"উইকিপিডিয়া আলোচনা:নীতিমালা ও নির্দেশাবলী" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ধ্বংসপ্রবন সম্পাদনা বাতিল
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(ধ্বংসপ্রবন সম্পাদনা বাতিল)
ট্যাগ: প্রতিস্থাপিত
{{আলাপ পাতা}}
 
== আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রাথমিক ধারণা ==
 
বিংশ শতাব্দীর প্রথম থেকে [[বিজ্ঞানে]] নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বিজ্ঞানী [[ম্যাক্স প্ল্যাঙ্কের]] [[কোয়ান্টাম তত্ত্বের]] পর বিজ্ঞানী [[আলবার্ট আইনস্টাইন]] [[আপেক্ষিক তত্ত্ব]] প্রদান করেন। আর তার সাথে সাথে [[বিজ্ঞানে]] নতুন যুগের সূচনা হয়।
 
যেখানে নিউটন [[স্থান]], [[কাল]], [[ভরকে]] পরম বা নিরেপেক্ষ ধরেছিলেন, সেখানে [[আইনস্টাইন]] স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে স্থান, কাল, ভর নিরেপেক্ষ নয়। এরা আপেক্ষিক। তা বুঝাতে আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিক তত্ত্বকে দুই ভাগে ভাগ করেন।
1. [[Special theory of relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব]]।
2. [[General theory of relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব]]।
 
প্রথমে জানা যাক, [[Special theory of relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব]] সম্পর্কে।
 
প্রকৃতিতে দুইধরনের ফ্রেম অফ রেফারেন্স বা প্রসঙ্গ কাঠামো দেখা যায়।
1. Inertial frame of reference বা জড় প্রসঙ্গ কাঠামো।
2. Non inertial frame of reference বা অজড় প্রসঙ্গ কাঠামো।
 
1. Inertial frame of reference বা জড় প্রসঙ্গ কাঠামো হচ্ছে কোনো বস্তু যদি কোনো নির্দিষ্ট গতিতে চলে এবং ঐ পরিস্থিতিতে বস্তুর গতি যদি ধ্রুব হয়। যেমন, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট গতিতে পরিভ্রমণ করছে।
2. Non Inertial frame of reference বা অজড় প্রসঙ্গ কাঠামোতে বস্তুর গতি ধ্রুব হয় না। যেমন, রাস্তায় চলতে থাকা একটি গাড়ির সামনে কোনো স্পিড ব্রেকাড আসলে ঐ গাড়ির গতি কম করতে হয়।
মনে রাখতে হবে, [[Special theory of relativity]] বা আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্ব সব সময় Inertial frame of reference বা জড় প্রসঙ্গ কাঠামোর জন্য প্রযোজ্য।
 
গতি পরম বা নিরপেক্ষ নয় আপেক্ষিক কিভাবে?
ধরা যাক, একটি ট্রাক ৬০ কি.মি/ঘন্টা বেগে চলছে। ট্রাকের মধ্যে দুজন বন্ধু বল নিয়ে খেলছে। এক্ষেত্রে তারা বলটিকে ১০ কি.মি/ঘন্টা বেগে একে অপরকে ছুড়ে দিচ্ছে। তাই তাদের কাছে বলের বেগ মনে হবে ১০ কি.মি/ঘন্টা এবং তারা পরস্পরকে দেখবে স্থিতিশীল।
ধরা যাক তাদের বন্ধু রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। এখন সে দেখবে বলটি ৭০ কি.মি/ঘন্টা বেগে একে অপরকে ছুড়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ট্রাকের বেগের সাথে বলের বেগ যোগ হবে। এখন ঐ বন্ধুটিও স্থিতিশীল নয়। কারন সে পৃথিবীতে আছে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। [[সূর্য]]গ্যালাক্সির চারদিকে ঘুরছে এবং [[গ্যালাক্সিও]] ঘুরছে।
সুতরাং, এই মহাবিশ্বে কোনো কিছু পরম স্থিতিশীল বা পরম গতিশীল নয়। সবকিছু আপেক্ষিক।
 
[[সময়]] পরম বা নিরপেক্ষ নয় আপেক্ষিক কিভাবে?
ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[মাইকেলসন]]- [[মোরলী]] পরিক্ষা দ্বারা প্রমাণ করেন যে আলোর বেগ ধ্রুব রাশি। যা কোনো স্থান বা অবস্থাতে পরিবর্তন হয় না এবং তার সাথে এটাও নির্দিষ্ট ছিল যে এই মহাবিশ্বে [[আলো]] সবচেয়ে বেশি বেগে গতিশীল।
ধরা যাক, এমন কোনো একটা মহাকাশযান মহাকাশে পাঠানো হলো যার বেগ আলোর বেগের প্রায় কাছাকাছি। যার সামনে একটা লাইট লাগিয়ে দেওয়া হলো। এমতাবস্থায় মহাকাশযানটির বেগ ও আলোর [[বেগ]] যদি হিসাব করা হয় তাহলে আলোর বেগের দ্বিগুণ বেগ পাওয়া যাবে। এই সমীকরণের মজার বিষয় হচ্ছে ঐ মহাকাশযানে থাকা মানুষগুলোর জন্য সময় পৃথিবীর তুলনায় অনেক ধীরে চলবে। এতোটাই ধীরে যে ঐ মহাকাশযানে থাকা ১ মিনিট পৃথিবীর ১ হাজার মাস বা তার থেকে আরও বেশি হবে।
এই থেকে [[আইনস্টাইন]] প্রমাণ করেন যে সময় পরম বা নিরপেক্ষ নয়। সময় আপেক্ষিক।
 
এবার জানা যাক, [[General theory of relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বটির]] সম্পর্কে। আইনস্টাইন বুঝতে পেরেছিলেন তার [[Special theory of Relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার বিশেষ তত্ত্বটি]] শুধুমাত্র সমবেগে চলমান কোনো বস্তুর জন্য প্রযোজ্য। কিন্তু কী হবে যখন একটা বস্তুর ত্বরণ সৃষ্টি হয়? আইনস্টাইন বুঝতে চেয়েছিলেন [[মহাকর্ষ]] কিভাবে কাজ করে। তাই তিনি ১৯১৬ সালে [[General theory of relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্ব]] প্রদান করেন। তিনি এই ব্যাপারে কৌতুহল ছিলেন যে গ্র্যাভিটি সময়ের উপর কিরূপ প্রভাব ফেলে। একদিকে [[নিউটন]] বলেন যে, পৃথিবী সকল বস্তুকে মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে টানছে এবং তিনি এটাই মনে করেন যে এর ফলে পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। আইনস্টাইনের [[নিউটনকে]] ভুল প্রমাণ করে বলেন যে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে [[মহাকর্ষ বলের]] কারণে ঘুরছে না বরং মহাকর্ষ বলের দ্বারা সৃষ্ট স্থান ও কালের আসা বক্রতার কারণে পৃথিবীসহ অন্যান্য গ্রহ সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। আইনস্টাইনই সর্বপ্রথম [[স্থানকাল]] [[(Spacetime)]] ও বক্রতার ধারনা প্রদান করেন। যেখানে তিনি বলেছিলেন গ্র্যাভিটি সময়ের উপর প্রভাব ফেলে। যে বস্তুর গ্র্যাভিটি যত বেশি তার জন্য সময় তত ধীরে চলবে কিন্তু মহাবিশ্বের অন্য জায়গাতে সময় দ্রুত চলবে। গ্র্যাভিটি মহাকাশে এক ধরনের ভাব তৈরি করে। এজন্য মহাকাশে থাকা কোনো বস্তু তার পাশে থাকা কোনো ভারী বস্তুর চারপাশে ঘুরতে থাকে। আইনস্টাইন এটাও বলেছিলেন যে, গ্র্যাভিটি আলোর বেগের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না। আমরা জানি, আলো সর্বদা সরলপথে চলে। কিন্তু আইনস্টাইন তার [[General theory of relativity]] বা [[আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে]] এটা বলেছিলেন যে, আলো স্থান ও কালের আসা বক্রতার কারণে ভারী বস্তুর দিকে বেঁকে যায়। এজন্য সাধারণত তারা বা অন্যান্য নক্ষত্রকে তাদের অবস্থান থেকে ভিন্ন অবস্থানে দেখাচ্ছে বলে মনে হয়। এবং এরই প্রেক্ষিতে আইনস্টাইন E=mc^2 নামে একটি সূত্র প্রদান করেন।
যেখানে,
E = মোট শক্তি।
m = ভর।
c = আলোর বেগ।
এই ছিল [[আপেক্ষিক তত্ত্বের প্রাথমিক ধারণা।]] [[বিশেষ:অবদান/58.145.190.240|58.145.190.240]] ([[ব্যবহারকারী আলাপ:58.145.190.240|আলাপ]]) ০৩:১১, ২২ এপ্রিল ২০১৯ (ইউটিসি)