"শব্দ (ব্যাকরণ)" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

কিছু সম্পাদনা
(সংবাদ)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(কিছু সম্পাদনা)
{{Unreferenced|date=জুলাই ২০১৫}}
'''শব্দ''' হলো অর্থবোধক ধ্বনিসমষ্টি, যা [[বাক্য]] গঠ‌নের মূল উপাদানউপাদান। যা এক বাশব্দ একাধিক [[বর্ণ (ভাষাবিজ্ঞান)|বর্ণ]] ও [[অক্ষর (সিলেবল)|অক্ষর]] সমন্বয়ে গঠিত হয়ে থাকে ।
 
== শব্দের শ্রেণীবিন্যাস ==
'''শব্দ‌'''কেশব্দ‌কে ব্যুৎপত্তি, উৎস ,গঠন ও অর্থ অনুসা‌রে বি‌ভিন্ন ভাগে ভাগ করা হ‌য়ে থা‌কে ।
 
=== উৎপত্তিগত শ্রেণিবিভাগ ===
[[বাংলা ভাষা]]<nowiki/>র শব্দকে উৎপত্তিগত দিক দিয়ে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এ ভাগগুলো হলো : তৎসম শব্দ, অর্ধ-তৎসম শব্দ, তদ্ভব শব্দ, দেশি শব্দ ও বিদেশি শব্দ।
 
=====১. তৎসম শব্দ=====
[[সংস্কৃত]] ভাষার যে-সব শব্দ পরিবর্তিতঅপরিবর্তিত না হয়েরূপে সরাসরি বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকেইশব্দকে বলা হয় তৎসম শব্দ। উদাহরণ উদাহরণঃ- চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, ভবন, ধর্ম, পাত্র, মনুষ্য, মস্তক, অন্ন, গৃহ, চরণ, তৃণ, অগ্রহায়ণ,ভাষা ইত্যাদি
 
=====২. অর্ধ-তৎসম শব্দ:=====
যে -সব সংস্কৃত শব্দ কিছুটা পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বলা হয় অর্ধ-তৎসম।তৎসম শব্দ। যেমনঃ জ্যোৎস্না˂>জ্যোছনা, শ্রাদ্ধ >ছেরাদ্দ, গৃহিণী˂>গিন্নী, বৈষ্ণব˂>বোষ্টম, কুৎসিত >কুচ্ছিত।
 
=====৩. তদ্ভব শব্দ=====
বাংলা ভাষা গঠনের সময় প্রাকৃত বা অপভ্রংশ থেকে যে সব শব্দ পরিবর্তিত হয়ে বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছিলো, সেগুলোকেই বলা হয় তদ্ভব শব্দ। অবশ্য, তদ্ভব শব্দের মূল অবশ্যই সংস্কৃত ভাষায় থাকতে হবে।
যেমন- সংস্কৃত ‘হস্ত’ শব্দটি প্রাকৃততে ‘হত্থ’ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আর বাংলায় এসে সেটা আরো সহজ হতে গিয়ে হয়ে গেছে ‘হাত’। তেমনি, চর্মকার˂>চম্মআর˂ >চামার,
 
=====৪.দেশি শব্দ=====
বর্তমান বাংলা ভাষাভাষীদের ভূখণ্ডে অনেক আদিকাল থেকে যারা বাস করতো, সেইসব [[আদিবাসী]]দের ভাষার যে সবসকল শব্দ বাংলা ভাষায় গৃহীত হয়েছে, সে সব শব্দকে বলা হয় দেশি শব্দ। এই আদিবাসীদের মধ্যে আছে - কোল, মুণ্ডা, ভীম, ইত্যাদি। যেমনঃদেশী শব্দের উদাহরণ কুড়ি (বিশ) - কোলভাষা, পেট (উদর) - [[তামিল]] ভাষা, চুলা (উনুন) - মুণ্ডারী ভাষা।
 
=====৫. বিদেশি শব্দ=====
বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষাভাষী মানুষেরা অন্য ভাষাভাষীর মানুষের সংস্পর্শে এসে তাদের ভাষা থেকে যে সব শব্দ গ্রহণ করেছে, বাংলা ভাষার শব্দ ভান্ডারে অন্য ভাষার শব্দ গৃহীত হয়েছে, সেগুলোকে বলা হয় বিদেশি শব্দ। যে কোনো ভাষার সমৃদ্ধির জন্য বিদেশি শব্দের আত্মীকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এদিক দিয়ে বাংলা ভাষা বেশ উদারও বটে।
* [[আরবি]] শব্দ : বাংলায় ব্যবহৃত আরবি শব্দসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:—
 
===গঠন অনুসারে শ্রেণিবিভাগ===
গঠন অনুসারে শব্দকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:হয়। যথাঃ (ক) মৌলিক শব্দ এবং (খ) সাধিত শব্দ
১. =====মৌলিক শব্দ ২. সাধিত শব্দ=====
=====১. মৌলিক শব্দ=====
যে -সব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে আর কোন শব্দ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। অর্থাৎ, যে সব শব্দকে ভাঙলে আর কোন অর্থসঙ্গতিপূর্ণ শব্দ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক শব্দ বলে। যেমনঃ গোলাপ, নাক, লাল, তিন, ইত্যাদি।
 
এই শব্দগুলোকে আর ভাঙা যায় না, বা বিশ্লেষণ করা যায় না। আর যদি ভেঙে নতুন শব্দ পাওয়াও যায়, তার সঙ্গে শব্দটির কোন অর্থসঙ্গতি থাকে না। যেমন, উদাহরণের গোলাপ শব্দটি ভাঙলে গোল শব্দটি পাওয়া যায়। কিন্তু গোলাপ শব্দটি গোল শব্দ থেকে গঠিত হয়নি। এই দুটি শব্দের মাঝে কোন অর্থসঙ্গতিও নেই। তেমনি নাক ভেঙে না বানানো গেলেও নাক না থেকে আসেনি। অর্থাৎ, এই শব্দগুলোই মৌলিক শব্দ। ‘গোলাপ’ শব্দটির সঙ্গে ‘ই’ প্রত্যয় যোগ করে আমরা ‘গোলাপী’ শব্দটি বানাতে পারি। তেমনি ‘নাক’-র সঙ্গে ‘ফুল’ শব্দটি যোগ করে আমরা ‘নাকফুল’ শব্দটি গঠন করতে পারি।
=====২. সাধিত শব্দ=====
যে সব শব্দকে বিশ্লেষণ করলে অর্থসঙ্গতিপূর্ণ ভিন্ন একটি শব্দ পাওয়া যায়, তাদেরকে সাধিত শব্দ বলে। মূলত, মৌলিক শব্দ থেকেই বিভিন্ন ব্যাকরণসিদ্ধ প্রক্রিয়ায় সাধিত শব্দ গঠিত হয়।
 
===অর্থমূলক শ্রেণিবিভাগ===
অর্থগত ভাবে শব্দসমূহকে ৪ ভাগে ভাগ করা যায়:
=====১. যৌগিক শব্দ=====
যে-সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ একই, তাদের যৌগিক শব্দ বলে।
অর্থাৎ, শব্দগঠনের প্রক্রিয়ায় যাদের অর্থ পরিবর্তিত হয় না, তাদেরকে যৌগিক শব্দ বলে।
চিকামারা চিকা+মারা দেওয়ালের লিখন।
 
=====২. রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ=====
প্রত্যয় বা উপসর্গ যোগে গঠিত যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ ও ব্যবহারিক অর্থ আলাদা হয়, তাদেরকে রূঢ় বা রূঢ়ি শব্দ বলে।
 
সন্দেশ সম+দেশ সংবাদ মিষ্টান্ন বিশেষ
 
=====৩. যোগরূঢ় শব্দ=====
সমাস নিষ্পন্ন যে সব শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ আর ব্যবহারিক অর্থ আলাদা হয়, তাদেরকে যোগরূঢ় শব্দ বলে।
 
জলধি জল ধারণ করে যা/ এমন সাগর
 
=====৪. নবসৃষ্ট বা পরিশব্দ বা পারিভাষিক শব্দ=====
বিভিন্ন বিদেশি শব্দের অনুকরণে ভাবানুবাদমূলক যেসব প্রতিশব্দ সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলোকে নবসৃষ্ট বা পরিশব্দ বা পারিভাষিক শব্দ বলে। মূলত প্রচলিত বিদেশি শব্দেরই এরকম পারিভাষিক শব্দ তৈরি করা হয়েছে।
 
 
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ব্যাকরণ]]
[[বিষয়শ্রেণী:রূপতত্ত্ব]]
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলা ভাষা]]
[[বিষয়শ্রেণী:ভাষাবিজ্ঞান]]
৫৭৯টি

সম্পাদনা