"লাইলাতুল মেরাজ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা দৃশ্যমান সম্পাদনা
{{ইসলামিক সংস্কৃতি}}
ইসলাম ধর্মমতে '''লাইলাতুল মেরাজ''' বা '''মেরাজের রজনীরাত''', যা সচরাচর '''শবে মেরাজ''' হিসাবে আখ্যায়িত হয়, হচ্ছে ইসলাম ধর্মমতে যে রাতে ইসলামের নবী [[মুহাম্মদ|মুহাম্মদের (সা.)]] ঐশ্বরিক উপায়ে ঊর্ধ্বাকাশে আরোহণ করেছিলেন এবং [[আল্লাহ|স্রষ্টার]] সাথে সাক্ষাৎ করেন সেইকরেন। রাত।অনেক মুসলমানরামুসলমান এবাদত-বন্দেগীর মধ্য দিয়ে এই রাতটি উদযাপন করেন। ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চম স্তম্ভেরপঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ [[নামাজনামায]], মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক অর্থাৎ ([[ফরজ]]) নির্ধারণ করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজেরনামায বিধানমুসলমানদের নির্দিষ্টজন্য করানিয়ে হয়।আসেন নবী মুহাম্মদ(সা:)।
 
ইসলামের ইতিহাস অনুযায়ী হযরত মুহাম্মদের (সা:) নবুওয়াত প্রকাশের একাদশ বৎসরের (৬২০ খ্রিষ্টাব্দ) রজব মাসের ২৬ তারিখের দিবাগত ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা:) প্রথমে [[কাবা শরিফ]] থেকে জেরুজালেমে অবস্থিত [[বায়তুল মুকাদ্দাস]] বা মসজিদুল আকসায় গমন করেন এবং সেখানে তিনি নবীদের জামায়াতে ইমামতি করেন। অতঃপর তিনি [[বোরাক]] নামক বিশেষ বাহনে আসীন হয়ে ঊর্ধ্বলোকে গমন করেন। ঊর্ধ্বাকাশে সিদরাতুল মুনতাহায়মুনতায় তিনি আল্লাহ'র সাক্ষাৎ লাভ করেন। এই সফরে ফেরেশতা জিবরাইল তার সফরসঙ্গী ছিলেন।<ref>[http://www.jugantor.com/last-page/2014/05/26/103557 পবিত্র শবে মেরাজ আজ]</ref> [[কুরআন|কুরআন শরিফের]] [[সুরা বনি ইসরাঈল]] এর প্রথম আয়াতে এ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে :
{{quote|"পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"{{cite quran|17|1}}}} <ref>[http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDVfMjZfMTRfMV8zXzFfMTMzMzY4 পবিত্র শবে মেরাজ] - ittefaq.com</ref>
{{cquote|سُبْحَانَ الَّذِي أَسْرَى بِعَبْدِهِ لَيْلًا مِنْ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ إِلَى الْمَسْجِدِ الْأَقْصَى الَّذِي بَارَكْنَا حَوْلَهُ لِنُرِيَهُ مِنْ آيَاتِنَا إِنَّه هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ<br />উচ্চারণ: সুবহানাল্লাজি আস্রা বিআবদিহি লাইলাম মিনাল মাসিজদিল হারামী ইলাল মাসিজদিল আকসা <br />বঙ্গার্থ : "পবিত্র সেই মহান সত্তা, যিনি তাহার এক বান্দা (মুহাম্মদ)-কে মসজিদে হারাম (কাবাঘর) হইতে মসজিদে আকসা (বাইতুল মোকাদ্দাস) পর্যন্ত পরিভ্রমণ করাইয়াছেন। ইহার মধ্যে তাহাকে অসংখ্য নিদর্শনাবলী দেখান হইয়াছে।}}<ref>[http://www.ittefaq.com.bd/index.php?ref=MjBfMDVfMjZfMTRfMV8zXzFfMTMzMzY4 পবিত্র শবে মেরাজ]</ref>
 
== শব্দগত ব্যুৎপত্তি ==
যদিও ইসলাম ধর্মের মূল ধর্মগ্রন্থ [[কুরআন]]-এ "মেরাজ" শব্দটির উল্লেখ দেখা যায় না, কিন্তু যখন অবিশ্বাসীগণ মুহাম্মদের নবুয়্যতের বা ঐশ্বিক বাণীর প্রমাণস্বরূপ স্বর্গে আরোহণকরত প্রমাণ আনতে বলে, তখন সেখানে উল্লিখিত শব্দ ছিল ''তারকা ফিস সামা-য়ী'': স্বর্গে আরোহণ করো। যেখানেকেউ কেউ বলে, ''তারকা'' মানে আরোহণ করো, আর শব্দটি ''রাকিয়া'' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ "সে আরোহণ করেছিল"। আরবি ''মেরাজ'' শব্দটি ''আরাজা'' থেকে গৃহীত, যার অর্থ সে আরোহণ করেছিল। কিন্তুতারা আরও বলে এতদুভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো ''রাকিয়া'' দ্বারা দৈহিক আরোহণ বোঝায়, অথচআর ''আরাজা'' দ্বারা আত্মিক আরোহণ বোঝায়। তাই ক্বোরআনতাদের কর্তৃকমতে মুহাম্মদেরমিরাজ হল "আত্মিক আরোহণ" প্রমাণিত।<ref name="book-mhd"/><br />কিন্তু এপ্রসঙ্গেআহলুস ক্বোরআনেরসুন্নাহর বক্তব্যআলেমগণের হলো:মতে {{cquote|এমনমেরাজ একদিনসশরীরে ফেরেশতা এবংজাগ্রত রুহঅবস্থায় আল্লাহরহয়েছিল। দিকেকারণ উর্ধ্বগামীসকল হয়সাহাবা, যাতাবেয়ীন পার্থিব পঞ্চাশতাবে হাজারতাবেয়ীনের বছরেরএটিই সমান।বিশ্বাস করতেন।<ref name=km>আল{{cite ক্বোরআনweb|title=মেরাজ ৭০স্বপ্নে হয়েছিল এমন আকীদা রাখা কেমন? হযরত আয়েশা রা. নাকি স্বশরীরে মেরাজ স্বীকার করতেন না?|url=https://www.alkawsar.com/bn/qa/answers/detail/295/|publisher=মাসিক আলকাউসার}}</ref>}}
 
== বিবরণ ==
মেরাজ ঘটেছিল মুহাম্মদ-এর নবুয়্যত বা ঐশ্বিক বাণী প্রাপ্তির দশম বছরে। মেরাজের ঘটনায় দুটো অংশ ছিল: ১. ''আল-ইসরা'' বা [[জেরুজালেম|জেরুজালেমে]] রাত্র-ভ্রমণ, এবং ২. ''মেরাজ'' বা ঊর্ধ্বারোহণ বা স্বর্গারোহণ।<ref name="book-mhd"/>
# ''আল-ইসরা'' বা [[জেরুজালেম|জেরুজালেমে]] নৈশ-ভ্রমণ
# ''মেরাজ'' বা ঊর্ধ্বারোহণ বা স্বর্গারোহণ।<ref name="book-mhd"/>
 
একটি বর্ণনায় পাওয়া যায় : নবুয়্যতের দশম বছর, সাত মাস; ২৭ রজব তারিখে মুহাম্মদ (সা:), [[আবু তালিব|আবু তালিবের]] মেয়ে হিন্দার বাড়িতে ছিলেন। আবার অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, ঐ রাতে মুহাম্মদ [[কাবা|কাবাতে]] ঘুমান, এবং তিনি কাবা'র ঐ অংশে ঘুমান, যেখানে কোনো ছাদ ছিল না ([[হাতিম]])।<ref name="book-mhd"/>
 
হিন্দার বিবরণ থেকে জানা যায়, ঐ রাতে, মুহাম্মদ(সা:), রাতের প্রার্থণাপ্রার্থনা সেরে ঘুমাতে যান। খুব ভোরে মুহাম্মদ(সা:) উঠে সবাইকে জাগালেন এবং নামাজ আদায় করলেন। হিন্দাও তাঁর সাথে নামাজ আদায় করলেন। নামাজ শেষে মুহাম্মদ(সা.) জানালেন, {{cquote|ও উম্মেহানি (হিন্দার ডাক নাম), এই ঘরে আমি তোমাদের সাথে প্রার্থণা করেছি। যেমন তোমরা দেখেছ। তারপর আমি পবিত্র স্থানে গিয়েছি এবং সেখানে প্রার্থণা সেরেছি। এবং তারপর তোমাদের সাথে ভোরের প্রার্থণা সারলাম, যেমন তোমরা দেখছো।{{cn}}}}
 
আনাছ (রা.) মালেক ইবনে সা’সাআ’হ (রা.) হইতেহতে বর্ণনা করিয়াছেনকরেছেন, নবীনবীকে ছাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লামকেঅসাল্লাম যেই রাত্রে আল্লাহ তাআলা পরিভ্রমণে নিয়ানিয়ে গিয়াছিলেনগিয়েছিলেন সেই রাত্রের ঘটনা বর্ণনায় সাহাবীগণের সম্মুখে তিনি বলেছেন, যখন আমি কা’বা গৃহে উন্মুক্ত অংশ হাতীমে (উপনীত হইলামহলাম এবং তখনও আমি ভাঙ্গা ঘুমে ভারাক্রান্ত) ঊর্ধ্বমুখী শায়িতশুয়ে ছিলাম, হঠাৎ এক আগন্তক [[ফেরেশতা জিবরাইল (আ.)]] আমার নিকট আসিলেনআসলেন (এবং আমাকে নিকটবর্তী/ জমজম কূপের সন্নিকটে নিয়ানিয়ে আসিলেনআসলেন)। অতঃপর আমার বক্ষে ঊধর্ব র্সীমাসীমা হইতেথেকে পেটের নিম্ন সীমা পর্যন্ত চিরিয়াচিরে ফেলিলেনফেললেন এবং আমার হৃৎপিণ্ড বা কল্বটাকে বাহিরবের করিলেন।করলেন। অতঃপর একটি স্বর্ণপাত্র উপস্থিত করা হইলহল, যাহাযা ইমান (পরিপক্ব সত্যিকার জ্ঞানবর্ধক) বস্তুতে পরিপূর্ণ ছিল । আমার কল্বটাকে ([[জমজম|জমজমের]] পানিতে) ধৌত করিয়াকরে তাহারতার ভিতরে ঐ বস্তু ভরিয়াভরে দেওয়াদেয়া হইলহল এবং কল্বটাকে নির্ধারিত স্থানে রাখিয়ারেখে আমার বক্ষকে ঠিকঠাক করিয়াকরে দেওয়াদেয়া হইল।হল। অতপর আমার জন্য খচ্চর হইতেহতে একটু ছোট, গাধা হইতেহতে একটু বড় শ্বেত বর্ণের একটি বাহন উপস্থিত করা হইলহল তাহারতার নাম “বোরাক”, যাহারযার প্রতি পদক্ষেপ দৃষ্টির শেষ সীমায়। সেই বাহনের উপর আমাকে সওয়ার করা হল। ঘটনা প্রবাহের ভিতর দিয়া জিবরাইল (আ.) আমাকে লইয়ানিয়ে নিকটবর্তী তথা প্রথম আসমানের দ্বারে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেন।বললেন। ভিতর হইতেহতে পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হইলহল, জিবরাইল স্বীয় পরিচয় প্রদান করিলেন।করলেন। অতঃপর জিজ্ঞাসা করা হইলহল, আপনার সঙ্গে কে আছেন ? জিবরাইল বলিলেনবললেন, মুহাম্মদ (সা.) আছেন। বলা হইলহল, (তাঁহাকেতাঁকে নিয়ানিয়ে আসিবারআসার জন্যই তো আপনাকে) তাঁহারতাঁর নিকট পাঠান হইয়াছিলহয়েছিল? জিবরাইল বলিলেনবললেন হাঁ। তারপর আমাদের প্রতি মোবারকবাদ জানাইয়াজানিয়ে দরজা খোলা হইল।হল। গেটের ভিতরে প্রবেশ করিয়াকরে তথায় আদম (আ.)-কে দেখিতেদেখতে পাইলামপেলাম । জিবরাইল আমাকে তাঁহারতাঁর পরিচয় করাইয়াকরে বলিলেনবললেন, তিনি আপনার আদি পিতা আদম (আ.), তাঁহাকেতাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁহাকেতাঁকে সালাম করিলাম।করলাম। আমার সলামেরসালামের উত্তরদানে আমাকে “সুযোগ্য পুত্র ও সুযোগ্য নবী” আখ্যায়িত করিলেনকরলেন এবং খোশ আমদেদ জানাইলেনজানালেন
 
অতপর জিবরাইল আমাকে লইয়ানিয়ে দ্বিতীয় আসমানের দ্বারে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেন।বললেন। এখানেও পূর্বের ন্যায় কথোপকথন হইলহল এবং শুভেচ্ছ মোবারকবাদ জনাইয়াজানিয়ে দরজা খোলা হইল।হল। ভিতরে প্রবেশ করিয়াকরে তথায় ইয়াহইয়াইয়াহয়ে (আ.) ও ঈসা (আ.)-এর সাক্ষাৎ পাইলামপেলাম; তাঁহাদেরতাঁদের উভয়ের নানী পরস্পর ভগ্নী ছিলেন। জিবরাইল আমাকে তাঁহাদেরতাঁদের পরিচয় দানে সালাম করিতেকরতে বলিলেনবললেন, আমি তাঁহাদিগকেতাঁদেরকে সালাম করিলাম।করলাম। তাঁহারাতাঁরা আমার সালামের উত্তর প্রদান করত “সুযোগ্য ভ্রাতা সুযোগ্য নবী” বলিয়াবলে আমাকে খোশ আমদেদ জানাইলেন।জানালেন।
 
অতঃপর জিবরাইল (আ.) আমাকে লইয়ানিয়ে তৃতীয় আসমানের দ্বারে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেন।বললেন। তথায়ও পূর্বের ন্যায় কথোপকথনের পর শুভেচ্ছা স্বাগত জানাইয়াজানিয়ে দরজা খোলা হইল।হল। ভিতরে প্রবেশ করিয়াকরে ইউসুফ (আ.)-এর সাক্ষাৎ পাইলামপেলাম । জিবরাইল (আ.) আমাকে তাঁহারতাঁর সহিতসাথে পরিচয় করাইয়াকরিয়ে সালাম করিতেকরতে বলিলেনবললেন; আমি তাঁহাকেতাঁকে সালাম করিলামাকরলাম তিনি সালামের উত্তর দান করত আমাকে “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়াবলে মোবারকবাদ জানাইলেনজানালেন । অতঃপর আমাকে লইয়ানিয়ে জিবরাইল চতুর্থ আসমানের নিকটে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেন।বললেন। সেখানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্নোত্তরের পর শুভেচ্ছা স্বাগত জানাইয়াজানিয়ে দরজা খোলা হইলহল । ভিতরে প্রবেশ করিয়াকরে আমরা তথায় ইদ্রিস (আ.)-এর সাক্ষাৎ পাইলামপেলাম । জিবরাইল(আ:) আমাকে তাঁহারতাঁর পরিচয় করাইয়াকরিয়ে সালাম করিতেকরতে বলিলেন।বললেন। আমি তাঁহাকেতাঁকে সালাম করিলাম।করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়াবলে আমাকে মারহাবা জানাইলেন।জানালেন। অতঃপর জিবরাইল আমাকে লইয়ানিয়ে পঞ্চম আসমানে পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেন।বললেন। এই স্থানেও পূর্বের ন্যায় প্রশ্নোত্তর চলার পর শুভেচ্ছ ও মোবারকবাদ দানের সহিতসাথে দরজা খোলা হইল।হল। আমি ভিতরে পৌঁছিয়া হারুন (আ.)-এর সাক্ষাৎ পাইলামপেলাম জিবরাইল আমাকে তাঁহারতাঁর পরিচয় দানে সালাম করিতেকরতে বলিলেন।বললেন। আমি সালাম করিলাম।করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়াবলে আমাকে খোশ আমদেদ জানাইলেন।জানালেন। তারপর জিবরাইল আমাকে লইয়ানিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দরজায় পৌঁছিলেন এবং দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেনবললেন । এস্থানেও পরিচয় জিজ্ঞাসা করা হইলেহলে জিবরাইল স্বীয় পরিচয় দান করিলেন, অতঃপর সঙ্গে কে আছে জিজ্ঞাস করা হইল।হল। তিনি বলিলেনবললেন, মুহাম্মদ (সা.); বলা হইলহল, তাঁহাকেতাঁকে তো নিয়ানিয়ে আসিবারআসার জন্য অপনাকেঅাপনাকে পাঠান হইয়াছিলহয়েছিল ? জিব্রাঈল বলিলেনবললেন, হাঁ। তৎক্ষণাত শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাইয়াজানিয়ে দরজা খোলা হইল।হল। তথায় প্রবেশ করিয়াকরে মুসা (আ.)-এর সাক্ষাৎ পাইলামপেলাম । জিবরাইল(আ:) আমাকে তাঁহারতাঁর পরিচয় জ্ঞাত করিয়াকরে সালাম করিতেকরতে বলিলেন।বললেন। আমি তাঁহাকেতাঁকে সালাম করিলাম।করলাম। তিনি সালামের উত্তর প্রদান করিলেন এবং “সুযোগ্য ভ্রাতা ও সুযোগ্য নবী” বলিয়াবলে আমাকে মোবারকবাদ জানাইলেন।জানালেন। যখন আমি এই এলাকা ত্যাগ করিয়াকরে যাইতে লাগিলাম তখন মুসা (আ.) কাঁদিতেছিলেন । তাঁহাকেতাঁকে কাঁদিবার কারণ জিজ্ঞাসা করা হইলেহলে তিনি বলিলেনবললেন, আমি কাঁদিতেছিকাঁদতেছি এই কারণে যে, আমার উম্মতে বেহেশত লাভকারীর সংখ্যা এই নবীর উম্মতের বেহেশত লাভকারীর সংখ্যা অপেক্ষা কম হইবেহবে অথচ তিনি বয়সের দিক দিয়া যুবক এবং দুনিয়াতে প্রেরিত হইয়াছেনহয়েছেন আমার পরে। তারপর জিবরাইল(আ:) আমাকে লইয়ানিয়ে সপ্তম আসমানের প্রতি আরোহণ করিলেন এবং তাহারতার দ্বারে পৌঁছিয়া দরজা খুলিতেখুলতে বলিলেনবললেন । এস্থনেও পূর্বের ন্যায় সকল প্রশ্নোত্তরই হইলহল এবং দরজা খুলিয়াখুলে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জনান হইল।হল। আমি ভিতরে প্রবেশ করিলাম।করলাম। তথায় ইবরাহিম (আ.)-এর সাক্ষাৎ লাভ হইল।হল। জিবরাইল আমাকে বলিলেনবললেন, তিনি আপনার (বংশের আদি) পিতা, তাঁহাকেতাঁকে সালাম করুন। আমি তাঁহাকেতাঁকে সালাম করিলাম।করলাম। তিনি আমার সালামের উত্তর দিলেন এবং “সুযোগ্য পুত্র, সুযোগ্য নবী” বলিয়াবলে মারহাবা ও মোবারকবাদ জানাইলেনজানালেন
 
অতঃপর আমি সিদরাতুল মোনতাহারমোনতার নিকট উপনীত হইলাম।হলাম। (তাহাতা এক বড় প্রকাণ্ড কূল বৃক্ষবিশেষ) তাহারতার এক একটা কুল হজর অঞ্চলে তৈয়ারি (বড় বড়) মটকার ন্যায় এবং তাহারতার পাতা হাতীর কানের ন্যায়। জিবরাইল আমাকে বলিলেনবললেন, এই বৃক্ষটির নাম “সিদরাতুল মুনতাহা”।মুনতা”। তথায় চারটি প্রবাহমান নদী দেখিতেদেখতে পাইলামপেলাম-- দুইটি ভিতরের দিকে প্রবাহিত এবং দুইটি বাইরের দিকে। নদীগুলির নাম সম্পর্কে আমি জিবরাইলকে জিজ্ঞাসা করিলাম।করলাম। তিনি বলিলেনবললেন, ভিতরের দুইটি বেহেশতে প্রবাহমান (সালসাবিল ও কাওসার নামক) দুইটি নদী। আর বাহিরের দিকে প্রবাহমান দুইটি হইলহল (ভূ-পৃষ্ঠের মিসরে প্রবাহিত) নীল ও (ইরাকে প্রবাহিত) ফোরাত (নদী বা তাহাদেরতাদের নামের মূল উৎস)। তারপর আমাকে “বায়তুল মা’মুর” পরিদর্শন করান হইল।হল। তথায় প্রতিদিন (এবাদতের জন্য) সত্তর হাজার ফেরেশতা উপস্থিত হইয়াহয়ে থাকেন (যে দল একদিন সুযোগ পায় সেই দল চিরকালের জন্য দ্বিতীয় দিন সুযোগ গ্রাপ্ত হয় না)।
 
অতঃপর (আমার সৃষ্টিগত স্বভাবের স্বচ্ছতা ও নির্মলতা প্রকাশ করিয়াকরে দেখাইবার উদ্দেশে পরীক্ষার জন্য) আমার সম্মুখে তিনটি পাত্র উপস্থিত করা হইল।হল। একটিতে ছিল সুরা বা মদ,অপরটিতে ছিল দুগ্ধ, আরেকটিতে মধু আমি দুগ্ধের পাত্রটি গ্রহণ করিলাম।করলাম। জিবরাইল(আ:) বলিলেনবললেন,দুগ্ধ সত্য ও খাঁটি স্বভাগত ধর্ম ইসলামের স্বরুপ; (সুতরাং, আপনি দুগ্ধের পাত্র গ্রহণ করিয়াকরে ইহাই প্রমাণ করিয়াছেনকরেছেন যে,) আপনি সত্যও স্বভাবগত ধর্ম ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত আছেন এবং আপনার উসিলায় আপনার উম্মতও তাহারতার উপর থাকিবে।
 
তারপর আমার শরিয়তে প্রত্যেক দিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হওয়ার বিধান করা হইল।হল। আমি ফিরিবারফেরার পথে মুসা (আ.) এর নিকটবর্তী পথ অতিক্রম করা কালে তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, বিশেষ আদেশ কী লাভ করিয়াছেনকরেছেন ? আমি বলিলামবললাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজ। মুসা (আ.) বলিলেনবললেন, আপনার উম্মত প্রতিদ্ন পঞ্চাশ ওয়াক্ত নমায আদায় করিয়াকরে যাইতে সক্ষম হইবেনা।হবেনা। আমি,সাধারণ মানুষের স্বভাব সম্পর্কে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করিয়াছিকরেছি এবং বণী ইস্রাঈল গণকে বিশেষভাবে পরীক্ষা করিয়েছি; সুতরাং আপনি পরওয়ারদেগারের দরবারে আপনার উম্মতের জন্য এই আদেশ আরও সহজ করার আবেদন করুন। হযরত (সঃ) বলেন, আমি পরওয়ারদেগারের খাস দরবারে ফিরিয়াফিরে গেলাম। পরওয়ারদেগার (দুইবারে পাঁচ পাঁচ করিয়াকরে)দশ ওয়াক্ত কম করিয়াকরে দিলেন। অত:পর আমি আবার মূসার নিকট পৌছালাম,তিনি পূর্বের ন্যায় পরামর্শই আমাকে দিলেন। আমি,পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়াফিরে গেলাম এইবারও (ঐরূপ)দশ ওয়াক্ত কম করিয়াকরে দিলেন। পুনরায় মূসার নিকট পৌছিলেপৌছালে তিনি আমাকে এইবারও সেই পরামর্শই দিলেন। আমি পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়াফিরে গেলাম এবং (পূর্বের ন্যায়) দশ ওয়াক্ত কম করিয়াকরে দিলেন । এইবারও মূসা (আ:)-র নিকট পৌছিলেপৌছালে পর তিনি আমাকে পূর্বের ন্যায় পরামর্শ দিলেন। আমি পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়াফিরে গেলাম, এইবার আমার জন্য প্রতি দিন পাঁচ ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করিয়াকরে দেওয়া হইলহল । এইবারও মূসার নিকট পৌছিলেপৌছালে পর আমাকে তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, কি আদেশ লাভ করিয়াছেনকরেছেন? আমি বলিলামবললাম, প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের আদেশ প্রদান করা হইয়াছে।হয়েছে। মূসা (আঃ) বলিলেনবললেন, আপনার উম্মত প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাযেরও পাবন্দী করিতেকরতে পারিবেপারবে না। আমি আপনার পুর্বেই সাধারণ মানুষের স্বাভাব সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করিয়াছিকরেছি এবং বনী ইস্রাঈলগণকে অনেক পরীক্ষা করিয়াছি।করেছি। আপনি আবার পরওয়ারদেগারের দরবারে ফিরিয়াফিরে আরও কম করার আবেদন জানান। হযরত (সঃ) বলেন, আমি মুসাকে বলিলামবললাম, পরওয়ারদেগারের দরবারে অনেক বার আসা-যাওয়া করিয়াছিকরেছি; এখন আবার যাইতে লজ্জা বোধ হয়, আর যাইবযাব না বরং পাঁচ ওয়াক্তের উপরই সন্তুষ্ট রহিলামথাকলাম এবং তাহাতা বরণ করিয়াকরে নিলাম। হযরত (সঃ) বলেন, অতপর যখন আমি ফিরিবারফেরার পথে অগ্রসর হইলামহলাম তখন আল্লাহ তাআলার তরফ হইতেহতে একটি ঘোষণা জারি করা হইলহল-(বান্দাদের প্রাপ্য সওয়াবের দিক দিয়া) “আমার নির্ধারিত সংখ্যা (পঞ্চাশ) বাকী রাখিলাম, (আমার পক্ষে আমার বাক্য অপরিবর্তিতই থাকিবে) অবশ্য কর্মক্ষেত্রে বান্দাদের পক্ষে সহজ ও কম করিয়াকরে দিলাম । (অর্থাৎ কর্মক্ষেত্রে পাঁচ ওয়াক্ত রহিলথাকল, কিন্তু সওয়াবের দিক দিয়া পাঁচই পঞ্চাশ পরিগণিত হইবে।হবে।) প্রতিটি নেক আমলে দশ ণ্ডণ সওয়াব দান করিব ।” <ref>[http://www.quranhadith.org/hadith/bn%20Bukhari%20Shareef/BukhariShareef-ImamBukhariRA-Vol-5-Page-351-404.pdf সহীহ বুখারী শরীফ, খন্ডঃ ৫, পৃষ্ঠা ৩৫১ – ৩৫৪]</ref> (সংক্ষিপত)
 
আল ঈসরা‘
 
=== স্বর্গারোহণ ===
স্বর্গারোহণের পরে আল্লাহর সাথে মুহাম্মদের যে কথোপকথন হয়, তা সকল মুসলমান দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজে, বসা অবস্থায় পাঠ করেন, যাকে বলা হয় "তাশাহ্‌হুদ"।{{cn}}
 
=== মেরাজের ঘটনা প্রকাশ ===
 
== ইব্রাহিমীয় মেরাজ ==
ইসলাম ধর্মমতে, মেরাজের (এখানে ঐশ্বিক সান্নিধ্য অর্থে)সান্নিধ্যের ঘটনা ঘটেছিল [[ইব্রাহিম]](আ:) এবং [[মুসা|মুসার]](আ:) ক্ষেত্রেও<ref>ক্বোরআনকুরআন ৭:১৪৩</ref>।<ref name="book-mhd"/>
 
== ভিন্ন মত ==
ইসলামে মেরাজের বিশেষ গুরুত্ব আছে, কেননা এই মেরাজের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের দ্বিতীয় স্তম্ভ অর্থাৎ [[নামায]], মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক ([[ফরজ]]) করা হয় এবং এই রাতেই দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলমানদের জন্য নিয়ে আসেন নবী মুহাম্মদ(সা:)। তবে কোনো কোনো ইসলামী চিন্তাবিদের মতে, এটা দৈহিক নয়, বরং ছিল আত্মিক আরোহণ&mdash; মুহাম্মদের স্ত্রী [[আয়েশা]] (রা:)এবং [[আবু সুফিয়ান]] (রা:)এই মতে বিশ্বাসী ছিলেন।ছিলেন বলা হয়।<ref name="book-mhd">ইসলামের ধারাবাহিক ইতিহাস: প্রথম খন্ড: ''মহানবী (স:)'', ডক্টর ওসমান গনী, মল্লিক ব্রাদার্স, কলকাতা থেকে ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত। সংগ্রহের তারিখ: ১৭ জুন ২০১২ খ্রিস্টাব্দ।</ref>
অনেক আলেমগণের মতে, হযরত আয়েশা রা.-এর থেকে যে কথা বর্ণনা করা হয় তা সত্য নয়। বর্ণনাটির সনদ অনির্ভরযোগ্য।<ref name=km/>
যদিও মেরাজের ঘটনা ইসলামে যথেষ্ট অর্থবহ তবুও মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ রাত পালনের নিয়মকে ইসলামী চিন্তাবিদগণ গ্রহণ করেন না; কেননা ঠিক কত তারিখে মেরাজ ঘটেছিল তার কোনো নির্ধারিত বিবরণ পাওয়া যায় না, এব্যাপারে সাহাবাদের মধ্যেই মতভেদ ছিল। শুধুমাত্র এতটুকু সঠিক করে বলা যায় যে, নবুয়্যতের দশম থেকে ত্রয়োদশ বছরের মধ্যে কোনো এক রাতে ঘটেছে মেরাজের ঘটনা।<ref name="book-mhd"/>
 
যদিও মেরাজের ঘটনা ইসলামে যথেষ্ট অর্থবহ তবুও মেরাজ উপলক্ষে বিশেষ রাত পালনেরউৎযাপনের নিয়মকে ইসলামী চিন্তাবিদগণ গ্রহণ করেন না; কেননা ঠিক কত তারিখে মেরাজ ঘটেছিল তার কোনো নির্ধারিত বিবরণ পাওয়া যায় না, এব্যাপারে সাহাবাদের মধ্যেই মতভেদ ছিল। শুধুমাত্র এতটুকু সঠিক করে বলা যায় যে, নবুয়্যতের দশম থেকে ত্রয়োদশ বছরের মধ্যে কোনো এক রাতে ঘটেছে মেরাজের ঘটনা।<ref name="book-mhd"/>
 
== তথ্যসূত্র ==
{{পূর্বনির্ধারিতবাছাই:মেরাজ}}
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামের ইতিহাস]]
[[বিষয়শ্রেণী:ইসলামী পুরাণ]]
[[বিষয়শ্রেণী:মুহাম্মাদ]]
[[বিষয়শ্রেণী:কুরআন]]
৪,৮৩৫টি

সম্পাদনা