"পরবর্তী জীবন" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সংশোধন
(নতুন পৃষ্ঠা: পরবর্তী জীবন মৃত্যু পরবর্তী জীবন বা পরকাল হল একটি জগতের ধারণ...)
 
(সংশোধন)
অনেক ধর্মই, তা সে খ্রিষ্টধর্ম বা ইসলাম বা অনেক পৌত্তলিকতাবাদী বিশ্বাসব্যবস্থার মত পরকাল বলতে মৃত্যুর পর অন্য এক জগতে আত্মার অস্তিত্বে বিশ্বাসী হোক অথবা হিন্দুধর্ম বা বৌদ্ধধর্মের অনেক ধারার মত পুনর্জন্মেই বিশ্বাসী হোক, সকল ক্ষেত্রেই বিশ্বাস করা হয় যে পরকালে কোন ব্যক্তির অবস্থা হচ্ছে জীবিতাবস্থায় তার কৃতকার্যের শাস্তি অথবা পুরষ্কার।
 
জন্মান্তরবাদ[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: জন্মান্তরবাদ
জন্মান্তরবাদ বা পুনর্জন্ম একটি পরকাল সম্পর্কিত ধারণা যা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন, শিখ, রসিক্রুশিয়ান, থিওসফিস্ট, স্পিরিটিস্টগণ এবং উইক্কানদের বিশ্বাস ব্যবস্থায় পাওয়া যায়। এছাড়া কাব্বালিস্টিক ইহুদি ধর্মেও পুনর্জন্মকে গিলগুল নেশামত (আত্মার পুনর্জন্ম) নামে একটি বিশ্বাস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।[১] জন্মান্তরবাদের ধারণা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর আত্মা আরেকটি নতুন জীবন শুরু করে। মোক্ষ বা মুক্তি অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত পুনর্জন্মের এই ধারা চলতে থাকে।
রসিক্রুশিয়ানগণ,[২] মৃত্যু-পূর্ব অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মতই লাইফ রিভিউ পর্যায়ের কথা বলেন, যা মৃত্যুর ঠিক পরপরই কিন্তু নতুন জীবন শুরু এবং স্বর্গীয় বিচারের পূর্বে ঘটে। এই ঘটনাটি অনেকটা জীবনের চূড়ান্ত পরযালোচনা বা চূড়ান্ত রিপোর্ট এর মত।[৩]
 
স্বর্গ ও নরক[উৎস সম্পাদনা]
আব্রাহামিক ধর্মগুলো অনুসারে ব্যক্তি মৃত্যুর পর পৃথিবীতে তার কৃতকার্য বা বিশ্বাস অথবা প্রিডেস্টিনেশন বা ভাগ্য এবং আনকন্ডিশনাল ইলেকশন এর ভিত্তিতে স্বর্গ বা নরকে যান অথবা মৃত ব্যক্তির পুনরুত্থানের সময় পর্যন্ত একটি মধ্যবর্তী অবস্থায় অপেক্ষা করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বর্গ হল ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর পর পুরষ্কারস্বরূপ প্রাপ্ত একটি অবস্থা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বর্গকে ঈশ্বরের সাথে চিরমিলনের অবস্থা হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে নরক হল পাপী ব্যক্তিদের শাস্তি এবন পীড়নের জন্য একটি অবস্থা। এটা চিরকাল ব্যাপী অথবা একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত শাস্তির জায়গা যেখানে ব্যক্তিকে অন্যান্য পাপাত্মার এবং পতিত স্বর্গদূতদের সাথে বন্দিদশায় থাকতে হবে।
 
লিম্বো[উৎস সম্পাদনা]
লিম্বো খ্রিষ্টধর্মের একটি জনপ্রিয় বিশ্বাস। মধ্যযুগের ধর্মতাত্ত্বিকদের দ্বারা এই মতটি বিকশিত হয়। কিন্তু যথেষ্ট জনপ্রিয় মত হলেও একে রোমান ক্যাথলিক চার্চ কখনও একটি ডগমা হিসেবে স্বীকৃতি দেয় নি। তবুও চার্চগুলোতে এটাকে জনপ্রিয় ধর্মতাত্ত্বিক মতবাদ হিসেবে ধরা হয়। লিম্বো মতবাদ অনুসারে কোন বাপ্টিজম বা অভিসিঞ্চনের মধ্য দিয়ে না যাওয়া কোন নিষ্পাপ আত্মা যেমন শিশু অবস্থায় মৃতের নিষ্পাপ আত্মা, যিশুখ্রিষ্টের জন্মের পূর্বে মৃত কোন নিষ্পাপ ব্যক্তির আত্মা অথবা যারা অভিসিঞ্চনের পূর্বেই মারা গেছেন তাদের আত্মা স্বর্গ বা নরক কোথাও অবস্থান করে না। তাই এই আত্মারা না ইশ্বরদর্শন লাভ করে, না কোন শাস্তিপ্রাপ্ত হয়। কারণ তারা কোন ব্যক্তিগত পাপে পাপী নন কিন্তু অভিসিঞ্চিত না হবার কারণে তারা জন্মগত পাপের বোঝাও বহন করেন। তাই তারা সময়ের শেষ হবার আগ পর্যন্ত একটি প্রাকৃতিক সুখের অবস্থায় থাকবেন, কিন্তু অতিপ্রাকৃতিক সুখ তারা লাভ করবেন না। কিছুকিছু ক্ষেত্রে লিম্বোকে একটি মধ্যবর্তী অবস্থা বা বন্দী অবস্থা বলা হয়েছে।[৪]
 
পারগেটরি[উৎস সম্পাদনা]
পারগেটরি এর ধারণাটি বিশেষভাবে ক্যাথলিক চার্চের সাথে সম্পর্কিত। ক্যাথলিক চার্চ অনুসারে, যারা ঈশ্বরের অনুগ্রহ ও বন্ধুত্বপ লাভ করে মারা গিয়েছেন, কিন্তু সম্পূর্ণভাবে শুদ্ধ হননি তাদের পরিণতি হিসেবে চিরমুক্তি নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু মৃত্যুর পর তাদেরকে একটি পরিশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, যাতে তিনি স্বর্গে গমন করার জন্য প্রয়োজনীয় পবিত্রতা লাভ করতে পারেন। আর এই শোধন প্রক্রিয়া পাপাত্মাদের শাস্তির প্রক্রিয়া থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। কিছু জায়গায় পারগেটরিকের জায়গায় "ক্লিন্সিং ফায়ার" বা "পরিষ্কারক অগ্নি" শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
 
অ্যাংলো-ক্যাথলিক ট্রেডিশনের অ্যাংলিকানগণও এই বিশ্বাসকে ধারণ করেন। মেথোডিজম মতবাদের উদ্ভাবক জন ওয়েসলি মৃত্যু এবং মৃত ব্যক্তির পুনরুত্থানের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী অবস্থার ধারণায় বিশ্বাস করতেন যেখানে "আত্মার মাঝে পবিত্রতা বৃদ্ধি পাবার" একটি সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু মেথোডিজম আনুষ্ঠানিকভাবে এই মতবাদকে স্বীকৃতি দেয় না। তারা এই মধ্যবর্তী অবস্থা এবং প্রার্থনার মাধ্যমে এই অবস্থায় থাকা মৃত ব্যক্তিকে সাহায্য করার নীতিকে অস্বীকার করে।[৫]
 
পরম্পরাগত আফ্রিকান ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
পরম্পরাগত আফ্রিকান ধর্মগুলো পরকাল সম্পর্কে বিচিত্ররকম বিশ্বাস ধারণ করে। হাজদাদের মত শিকারী-সঞ্চয়কারী সমাজের মধ্যে পরকাল সম্পর্কিত কোন বিশেষ বিশ্বাস নেই। তাদের বিশ্বাস অনুযায়ী ব্যক্তির মৃত্যুর অর্থ হল সম্পূর্ণভাবে জীবনের শেষ।[৬] ইয়মবে[৭], বেং[৮], ইয়রুবা এবং এওয়ে সংস্কৃতি সহ সমগ্র সাব-সাহারান আফ্রিকাতেই পূর্বপুরুষ আচার প্রত্যক্ষ করা যায়। এই পূর্বপুরুষ আচার হল একটি বিশ্বাস যেখানে মৃতব্যক্তি পুনরায় জীবিতাবস্থায় তাদের পরিবারে ফিরে আসে। এই পুনর্জন্মে নতুন ব্যক্তি তার পূর্বপুরুষের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো লাভ করে কিন্তু তার আত্মা লাভ করে না। এক্ষেত্রে প্রতিটি আত্মাই আলাদা এবং একেকটি জন্ম একেকটি নতুন আত্মার প্রকাশ।[৯] ইউরোবা, ডোগোন এবং লাডোগাদের পরকালের ধারণাগুলোর সাথে আব্রাহামিক ধর্মগুলোর মিল রয়েছে। কিন্তু বেশিরভাগ আফ্রিকান সমাজেই একটা সাধারণ চিত্র দেখা যায়, সেটা হল তাদের পরকালে স্বর্গ ও নরকের পরিষ্কার ধারণার অনুপস্থিতি। কিন্তু মৃত্যুর পর ঈশ্বর কর্তৃক আত্মার বিচারের ধারণা তাদের মধ্যে পাওয়া যায়।[৯] মেন্ডে এর মত কিছু সমাজে অনেকগুলো বিশ্বাসের একত্রে উপস্থিতি দেখা যায়। মেন্ডেরা বিশ্বাস করে যে ব্যক্তি দুইবার মৃত্যু হয়। একবার মৃত্যু ঘটে মেন্ডেদের গোপন সমাজে যোগদানের পূর্বে যা জীববিজ্ঞানগত মৃত্যু নয়, আর দ্বিতীয়বারের মৃত্যুটি হল জীববিজ্ঞানগত মৃত্যু যখন ব্যক্তি আসলেই মারা যায়। দ্বিতীয় মৃত্যুর মধ্য দিয়ে ব্যক্তি পূর্বপুরুষ হয়ে যায়। মেন্ডেরা এও বিশ্বাস করে যে ঈশ্বর কর্তৃক তাদের সৃষ্টির পর তারা পরপর দশটি জীবন যাপন করেছিল আর এই প্রত্যেকটি জীবনই একেকটি ক্রম অবরোহী জগতে।[১০] এদের একটি মিশ্র-সাংস্কৃতিক ধারণা হল পূর্বপুরুষগণ জীবিতদের জগতেরই একটি অংশ এবং জীবিতদের সাথে তাদের একটি সম্পর্কও থাকে।[১১][১২][১৩]
 
প্রাচীন ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম
প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে পরকাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল, আর এই বিশ্বাস ব্যবস্থাটি পরকাল সম্পর্কিত লিখিত ইতিহাসের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন। মৃত্যুর পর আত্মার কা (দ্বিতীয় শরীর) এবং বা (ব্যক্তিত্ব) মৃতদের রাজ্যে চলে যায়। সেখানে আত্মা ফিল্ড অব অরু নামক একটি স্থানে অবস্থান করে। মৃতদের বিকল্প হিসেবে সমাধির উপর একটি মূর্তি তৈরি করার রীতি ছিল প্রাচীন মিশরীয় ধর্মে। [১৪]
২০১০ সালের ৩০ মার্চে মিশরের সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় থেকে দাবী করা হয় যে লুক্সরে একটি বিশাল গ্রানাইটের দরজা পাওয়া গেছে যেখানে রাণী হাসেপসুতের ক্ষমতাশালী উপদেষ্টা উশেরের খোদাই করা লেখা রয়েছে। [২০] হাশেপসুত ছিলেন প্রাচীন মিশরের অষ্টাদশ রাজবংশের একজন রাণী যিনি মিশরে নারী শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় (খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৭৯ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৫৮) মিশর শাসন করেছিলেন। মনে করা হচ্ছে যে এই ফলস ডোরটিকে পরকালের দরজা হিসেবে ভাবা হত। নৃতত্ত্ববিদদের মতে এই দরজাকে রোমানদের শাসিত মিশরে কোন স্থাপনায় পরবর্তীতে ব্যবহার করা হয়েছিল।
 
প্রাচীন গ্রীক ও রোমান ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
গ্রিক পুরাণ অনুসারে আন্ডারওয়ার্ল্ডের রাজা হলেন গ্রীক দেবতা হেডিস। আন্ডারওয়ার্ল্ড হল একটি স্থান যেখানে মৃতরা মৃত্যুর পর অবস্থান করে। [২১] দেবতাদের বার্তাবাহক, গ্রীক দেব হার্মিস মৃতদের আত্মাকে আন্ডারওয়ার্ল্ডে নিয়ে যান (কখনও হেডিসকে ডেকেও নিয়ে আসেন)। হার্মিস আত্মাকে স্টিক্স নদীর তীরে রেখে আসেন। গ্রীক পুরাণ মতে স্টিক্স নদী হল জীবন ও মৃত্যুর মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী।[২২]
 
ভারজিলের এনিয়াড এ বীর এনিয়াস তার পিতাকে দেখতে আন্ডারওয়ার্ল্ডে ভ্রমণ করেছিলেন। সেখানে গিয়ে স্টিক্স নদীর তীরে তিনি অনেক আত্মাকে দেখতে পান যাদেরকে সঠিকভাবে সমাধিস্থ করা হয় নি। তাদেরকে যতক্ষণ পর্যন্ত কেউ ঠিকভাবে সমাধিস্থ করছে ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে এখানে অপেক্ষা করে কাটাতে হবে। তারপর তাকে একটি প্রাসাদ দেখানো হয় যেখানে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিরা বাস করেন, তাকে ফিল্ড অব সরো দেখানো হয় যেখানে আত্মহত্যা করা ব্যক্তিগণ অনুশোচনা করেন যেখানে এনিয়াসের এনিয়াসের প্রাক্তন প্রেমিকাও ছিল। তাকে টারটারাস দেখানো হয় যেখানে টাইটান এবং অলিম্পিয়ানদের শক্তিশালী অমর শত্রুরা বসবাস করে। টারটারাসে তিনি বন্দীদের চিৎকার ও গোঙ্গানি শুনতে পান। তিনি বিস্মৃতির নদি লেথকে দেখেন যা পান করে একজন মৃৎ পূর্বের সব ভুলে গিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে যায়। তিনি ফিল্ড অব এলিসিয়ামে যান যেখানে সাহসী বীরগণ বাস করেন। তার পিতা তাকে রোমের সকল ভবিষ্যৎ বীরদেরকে দেখান। এনিয়াস যদি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী নগর প্রতিষ্ঠা করে তাহলে এই বীরগণ জন্ম লাভ করবে।
 
নর্স ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
পোয়েটিক এডা এবং প্রোস এডা হল দুটো প্রাচীনতম সূত্র যেখানে নর্সদের পরকাল বিষয়ক ধারণা পাওয়া যায়। নর্সদের পরকাল সম্পর্কিত কিছু ধারণা নিচের বিষয়গুলোর মধ্যে পড়ে:
 
হেল: এই স্থানটি অনেকটা গ্রীক পুরাণের এসফোডেল ক্ষেত্রের মত। এখানে যারা খুব ভাল বা খুব খারাপ কোনটাই না তারা অবস্থান করে।
নিফলহেল: এই স্থানটি গ্রীক পুরাণের টারটারাসের মত। এই স্থানটি হেলের নিচে অবস্থান করে। যারা শপথ ভঙ্গ করে এবং জীবনে দুষ্কার্য করে তারা এই স্থানে কঠোর শাস্তি ভোগ করে।
আব্রাহামিক ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
ইহুদি ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: ইহুদি পরকালবিদ্যা
শেওল[উৎস সম্পাদনা]
হিব্রু বাইবেলে শেওলকে মৃতদের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।[২৬] শেওলের ব্যাপারে খ্রিষ্টান লেখকদের বক্তব্য হল হিব্রু শব্দ শেওলের অনেক অর্থ হতে পারে। এটা দিয়ে সমাধি, অবলম্বন, অপেক্ষার স্থান এবং সুস্থ হবার স্থানও বোঝায়। এটার অর্থ 'গভীর'ও হতে পারে যেহেতু পৃথিবী 'খুলে গিয়ে' বিদ্রোহী কোরাহ, ডাথান, আবিরাম এবং তাদের ২৫০ জন অনুসারীকে ধ্বংস করার কাহিনীতে এই শব্দ ব্যবহার করা হয়েছিল।(নাম্বারস ১৬:৩১-৩৩ NIV) শেওলকে আক্ষরিকভাবে 'আন্ডারগ্রাউন্ড' হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যদিও একে সহজে ভূমিকম্প বা পৃথিবীর দ্বিখণ্ডিত হওয়া অর্থেও ব্যবহার করা যায়।
 
বুক অব জবে বলা হয়েছে: "কিন্তু মানুষ মারা যায় এবং শায়িত হয়; যদি সে শ্বাস-প্রশ্বাস না নেয় তাহলে সে কোথায়?... সুতরাং মানুষ শায়িত হয় এবং আর কখনও ওঠে না। যতক্ষণ পর্যন্ত স্বর্গ থাকবে না তারা জাগবেও না, ঘুম থেকেও উঠবে না... যদি একজন মানুষ মারা যায়, সে কি আবার জীবিত হবে?" (জব ১৪:১০,১২,১৪এ NKJV)
 
ওলাম হাবা[উৎস সম্পাদনা]
তালমুদে পরকাল সংক্রান্ত কিছু কথার উল্লেখ পাওয়া যায়। তালমুদীয় কর্তৃপক্ষগণ স্বীকার করেন যে মৃত্যুর পর ধার্মিকগণ একটি পরকাল ভোগ করবেন। মৃত্যুর পর আত্মাকে বিচারের কাঠগড়ায় আনা হবে। যারা পাপমুক্ত জীবন যাপন করেছেন তারা তৎক্ষণাৎ ওলাম হাবা বা ওয়ার্ল্ড টু কাম এ প্রবেশ করবেন। বেশিরভাগই এই ওলাম হাবায় প্রবেশ করতে পারেন না, বরং তারা তাদের পার্থিব জীবন পর্যালোচনা করার জন্য একটি পর্যায়ের মধ্যে দিয়ে যান। এই সময় তারা পৃথিবীতে কী কী ভুল কাজ করেছেন সে সম্পর্কে অবগত হন। কারও মতে এই সময়টা হল "পুনঃশিক্ষন" যেখানে আত্মা তার ভুলের পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে জ্ঞান লাভ করে। অন্যদের মতে এই সময়ে পূর্বের ভুলগুলোর জন্য এক ধরণের আধ্যাত্মিক অস্বস্তি কাজ করে। এই সময়কালের শেষে, যা এক বছরের বেশি নয়, আত্মা ওলাম হাবায় প্রবেশ করে। যদিও কিছু ইহুদি ধারণায় মৃত্যুর পর পূর্বের ভুলের কারণে পাওয়া অস্বস্তির কথার উল্লেখ আছে, কিন্তু অন্যান্য ধর্মগুলোর মধ্যে উপস্থিত চিরস্থায়ী নরকভোগের মত বিষয় ইহুদিদের পরকালের মতবাদে নেই। তালমুদ অনুসারে আত্মার বিলুপ্তির বিষয়টি খুওই বিদ্বেষ্পরায়ণ এবং অসৎ দলনেতাদের জন্য বরাদ্দ। এদের কুকর্ম হয় নিয়মের ঊর্ধ্বে চলে গেছে, না হয় মানুষের একটি বড় অংশকে তারা প্রচণ্ড অশুভ কাজের দিকে ঠেলে দিয়েছে। [২৭][২৮]
 
ইহুদি ধর্মগ্রন্থ জোহর অনুসারে গেহেনা (ইহুদিদের নরক) পাপাত্মাদের শাস্তির জায়গা নয়, বরং এটা তাদের আত্মার শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার একটি স্থান।[২৯]
 
ইহুদিধর্মে জন্মান্তরবাদ[উৎস সম্পাদনা]
যদিও ইহুদের তালমুদ বা এর পূর্বের ধর্মগ্রন্থগুলোতে জন্মান্তরবাদের কোন উল্লেখ পাওয়া যায় না,[৩০] আব্রাহাম আরিয়েহ ট্রাগম্যানের মত র‍্যাবাইদের মতে জন্মান্তরবাদকে ইহুদি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ধরা হয়। ট্রাগম্যান ব্যাখ্যা করেন এটা মৌখিক ঐতিহ্য হিসেবে এসেছে। ইহুদি রহস্যবাদের[৩১] প্রাচীন গ্রন্থ জোহারে বারবার পুনর্জনের কথা বলা হয়েছে। ট্রাগম্যান বলেন বিগত পাঁচটি শতকে ইহুদিদের মাঝে পুনর্জন্মের কথা প্রকাশ করা হয়। এর পূর্বে পূনর্জন্মের ব্যাপারটি লুক্কায়িত ছিল।[৩১]
 
রোর জিউইশ লার্নিং ইনস্টিটিউটের র‍্যাবাই নাফতালি সিলবেরবার্গ বলেন, "অন্য ধর্ম ও বিশ্বাসব্যাবস্থা থেকে উৎপন্ন যেসব ধারণাগুলো জনপ্রিয় হয়েছে, সাদাসিধে ইহুদিরা সেগুলোকেই মেনে নিয়েছে।"[৩৬]
 
খ্রিষ্টধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: খ্রিষ্টীয় পরকালবিদ্যা
প্রচলিত ও মূলধারার খ্রিষ্টধর্ম নাইসিন মতের একটি বিশ্বাসকে স্বীকার করে নেয় যা বলে, "আমরা মৃতব্যক্তির পুনরুত্থানের সন্ধান করি এবং সন্ধান করি আগামী জগতের জীবনকে।" খ্রিষ্টীয় পরকালবিদ্যা, মৃত্যু, মধ্যবর্তী অবস্থা, স্বর্গ, নরক, যিশুখ্রিষ্টের দ্বিতীয়বার ফিরে আসা, মৃতব্যক্তির পুনরুত্থান, র‍্যাপচার, গ্রেট ট্রিবিউলেশন, মিলেনিয়াম, সমাপ্তি সময়, শেষ বিচার, নতুন স্বর্গ ও নতুন পৃথিবী এবং ঈশ্বরের উদ্দেশ্যের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করে। বাইবেলের বিভিন্ন জায়গায় এসকাটোলজি বিষয়ে উল্লেখ আছে, বিশেষ করে ইসাইয়াহ, ডেনিয়েল, ম্যাথিউ ২৪, ম্যাথিউ ২৫ এবং বুক অব রেভেলেশনে। যদিও কিছু বিশেষ খ্রিষ্টীয় ধর্মমতে পরকালে শাস্তির কথা বলা হয়, পরকালে চিরস্থায়ী নরকভোগই খ্রিষ্টধর্মে প্রধান ধর্মমত।
লেটার ডে সেইন্টস বা পরবর্তী দিনের সেইন্টগণ (মরমনিজম ধারা) বিশ্বাস করতেন যে পৃথিবীতে জীবন শুরুর পূর্বে আত্মার অস্তিত্ব ছিল এবং পরেও আত্মার অস্তিত্ব থাকবে। দেবদূতরা হয় এমন আত্মা যারা এখনও পৃথিবীতে তাদের মরনশীল জীবনের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পৃথিবীতে আসেন নি, অথবা এমন আত্মা যারা ইতিমধ্যেই পৃথিবীর মরণশীল জীবন অতিবাহিত করে পুনরুত্থিত হয়েছেন এবং ঈশ্বরের আজ্ঞা পালন করছেন (জব ৩৮:৪-৭, ডক্ট্রাইন এন্ড কভেনেন্টস ৯৩:২৯)। লেটার ডে সেইন্টদের চার্চের নীতি অনুসারে, আর্চএঞ্জেল মাইকেল পৃথিবীতে মরণশীল জীবনের অভিজ্ঞতা লাভের জন্য প্রথম মানব আদমে পরিণত হন। মরমনিজম অনুসারে প্রাচীন আমেরিকায় মরণশীল জীবন অতিবাহিত করা দেবদূত মরনি বালক জোসেফ স্মিথের সাথে সাক্ষাত করতে আসতেন। পরবর্তীতে জোসেফ স্মিথ তিনি এপস্টল পিটার, জন, জন দ্য বাপ্টিস্ট এবং অন্যান্যদের থেকে দৈব আদেশ লাভ করেন।
 
ক্যাথলিক চার্চ[উৎস সম্পাদনা]
পরকাল সংক্রান্ত ক্যাথলিক ধারণা অনুসারে দেহের মৃত্যুর পর আত্মার বিচার হয়। ন্যয়নিষ্ঠ এবং পাপমুক্তগণ স্বর্গে গমন করেন, কিন্তু যারা পাপ করে অনুশোচনা না করেই মারা গেছেন তারা নরকে গমন করেন। ১৯৯০ এর দশকে ক্যাথলিক চার্চের নীতি বা ক্যাটেকিজম অনুসারে নরককে পাপীদের উপর বর্ষিত শাস্তি হিসেবে নয়, বরং ঈশ্বরের কাছ থেকে আত্মবর্জন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অন্যান্য খ্রিস্টীয় ধারার সাথে ক্যাথলিক চার্চের একটি পার্থক্য হল, ক্যাথলিক চার্চ অনুসারে যারা ঈশ্বরের করুণায় মারা যান কিন্তু তারপরও জন্মগত পাপ বহন করেন (অভিসিঞ্চন না হওয়ার কারণে) তারা পারগেটরি নামক একটি স্থানে গমন করেন এবং স্বর্গে গমনের জন্য শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান।
 
অর্থোডক্স খ্রিষ্টধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
অর্থোডক্স চার্চগুলো ঐচ্ছিকভাবেই পরকালের বিষয়ে কম কথা বলে, কারণ তারা সকল বিষয়েই, বিশেষ করে যেসব ঘটনা এখনও পর্যন্ত ঘটেনি সেসব বিষয়ে রহস্যের স্বীকৃতি দেয়। যিশুর প্রত্যাবর্তন, দেহের পুনরুত্থান এবং শেষ বিচার সহ যেসব বিষয় নাইসিন ক্রিড (৩২৫ খ্রিষ্টাব্দ) কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়, তার বাইরে গিয়ে অর্থোডক্সি স্পষ্ট করে তেমন কিছু শেখায় না। পশ্চিম দিকের খ্রিষ্টধর্মের মত না হয়ে এরা ঐতিহ্যগতভাবেই নন-ডুয়েলিস্ট এবং এরা স্বর্গ ও নরক নামের দুটো আলাদা স্থানকে আক্ষরিক অর্থে স্বীকার না করে একটি চূড়ান্ত নিয়তিকে স্বীকার করেন, যেখানে স্বর্গ নরক শব্দদুটো আক্ষরিক নয়, বরং আলঙ্কারিক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে।[৪৬] অর্থোডক্সিতে শেখানো হয়, শেষ বিচার কেবলই ব্যক্তির স্বর্গীয় ভালবাসা ও করুণার সম্মুখীন হওয়া, কিন্তু ব্যক্তি কতটুকু রূপান্তরিত হয়েছেন বা কতটুকু স্বর্গীয়তা লাভ করেছেন তার উপরে নির্ভর করবে তিনি কেমন বা কতটুকু স্বর্গীয় ভালবাসা এবং করুণার সম্মুখীন হবেন। "তাই পরকালে যে অপরিবর্তনীয় এবং বিরামহীন বিষয়ের সম্মুখীন হতে হবে তা কেবলই ঈশ্বরের ভালবাসা, করুণা এবং মহিমা যা স্বর্গীয় পীঠস্থানগুলোতেও অনুপ্রবিষ্ট হয়ে আছে। আর মানুষের বিভিন্ন ধরণের প্রতিক্রিয়াই তাদের বিভিন্ন ধরণের অভিজ্ঞতার বহুরূপতার জন্ম দেয়।"[৪৬] যেমন সেইন্ট আইজাক দ্য সিরিয়ান বলেন, "যাদেরকে গেহেনায় (নরকে) শাস্তি লাভ করেন, তাদেরকে ভালবাসার চাবুক মারা হয়... ভালবাসার শক্তি দুইভাবে কাজ করে: পাপীদেরকে এটা যন্ত্রণা দেয়... তিক্ত অনুশোচনার মাধ্যমে। কিন্তু স্বর্গের পুত্রদেরকে আত্মাকে ভালবাসা তার আনন্দের মাধ্যমে উল্লসিত করে।"[৪৭] এক্ষেত্রে, স্বর্গীয় ক্রিয়া সবসময়ই অপরিবর্তনীয় এবং সকলের জন্যই সমান ভালবাসা এবং কেউ যদি এই ভালবাসা নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করে, তাহলে এই অভিজ্ঞতাটি ঈশ্বরপ্রদত্ত দণ্ড নয়, বরং তা ব্যক্তির স্বাধীন ইচ্ছার কারণে একধরণের আত্মদণ্ড। অর্থোডক্সি তাই তাদের পরকালের মডেলের জন্য জন ৩:১৯-২১ এ বর্ণিত যীশুর বিচারের বর্ণনাকে ব্যবহার করে: "১৯- এবং এটাই বিচার: বিশ্বে আলো এসেছে, এবং মানুষ আলোর বদলে অন্ধকারকে ভালবাসে কারণ তাদের কৃতকার্যসমূহ মন্দ। ২০- যারা মন্দ কাজ করে, তাদের প্রত্যেকেই আলোকে ঘৃণা করে এবং আলোর সামনে তারা আসে না, যদি না তাদের কৃতকার্যসমূহকে প্রকাশ করা হয়। ২১- কিন্তু যে সৎ কাজ করে, সে আলোর পথে আসে, যাতে এটা স্পষ্টভাবে দেখা যায় যে তার কৃতকার্যসমূহ ঈশ্বরের উদ্দেশ্যেই পালিত।" পরকাল সম্পর্কিত অর্থোডক্স চিন্তাধারাকে ফাদার থমাস হপকো এভাবে তুলে ধরেছেন, "এটা সঠিকভাবেই ঈশ্বরের করুণা এবং ভালবাসা যা পাপীকে পীড়িত করে। ঈশ্বর শাস্তি দেন মা; তিনি ক্ষমা করেন... এক কথায়, ঈশ্বরের করুণা সকলের উপরেই বর্ষিত হয়, তা ব্যক্তি পছন্দ করুক বা নাই করুক। আমরা যদি তা পছন্দ করি এটা স্বর্গ; আর যদি না করি, তবে এটা নরক। ঈশ্বরের সামনে প্রত্যেকেই নতজানু হয়। সবকিছুই তারই উদ্দেশ্যে কৃত। ঈশ্বর তাই পরিণামে সকলের কাছেই অসীম করুণা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা নিয়ে আসবেন। কিন্তু ঈশ্বরের এই ক্ষমার দানে সকলে উল্লসিত হবে না, আর তাদের এই পছন্দই হবে তাদের বিচার, আর এটাই হবে তাদের দুঃখ এবং বেদনার স্বেচ্ছানির্বাচিত উৎস্য।"[৪৮]
 
আবার, অর্থোডক্সিতে এপোকাস্টাসিসও শেখানো হয়, যা বলে একসময় সকলকেই উদ্ধার করা হবে বা কষ্ট থেকে পরিত্রাণ দেয়া হবে। এটা খুব সম্ভব ওরিগেন এর দেয়া ধারণা, কিন্তু অনেক চার্চ ফাদার এবং সেইন্টও এটা মেনে নেয় যাদের মধ্যে নিসার গ্রেগরিও আছে, যাকে ম্যাক্সিমস দ্য কনফেসর 'ইউনিভার্সাল ডক্টর' বলেছিলেন এবং সেকন্ড কাউনসিল অব কনস্ট্যান্টিনোপল (৫৫৩ খ্রিষ্টাব্দ) যাকে কেবল "ফাদারদের ফাদার" হিসেবেই আখ্যায়িত করে নি, সাথে তার অর্থোডক্সিকে যথার্থ বলে নিশ্চিত করেছে, যেখানে ওরিগেনের ইউনিভার্সালিজমকে এটা মেনে নেয় নি কারণ ওরিগেন এর মত সেই উদ্ধারে আমাদের অস্তিত্বের পূর্ব অবস্থাতেই নিয়ে যাওয়া হয়, যা অর্থোডক্সি শেখায় না। ইউনিভারসালিজম বলতে ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষকেই (নরক থেকে) উদ্ধার করার ধারণাকে বোঝায়। বিভিন্ন বিশিষ্ট অর্থোডক্স ধর্মতাত্ত্বিক যেমন অলিভার ক্লেমেন্ট, মেট্রোপলিটান ক্যালিস্টোস ওয়ার এবং বিশপ হিলারিটন আলফেয়েভও এটা শেখান।[৪৯] যদিও এপোকাটাস্টাসিস অর্থোডক্স চার্চের কোন ডগমা বা নীতি নয়, এটা বরং একটি থিওলগুমেনা, তবুও এটা অর্থোডক্স চার্চগুলোর দেয়া শিক্ষাগুলোর চেয়ে কম গুরুত্বহীন নয়। মেট্রোপলিটান ক্যালিস্টস অয়ার বলেছেন, "সকলে অবশ্যই পরিত্রাণ পাবেন এটা বলা ধর্মবিরোধী, কারণ এটা স্বাধীন ইচ্ছা বা ফ্রি উইলের বিরুদ্ধে, কিন্তু সকলেই পরিত্রাণ পাবেন এই আশা করাটি বৈধ,"[৫০] ঠিক যেমন চিরকালের জন্য শাস্তি পাওয়াও স্বাধীন ইচ্ছার বিরুদ্ধে।
 
দ্য চার্চ অব জেসাস ক্রাইস্ট এন্ড লেটার ডে সেইন্টস[উৎস সম্পাদনা]
দ্য চার্চ অব লেটার ডে সেইন্টস এর জোসেফ এফ. স্মিথ পরকাল সম্পর্কিত একটি বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। এখনে দেখা গেছে যে, স্বর্গের পুন্যাত্মা ব্যক্তিগণ অন্ধকার স্পিরিট প্রিজন বা নরকে বসবাসকারী ব্যক্তিদের প্রতি ব্যাপক ধর্মপ্রচারে লিপ্ত। পরকাল এখানে দুই ভাগে বিভক্ত: স্পিরিট প্রিজন এবং স্বর্গ। একত্রে তারা স্পিরিট ওয়ার্ল্ড বা আত্মার জগৎ নামে পরিচিত (সেই সাথে আব্রাহামের বক্ষ নামেও পরিচিত; দেখুন ল্যুক ১৬:১৯-২৫)। তারা বিশ্বাস করে যে, যীশু স্পিরিট প্রিজন বা আত্মার কারাগারে ভ্রমণ করেছিলেন (১ পিটার ৩:১৮-২০) এবং যারা তাদের কৃতকার্যের জন্য অনুতাপ করেছিলেন তাদের জন্য এই কারাগারের দরজা খুলে দিয়েছিলেন। " ... যিশুর অমর আত্মা তার মৃত্যুর পর কি করেছিলেন তা কেবল মাত্র লেটার ডে সেইন্টস বা পরবর্তী দিনের সাধুরাই জানেন ... " (এডলার স্পেনসার জে. কন্ডাই, লিয়াহোনা, - চার্চ ম্যাগাজিন - জলাই, ২০০৩)" ... বিদ্বেষপূর্ণ ব্যক্তির কাছে তিনি যান নি, এবং অনুতাপহীন ব্যক্তিদের জন্য তার গলার স্বর ওঠে নি। ... কিন্তু যারা সৎ ছিলেন তাদের জন্য তিনি তার শক্তি সঞ্চয় করেন এবং তার দূতদেরকে নিয়োগ করেন... " (ডকট্রাইন এন্ড কোভেনান্টস ১৩৮:২০, ৩০-৩২)। "যিশু নরকের দরজা খুলে দেন যাতে মৃতদের মধ্যে মিশনারি কার্য সম্পাদন করা যায়... " (এইচ. ডনি পিটারসন, "I Have a Question", Ensign, এপ্রিল, ১৯৮৬, ৩৬-৩৮)। এটা কিছু প্রধান খ্রিষ্টীয় ধারার "হ্যারোইং অব হেল" নীতির সাথে মিলে যায়, যেখানে যিশু তার ক্রুশবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু এবং পুনরুত্থিত হবার মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে লিম্বো বা শেওলে গিয়ে সেখানে বসবাসরত সৎ ব্যক্তিদেরকে উদ্ধার করবেন। লেটার ডে সেইন্ট মত অনুসারে স্পিরিট প্রিজন এবং প্যারাডাইস বা স্বর্গ উভয়ই অস্থায়ী। পুনরুত্থানের পর আত্মারা স্থায়ীভাবে তিনটি মাত্রার স্বর্গীয় সম্মান লাভ করে যা নির্ধারিত হয় তাদের কার্যের ভিত্তিতে। এই তিনটি মাত্রার স্বর্গীয় সম্মান হল সেলেস্টিয়াল, টেরেস্ট্রিয়াল এবং টেলেস্টিয়াল (১ কোরিন্থিয়ানস ১৫:৪৪-৪২; ডক্ট্রাইন এন্ড কোভেনান্টস,সেকশন ৭৬) যারা ঈশ্বরকে দেখে বা জেনেও স্বীকার করবে না, তাদেরকে চিরকালের জন্য শয়তানের রাজ্যে প্রেরণ করা হবে, যাকে বাইরের অন্ধকার বলা হয়, যেখানে তারা চিরকালের জন্য দুঃখ ও কষ্টে বেঁচে থাকবে।[৫১]
 
সেলেস্টিয়াল রাজ্যকে একটি স্থান বলে মনে করা হয় যেখানে ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে বাস করতে পারবেন। কারও উন্নয়ন একবার সেলেস্টিয়াল রাজ্যে গেলেই শেষ হয় না, বরং এই উন্নয়নের সময় অনন্তকাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ট্রু টু দ্য ফেইথ (লেটার ডে সেইন্টস এর বিশ্বাসগুলোর উপর লেখা একটা হ্যান্ডবুক) অনুযায়ী, "সেলেস্টিয়াল কিংডম কেবল তাদের জন্যই তৈরি হয়ে আছে যারা যিশুকে প্রামাণ্য হিসেবে মানবে এবং যারা রক্ত ঝড়িয়ে সঠিক প্রায়শ্চিত্তের মধ্য দিয়ে যাবে" (ডকট্রাইন এন্ড কোভেনান্টস ৭৬:৫১,৬৯)। এই উপহার অর্জনের জন্য একজনকে অবশ্যই উদ্ধারের রায় পেতে হবে, নিয়মগুলো মানতে হবে এবং পাপের জন্য অনুতাপ করতে হবে।"[৫২]
 
জিহোভাস উইটনেসেস[উৎস সম্পাদনা]
জিহোভাস উটনেসেস প্রায়ই "পরকাল" শব্দটিকে মৃতদের আশা বোঝাতে ব্যবহার করে[৫৩], কিন্তু তারা অমর আত্মায় বিশ্বাস না করার যুক্তি হিসেবে একলেসিয়াসতেস ৯:৫ ব্যবহার করেন।[৫৪] ঈশ্বর কর্তৃক বিচারকৃত হওয়া কোন পাপী ব্যক্তিকেই পরকালের আশা দেয়া হয় না। যাই হোক, তারা বিশ্বাস করেন যে, আরমাগেডনের পর সৎ ও অসৎ উভয়েরই মৃতদেহের পুনরুত্থান ঘটবে, কিন্তু পাপী বা বিদ্বেষপূর্ণ ব্যক্তির পুনরুত্থান ঘটবে না। আরমাগেডনে বেঁচে যাওয়া ব্যক্তি এবং পুনরুত্থিত ব্যক্তিগণ ধীরে ধীরে স্বর্গপ্রাপ্ত হবেন।[৫৫] আরমাগেডনের পর যেসব পাপী অনুতপ্ত হবে না তাদেরকে চিরমৃত্যুর (অস্তিত্বহীনতা) শাস্তি দেয়া হবে।
 
সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্টস[উৎস সম্পাদনা]
সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্টস চার্চ শেখায়, পৃথিবীতে জীবিত থাকা অবস্থায় যে মৃত্যু হয় তা হল প্রথম মৃত্যু এবং এই মৃত্যু বিভিন্ন পাপী অবস্থার কারণে ঘটে, যেমন অসুস্থতা, বার্ধক্য, দুর্ঘটনা ইত্যাদি। এই মৃত্যু কেবলই আত্মার নিদ্রা। এডভেন্টিস্টগণ বিশ্বাস করেন যে, ব্যক্তির শরীর + ঈশ্বরের শ্বাসপ্রশ্বাস = একটি জীবন্ত আত্মা। জিওভাস উইটনেসেস এর মত এডভেন্টিস্টগণও বাইবেল থেকে নেয়া কিছু মূল অংশ ব্যবহার করেন যেমন, "জীবিতদের বেলায় জেনে রেখো তারা মরবে: কিন্তু মৃতরা কিছুই জানবে না, তারা আর কোন পুরস্কারও পাবে না; তাদের স্মৃতি বিস্মৃত হবে" (একলেসিয়াসতেস ৯:৫ কেজেভি)। এডভেন্টস্টগণ এও বলেন যে পাপের পরিণাম হল মৃত্যু এবং কেবল ঈশ্বরই অমর। এডভেন্টস্টগণ এও বিশ্বাস করেন যে, ঈশ্বর তাদেরকেই শুধু সেইসব উদ্ধারকৃতদেরকেই অমরত্বের অনুমোদন দেবেন যারা যিশুর দ্বিতীয় আগমনে পুনরুত্থিত হবেন। ততক্ষণ পর্যন্ত সকল মৃতই ঘুমন্ত অবস্থায় থাকবে। যখন যিশু দ্বিতীয়বারের মত আসবেন, সৎ ব্যক্তিগণ অক্ষত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবেন এবং তাদেরকে ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাতের জন্য মেঘে নিয়ে যাওয়া হবে। সৎ ব্যক্তিগণ এক হাজার বছর যাবৎ স্বর্গে জীবন যাপন করবেন, যেখানে তারা উদ্ধার হয় নি এমন ব্যক্তি এবং পতিত দেবদূতদের বিচারকার্য ঈশ্বরের সাথে বসে দেখবেন। যখন উদ্ধারকৃতগণ স্বর্গে থাকবেন তখন পৃথিবীতে মানুষ ও পশুপাখি বসবাস করবে না। কেবল পতিত দেবদূতরাই সেখানে জীবিত বসবাস করবে। দ্বিতীয় পুনরুত্থান হবে অসৎ ব্যক্তিদের যখন যিশু নতুন জেরুজালেমকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এনে স্থাপন করবে। যিশু সকল অসৎ ব্যক্তিকে জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন। শয়তান ও তার দেবদূতগণ অসৎ ব্যক্তিদেরকে নতুন জেরুজালেম শহরকে ঘিরে ফেলতে প্ররোচিত করবে। কিন্তু স্বর্গ থেকে নরকের আগুন ও এর জ্বালানিকে পৃথিবীতে ফেলা হবে। এতে জগৎ চিরকালের জন্য পাপ হতে মুক্ত হয়ে যাবে। একে বলা হয় দ্বিতীয় মৃত্যু। নতুন পৃথিবীতে ঈশ্বর উদ্ধারকৃতদের জন্য একটি চিরস্থায়ী আবাস এবং চিরকাল বাঁচার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ দান করবেন যেখানে ইডেন পুনস্থাপিত হবে। এর ফলে মহাম বাদানুবাদের নিষ্পত্তি ঘটবে এবং আর পাপ থাকবে না। ঈশ্বর তখন যথার্থ ঐকতানে চিরকাল জুড়ে শাসন করবেন। (রোমানস ৬:২৩; ১ টিমোথি ৬:১৫,১৬; একলেসিয়াসতেস ৯:৫,৬; সালম ১৪৬:৩,৪; জন ১১:১১-১৪; কলোসিয়ানস ৩:৪; ১ কোরিন্থিয়ানস ১৫:৫১-৫৪; ১ থেসালোনিয়ানস ৪:১৩-১৭; জন ৫:২৮,২৯; রেভেলেশন ২০:১-১০; রেভেলেশন ২০; জেরেমিয়াহ ৪:২৩-২৬;রেভেলেশন ২১:১-৫; মালাচি ৪:১; এজেকিয়েল ২৮:১৮, ১৯; ২ পিটার ৩:১৩; ইসাইয়া ৩৫; ৬৫:১৭-২৫; ম্যাথিউ ৫:৫; রেভেলশন ২১:১-৭; ২২:১-৫; ১১:১৫)।[৫৬][৫৭]
 
ইসলাম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধগুলি: মৃত্যু সংক্রান্ত ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গি, বারযাখ এবং আখিরাত
কুরআনে পরকাল সংক্রান্ত ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। স্বর্গের আরব্য শব্দটি হল জান্নাত এবং নরকের আরব্য শব্দটি হল জাহান্নাম । সমাধিতে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রা সম্পূর্ণরূপে তাদের ঈমানের বা এক সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বোচ্চ সত্তা ঈশ্বর বা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসের মাত্রার উপর নির্ভর করে। সঠিক, দৃঢ় এবং সুস্থ ইমান অর্জনের জন্য একজনকে অবশ্যই ধর্ম নির্দেশিত কার্যাবলি পালন করতে হবে, অন্যথা তার ঈমান অবশেষে শ্বাসরুদ্ধ ও সংকুচিত হবে, এবং তিনি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম পালন না করলে সেই ঈমান নির্জীব হয়ে যাবে। তাই ইসলাম পালন করা পরকালে পুরষ্কৃত হবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কেউ আল্লাহ্‌র নাম জপার জন্য তসবীহ্‌ গ্রহণ করতে পারেন।
 
বিংশ শতকে ইসলামে পরকাল সম্পর্কিত আলোচনায় যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব পায় তা হল মানুষের কার্যাদি এবং স্বর্জ্ঞীয় বিচারের মধ্যবর্তী সম্পর্ক, নৈতিক সততার প্রয়োজনীয়তা এবং ইহকালে মানুষের কার্যের চিরস্থায়ী ফলাফল।[৬১]
 
কুরআনের একটি কেন্দ্রীয় নীতি হল শেষ দিন, যখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আল্লাহ্‌ বিচারের জন্য সকল মানুষ ও জ্বিনকে মৃত অবস্থা থেকে জাগ্রত করবেন। শেষ দিনকে দাঁড়াবার দিন, বিচ্ছিন্নতার দিন, গণনার দিন, জেগে ওঠার দিন, বিচারের দিন ইত্যাদি বলা হয়।
 
বিচারের দিনের আগ পর্যন্ত, মৃত আত্মাগণ সমাধিতে পুনরুত্থানের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু তারা তৎক্ষণাৎ তাদের ভবিষ্যতে আসতে চলা ভাগ্যের স্বাদ পেয়ে যান। যাদের জন্য নরক নির্ধারিত তারা সমাধিতেই কষ্ট ভোগ করেন, আর যাদের জন্য স্বর্গ নির্ধারিত তারা সমাধিতেই শান্তির লাভ করেন।
 
কুরআনের অন্তত দুটো আয়াতে (৬:১২৮[৬২] এবং ১১:১০৭[৬৩]) জোড় দিয়ে বলা হয়েছে যে, নরকবাস ভয়ঙ্কর এবং চিরস্থায়ী "যদি না ঈশ্বর তা চান"।
 
[[religiousfacts.com]] এ বলা হয়েছে,
 
"সবশেষে ঈশ্বর নরক থেকে সেই সব বিশ্বাসীকে সরিয়ে নেবেন যাদের পাপকে ক্ষমা করা হয় নি অথাবা জীবদ্দশায় ভাল কাজের মাধ্যমে যাদের প্রায়শ্চিত্ত হয় নি, এবং তারাও স্বর্গে গমন করবেন। বাকিরা চিরকালের জন্য নরকে থাকবেন।"[৫৮][৬৪]
কিছু টীকাকার দাবী করেছেন আয়াত ১৯:৬৭-৭২[৭৫] দ্বারা বোঝানো হচ্ছে যে ঈশ্বর সকল বিশ্বাসীকে রক্ষা করবেন। অন্যেরা মনে করেন এই ধারণাটি আয়াত ২১:১০১[৭৬] এর বিরুদ্ধে যায় যেখানে বলা হয়েছে, "যারা স্বর্গ অর্জন করেছেন তাদেরকে "এটা (নরক) থেকে অনেক দূরে রাখা হয়"। অনেকে বলেন, কুরআনে বেশ কিছু আয়াতে জাহান্নামবাসীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, কিন্তু কোনটাতেই ক্ষমাপ্রাপ্ত স্বর্গবাসীদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলা হয় নি।
 
আহ্‌মদীয়া[উৎস সম্পাদনা]
আহমাদি মুসলিমরা বিশ্বাস করেন যে পরকাল কোন বস্তুগত বিষয় নয়, বরং এর প্রকৃতি আধ্যাত্মিক। ইসলামের আহ্‌মদীয়া ধারার প্রবর্তক মিরজা গুলাম আহমেদের মতে, আত্মা আরেকটি বিরল অস্তিত্বের জন্ম দেবে। এই অস্তিত্বটি এমনভাবে পৃথিবীর জীবনের মত হবে যে, আত্মা পৃথিবীতে মানব অস্তিত্বের সাথে যেরকম সম্পর্ক রাখ, এই অস্তিত্বও আত্মার সাথে ঠিক সেরকম সম্পর্ক রাখবে। পৃথিবীতে যদি একজন ব্যক্তি সৎ জীবন যাপন করেন এবং নিজেকে ঈশ্বরর ইচ্ছায় স্থাপন করেন, তাহলে তার স্বাদ এমন হয়ে যায় যাতে তিনি পার্থিব লোভ লালসার বিরুদ্ধে গিয়ে আধ্যাত্মিক সুখ লাভ করতে পারেন। এর মাদ্যমে একটি "ভ্রূণীয় আত্মা" গঠিত হতে থাকে। তখন ব্যক্তির উপভোগের স্বাদ বদলে যায়। যেমন, তখন তিনি অন্যের সুখের জন্য নিজ স্বার্থত্যাগ করায় উপভোগ করেন। আহ্‌মদীয়া বিশ্বাস অনুযায়ী এই অবস্থায় ব্যক্তি তার হৃদয়ে পরিতৃপ্তি এবং শান্তি খুঁজে পান। এসময় আত্মার ভেতরের আত্মা তার আকৃতি লাভ করতে থাকে।[৭৭]
 
সুফি[উৎস সম্পাদনা]
সুফি স্কলার ইবনে আরাবি বারজাখকে মধ্যবর্তী জগৎ বা "ইসথমাস" বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এটা দেহের জগৎ এবং আত্মার জগতের মধ্যবর্তী অবস্থা, এবং এই দুই জগতের মধ্যকার যোগাযোগের উপায়। এটা ছাড়া, এই দুই জগতের মধ্যে কোন সংযোগ থাকবে না এবং দুটো জগতের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। তিনি এই মধ্যবর্তী জগৎকে আত্মার জগতের মতই সরল এবং আলোকিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দেহের জগতের মতই এই জগত বিভিন্ন আকার লাভ করতে পারে। সাধারণ অর্থে, বারজাখ অর্থ হল এমন কিছু যা দুতো বস্তুকে আলাদা করে দেয়। এটাকে স্বপ্নের জগত বলা হয় যেখানে স্বপ্নদ্রষ্ঠা একই সাথে জীবন ও মৃত্যুতে অবস্থান করে।[৭৮]
 
বাহাই ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: বাহাই ধর্মে পরকাল
বাহাই বিশ্বাসের শিক্ষা বলে যে, পরকালের প্রকৃতি জীবিতদের বোঝার ঊর্ধ্বে, ঠিক যেমন একটি এখনও জন্মগ্রহণ করে নি এমন একটি ভ্রূণ মাতৃগর্ভের বাইরের জগৎ সম্পর্কে বুঝতে পারে না। বাহাই বিশ্বাস অনুসারে আত্মা অমর এবং মৃত্যুর পর ঈশ্বরের উপস্থিতি অর্জন করার আগ পর্যন্ত এটি উন্নয়ন করা শুরু করবে। বাহাই বিশ্বাস অনুসারে, পরকালে আত্মারা তাদের এককত্ব বা সত্তা এবং বিবেক ধরে রাখে এবং আধ্যাত্মিকভাবে তারা অন্যান্য আত্মাদেরকে চিনতে এবং কথা বলতে পারবে যাদের সাথে তাদের অনেক ঘনিষ্ট ও গভীর বন্ধুত্ব আছে, যেমন স্বামী ও স্ত্রীর আত্মা।[৭৯]
বাহাই ধর্মগ্রন্থগুলোতে এও বলা হয়েছে যে, আত্মা এবং পরকালের মধ্যে পার্থক্য আছে, এবং আত্মারা তাদের নিজ কার্যের মূল্য এবং ফলাফল বুঝতে পারবে। এখানে ব্যাখ্যা করা হয় যে, যে সকল আত্মা ঈশ্বরের পথে চলেছে তারা আনন্দ উপভোগ করবে, আর যারা ভূল পথে চলেছিল তারা বুঝতে পারবে যে তারা তাদেরকে দেয়া সুযোগ হারিয়েছে। এছাড়াও বাহাই মত অনুসারে আত্মারা সেইসব আত্মাকে চিনতে বা বুঝতে পারবে যারা তাদের সাথে একই উচ্চতায় পৌঁছেছে,কিন্তু যেসব আত্মা তাদের চেয়েও উচ্চ অবস্থানে অর্জন করেছে তাদেরকে তারা চিনতে বা বুঝতে পারবে না।[৭৯]
 
ভারতীয় ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
হিন্দু ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: হিন্দু পরকালবিদ্যা
উপনিষদে জন্মান্তরবাদের কথা বলা হয়েছে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম ভগবদ গীতায়, পরকাল সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে। এখানে কৃষ্ণ বলেছেন যে, মানুষ যেমন তার পুরনো কাপড় ছেড়ে নতুন কাপড় পরিধান করেন, আত্মাও তেমনি তার পুরনো দেহ পরিত্যাগ করে নতুন দেহ গ্রহণ করে। হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করা হয়, দেহ একটি খোলসের মত, এর ভিতরের আত্মা অপরিবর্তনীয় এবং অবিনশ্বর, এবং এই আত্মা জন্ম মৃত্যুর চক্রে ভিন্ন দেহ ধারণ করে থাকে। এই চক্রের সমাপ্তিকে মুক্তি বা মোক্ষ বলা হয় যেখানে এই আত্মা ঈশ্বরের সাথে মিশে যায়।
হিন্দুরা "কর্ম"তে বিশ্বাস করেন। কর্ম হল ব্যক্তির মোট ভাল ও মন্দ কাজের সমষ্টি। সৎকর্ম দ্বারা ভাল কাজ ও বিকর্ম দ্বারা মন্দ কাজ বোঝায়। হিন্দুধর্ম অনুসারে কর্মের মূল ধারণাটি হল "যেমন কর্ম, তেমন ফল"। সুতরাং, ব্যক্তি যদি একটি সৎ জীবন যাপন করেন তাহলে তিনি পরকালে পুরষ্কৃত হবেন। যদি অসৎ জীবন যাপন করেন তবে পরজন্মে সেই অসৎকর্ম প্রতিফলিত হবে। সৎকর্মে পুরষ্কার এবং বিকর্মে খারাপ ফল জোটে, এবং এখানে কোন ধরণের বিচার নেই। ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় তার কর্ম এবং এমনকি চিন্তার দ্বারাও কর্ম সংগ্রহ করেন। ভগবদ গীতা অনুসারে, অর্জুন কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে তার আত্মীয় স্বজনকে হত্যা করতে দ্বিধা বোধ করছিলেন। তখন কৃষ্ণরূপে ঈশ্বর অর্জুনকে বলেন, "তুমি কি বিশ্বাস করো যে তুমি এই কাজের কর্তা? না। তুমি আমার হাতের নিছক একটি যন্ত্র। তুমি কি মনে করো যে তোমার সামনের এই মানুষগুলো জীবিত? হে অর্জুন, এরা ইতিমধ্যেই মৃৎ। ক্ষত্রিয় হিসেবে তোমার জনগণ এবং ভূমিকে রক্ষা করা তোমার দায়িত্ব। যদি তুই তোমার এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নাও, তাহলে তুমি ধর্মের নীতিকে অনুসরণ করবে না।"
 
বৌদ্ধধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: বৌদ্ধ পরকালবিদ্যা
বৌদ্ধরা মনে করে যে মৃত্যুর পরে তাদের পুনর্জন্ম লাভ হবে যেখানে তাদের আত্মা এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় গমন করবে।[৮০] পুনর্জন্মের ধরণ কী হবে তা ব্যক্তির কৃতকার্যের (কম্ম বা কর্ম) উপর নির্ভর করবে। যেমন ব্যক্তি যদি দেহ, বাক্য ও মনের দ্বারা লোভ, ঘৃণা ও বিভ্রমের কারণে ক্ষতিকর কাজ করে, তাহলে তারা নিম্ন জগতে বা নরক জগতে থাকবেন যার অর্থ হল একটি পশু বা ভূত হয়ে জন্মানো। অন্যদিকে যদি ব্যক্তি উদারতা, ভালবাসা, দয়া, সহানুভূতি ও জ্ঞানের দ্বারা ভাল কাজ করেন তাহলে তিনি সুখের জগতে বা স্বর্গীয় জগতে জন্মাবেন যার অর্থ হল মানুষ হয়ে জন্মানো।
বৌদ্ধধর্ম অনুসারে, জীবন হল মহাবিশ্বের একটি মহাজাগতিক শক্তি এবং মৃত্যুর পর এটা মহাবিশ্বের সাথে আবার জুড়ে যায়। আর যখন সেই জীবনের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে পাওয়ার সময় হয় তখন এটি জন্ম লাভ করে। যেকোন জীবনের দশটি জীবনাবস্থা রয়েছে, এগুলো হল: নরক, ক্ষুধা, রাগ, পশুবৃত্তি, পরমানন্দ, মানবিকতা, শিক্ষণ, বোধগম্যতা, বোধিসত্ত্ব এবং বুদ্ধত্ব। এগুলোর মধ্যে জীবন যে অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, জীবন পুনরায় সেই অবস্থাতেই আবার জন্মলাভ করে।"
 
শিখ ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
শিখধর্মে পরকাল সম্পর্কিত খুব শক্তিশালী ধারণা রয়েছে। শিখরা বিশ্বাস করে যে আত্মারা আধ্যাত্মিক জগতের অংশভূক্ত যার উৎপত্তি ঈশ্বরের থেকে হয়েছে। যাই হোক, শিখদের মধ্যে পরকাল নিয়ে একটি বড় বিতর্ক রয়েছে। অনেকে বিশ্বাস করেন, অনেকে বিশ্বাস করেন যে শিখধর্মের পরকালে তাদের ধর্মগ্রন্থ গুরু গ্রন্থ সাহিবের স্তবক অনুযায়ী পুরস্কার এবং শাস্তির ব্যবস্থা আছে। কিন্তু একটি বিশাল সংখ্যার শিখগণ অন্যরকম বিশ্বাস করেন এবং মনে করেন যে সেইসব স্তবকগুলো রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।
 
কিন্তু কেউ শিখ ধর্মগ্রন্থগুলোকে বিচক্ষণতার সহিত বিশ্লেষণ করলে দেখতে পারেন যে গুরু গ্রন্থ সাহিব এবং দশম গ্রন্থে পরকালের অনেক ঘটনায় স্বর্গ ও নরকের অস্তিত্বের কথা সূক্ষ্মভাবে বলা আছে। সুতরাং সেখান থেকে বলা যায় শিখধর্ম স্বর্গ ও নরকের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে। যাইহোক, স্বর্গ ও নরক ব্যক্তিকে কেবল পুরষ্কৃত করতে ও শাস্তি দিতে তৈরি করা হয়েছে, পুরষ্কার বা শাস্তি লাভ শেষ হলে ব্যক্তিকে আবার জন্ম নিতে হবে। ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে এই জন্মমৃত্যুর চক্রের মধ্যেই থাকতে হবে। শিখ ধর্মগ্রন্থগুলো অনুসারে মানবিক আকার হল ঈশ্বরের সবচেয়ে নিকটবর্তী আকার এবং ঈশ্বরের সাথে পুনরায় যুক্ত হবার জন্য সবচাইতে ভাল সুযোগ। শিখ গুরুরা বলেন যে, কিছুই মরে না, কিছুই জন্মায় না, সবকিছুই চিরকাল বর্তমান থাকে, এরা শুধু নিজেদের আকৃতি বদল করে। এটা একটি উচ্চতর দর্শন। এটা অনেকটা একটি পোশাকের আলমারির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার মত, আপনি একটি পোশাক গ্রহণ করবেন, একে পড়বেন এবং এরপর একে ত্যাগ করবেন, তারপর আরেকটা পড়বেন। আপনি কেবল একটি আকার থেকে আরেকটি আকারে পরিবর্তিত হচ্ছেন। আসলে, আপনার আত্মা কখনই জন্মলাভ বা মৃত্যুবরণ করে না। আপনার আত্মা ঈশ্বরের একটি অংশ এবং তাই তা চিরকাল জীবিত থাকে।[৮১]
 
নব্যপৌত্তলিকতাবাদ[উৎস সম্পাদনা]
উইক্কা[উৎস সম্পাদনা]
উইক্কাদের পরকালকে সাধারণভাবে "দ্য সামারল্যান্ড" হিসেবে বর্ণনা করা হয়। এখানে আত্মা বিশ্রাম নেয়, জীবন থেকে পুনরুদ্ধৃত হয় এবং জীবদ্দশায় থাকার সময় তার অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটায়। বিশ্রামের একটা সময় শেষে, আত্মা পুনর্জন্ম লাভ করে, এবং তাদের গতজন্মের সব স্মৃতি এসময় মুছে যায়। অনেক উইক্কান দ্য সামারল্যান্ডকে তাদের জীবদ্দশায় করা কৃতকার্যের প্রতিফলনের স্থান হিসেবে দেখেন। এটা পুরষ্কৃত হবার কোন স্থান নয়, বরং একটি জীবনের যাত্রাপথের ইতি।[৮২]
 
অন্যান্য[উৎস সম্পাদনা]
শিন্তৌ ধর্ম[উৎস সম্পাদনা]
আরও তথ্যের জন্য দেখুন: শিন্তৌ ধর্ম
জাপানে কোন শ্রাইনে শিন্তো ধর্মের উৎসবগুলোতে সকলের অংশগ্রহণ খুব সাধারণ, তবু সকলে মৃত্যুর পর বৌদ্ধধর্মের নিয়মে অন্তেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নেয়। প্রাচীন জাপানী কিংবদন্তী অনুসারে, প্রায়ই দাবী করা হয় যে, মৃতেরা ইয়মি (黄泉) নামক একটি তমসাচ্ছন্ন পাতালের জগতে প্রবেশ করে। ইজানামি (শিনিগামি নামেও পরিচিত) এবং ইজানাগির কিংবদন্তী অনুসারে এখানে একটি নদী আছে যা জীবিতদেরকে মৃতদের থেকে পৃথক করে। গ্রীক পুরাণের হেডিসের সাথে এর অনেক মিল রয়েছে। যাই হোক, পরবর্তী পুরাণগুলোতে পুনরুদ্ধার এবং এমনকি এলিসিয়ামের মত বর্ণনাও আছে যেমন ওকুনিনুশি ও সুসানুর কিংবদন্তীতে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। শিন্তো ধর্মে মৃত্যু এবং মৃতদেহ নিয়ে নেতিবাচক ধারণা করা হয়, এবং এদেরকে কেগারে নামক দূষণের উৎস্য বলে মনে করা হয়। যাইহোক, শিন্তৌ ধর্মে মৃত্যুকে ব্যক্তির এপোথিওসিস (কোন বিষয়কে স্বর্গীয়মাত্রায় মহিমান্বিত করা) এর পথ হিসেবেও ধরা হয়। এর সাক্ষ্য হিসেবে শিন্তো পুরাণে মৃত্যুর পর কিংবদন্তী নায়কদেরকে মহিমান্বিত অবস্থান পাবার ঘটনাকে দেখানো যায়। এদের মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হবেন সম্ভবত সম্রাট ওজিন যিনি মৃত্যুর পর হাচিমান বা যুদ্ধের দেবতার পদ লাভ করেন।
অনেক ধর্মের মত শিন্তো ধর্মে বিশ্বাসী হবার জন্য সকলের সামনে শিন্তো ধর্মকে মুক্তকণ্ঠে স্বীকার করতে হয় না। যখনই জাপানে একজন শিশুর জন্ম হয়, একটি স্থানীয় শিন্তো শ্রাইন (শিন্তো মন্দির) একটি লিস্টে বাচ্চার নাম নথিভুক্ত করে ফেলে এবং তা সেই শ্রাইনে রেখে বাচ্চাটিকে একটি উজিকো (ফ্যামিলি চাইল্ড বা পারিবারিক সন্তান বা 氏子) হিসেবে ঘোষণা করে। শিন্তো ধর্মমতে মৃত্যুর পর উজিকো ফ্যামিলি স্পিরিট বা ফ্যামিলি কামি বা পারিবারিক আত্মায় পরিণত হয় যাকে উজিগামি (氏神 ujigami) বলা হয়। স্থান পরিবর্তনের ফলে কেউ নিজের নাম অন্য কোন লিস্টে নথিভূক্ত করতে পারেন, তাহলে তার নাম উভয় জায়গাতেই নথিভূক্ত থাকবে। এই নাম সম্মতি ছাড়াই এবং যেকোন ধর্মমতের ব্যক্তির ক্ষেত্রেই নথিভূক্ত হতে পারে। একে ধর্মমত আরোপ বলে মনে করা হয় না, কিন্তু একে স্থানীয় কামি দ্বারা আমন্ত্রিত হবার চিহ্ন হিসেবে দেখা হয়, যেখানে মৃত্যুর পর আত্মা বা কামিকে প্যানথিওনে প্রবেশের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়।
 
ইউনিটারিয়ান ইউনিভারসালিজম[উৎস সম্পাদনা]ইউনিভারসালিজ
কিছু ইউনিটারিয়ান ইউনিভারসালিস্ট একধরণের ইউনিভারসালিজম বা সার্বজনীনতাবাদে বিশ্বাস করেন যা অনুসারে তাদের আত্মা চূড়ান্তভাবে উদ্ধারকৃত হবে এবং তাদেরকে কোনধরণের নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হবে না।[৮৩] ইউনিটারিয়ান ইউনিভার্সালিস্টদের মাঝে ধর্মতত্ত্ব নিয়ে মতভেদ আছে, কারণ এই ব্যাপারে একই অবস্থান নয়।[৮৪] যদিও ইউনিটারিয়ানগণ ঐতিহাসিকভাবে একটি আক্ষরিক অর্থে বোঝানো একটি নরকে বিশ্বাস করেন, এবং ইউনিভারসালিস্টগণ ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বাস করেন যে সকলেই স্বর্গে যাবে, আধুনিক ইউনিটারিয়ান ইউনিভারসালিস্টগণ হিসেবে তাদেরকেই ফেলা যায় যারা স্বর্গ, পুনর্জন্ম এবং মৃত্যু পরবর্তী চিরসমাপ্তি বা অবলিভিয়নে বিশ্বাস করেন। বেশিরভাগ ইউনিটারিয়ান ইউনিভারসালিস্ট বিশ্বাস করেন যে স্বর্গ এবং নরক চেতনার একটি সাংকেতিক্সথান এবং এই বিশ্বাস পরকালের চেয়ে ইহকালকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।[৮৫]
 
আধ্যাত্মবাদ[উৎস সম্পাদনা]
এডগার কেসের মতে, পরকাল নয়টি জগত নিয়ে গঠিত যা জ্যোতিশাস্ত্রের নয়টি গ্রহকে ইঙ্গিত করে। প্রথমটি শনি গ্রহের প্রতীকস্বরূপ, এটি আত্মার শুদ্ধিকরণের একটি স্তর। দ্বিতীয়টি হল বুধ যা সমস্যাকে বুঝতে পারার ক্ষমতা দান করে। তৃতীয়টি পৃথিবী কর্তৃক শাসিত হয়, এবং এই পৃথিবী পার্থিব সন্তুষ্টির সাথে সম্পর্কযুক্ত। চতুর্থটি হল শুক্র যেখানে আমরা ভালবাসা খুঁজে পাই। পঞ্চমটি হল মঙ্গল গ্রহ যেখানে আমরা আমাদের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে জানতে পারি। ষষ্ঠ রাজ্যটি নেপচুন কর্তৃক শাসিত হয় এবং এখানে আমরা আমাদের সৃজনশীলতা ব্যবহার করতে এবং বস্তুজগৎ থেকে মুক্ত করতে শিখি। সপ্তম রাজ্য বৃহস্পতি গ্রহ দ্বারা প্রতীকায়িত হয় যা আত্মার কার্যকারিতাকে বৃদ্ধি করে যার ফলে আত্মা কোন অবস্থাকে বুঝতে পারে, মানুষ, স্থান, বস্তু এবং অবস্থা বিশ্লেষণ করতে পারে। অষ্টম পরকালের রাজ্য ইউরেনাস কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটা সাইকিক ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নবম পরকাল রাজ্য প্লুটো দ্বারা প্রতীকায়িত হয় যা অচেতনদের জ্যোতিশাস্ত্রীয় রাজ্য। এই পরকালের জগৎ একটি খণস্থায়ী স্থান যেখানে আত্মারা সৌরজগতের অন্য জগৎগুলোতে ভ্রমণ করতে পারে। এটা আত্মার চিরকালীন স্বাধীনতা, এবং এই জগৎ আমাদের সৌরজগত থেকে মহাজগতের দিকে দরজা খুলে দেয়।[৮৬]
 
মূলধারার আধ্যাত্মবাদীরা সাত জগতের একটি সিরিজের কথা বলেন যা এডগার কেসের নয়টি গ্রহ দ্বারা শাসিত নয় জগতের পরকালের মত না। এর বিবর্তনের সাথে সাথে আত্মারা ঊর্ধ্ব থেকে ঊর্ধ্ব দিকে যেতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত এরা আধ্যাত্মিক একত্বের চূড়ান্ত জগতে না পৌঁছায়। এখানে প্রথম জগত হল নরকের সমতুল্য যেখানে সংকটগ্রস্ত আত্মারা পরবর্তী স্তরে যাবার আগে অনেক সময় অতিবাহিত করে যতক্ষণ না তারা পরবর্তী স্তরে যেতে বাধ্য হয়। দ্বিতীয় স্তরটি হল যেখানে বেশিরভাগ আত্মাই সরাসরি চলে যায়, এই স্থানকে নরকের নিম্ন স্তর থেকে মহাজগতের উচ্চ যথার্থ জগতে যাবার একটি মধ্যবর্তী স্তর। তৃতীয় স্তরটি হল তাদের জন্য যারা কর্মফলের দায় (karmic inheritance) নিয়ে নিয়ে কাজ করেছেন। চতুর্থ স্তর হল সেই স্থান, যেখান থেকে বিবর্তিত আত্মারা পৃথিবীবাসীদেরকে শিক্ষা এবং নির্দেশনা দেয়। পঞ্চম স্তরটি হল সেই স্থান যেখানে আত্মারা মানব চেতনাকে পিছনে ফেলে আসে। ষষ্ঠ স্থানে আত্মারা মহাজাগতিক চেতনার সাথে যুক্ত হয় এবং এসময় তাদের একত্ব এবং বিচ্ছিন্নতার কোন চেতনা থাকে না। চূড়ান্তভাবে সপ্তম স্তরটি হল সকল আত্মার লক্ষ্য। এই স্থানে আত্মা তার নিজের আত্মাময়তার (soulfulness) চেতনাকে অতিক্রম করে এবং বিশ্বের আত্মা বা পরমাত্মার সাথে পুনরায় যুক্ত হয়ে যায়।[৮৬]
 
জরাথুস্ট্রবাদ[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: জরাথুস্ট্রবাদ
জরাথুস্ট্রবাদ বলে, দেহচ্যুত আত্মা বা উরভান নিচের দিকে ইমার দ্বারা শাসিত মৃতের রাজ্যে যাবার পূর্বে পৃথিবীতে তিন দিন বিলম্ব করে। এই তিন দিনের জন্য আত্মা পৃথিবীতে বিশ্রাম নেয়, সৎ আত্মা তার শরীরের মাথার কাছে বসে এবং আনন্দের সাথে উস্তাভইতি গাথাস এর ভজন করে, যেখানে মন্দ ব্যক্তি দেহের পায়ের কাছে বসে দুঃখপ্রকাশ করে এবং ইয়াসনার ভজন করে। জরাথুষ্ট্রবাদ বলে যে সৎ আত্মার জন্য একটি সুন্দরী কুমারী আবির্ভূত হয় যা ব্যক্তির উত্তম চিন্তা, কার্য এবং বাক্যেরই নারীরূপ। অন্যদিকে একজন মন্দ ব্যক্তির বেলায় খুবই বৃদ্ধ, কুৎসিত ও নগ্ন ডাইনি আবির্ভূত হয়। তিন রাতের পর মন্দ ব্যক্তির আত্মাকে ভিজারেসা নামক একজন দৈত্য চিনভত সেতুতে নিয়ে যায় যা অন্ধকারে (নরক) যাবার জন্য তৈরি করা হয়েছে।
মিসভান গাতু হল 'মিশ্রিতদের স্থান' যেখানে আত্মারা ধূসর অস্তিত্ব নিয়ে থাকে এবং তাদের কোন আনন্দ ও বেদনা থাকেনা। একটি আত্মা সেখানে যায় যদি রাশনুর দাঁড়িপাল্লায় তার ভাল কাজ ও খারাপ কাজের ভর সমান হয়।
 
প্যারাসাইকোলজি[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধ: প্যারাসাইকোলজি
আরও দেখুন: মৃত্যু-পূর্ববিদ্যা ও মৃত্যু-পূর্ব অভিজ্ঞতা
প্যারাসাইকোলজিকাল গবেষণার ২৫ বছর পর সুজান ব্ল্যাকমোর এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, পরকালের কোন এম্পিইরিকাল এভিডেন্স বা গবেষণামূলক সাক্ষ্যপ্রমাণ নেই।[
 
দর্শন[উৎস সম্পাদনা]
আধুনিক দর্শন[উৎস সম্পাদনা]
ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্নে এখনও একটি অবস্থান রয়েছে যাকে মুক্ত ব্যক্তিবাদ বা ওপেন ইন্ডিভিজুয়ালিজম নামে অভিহিত করা হয়, এবং এটার সাথে প্রাচীন বিশ্বাস মনোসাইকিজমের সাথে মিল রয়েছে। মনোসাইকিজম অনুসারে ব্যক্তির আলাদা আলাদা অস্তিত্ব মায়াময় বা বিভ্রম, এবং আমাদের চেতনা আমাদের মৃত্যুর পর অন্য কোন সচেতন জীবে চলে যাওয়ার মাধ্যমে তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। মৃত্যুর পর অস্তিত্ব ভিত্তিক অবস্থান বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য পদার্থবিদ যেমন এরভিন শ্রোডিঙার এবং ফ্রিম্যান ডাইসন বিশ্বাস করতেন। [৯৬]
 
মৃত্যুর পর কোন ব্যক্তির অস্তিত্বের ধারাবাহিকতায় কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্নের উদয় হয়। পিটার ভ্যান ইনোয়াগেন তার পুনর্জন্ম সংক্রান্ত যুক্তিতে উল্লেখ করেন, মেটারিয়ালিস্টদের অবশ্যই কোন ধরণের শারীরিক ধারাবাহিকতা রয়েছে।[৯৭] জন হিকও তার রচনা ডেথ এন্ড এটারনাল লাইফ গ্রন্থে ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি একটি উদাহরণ ব্যবহার করেন যেখানে একজন ব্যক্তির অস্তিত্ব একটি স্থানে বিলীন হয়ে যায় এবং আরেকটি স্থানে সেই ব্যক্তির ঠিক একই রেপ্লিকা আবির্ভূত হয়। যদি সেই রেপ্লিকাটির পূর্বের ব্যক্তির মত একই অভিজ্ঞতা, বৈশিষ্ট্য এবং শারীরিক প্রকাশ থেকে থাকে, তাহলে আমরা কী বলতে পারব যে দ্বিতীয় ব্যক্তি প্রথম ব্যক্তির পরিচয় বহন করছে?
 
প্রোসেস ফিলোসফি[উৎস সম্পাদনা]
প্রোসেস ফিলোসফি ও ধর্মতত্ত্বের প্যানেনথিস্টিক মডেল অনুযায়ী আলফ্রেড নর্থ হোয়াইটহেড এবং চার্লস হার্টশোর্ন বস্তু দ্বারা তৈরি জগৎ অস্বীকার করেন, এবং এর বদলে তারা মনে করেন জগৎ জীবন্ত অভিজ্ঞতা দ্বারা তৈরি। হার্টশোর্নের মতে মানুষ পরকালে ব্যক্তিবাচক বা ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা লাভ করে না, কিন্তু তারা বস্তুবাচক অমরত্ব লাভ করে কারণ তখন তাদের অভিজ্ঞতা চিরকালের মত ঈশ্বরে বাস করে, যা পূর্বের সব কিছু ধারণ করে। যাই হোক, অন্যান্য প্রোসেস ফিলোসোফার যেমন ডেভিড রে গ্রিফিন লিখেছেন যে মৃত্যুর পর মানুষের ব্যক্তিবাচক অভিজ্ঞতা থাকতে পারে।[৯৮][৯৯][১০০][১০১]
 
বিজ্ঞান[উৎস সম্পাদনা]
মূল নিবন্ধগুলি: মৃত্যু-পরবর্তী চেতনা এবং মৃত্যু-পূর্ব অভিজ্ঞতা
বিজ্ঞান সমাজ ধর্মগুলোতে বিশ্বাস করা মৃত্যু-পরবর্তী চেতনার ধারাবাহিকতা সম্পর্কে সংশয়বাদী অবস্থান নেয়। মন-দেহ সমস্যা বা মাইন্ড-বডি প্রবলেমের উপর ভিত্তি করে বেশিরভাগ স্নায়ুবিজ্ঞানী বা নিউরোসাইন্টিস্ট, ফিজিকালিস্ট বা শরীরবাদী অবস্থান নেন যা অনুসারে চেতনা শরীরের বৈশিষ্ট্য যেমন মস্তিষ্কের স্নায়বিক কার্যাবলি থেকেই উৎপন্ন হয়।[১০২][১০৩] এই প্রতিজ্ঞাটির নিহিতার্থটি হচ্ছে, একবার ব্রেইন ডেথের পর মস্তিষ্ক তার কার্যক্রম বন্ধ করে ফেললে, চেতনার অস্তিত্বের সমাপ্তি ঘটে।[১০৪][১০৫] সাধারণত, বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকগণ মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের প্রশ্নে সংশয়বাদের আশ্রয় নেন। বিজ্ঞান সমাজের কেউ কেউ স্বীকার করেন যে, মৃত্যুর সময় মানবাত্মার তথ্যসমূহ কেবল মাত্র তাদের থেকেই আবিষ্কার করা সম্ভব যারা মৃত্যুর অভিজ্ঞতা লাভ করছেন। এসম্পর্কিত তথ্য আবিষ্কার করার জন্য তিব্বতীয় লামাদের একটি দল তাদের শিষ্যদের তাদের মরার সময়কার অভিজ্ঞতা জানিয়ে যান।
৬৭টি

সম্পাদনা