"মৃত্যু পরবর্তী জীবন" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(সংশোধন)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
{{anthropologyপরকাল ofকী religion|Basic|image=[[File:GuideToTheAfterlife-CustodianForGoddessAmun-AltesMuseum-Berlin.png|350px|center]] প্রাচীন মিশরীয় প্যারিরাসে দেখানো পরকালযাত্রা [[File:Anonymous-Paradise of Bhaishajyaguru.jpg|350px|center]] মোগাও গুহায় আবিষ্কৃত ''ভৈষজ্যগুরুর স্বর্গ''}}'''মৃত্যু পরবর্তী জীবন''' বা '''পরকাল''' হলহলো এমন একটি জগতের ধারণা, যে ধারণা অনুসারে ব্যক্তির শরীরের [[মৃত্যু]] হয়ে গেলেও তার [[আত্মপরিচয়]] বা [[চেতনা|চেতনার]] অস্তিত্ব থেকে যায়। পরকালের বিভিন্ন ধারণা অনুযায়ী মৃত্যুর পরেও থেকে যাওয়া ব্যক্তির [[এসেন্স]] কোনকোনো আংশিক উপাদান অথবা পূর্ণাঙ্গ [[আত্মা]] বা [[স্পিরিট]] হতে পারে। এই এসেন্স কোনকোনো ব্যক্তিগত পরিচয় বহন করতেও পারে আবার নাও পারেপারে। যেমনধর্মের ভারতীয়বিশ্বাস দর্শনেরঅনুযায়ী [[নির্বাণ]]।মৃত্যুর পরকালেরপর উপরসত্তা বিশ্বাসজীবিতাবস্থায় [[প্রকৃতিবাদ|প্রকৃতিবাদী]]পৃথিবীতে দর্শনতার থেকেকৃতকার্য আসতে পারেবিশ্বাস অথবাঅনুযায়ী [[অতিপ্রাকৃত|অতিপ্রাকৃতে]]ঈশ্বর বিশ্বাসবা থেকেকোন আসতেস্বর্গীয় পারে।বিচারের এই বিশ্বাসদ্বারা [[এটারনালনির্ধারিত অবলিভিয়ন]]বিশেষ ধারণায়স্থানে বিশ্বাসেরগমন বিপরীত।করে।
 
ইসলামে পরকাল : কুরআনে পরকাল সংক্রান্ত ইসলামি দৃষ্টিভঙ্গির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে। স্বর্গের আরব্য শব্দটি হল জান্নাত এবং নরকের আরব্য শব্দটি হলো জাহান্নাম । সমাধিতে তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের মাত্রা সম্পূর্ণরূপে তাদের ঈমানের বা এক সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা এবং সর্বোচ্চ সত্তা ঈশ্বর বা আল্লাহ্‌র প্রতি বিশ্বাসের মাত্রার উপর নির্ভর করে। সঠিক, দৃঢ় এবং সুস্থ ইমান অর্জনের জন্য একজনকে অবশ্যই ধর্ম নির্দেশিত কার্যাবলি পালন করতে হবে, অন্যথা তার ঈমান অবশেষে শ্বাসরুদ্ধ ও সংকুচিত হবে, এবং তিনি যথেষ্ট দীর্ঘ সময় ধরে ইসলাম পালন না করলে সেই ঈমান নির্জীব হয়ে যাবে। তাই ইসলাম পালন করা পরকালে পুরস্কৃত হবার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। কেউ আল্লাহ্‌র নাম জপার জন্য তসবীহ্‌ গ্রহণ করতে পারেন।
কিছু লোকায়ত মতবাদ অনুসারে, মৃত্যুর পরও অস্তিত্ববহন করা এই সত্তা কোন অতিপ্রাকৃত জগতে অবস্থান করে, আবার অন্যান্য লোকায়ত মতবাদ অনুসারে এই সত্তার [[জন্মান্তরবাদ|পুনর্জন্ম]] ঘটে এবং পুনরায় জীবনচক্র শুরু হয়। এক্ষেত্রে পূর্বের জীবন সম্পর্কে কোন স্মৃতি থাকে না। এই মতবাদ অনুসারে সত্তার একটি [[জগৎ (দর্শন)|অতিপ্রাকৃতিক জগতে]] প্রবেশের আগ পর্যন্ত বারবার জন্ম ও মৃত্যুর প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। পরকাল সংক্রান্ত বেশিরভাগ বিশ্বাসেরই উৎপত্তি [[ধর্ম]], [[এসোটেরিসিজম]] এবং [[অধিবিদ্যা]] থেকে।
 
ইসলামে পরকাল কেনো? : ইসলাম শেখায় মানবজাতির সম্পূর্ণ সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্য হলো সৃষ্টিকর্তার উপাসনা করা। এখানে বলা হয়, পৃথিবীতে মানুষ যে জীবন যাপন করে সেটা তাদের জন্য একটা পরীক্ষা এবং মৃত্যুর পর তাদেরকে তাদের ভাল ও মন্দ কাজের উপর ভিত্তি করে শেষ বিচারের পর জান্নাত বা জাহান্নাম দেয়া হয়। কিন্তু জাহান্নাম চিরস্থায়ী কিনা এ-ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে । মুসলিমদের জন্যে জাহান্নাম চিরকাল নয়, এ-বিষয়ে প্রায় সবাই একমত । ইসরাফিলের বাঁশি বাজানোর পর শেষ বিচার শুরু হয়। [Islamic Beliefs about the Afterlife”। Religion Facts। সংগৃহীত ২৩ ডিসেম্বর ২০১৪]
কিছু বিশ্বাস ব্যবস্থা বিশেষ করে [[ইব্রাহিমীয় ধর্ম|আব্রাহামিক ধর্মেগুলোর]] বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর পর সত্তা জীবিতাবস্থায় পৃথিবীতে তার [[অর্থোপ্রাক্সি|কৃতকার্য]] ও [[অর্থোডক্সি|বিশ্বাস]] অনুযায়ী [[ঈশ্বর]] বা কোন [[স্বর্গীয় বিচার|স্বর্গীয় বিচারের]] দ্বারা নির্ধারিত বিশেষ স্থানে গমন করে। ওন্যদিকে [[ভারতীয় ধর্ম|ভারতীয় ধর্মগুলোর]] পুনর্জন্ম বিশ্বাস অনুযায়ী মৃত্যুর পর কৃতকার্য অনুসারে সত্তার প্রকৃতি সরাসরি নির্ধারিত হয়ে যায়, এতে ভিন্ন কোন সত্তার সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় না।
 
জান্নাত ও জাহান্নাম : জান্নাত এবং জাহান্নাম দুটোরই বিভিন্ন স্তর রয়েছে। জান্নাতে সাতটি দরজা এবং সাতটি স্তর রয়েছে। সর্বোচ্চ স্তরটি সবচেয়ে ভাল এবং সেখানকার মানুষেরা সবচেয়ে সুখী থাকবেন। জাহান্নামে সাতটি গভীর স্তর রয়েছে। স্তর যত নিচে যাবে তা ততই খারাপ। ইসলাম অনুসারে, মৃত্যুর পর আত্মার চিরস্থায়ী অস্তিত্ব এবং সেই সাথে পরীবর্তিত শারীরিক অবস্থাও থাকবে।
 
বিংশ শতকে ইসলামে পরকাল সম্পর্কিত আলোচনায় যেসব বিষয় সবচেয়ে গুরুত্ব পায় তা হল মানুষের কার্যাদি এবং স্বর্গীয় বিচারের মধ্যবর্তী সম্পর্ক, নৈতিক সততার প্রয়োজনীয়তা এবং ইহকালে মানুষের কার্যের চিরস্থায়ী ফলাফল। [Afterlife-Oxford Islamic Studies Online”। Oxfordislamicstudies.com। ২০০৮-০৫-০৬]
 
পুনরুত্থান : কুরআনের একটি কেন্দ্রীয় নীতি হল শেষ দিন, যখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে এবং আল্লাহ্‌ বিচারের জন্য সকল মানুষ ও জ্বিনকে মৃত অবস্থা থেকে জাগ্রত করবেন। শেষ দিনকে দাঁড়াবার দিন, বিচ্ছিন্নতার দিন, গণনার দিন, জেগে ওঠার দিন, বিচারের দিন ইত্যাদি বলা হয়। বিচারের দিনের আগ পর্যন্ত, মৃত আত্মাগণ সমাধিতে পুনরুত্থানের জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু তারা তৎক্ষণাৎ তাদের ভবিষ্যতে আসতে চলা ভাগ্যের স্বাদ পেয়ে যান। যাদের জন্য নরক নির্ধারিত তারা সমাধিতেই কষ্ট ভোগ করেন, আর যাদের জন্য স্বর্গ নির্ধারিত তারা সমাধিতেই শান্তির লাভ করেন। শেষ দিনে যে পুনরুত্থান ঘটবে তা শারীরিক এবং ঈশ্বর সেদিন মৃতের শরীর পুনরায় সৃষ্টি করবেন । আল্লাহ তায়ালা বলেন, তারা কি দেখতে পায় না যে ঈশ্বর যিনি স্বর্গসমূহ এবং পৃথিবীকে তৈরি করেছেন তিনি তাদের একই রকম দেহও তৈরি করতে সক্ষম হবেন? [সূরা হজ, আয়াত ১০০]
 
বিচার দিবস : শেষ দিনে পুনরুত্থিত ব্যক্তিগণ তাদের কার্যাদির ভিত্তিতে আল্লাহ কর্তৃক বিচারকৃত হবেন। ভাল ও মন্দ কাজের ভারসাম্যের ভিত্তিতে জান্নাত বা জাহান্নামে তাদের স্থান নির্ধারিত হবে। ভাল কাজের জন্য জান্নাতে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ চিরকালের জন্য আধ্যাত্মিক এবং শারীরিক প্রশান্তি লাভ করবেন, মন্দ কাজের জন্য পাপী ব্যক্তিগণ আধ্যাত্মিক ও শারীরিক কষ্ট ভোগ করবেন।
 
কুরআনের অন্তত দুটো আয়াতে [৬:১২৮ ও ১১:১০৭] জোড় দিয়ে বলা হয়েছে যে, নরকবাস ভয়ঙ্কর এবং চিরস্থায়ী “যদি না ঈশ্বর তা চান”। “সবশেষে আল্লাহ নরক থেকে সেই সব বিশ্বাসীকে সরিয়ে নেবেন যাদের পাপকে ক্ষমা করা হয়নি অথাবা জীবদ্দশায় ভাল কাজের মাধ্যমে যাদের প্রায়শ্চিত্ত হয়নি, এবং তারাও স্বর্গে গমন করবেন। বাকিরা চিরকালের জন্য নরকে থাকবেন। [ahya, Harun (১৪ আগস্ট ২০০৩)। “Belief: Six Pillars”। OnIslam.net।]
 
কিছু হাদিসে সকল জাহান্নামীকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত হবার কথা লেখা আছে। রাসুল (সা.) বলেছিলেন, আল্লাহ্ সকল মানুষকেই আগুন থেকে তুলে আনবেন এবং তাদেরকে স্বর্গে স্থান দেবেন। [মুসলিম]
 
তিনি এ-ও বলেছেন, অবশ্যই জাহান্নামে একটা সময় আসবে যখন এর দরজা বাতাসের দমকায় উড়ে যাবে, সেখানে তখন আর কেউ থাকবে না, আর এটা হবে তাদের নরকে অনেক বছর থাকার পর। [বুখারি]
 
আলমে বারজাখ : ইবনে আরাবি বারজাখকে মধ্যবর্তী জগৎ বা “ইসথমাস” বলে সংজ্ঞায়িত করেছেন। এটা দেহের জগৎ এবং আত্মার জগতের মধ্যবর্তী অবস্থা, এবং এই দুই জগতের মধ্যকার যোগাযোগের উপায়। এটা ছাড়া, এই দুই জগতের মধ্যে কোন সংযোগ থাকবে না এবং দুটো জগতের অস্তিত্বই বিলীন হয়ে যাবে। তিনি এই মধ্যবর্তী জগৎকে আত্মার জগতের মতই সরল এবং আলোকিত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু দেহের জগতের মতই এই জগত বিভিন্ন আকার লাভ করতে পারে। সাধারণ অর্থে, বারজাখ অর্থ হল এমন কিছু যা দুতো বস্তুকে আলাদা করে দেয়। এটাকে স্বপ্নের জগত বলা হয় যেখানে স্বপ্নদ্রষ্টা একই সাথে জীবন ও মৃত্যুতে অবস্থান করে। [Ibn Al-Arabi, Muhyiddin পৃ: 29n,50n, 59, 64–8, 73, 75–8, 82, 102] ###
 
== বিভিন্ন অধিবিদ্যীয় মডেল অনুযায়ী পরকাল ==
৬টি

সম্পাদনা