে তখন '''আড়াআড়ি পাড় বা অন্তর্বদ্ধ শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশ''' [Interlocking Spur] '''বলে।'''
 
 
♦ '''কর্তিত স্পার''' [Truncated Spur]''':''' পার্বত্য উপত্যকা দিয়ে যখন হিমবাহ অগ্রসর হয়, সে সময় এই হিমবাহের গতিপথে যেসব স্পার [Spur] বা পর্বতের অভিক্ষিপ্তাংশ হিমবাহের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করে থাকে, হিমবাহ সেগুলিকে কেটে বা ক্ষয় করে সোজা পথে অগ্রসর হয় এবং খাড়া ঢালের সৃষ্টি করে । এর ফলে পর্বতশিরার অবতল ও উত্তল ঢালটি হঠাৎ খাড়াভাবে হিমবাহ উপত্যকায় নেমে আসে । এইভাবে হিমবাহ দ্বারা ক্ষয়প্রাপ্ত এবং ত্রিভূজের মতো দেখতে শৈলশিরাগুলোকে '''কর্তিত স্পার''' [Truncated Spur] বা '''পল কাটা স্পার''' বলে । যে কোনো নদীর পার্বত্য গতিপথে এই ধরনের বাধা থাকলে নদীটি এঁকে বাঁক প্রবাহিত হয়, যার ফলে '''আড়াআড়ি পাড় বা  অন্তর্বদ্ধ শৈলশিরার অভিক্ষিপ্তাংশ''' [Interlocking Spur] -এর সৃষ্টি হয় । হিমালয়ের পার্বত্য অঞ্চলে তিস্তা, তোর্সা, মহানন্দা প্রভৃতি নদীর গতিপথে '''কর্তিত শৈলশিরা'''[Truncated Spur] দেখা যায় ।
 
<ins> </ins>
 
<ins>♦ '''V -অক্ষরের উপত্যকা ও গিরিখাত''' [V-Shaped Valley & Gorge]''':''' পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, '''V -অক্ষরের উপত্যকা ও গিরিখাত''' [V-Shaped Valley & Gorge] হল তাদের মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । পার্বত্য অঞ্চলে স্রোতের বেগ প্রচন্ড হওয়ায় নদী বড় বড় শিলাখন্ড, নুড়ি, পাথর প্রভৃতি বহন করে নামতে থাকে । শিলাখন্ডের আঘাতে নদীগর্ভ ক্ষয় হয় । পার্বত্যপথে নদীর ইংরেজি '''I''' অথবা সরু  '''V''' আকৃতির নদী-উপত্যকা যখন খুব গভীর হয়, তখন তাকে '''গিরিখাত''' [Gorge] বলে । গিরিখাত যতটা গভীর ততটা চওড়া নয় । কখনো কখনো এই সমস্ত গিরিখাতের তলদেশের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী পর্বতের চূড়ার মধ্যে উচ্চতার পার্থক্য প্রায় কয়েক হাজার মিটার হয়।</ins>
 
'''<ins>উদাহরণ-</ins>'''<ins> শতদ্রু, সিন্ধু, তিস্তা প্রভৃতি নদীর হিমালয়ের পার্বত্য গতিপথে গভীর নদী উপত্যকা বা গিরিখাত দেখতে পাওয়া যায় । সিন্ধুনদের '''অরুণ''' গিরিখাত বিখ্যাত । দক্ষিণ পেরুর '''কল্কা নদীর গিরিখাতটি''' হল বিশ্বের গভীরতম গিরিখাত যার গভীরতা  সর্বাধিক ৪,৩৭৫ মিটার ।</ins>
 
<ins> </ins>
 
<ins>♦ '''জলপ্রপাত''' [Waterfalls] '''ও প্রপাত কূপ''' [Plunge-pool] ''':  '''পার্বত্য প্রবাহে নদীর গতিপথে আড়াআড়ি ভাবে কোনো কঠিন শিলা থাকলে, সেই কঠিন শিলা পাশের কোমল শিলা থেকে অপেক্ষাকৃত কম ক্ষয় পায় এবং কালক্রমে উঁচু হয়ে থাকে । নদীস্রোত সেই খাড়া ঢাল থেকে বিপুল বেগে নীচের কোমল শিলায় পড়ে '''জলপ্রপাতের''' [Walerfalls] সৃষ্টি করে । নদীর গতিপথের যে অংশে জলপ্রপাতের জলধারা সজোরে এসে পড়ে সেখানে এই জলধারা সজোরে এসে পড়ার ফলে মন্থকূপের সৃষ্টি হয় যাকে '''প্রপাতকূপ'''[Plunge-pool] বলে । জলপ্রপাতের উপস্থিতির ফলে নীচের কোমল শিলাস্তরের ভিতরের অংশের দ্রুত ক্ষয় হওয়ায় এই ধরনের জলপ্রপাত ধীরে ধীরে পিছনের দিকে সরে আসতে থাকে, একে জলপ্রপাতের '''পশ্চাদপসরণ''' বলে । দক্ষিণ-আমেরিকার ভেনিজুয়ালার '''অ্যাঞ্জেল''' জলপ্রপাতটি হল পৃথিবীর  উচ্চতম জলপ্রপাত ।</ins>
 
<ins> </ins>
 
<ins>♦ '''ক্যানিয়ন''' [Canyon] : পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ক্ষয়কাজের ফলে যে সমস্ত ভূমিরূপের সৃষ্টি হয়, '''ক্যানিয়ন''' [Canyon] হল তাদের মধ্যে অন্যতম একটি ভূমিরূপ । বৃষ্টিহীন মরুপ্রায় শুষ্ক অঞ্চলে ইংরেজী ‘'''I'''’ অক্ষরের মতো গিরিখাতকে '''ক্যানিয়ন''' [Canyon] বলা হয় । দীর্ঘপথ ধরে বৃষ্টিহীন পার্বত্য মরূ অঞ্চল দিয়ে কোনো নদী প্রবাহিত হলে নদীর জলের স্বল্পতার জন্য নদীখাতে শুধু মাত্র নিম্নক্ষয় হয় । শুষ্ক অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কম, ফলে দুই পাড় ভেঙ্গে জল নদীতে নেমে আসে না । তাই নদীর পার্শ্বক্ষয় বিশেষ হয় না । শুধুমাত্র নিম্নক্ষয়ের জন্য ‘'''I'''’ আকৃতির সুগভীর খাত বা '''ক্যানিয়ন''' [canyon] -এর সৃষ্টি হয় ।</ins>
 
'''<ins>উদাহরণ:</ins>'''<ins> আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় কলোরাডো নদী পৃথিবী বিখ্যাত '''গ্রান্ড ক্যানিয়ন''' সৃষ্টি করেছে যার দৈর্ঘ হল ৪৪৬ কিলোমিটার এবং কোথাও কোথাও এর গভীরতা ১.৬ কিলোমিটারেরও বেশি ।</ins>
 
<ins>***</ins>
[[বিষয়শ্রেণী:নদী|*]]
[[বিষয়শ্রেণী:জলাধার]]
২টি

সম্পাদনা