"দারুস সালাম" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্প্রসারণ
(চিত্র)
(সম্প্রসারণ)
দারুস সালাম শহরের শিল্পকারখানাগুলিতে [[সাবান]], [[রঙ]], [[সিগারেট]], প্রক্রিয়াজাত খাদ্যদ্রব্য, [[ধাতু]] ও [[কাচ|কাচের]] সামগ্রী, [[বস্ত্র]] ও [[পোশাক]], কাঠের খোদাইকর্ম ও [[জুতা]] প্রস্তুত করা হয় এবং [[পেট্রোলিয়াম পরিশোধন]] করা হয়। দারুস সালাম বন্দরের প্রাকৃতিক ও প্রায় সম্পূর্ণ স্থলবেষ্টিত [[পোতাশ্রয়]]টি মূল তানজানিয়া ভূখণ্ডের সিংহভাগ কৃষিজ ও খনিজ রপ্তানিদ্রব্য রপ্তানির কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও প্রতিবেশী রাষ্ট্র [[উগান্ডা]], [[বুরুন্ডি]], [[কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র]], [[জাম্বিয়া]] ও [[মালাউই]]-র জন্যও দারুস সালাম বন্দরটি সেবা প্রদান করে। এখান থেকে [[কঙ্গো নদী]]র নাব্য উপনদী [[লুয়ালাবা]] পর্যন্ত একটি রেলপথ আছে, তাই এটি কঙ্গো নদীর একটি [[অতিক্রমণ বন্দর]] (transit port) হিসেবে কাজ করে। দারুস সালাম বন্দর থেকে [[স্বর্ণ]], [[কফি]], [[সিসাল]] গাছের আঁশ (দড়ি তৈরির জন্য), [[তুলা]] ও [[তামা]] (স্থলবেষ্টিত জাম্বিয়া থেকে আগত), ইত্যাদি দ্রব্য রপ্তানি করা হয়। দারুস সালাম শহর থেকে পশ্চিম দিকে [[তাঙ্গানিকা হ্রদ|তাঙ্গানিকা হ্রদের]] তীরবর্তী [[কিগোমা]] শহর পর্যন্ত ও উত্তর দিকে [[ভিক্টোরিয়া হ্রদ|ভিক্টোরিয়া হ্রদের]] তীরবর্তী [[মোয়ানজা]] ও [[আরুশা]] শহর পর্যন্ত রেলপথ আছে। এছাড়া ১৯৭৫ সালে সম্পূর্ণকৃত [[তানজাম রেলপথ|তানজাম রেলপথের]] মাধ্যমে দারুস সালাম বন্দরটি জাম্বিয়ার সাথে সংযুক্ত। [[দারুস সালাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর]]টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের বিমানসেবা প্রদান করে।
 
ছবির মত সুন্দর পোতাশ্রয়, দৃষ্টিনন্দর [[বেলাভূমি]] ও প্রাণবন্ত [[নৈশজীবন|নৈশজীবনের]] কারণে শহরটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। যেসব পর্যটক তানজানিয়াতে বেড়াতে আসেন, তাদের বেশির ভাগের জন্য দারুস সালাম দেশটির প্রধান প্রবেশপথ ও প্রস্থানপথ। এখান থেকে জাতীয় উদ্যানগুলি সফর করা (সাফারি) ছাড়াও উনগুজা ও পেম্বা দ্বীপগুলি ভ্রমণ করা যায়। খোলা আকাশের নিচে গ্রামীণ জাদুঘরে দারুস সালামের স্থানীয় ও দেশের অন্যান্য উপজাতিদের ঐতিহ্যবাহী ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে উপজাতিক নৃত্যের আয়োজন করা হয়। জাতীয় জাদুঘরে তানজানিয়ার ইতিহাস-সংক্রান্ত প্রদর্শনী ছাড়াও নৃবিজ্ঞানী লুই লিকি-র খুঁজে পাওয়া আদি মানবদের জীবাশ্ম রয়েছে। মোয়েঙ্গে কাষ্ঠভাস্করদের বাজারে কারিগর-শিল্পীরা মুখোশ, অস্থিভাস্কর্য, ঢাল, বল্লম, বস্ত্র ছাড়াও তিংগাতিংগা শৈলীর রঙে ভরপুর চিত্রকর্ম বিক্রি করে থাকে। পোতাশ্রয়ের উত্তর প্রান্তে কিভুকোনি মাছের বাজার সরগরম থাকে, যেখানে ভারতীয় মহাসাগরে বিচরণকারী "[[দাও]]" নামের পালতোলা নৌকাগুলি তাদের শিকার করা মাছ নিলামে বিক্রি করে। দাও নৌকায় করেই দারুস সালাম থেকে নিকটবর্তী বোঙ্গোইয়ো এবং এমবুদিয়া দ্বীপগুলিতে ঘুরে আসা যায়। দারুস সালাম সংরক্ষিত সামুদ্রিক অঞ্চলের অন্তর্গত এই দ্বীপগুলির জনবসতিহীন সব সৈকত আর পরিস্কার পানি পর্যটকদের কাছে প্রিয়। শহরের কিগাম্বোনি পৌরজেলাতেও শুভ্র বালির সৈকত আছে।
 
==তথ্যসূত্র==
৪২,৪৪৯টি

সম্পাদনা