তাজবিদ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।
সম্পাদনা সারাংশ নেই
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে। কোন সমস্যায় এর পরিচালককে জানান।)
[[File:Quran-Mus'haf Al Tajweed.jpg|thumb|235px|middle|''মুসহাফ আল-তাজউইদ'', তাজউইদ অনুসারে পড়ার সুবিধার জন্য রঙিন হরফযুক্ত কুরআন]]
 
'''তাজউইদ''' (আরবি:تجويد , [[আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা|IPA]]: tædʒˈwiːd) অনেক সময় '''তাজবীদ''' হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। এর  আভিধানিক অর্থ সৌন্দর্য মণ্ডিত করা বা যথাযথ ভাবে সম্পন্ন করা। যে বিষয়টিতে [[কুরআন]] মাজীদ সঠিক উচ্চারণে তিলাওয়াতের নিয়মাবলী উল্লেখ করা হয় তাকে তাজউইদ বলে৷ সঠিক উচ্চারণ মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে উচ্চারণের উপর অধিক নির্ভর করে৷ তাজউইদ অনুসারে [[কুরআন]] তিলাওয়াত করা [[ওয়াজিব]] (আবশ্যক)৷ তাজউইদ অনুসারে উচ্চারণ না করলে সাধারণত অর্থ বিকৃত হয়ে যায়৷ তাজউইদের উদ্দেশ্য হলো কুরআন মাজিদের প্রত্যেকটি হরফকে যথাযথ ভাবে পাঠ করা, কুরআন শরীফের শব্দ ও হরফগুলো পাশাপাশি আসার ফলে যে সকল কায়দার (গুন্নাহ, পুর, বারিক, মাদ্দ, ইত্তেকায়ে সাকিনাইন, ওয়াকফ) সৃষ্টি হয় তা সঠিকভাবে পাঠ করা, কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করার সময় অতিরিক্ত কোনোকিছু যাতে যুক্ত না হয়, প্রয়োজনীয় কিছু জাতে বাদ না পড়ে, কুরআন শরীফের বিশেষ  আয়াত ([[সিজদাহ]], [[সাকতাহ]], এমালাহ, তাসহিল)  সম্পর্কে আলোচনা  সর্বোপরি [[কুরআন]] শরীফকে সঠিকভাবে [[তিলাওয়াত]] এর  জন্য সম্ভাব্য সকল আলোচনা।
 
==তাজউইদের প্রয়োজনীয়তা==
(আর কুরআন আবৃত্তি কর ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দর ভাবে।) --আল-কুরআন,সূরা:[[মুজাম্মিল]],আয়াত:৪
 
কুরআনকে ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দর ভাবে পড়া মুসলিমদের জন্য [[ফরজ]](আবশ্যিক) কারন [[আল্লাহ]] তায়া’লা স্বয়ং নির্দেশ দিয়েছেন। স্পষ্ট ও সুন্দর ভাবে পড়তে হলে কিভাবে  পড়তে হয় তা আগে জানতে হবে এবং তা তাজউইদ এই বর্ণনা করা হয়। তাই তাজউইদ সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে না হলে কুরআন মাজীদ পড়ার সময় অনের ভূল হবে এবং অনেক সময় কুরআনের আয়াতের অর্থের বিপরীত অর্থ হয়ে যাবে  ফলস্বরূপ কুরআন মাজীদ পড়ার  মূল উদ্দেশ্যই বিফল হবে। তাছাড়া শ্রবণকারী ভুল উচ্চারণ শোনে কুরআন মাজিদ সম্পর্কে ভুল ধারনা জন্মাতে পারে যা অনেক সময় বিশৃঙ্খলার কারন হয়ে দাড়াতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়।
 
কুরআনকে ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দর ভাবে পড়া মুসলিমদের জন্য [[ফরজ]](আবশ্যিক) কারন [[আল্লাহ]] তায়া’লা স্বয়ং নির্দেশ দিয়েছেন। স্পষ্ট ও সুন্দর ভাবে পড়তে হলে কিভাবে  পড়তে হয় তা আগে জানতে হবে এবং তা তাজউইদ এই বর্ণনা করা হয়। তাই তাজউইদ সম্পর্কে ধারনা থাকতে হবে না হলে কুরআন মাজীদ পড়ার সময় অনের ভূল হবে এবং অনেক সময় কুরআনের আয়াতের অর্থের বিপরীত অর্থ হয়ে যাবে  ফলস্বরূপ কুরআন মাজীদ পড়ার  মূল উদ্দেশ্যই বিফল হবে। তাছাড়া শ্রবণকারী ভুল উচ্চারণ শোনে কুরআন মাজিদ সম্পর্কে ভুল ধারনা জন্মাতে পারে যা অনেক সময় বিশৃঙ্খলার কারন হয়ে দাড়াতে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়।
 
 
 
==আরবি বর্ণমালা==
 
==সিফাত==
সিফাত অর্থ উচ্চারণের বিশেষ অবস্থা বা [[গুণ]] ৷
 
 
কোনো কোনো [[আরবি]] [[হরফ]] [[মোটা]] স্বরে উচ্চারণ করা হয়৷
কোনো হরফকে আবার [[শক্ত]] করে [[উচ্চারণ]] করতে হয়।
আবার কোনো হরফ উচ্চারণ করতে হয় [[চূড়ই]] পাখির মতো [[আওয়াজ]] করে।
 
 
বুঝার সুবিধার জন্য উপরে হরফ উচ্চারণের ৩ টি [[সিফাত]] (গুন) এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ধরনের ১৭ টি সিফাত রয়েছে।
সিফাত প্রথমত ২ প্রকার:
#লাজিমাহ (স্থায়ি)
#আ’রীদি (অস্থায়ি)।<ref name="tajweed.me">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://tajweed.me/tag/sifaat-al-huruf/|শিরোনাম=sifaat al-huruf – Tajweed Me|ওয়েবসাইট=tajweed.me|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2018-08-08}}</ref>
 
 
 
 
{| class="wikitable"
|}
 
===লাজিমাহ (স্থায়ি)===
 
===লাজিমাহ (স্থায়ি)===
 
সিফাতুল লাজিমাহে হরফের শুধুমাত্র ঐ সিফাত গুলো অন্তর্ভুক্ত যা হরফে সর্বাবস্থায় প্রয়োগ করতে হয়। যেমন: ب একটি হরফ, [[কুরআন]] মাজীদ এর যেকোনো জায়গায় এই হরফটি আসুক না কেন
#একে উচ্চারণের সময় [[জিহ্বা]] [[তালু]]র সাথে লাগবে না।
#একে উচ্চারণের সময় ঠোটের কিনারার উপর নির্ভার করতে হবে।
 
 
উপরের ৫ টি সিফাত সিফাতে লাজিমাহ এর অন্তর্ভুক্ত অন্যদিকে ب এর ১ টি সিফাত রয়েছে যা সিফাতে লাজিমার অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন:
ب শাকিন হলে ب এর সাথে অতিরিক্ত এক ধরনের উচ্চারণ (ক্বাল্ক্বালাহ) হয়। যেমন:<span style="font-size:x-large;line-height:normal;">{{script/Arabic| لَهَبْ }}</span> (লাহাব না পড়ে লাহাবে পড়তে হবে) কিন্তু এটি সুধুমাত্র ب সাকিন হলে প্রযোজ্য হবে, এর সাথে জবর/জের/পেশ/তানউইন থাকলে প্রযোজ্য হবে না। অর্থাৎ এটি স্থায়ী সিফাত নয়, অস্থায়ী সিফাত আ’রীদি এর অন্তর্ভুক্ত।
 
সিফাতুল লাজিমাহ আবার ১৭ প্রকার। এই ১৭ প্রকার সিফতকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। <ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএলname=https://"tajweed.me"/tag/sifaat-al-huruf/|শিরোনাম=sifaat al-huruf – Tajweed Me|ওয়েবসাইট=tajweed.me|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2018-08-08}}</ref>
 
 
সিফাতুল লাজিমাহ আবার ১৭ প্রকার। এই ১৭ প্রকার সিফতকে আবার ২ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। <ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://tajweed.me/tag/sifaat-al-huruf/|শিরোনাম=sifaat al-huruf – Tajweed Me|ওয়েবসাইট=tajweed.me|ভাষা=en|সংগ্রহের-তারিখ=2018-08-08}}</ref>
#মুতাদ্বাদ্দাহ ( পরস্পর বিরোধি)
#গ্বাইরে মুতাদ্বাদ্দাহ। (পরস্পর বিরোধি সিফাত নেই)
 
#জাহর:জাহর শব্দের অর্থ জাহির করা বা খুলাখুলি বর্ণনা করা। ا ، ب ، ج ، د ، ذ ، ر ، ز ، ض ، ط ، ظ ، ع ، غ ، ق ، ل ، م ، ن ، و ، ء ، ى জাহরের অন্তর্গত এই ১৯ টি হরফকে উচ্চারণের সময় মাখরাজের উপর সবল নির্ভর থাকে ও শ্বাস বন্ধ হয়ে জায়।
#হামস (পাতলা আওয়াজ বা ক্ষিণ ধ্বনি): ح ، ث ، ه ، ش ، خ ، ص ، ف ، س ، ك ، ت এই ১০ হরফেকে জোড় দিয়ে  উচ্চারণ না করার কারনে উচ্চারণের সময় শ্বাস জারি থাকে।
 
 
#শিদ্দাত (সবলতা):ا ، ج ، د ، ق ، ط ، ب ، ك ، ت এই ৮ টি হরফকে জোড় দিয়ে  উচ্চারণ করার কারার কারনে উচ্চারণের সময় আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়।
#রিখাওয়াত(নরম) + তাওয়াস্সু্ত(মধ্যম): তাওয়াস্সু্ত ও রিখাওয়াত ২ টি ভিন্ন সিফাত। তবে অধিকাংশ তাজউইদে তাওয়াস্সু্তকে শিদ্দাত এর অন্তর্ভুক্ত না করে রিখাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় কারন তাওয়াস্সু্ত সিফাত বিশিষ্ট হরফকে উচ্চারণের সময় শ্বাস বন্ধ হওয়ার থেকে জারি থাকে বেশি।  ا ، ث ، ح ، خ ، ذ ، ز ، س ، ش ، ص ، ض ، ظ ، غ ، ف ، و ، ه ، ى + ل ، ن ، ع ، م ، ر এই ১৬+৫ টি হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে: মাখরাজের উপর হরফের নির্ভর দুর্বল থাকার কারণে আওয়াজ জারি থাকবে + আওয়াজ বন্ধও নয় জারিও নয় মধ্যম (তাওয়াস্সু্ত এর ক্ষেত্রে)
 
 
#ইস্তেয়া’লা(উন্নতি):হরফ সংখ্যা: ৭ টিخ ، ص ، ض ، غ ، ط ، ق ، ظ এই হরফ গুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বা তালুর সাথে মিলাতে হবে যাতে আওয়াজ বলিষ্ঠ হয়।
#ইস্তেফাল(পতিত): হরফ সংখ্যা:২২ث ، ب ، ت ، ع ، ز ، م ، ن ، ى ، ج ، و ، د ، ح ، ر ، ف ، ه ، ء ، ذ ، س ، ل ، ش ، ك ، ا হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে: বলিষ্ঠ নয়, জিহ্বা তালু থেকে আলাদা রাখা
 
 
#ইতবাক্ব(যুক্ত করা):হরফ সংখ্যা: ৪ص ، ض ، ط. ظ এই হরফ গুলো উচ্চারণের সময় জিহ্বা তালুর সাথে মিলাতে হবে যাতে আওয়াজ অত্যাধিক বলিষ্ঠ হয়।
#ইনফিতাহ(আলাদা):হরফ সংখ্যা: ২৫م ، ن ، ء ، خ ، ذ ، و ، ج ، د ، س ، ع ، ت ، ف ، ز ، ك ، ا ، ح ، ق ، ل ، ه ، ش ، ر ، ب ، غ ، ى ، ث হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে: জিহ্বা তালু থেকে আলাদা রাখা
 
 
#ইজলাক্ব(কিনারা): হরফ সংখ্যা:৬ف ، ر ، م ، ن ، ل ، ب হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে:জিহ্বা/ঠোটের কিনারার উপর নির্ভার করা
#ইস্মাত(নিষেধ): হরফ সংখ্যা:২৩ج ، ز ، غ ، ش ، س ، ا ، خ ، ط ، ص ، د ، ث ، ق ، ت ، ء ، ذ ، و ، ع ، ظ ، ه ، ى ، ح ، ض ،  হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে:জিহ্বা/ঠোটের কিনারার উপর নির্ভার করা নিষেধ
 
 
 
 
====গ্বাইরে মুতাদ্বাদ্দাহ। (পরস্পর বিরোধি সিফাত নেই)====
 
 
#সফির(চূড়ই পাখির আওয়াজ):হরফ সংখ্যা:৩ز ، س ، ص হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে:জিহ্বার অগ্রভাগ সানায়া দাতের অগ্রভাগের সাথে মিলবে
#তাফাশশী(ছড়াইয়া দেওয়া)হরফ সংখ্যা::১ش হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে:হরফ উচ্চারণের সময় মুখের ভিতর হাওয়া ছড়াইয়া দেওয়া
#ইস্তেত্বালাত(বিস্তৃত):হরফ সংখ্যা:১ض হরফের যে সকল গুন উচ্চারণের সময় প্রয়োগ করতে হবে:জিহ্বার প্রারম্ভ থেকে শেষ পর্যন্ত বিস্তৃত করে পড়া
 
 
 
===আ’রীদি(অস্থায়ী)===
 
 
সিফাতে আ’রীদি এ হরফের শুধুমাত্র ঐ সিফাত গুলো অন্তর্ভুক্ত যা হরফে সর্বাবস্থায় প্রয়োগ করতে হয় না । যেমন: [[ب]] একটি [[হরফ]], [[কুরআন]] মাজীদ এর বিভিন্ন জায়গায় এই হরফটি এসেছে। এই হরফটি উচ্চারণের সময় সবসময় অতিরিক্ত আওয়াজ( ক্বাল্ক্বালাহ) করতে হয় না। শুধুমাত্র [[ب]] [[সাকিন]] হলে এরকম করতে হয়। যেমন: <span style="font-size:x-large;line-height:normal;">{{script/Arabic| لَهَبْ }}</span> (লাহাব না পড়ে লাহাবে পড়তে হবে)
 
অন্যদিকে ب এর ৫ টি সিফাত রয়েছে যা সিফাতে আ’রীদির অন্তর্ভুক্ত নয় যা উপরে আলোচনা করা হয়েছে।
 
 
সিফাতে আ’রীদির অন্তর্গত ১টি মাত্র সিফাত রয়েছে তা হলো:
 
====ক্বালক্বালাহ(কম্পিত হওয়া)====
ক্বালক্বালাহ শব্দের অর্থ কম্পিত হওয়া বা নাড়া দেওয়া। ق ، ط ، ب ، ج  ، د এই ৫ টি হরফকে সাকিন অবস্থায়  একধরণের অতিরিক্ত আওয়াজ করে উচ্চারণ করতে হয়(বংলা এ/ও এর মতো)
 
যেমন: <span style="font-size:x-large;line-height:normal;">{{script/Arabic| لَهَبْ }}</span> (লাহাব না পড়ে লাহাবে পড়তে হবে)
'''বি দ্র:''' এটি শুধুমাত্র ب সাকিন হলে প্রযোজ্য হবে, এর সাথে জবর/জের/পেশ/তানউইন থাকলে প্রযোজ্য হবে না।
 
 
ক্বালক্বালাহ ২ প্রকার:
==নুন সাকিন ও তানউইন==
নুন সাকিন <big>(نْ)</big> ও তানউইনের <big>( ً / ٍ  / ٌ )</big> অবস্থা ৫ টি। এগুলো জানা প্রয়োজন কারন, [[কোরআন]] মাজিদ এ কিছুক্ষণ পরপরই এই অবস্থাগুলো আসে। এগুলো না জানলে উচ্চারণ
শুদ্ধ হবে না। নিচে এগুলো বর্ণনা করা হয়েছে :
 
 
===ইজহার-ই-হাকিকী===
ইজহার অর্থ প্রকাশ করা। এখানে নুন সাকিন ও তানউইনের উচ্চারণকে স্পষ্ট করে পড়া বুঝান হচ্ছে যখন এদের পর ء ، ه ، ح ، خ ، ع ، غ এই ৬ টি [[হরফ]] থেকে যেকোনো হরফ আসে।
 
উদাহরণ :<big> مِنْ عَقْلٍ ، مِنْهَادٍ</big>
 
 
===ইখফা-ই-হাকিকী===
ইখফা [[অর্থ]] গুপন করা। এখানে নুন সাকিন ও তানউইনের উচ্চারণকে অস্পষ্ট করে পড়া বুঝান হচ্ছে যখন এদের পর ت ، ث ، ج ، د ، ذ ، ز ، س ، ش ، ص ، ض ، ط ، ظ ، ف ، ق ، ك এই ১৫ টি হরফ থেকে যেকোনো হরফ আসে।
 
উদাহরণ :<big> مَنْ تَابٍ ، مَنْ جَاءَ</big>
 
 
===ইদগামে মা’ল গুন্নাহ===
ইদগাম শব্দের অর্থ মিলিয়ে দেওয়া এবং মা’ল গুন্নাহ অর্থ গুন্নাহ([[নাক]] থেকে [[উচ্চারণ]];[[বাংলা]] [[চন্দ্রবিন্দু]] উচ্চারণের মতো) এর সহিত উচ্চারণ।
 
এখানে নুন সাকিন ও তানউইনকে পরের হরফের সাথে মিলিয়ে গুন্নার সহিত উচ্চারণ করে পড়া বুঝান হচ্ছে যখন এদের পর ى ، ن ، م ، و এই ৪ টি হরফ থেকে যেকোনো হরফ আসে। 
 
উদাহরণ :<big> مَنْ يَّعْمَلْ</big>
 
 
===ইদগামে বেলা গুন্নাহ===
 
উদাহরণ :<big> مِنْ رَبِّهِمْ ، غَفُوْرٌ رَّحِيْمٌ</big>
 
 
===ইক্বলাব===
ইক্বলাব অর্থ [[পরিবর্তন]] করা। এখানে নুন সাকিন ও তানউইনের উচ্চারণকে م এর মতো করে পড়া বুঝান হচ্ছে যখন এদের পর ب এই ১ টি হরফ আসে।
 
উদাহরণ :<big>عَلِيْمٌ بِمَا</big>
 
 
==মিম সাকিন==
মিম সাকিনের <big>(مْ)</big> অবস্থা ৩ টি। এগুলো জানা প্রয়োজন কারন, [[কোরআন]] মাজিদ এ কিছুদূর পরই এই অবস্থাগুলো আসে। এগুলো না জানলে উচ্চারণ শুদ্ধ হবে না। নিচে এগুলো বর্ণনা করা হয়েছে :
 
 
===ইজহারে শফওয়ী===
 
উদাহরন :<big>اَمْ جَعَلُ ، تَمْتَرُوْنَ</big>
 
 
 
===ইখফায়ে শফওয়ী===
 
উদাহরণ :<big>هُمْ بِالْاَ خِرَة</big>
 
 
 
===ইদগামে মিসলাইন সগির===
 
উদাহরণ :<big>اِذْهَبْ بِكِتَابِىْ</big>
 
 
==হরকত==
{{আরও দেখুন | আরবি লিপি}}
জের( ِ ), যবর( َ ), পেশ( ُ ) এগুলোকে হরকত বলা হয়।
 
১ হরকত বা ২ হরকত আসলে কী?
১ হরকত বলতে একটি হরকত যুক্ত হরফকে উচ্চারণ করতে যে সময় লাগে তা বুঝায়।
যেমন: بَ ، تَ ، تِ ، كُ এগুলার যেকোনো ১টি উচ্চারণ করতে যে সময় লাগে।
 
এরুপ ২ হরকত বলতে দুইটি হরকত যুক্ত হরফকে উচ্চারণ করতে যে সময় লাগে তা বুঝায়।
এ বিষয়ে জানা প্রয়োজন কারন মাদ্দ ও গুন্নাহ্ কতটুকু লম্বা করতে হবে তা বুঝা যাবে না এ বিষয়ে না জানলে।
 
 
==মাদ্দ্==
মাদ্দ অর্থ বর্ধিত করা, দীর্ঘ করা। হরকতের উচ্চারণ দীর্ঘ করে পড়াকে মাদ্দ বলে। মাদ্দের হরফ ৩টি : <big>و ، ا ، ى</big> তবে শর্ত হলো :
 
# ওয়াও و সাকিন( ْ ) হতে হবে ও আগের হরফে (ডানে) পেশ( ُ ) হতে হবে।
 
# আলিফ ا হরকতবিহীন আগের হরফে জবর ( َ ) হতে হবে।
 
# ইয়া ى সাকিন( ْ ) হতে হবে ও আগের হরফে (ডানে) জের( ِ ) হতে হবে।
 
|}
 
 
 
 
<big>মাদ্দ এর প্রকারভেদ : </big> মাদ্দ প্রধানত ২ প্রকার:
#মাদ্দে আসলি
#মাদ্দে ফার’য়ি
 
 
===مد اصلى মাদ্দে আসলি===
যে মাদ্দ কোনো কারণের উপর নির্ভর্শীল নয়(যেমন: হামজা (ء) বা সাকিনের ( ْ ) কারনে মাদ্দ হয় নাই) তাকে মাদ্দে আসলি বলে।  একে মাদ্দে ত্বাব’য়ি (مد طبعى) ও মাদ্দে ক্বাস্বার (مد قصر) ও বলা হয়।
 
 
===مد فرعى মাদ্দে ফার’য়ি===
যে মাদ্দ হয় হামজা (ء) বা সাকিনের ( ْ ) কারনে তাকে মাদ্দে ফার’য়ি বলা হয়। মাদ্দে ফার’য়ি আবার বিভিন্ন প্রকার।
 
====مد متصل মাদ্দে মুত্তাসিল====
 
|}
 
 
 
==== مد منفصل মাদ্দে মুনফাসিল====
 
|}
 
 
====مد بدل মাদ্দে বাদাল====
 
|}
 
 
 
 
==== مد عارض للسكون মাদ্দে আ’রিদ্ব লিসসুকুন====
 
 
{| class="wikitable"
 
|}
 
 
 
 
 
==গুন্নাহ্==
নাকের মূল হতে নির্গত আওয়াজকে গুন্নাহ্ বলা হয়। অনেকটা [[বাংলা]] [[চন্দ্রবিন্দু]] উচ্চারণের মতো গুন্নাহ্ উচ্চারিত হয়।কোন কোন অবস্থায় গুন্নাহের সহিত পড়তে হয় নিচে তার সম্পূর্ণ তালিকা দেওয়া হয়েছে :
 
 
<big>যেসব গুন্নাহ্ ১ হরকত (সাভাবিক একটি [[হরফ]] উচ্চারণ করতে যে সময় লাগে) বা ½ [[আলিফ]] পরিমান  লম্বা করে পড়তে হবে :</big>
#নুন সাকিন <big>(نْ)</big>
#মিম সাকিন<big>(مْ)</big>
 
 
<big>যেসব গুন্নাহ্ ২ হরকত বা ১ আলিফ পরিমান লম্বা করে পড়তে হবে :</big>
#ইখফায়ে শফওয়ী
#ইদগামে মিসলাইন সগির
 
 
<big>যেসব গুন্নাহ্ ৩ হরকত বা দেড় আলিফ পরিমান লম্বা করে পড়া যাবে :</big>
#নুন মুশাদ্দাদ <big>(نّ)</big>
#মিম মুশাদ্দাদ <big>(مّ)</big>
 
 
==আরও দেখুন==
*:[[আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী]]
* [[নামাজ]]
 
 
 
== তথ্যসূত্র  ==
<references />
 
[[category বিষয়শ্রেণী: কুরআন তিলাওয়াত]]
[[category বিষয়শ্রেণী:ধ্বনিবিজ্ঞান]]
[[category বিষয়শ্রেণী:ইসলামী পরিভাষা]]
[[category বিষয়শ্রেণী:আরবি ভাষা]]
১,৯৬,০১৪টি

সম্পাদনা