মোহাম্মদ দানেশ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

+তথ্যসূত্র প্রয়োজন ট্যাগ
(কিছু কাজ)
(+তথ্যসূত্র প্রয়োজন ট্যাগ)
 
==রাজনীতি==
তিনি সংসদ সদস্য হয়েও ট্রেনে তৃতীয় শ্রেণিতে যাতায়াত করতেন এবং সেভাবেই ভ্রমণ ভাতা গ্রহণ করতেন এবং নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। এ হেন নির্লোভ চারিত্র্য তৎকালীন মুসলমান নেতাদের অনেকের মধ্যেই দেখা যেত না।{{তথ্যসূত্র প্রয়োজন}} ১৯৩৮ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত তিনি তোলাবাটি আন্দোলন, সুসংদবদ্ধ আন্দোলন, গান্ডি আদায় বন্ধ আন্দোলন, ‘জাল যার জলা তার’ আন্দোলন করেন ও গ্রেফতার হন। ১৯৩৮ সালে তিনি কৃষক আন্দোলন সংগঠিত করেন। ১৯৪২ সালে তিনি বঙ্গীয় কৃষক সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা এবং ১৯৪৫ সালে মুসলীম লীগে যোগদান করেন। তিনি ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সালের মাঝামাঝি বাংলাদেশ ও ভারতে পশ্চিমবঙ্গের ১৯টি জেলায় ৬০ লাখ বর্গাচাষী নিয়ে তিন ভাগের দুই ভাগ আদায়ের জন্য জমিদার ও জোতদারদের বিরুদ্ধে মুখোমুখি সংগ্রাম করেন। ১৯৪৬ সালে মুসলিম লীগ থেকে বহিস্কৃত হয়ে তিনি কারাভোগ করেন এবং ১৯৪৭ সালে মুক্তিলাভ করেন। ১৯৫২ সালে গণতন্ত্রী দল নামে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করেন এবং ঐ দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৩ সালে গণতন্ত্রী দল যুক্তফ্রন্ট্রে যোগ দিলে তিনি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে দিনাজপুর জেলা থেকে পূর্ব বঙ্গ আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। অতপর কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক ৯২-ক ধারা জারি করে পূর্ববঙ্গ যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রীসভা ভেঙ্গে দিলে তিনি গ্রেফতার হন এবং ১৯৫৬ সালে মুক্তি লাভ করেন। ১৯৫৭ সালে গণতন্ত্রী দলের অস্তিত্ব বিলোপ করে তিনি ভাসানীর নেতৃত্বে গঠিত ন্যাপে যোগ দেন এবং সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৫৮ সালে দেশে সামরিক আইন জারি হলে তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৬৪ সালে ন্যাপের পূর্ব পাকিস্তান শাখার সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৫ সালে পুনরায় দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে তিনি ন্যাপ থেকে পদত্যাগ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মুজিবনগর মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেন। তিনি ১৯৭৩ সালে ডিসেম্বর মাসে জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন। ১৯৭৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাকশালে যোগ দেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নিযুক্ত হন। ১৯৭৬ সালে তিনি জাতীয় গণমুক্তি ইউনিয়ন পুনরুজ্জীবিত করেন। আবার ১৯৮০ সালে এই দল বিলোপ করে তিনি গণতান্ত্রিক পার্টি নামে একটি নতুন দল গঠন করেন এবং দলের সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্টের সাথে ঐক্য গড়ে তোলেন এবং ১৯৮৬ সালে এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে নিজ দল সহ একীভূত হয়ে যান। তিনি জাতীয় পার্টির অঙ্গ-সংগঠন জাতীয় কৃষক পার্টির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দিনাজপুর-২ আসনে পরাজিত হন । হন।
 
=== তেভাগা আন্দোলন ===
উত্তরবঙ্গই ছিল তেভাগা আন্দোলনের সুতিকাগার। উত্তরবঙ্গে এই আন্দোলনের উদ্ভব হওয়ার কারণ ছিল উত্তরবঙ্গ বরাবর জোতদার প্রধান তথা জোতদার শাসিত এলাকা। যারা এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং শত সহ¯্র বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে আন্দোলনকে সার্থকতার উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে এগিয়ে নেওয়ার মরণপণ সংগ্রাম করেন সেই নেতারা অধিকাংশই ছিলেন উত্তরবঙ্গবাসী। তারা হলেন দিনাজপুরের হাজী মো. দানেশ, গুরুদাস তালুকদার, বরদা চক্রবর্তী, রূপনারায়ন রায়, হেলেকেতু সিং প্রমুখ বিপ্লবী নেতারা ছিলেন আন্দোলনের স্বাপ্নিক রূপকার। তার মধ্যে তেভাগা আন্দোলনের সর্বাধিক ত্যাগী ও তেজস্বী নেতারূপে হাজী মো. দানেশের নামটি ‘প্রবাদ পুরুষে’ পরিণত হয়। বর্গাচাষীদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে তিনি উত্তরবঙ্গে তেভাগা আন্দোলন সংগঠিত করেন। তেভাগা আন্দোলনের প্রস্তুতি পর্বে দাবি ছিল ১। উৎপন্ন ফলের তিন ভাগের দু’ভাগ চাই। ২। জমিতে চাষীর দখল স্বত্ব দিতে হবে। ৩। শতকরা সাড়ে বারো ভাগের বেশি অর্থাৎ মণকরা ধানের পাঁচ সেরের বেশি সুদ নেই। ৪। হরেক রকমের আবোয়ারসহ বাজে কোনো কর আদায় করা চলবে না। ৫। রশিদ ছাড়া কোনো আদায় নেই। ৬। আবাদযোগ্য সব পতিত জমি আবাদ করতে হবে। ৭। জোতদারের পরিবর্তে ভাগচাষীদের খোলানে ধান তুলতে হবে।
 
== জীবনাবসান ==
১৯৮৬ সালে ২৮ শে জুন ঢাকায় পি.জি হাসপাতালে মুত্যুবরণ করেন। অবিভক্ত ভারতবর্ষের কৃষক আন্দোলনে হাজী মোহাম্মদ দানেশ একটি শ্রদ্ধা মিশ্রিত নাম।
 
== পাদটীকা ও তথ্যসূত্র ==
{{সূত্র তালিকা}}
<references/>
↑দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদন
↑ জনকণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন
↑দিপ্রবসীতে প্রকাশিত প্রতিবেদন
 
== বহি:সংযোগ ==