"শ্রীকৃষ্ণকীর্তন" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সংশোধন
(2405:205:61A0:89B7:0:0:204B:50A4 (আলাপ)-এর সম্পাদিত 3248226 নম্বর সংশোধনটি বাতিল করা হয়েছে)
ট্যাগ: পূর্বাবস্থায় ফেরত
(সংশোধন)
ট্যাগ: পূর্বাবস্থায় ফেরত
{{বাংলা সঙ্গীত}}
{{Culture of Bengal}}
'''শ্রীকৃষ্ণকীর্তন''' [[বড়ুচণ্ডীদাস]] নামক জনৈক মধ্যযুগীয় কবি রচিত রাধাকৃষ্ণের[[রাধাকৃষ্ণ]]ের প্রণয়কথা বিষয়ক একটি আখ্যানকাব্য। [[১৯০৯]] সালে [[বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ]] [[বাঁকুড়া জেলা|বাঁকুড়া জেলার]] বিষ্ণুপুরের নিকটবর্তী কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে অযত্নরক্ষিত অবস্থায় এই কাব্যের একটি পুথি আবিষ্কার করেন। [[১৯১৬]] সালে তাঁরই সম্পাদনায় [[বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ]] থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে পুথিটি প্রকাশিত হয়। যদিও কারও কারও মতে মূল গ্রন্থটির নাম ছিল ‘শ্রীকৃষ্ণসন্দর্ভ’।
 
==গুরুত্ব==
[[বিষ্ণু]]র অবতাররূপে [[কৃষ্ণ|কৃষ্ণের]] জন্ম, বড়ায়ির সহযোগিতায় [[বৃন্দাবন|বৃন্দাবনে]] [[রাধা|রাধার]] সঙ্গে তাঁর প্রণয় এবং অন্তে বৃন্দাবন ও রাধা উভয়কে ত্যাগ করে কৃষ্ণের চিরতরে [[মথুরা|মথুরায়]] অভিপ্রয়াণ – এই হল ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের মূল উপজীব্য। আখ্যায়িকাটি মোট ১৩ খণ্ডে বিভক্ত। জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড ইত্যাদি ১২টি অংশ 'খণ্ড' নামে লেখা হলেও অন্তিম অংশটির নাম শুধুই 'রাধাবিরহ', এই অংশটির শেষের পৃষ্ঠাগুলি পাওয়া যায়নি। পুঁথিটি খণ্ডিত বলে কাব্যরচনার সন-তারিখও জানা যায় না। কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র -- কাহ্নাঞি, রাধা, বড়াঞি।
 
[[বিষ্ণু]]র অবতাররূপে [[কৃষ্ণ|কৃষ্ণের]] জন্ম, বড়ায়ির সহযোগিতায় [[বৃন্দাবন|বৃন্দাবনে]] [[রাধা|রাধার]] সঙ্গে তাঁর প্রণয় এবং অন্তে বৃন্দাবন ও রাধা উভয়কে ত্যাগ করে কৃষ্ণের চিরতরে [[মথুরা|মথুরায়]] অভিপ্রয়াণ – এই হল ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যের মূল উপজীব্য। আখ্যায়িকাটি মোট ১৩ খণ্ডে বিভক্ত। জন্মখণ্ড, তাম্বুলখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, বৃন্দাবনখণ্ড ইত্যাদি ১২টি অংশ 'খণ্ড' নামে লেখা হলেও অন্তিম অংশটির নাম শুধুই 'রাধাবিরহ', এই অংশটির শেষের পৃষ্ঠাগুলি পাওয়া যায়নি। পুঁথিটি খণ্ডিত বলে কাব্যরচনার সন-তারিখও জানা যায় না। কাব্যের প্রধান তিনটি চরিত্র --—— কাহ্নাঞি, রাধা, বড়াঞি।
 
তবে আলোচ্য কাব্যটি সংস্কৃত কাব্য [[গীতগোবিন্দম্]]-এর ধরনে আখ্যানধর্মী ও সংলাপের আকারে রচিত বলে এতে প্রাচীন বাংলা নাটকের ('চিত্রনাটগীতি') একটি আভাস মেলে। মনে করা হয়, পূর্বতন লোকব্যবহারে অমার্জিত স্থূল রঙ্গরসের যে ''ধামালী'' গান প্রচলিত ছিল, তা থেকেই কবি এর আখ্যানভাগ সংগ্রহ করেছিলেন। কাব্যটিতে প্রাকৃত প্রেমের আকর্ষণ-বিকর্ষণ পালাগান বা নাটের ঠাটে উপস্থাপিত। গ্রন্থটি স্থানে স্থানে আদিরসে জারিত ও গ্রাম্য অশ্লীলতাদোষে দুষ্ট হলেও আখ্যানভাগের বর্ণনানৈপুণ্য ও চরিত্রচিত্রণে মুন্সিয়ানা আধুনিক পাঠকেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যটিতে বেশ কয়েকবার উদ্ধৃত মর্মস্পর্শী একটি পদ —
<poem>
"কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি কালিনী নই কূলে।
কে না বাঁশী বাএ বড়ায়ি এ গোঠ গোকুলে।
আকুল শরীর মোর বেয়াকুল মন।
তার পাএ বড়ায়ি মোঁ কৈলোঁ কোন দোষে।
আঝর ঝরএ মোর নয়নের পাণী।
বাঁশীর শবদেঁ বড়ায়ি হারায়িলোঁ পরাণী।"
</poem>
 
 
== আবিষ্কার ও প্রকাশনা ==
[[১৯০৯]] সালে [[বাঁকুড়া জেলা|বাঁকুড়া জেলার]] বেলিয়াতোড় গ্রামের বাসিন্দা বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ প্রাচীন পুঁথির অনুসন্ধান করতে গিয়ে ঐ জেলারই [[বিষ্ণুপুর]] শহরের নিকটবর্তী কাকিল্যা গ্রামে জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে প্রথম শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের পুথি আবিষ্কার করেন। তাঁর গোয়ালঘরের মাঁচায় এই পুথিটি তুলে রাখা ছিল। দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় ছিলেন বনবিষ্ণুপুরের মল্লরাজগুরু শ্রীনিবাস আচার্যের দৌহিত্রের বংশধর। পুথিটির সঙ্গে প্রাপ্ত চিরকূটটি থেকে জানা যায় যে আড়াই শত বছর আগে বিষ্ণুপুরের ‘গাঁথাঘর’ অর্থাৎ রাজগ্রন্থশালায় এটি রাখা ছিল।<ref>''বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত'', প্রথম খণ্ড, অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, মডার্ণ বুক এজেন্সী প্রাইভেট লিমিটেড, কলকাতা, ২০০৬, পৃ. ২২৮-২৯</ref> আদ্যন্ত খণ্ডিত অবস্থায় প্রাপ্ত এই পুথিটি পাতলা তুলোট কাগজে হালকা কালিতে লিখিত এবং এতে তিন প্রকার লিপি দেখা যায় – প্রাচীন লিপি, প্রাচীন লিপির হুবহু অনুকরণ লিপি ও পরবর্তীকালের লিপি। কাব্যের ভাষাও যথেষ্ট প্রক্ষেপমণ্ডিত; বাঁকুড়া-মানভূম-ধলভূমের প্রাচীন এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিক উপভাষাগত শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়। পুথির প্রথম দুটি পাতা, মাঝের কয়েকটি ও শেষ পাতাগুলি পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ২৪৩/১ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোডস্থ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পুথিশালায় এটি রক্ষিত আছে। বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ মহাশয় [[১৯১৬]] খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) [[কলকাতা|কলকাতার]] বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ শিরোনামে পুথিটি সম্পাদনা করেন এবং ঐ বছরেই উক্ত প্রতিষ্ঠান সেটি প্রকাশ করেন।
 
আদ্যন্ত খণ্ডিত অবস্থায় প্রাপ্ত এই পুথিটি পাতলা তুলোট কাগজে হালকা কালিতে লিখিত এবং এতে তিন প্রকার লিপি দেখা যায় – প্রাচীন লিপি, প্রাচীন লিপির হুবহু অনুকরণ লিপি ও পরবর্তীকালের লিপি। কাব্যের ভাষাও যথেষ্ট প্রক্ষেপমণ্ডিত; বাঁকুড়া-মানভূম-ধলভূমের প্রাচীন এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিক উপভাষাগত শব্দের ব্যবহার লক্ষণীয়। পুথির প্রথম দুটি পাতা, মাঝের কয়েকটি ও শেষ পাতাগুলি পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ২৪৩/১ আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় রোডস্থ বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ পুথিশালায় এটি রক্ষিত আছে। বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ মহাশয় [[১৯১৬]] খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দে) [[কলকাতা|কলকাতার]] বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ শিরোনামে পুথিটি সম্পাদনা করেন এবং ঐ বছরেই উক্ত প্রতিষ্ঠান সেটি প্রকাশ করেন।
 
== নামকরণ ==
== বহিঃসংযোগ ==
{{উইকিসংকলন|শ্রীকৃষ্ণকীর্তন}}
{{বাঁকুড়া জেলা}}
 
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা সাহিত্য]]
[[বিষয়শ্রেণী:কৃষ্ণ]]
৪,২১৪টি

সম্পাদনা