"বেশান্তর" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল অ্যাপ সম্পাদনা
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল অ্যাপ সম্পাদনা
কোনো মহিলা তাঁর স্বামীর শার্ট পরলে তাঁকে আকর্ষণীয়া ও উত্তেজক বলা হয়, কিন্তু কোনো পুরুষ তাঁর স্ত্রীর শাড়ি পরলে তাঁকে রূপান্তরকামী ও হাস্যকর বলা হয়। এখনও বিশ্বের অধিকাংশ প্রান্তেই কোনো পুরুষ প্রথাগত মেয়েদের পোশাক পরতে চাইলে তাকে সমাজে মেনে নেওয়া হয় না। সমাজের কাছে বেশান্তরকারীদের একটা বড়ো অভিযোগ হল, মেয়েদেরকে ছেলেদের ব্যবহারের পোশাক সহজেই পরতে দেয়া হয়; কিন্তু ছেলেদেরকে শুধু পোশাকই নয়, মেয়েদের ব্যবহার্য যে-কোনো জিনিস থেকে দূরেই থাকতে হয়।
 
দৈনন্দিন জীবনে কোনো ছেলে মেয়ের সাজে প্রকাশ্যে আসলে তাকে সমাজ সম্পূর্ণ কোণঠাসা করে, সে হয়ে ওঠে সবার ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের পাত্র, এমনকি প্রশ্ন ওঠে তার যৌন-পরিচয় নিয়ে। মেয়েদের পোশাক পরা ছেলেদের জন্য চরম লজ্জার, হাস্যকর, এতে ‘পৌরুষহানি’ হয় — এমন চিন্তাধারাও অস্বাভাবিক কিছু নয়। ভারতীয় উপমহাদেশে (অর্থাৎ বাংলাতেও) এই সমস্যাটি ভীষণভাবে প্রকট। দৈনন্দিন ব্যবহারিক ক্ষেত্রে পুরুষদের বেশান্তর এখানে প্রায় নিষিদ্ধ ও বিরলতম ঘটনা। এসবের কারণ সম্ভবত পুরুষদের বেঁধে-দেয়া জন্য লিঙ্গ-প্রকটতা; তাই সে তার প্রথাগত 'পৌরুষ’ থেকে সরে আসতে চাইলে সামাজিক বাধার (বিশেষত অবিরাম অপদস্থ হওয়া) সম্মুখীন হয়। কোনো পুরুষ নারীবস্ত্র গ্রহণ করলে ধরা হয়, তার লিঙ্গ-পরিচয়ের অবনতি ঘটল, কিন্তু কোনো নারী পুরুষ-বস্ত্র গ্রহণ করলে তার লিঙ্গ-পরিচয়ে বিশেষ কোনো পরিবর্তন মনে হয় না। কারণ, নারীকে সমাজে সর্বদাই পুরুষের অধীন এবং নিম্নস্থানে রাখার চেষ্টা হয়েছে। তাই কোনো পুরুষ বেশান্তরিত অবস্থায় আপাত-নারীতে পরিণত হয়, এবং লিঙ্গবৈষম্যের বিরুদ্ধে এক প্রতিমূর্তি হয়ে পড়ে।
 
যদিও বর্তমানে সামাজিক উন্নয়ন মানুষকে পুরুষ ও নারীর লিঙ্গবৈষম্য ও নিষেধাজ্ঞা থেকে অনেকটাই নিষ্কৃতি দিয়েছে, যদিও অন্ধবিশ্বাসের কারণে তা এখনো সম্পূর্ণ মুছে যায়নি। রূপান্তরকামীদের স্বাভাবিক মানুষ হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, একইভাবে বেশান্তর ও সমকামিতার সম্পর্কে অন্ধধারণারও দ্রুত অবসান ঘটছে কিছুকাল থেকে। রূপান্তরকামী ও সমকামীরা নিজেদের যৌন পরিচয় স্পষ্টভাবে প্রকাশ করছেন বেশান্তরের মাধ্যমেই। আবার, লিঙ্গ-পরিবর্তনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার একটি পর্যায়ে বেশান্তর করতে হয়।
 
তবে বেশান্তরের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব রয়েছে। অনেক সংস্কৃতিতেই বেশান্তর (প্রধানত পুরুষদের) সামাজিক রীতিনীতির অঙ্গ। ভারতেও পুরুষরা দৈনন্দিন জীবনে বেশান্তরের স্বীকৃতি না পেলেও, লোকসংস্কৃতিতে বেশান্তর স্বাভাবিক ব্যাপার। পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের গ্রামেগঞ্জে ''যাত্রা'' নামক লোকনাটকে নারীচরিত্রে এখনও ছেলেরাই অভিনয় করে। চৈত্র মাসে চড়ক পুজোর আগে বহু প্রান্তিক মানুষ দুর্গা, কালীর মতো দেবীর বেশ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। ভারতের বিহারে ''লন্ডা নাচ'' নামে গ্রাম্য অনুষ্ঠানে নর্তকী সেজে মনোরঞ্জন করে ছেলেরাই। কেরলের কোট্টঙ্কুলংকার দেবী মন্দিরে ''চাময়াবিলক্কু'' নামক বার্ষিক ধর্মীয় উৎসবে পুরুষ ও বালকরা মেয়েদের কাপড় পরে দেবীর আরাধনা করতে যান। বর্তমানে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে হাস্যরস তৈরির জন্য হলেও অভিনেতাদের বেশান্তর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
 
==আরও দেখুন==
১,২১৩টি

সম্পাদনা