AS Antu

২১ নভেম্বর ২০১৭ তারিখে যোগ দিয়েছেন
সম্পাদনা সারাংশ নেই
(নরম খোলসের কাঁকড়া চাষ)
 
 
'''“চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি & এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়”'''
 
'''“কাঁকড়া”''' শব্দটির সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিত। এর প্রচলিত চাষ পদ্ধতি সম্পর্কেও অনেকেই অবগত। কিন্তু নরম খোলসের কাকঁড়া চাষ বিষয়টা অনেকেরই অজানা। প্রথমে একটু কাঁকড়া সম্পর্কে বলি। কাঁকড়া আর্থ্রোপোডা পর্বের একটি ক্রাস্টাসিয়ান '''(Crustaceans)''' প্রাণি। এদের শরীর একটি পুরু বহিঃকঙ্কালে আবৃত থাকে এবং এদের এক জোড়া দাঁড়া বা চেলাযুক্ত পা '''(Chelate legs)''', জোড়া হাঁটা পা '''(Walking legs)''', ১ জোড়া সাঁতারু পা '''(Swimmerets)''' থাকে। বাংলাদেশ সীমানায় ম্যানগ্রোভ ও উপকূলীয় অঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায়। এসব কাঁকড়ার মধ্যে মাইলা, শাইলা, সিরোটা ও শীলা প্রজাতি উল্লেখযোগ্য। মাইলা ও শীলা জাতের কাঁকড়া সবচেয়ে উন্নতমানের। তাই বিদেশে এগুলোর চাহিদা বেশি। কাঁকড়া তার জীবদ্দশায় প্রায় ১১ থেকে ১২ বার খোলস নির্মোচন বা মোল্টিং '''(Molting)''' করে থাকে। এসময় তারা সবচেয়ে অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। এসময় এরা গর্তে বাস করে থাকে শিকারির আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিবার খোলস নির্মোচনের ফলে এদের দৈহিক বৃদ্ধি ঘটে। প্রতিবার মোল্টিং এর ফলে কাঁকড়ার ২৫-৩০ ভাগ ওজন বৃদ্ধি পায়।
 
নরম খোলসের কাঁকড়া চাষের জন্য ছিদ্রযুক্ত প্লাস্টিক বক্স বা খাঁচা প্রস্তুত করা হয়। বক্স বা খাঁচাগুলো চাষের ঘের বা পুকুরের উপর নির্মিত ভাসমান স্ট্যান্ড এ সারিবদ্ধভাবে এমনভাবে রাখা হয় যেন কিছুটা অংশ পানির নিচে থাকে। পুকুরের লবণাক্ততা '''(Salinity)''' সাধারণত ১৫-২০ পিপিটি, বর্ষা মৌসুম এ কমে ১০ থেকে সর্বনিম্ন ২ বা ১ পিপিটি(প্রায়), শীত মৌসুম এ বেড়ে ৩০-৩৫ পিপিটি হয়। বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস হতে কাঁকড়া সংগ্রহ করা হয় যেগুলো ছিদ্রযুক্ত বক্স বা খাঁচাগুলোতে একক ভাবে রাখা হয়। এরপর দুই বা তিনদিন পর পর ৮ থেকে ১০ গ্রাম প্রতি বক্সে খাবার দেয়া হয়। খাবার হিসেবে প্রধানত ট্রাশ ফিশ, বাইক্যাচ ফিশ অথবা স্কুইড ইত্যাদি দেয়া হয়। স্থানীয় ভাষায় “জো” '''(New moon/Full moon)''' এর সময় এরা খোলস নির্মোচন করে থাকে। ‘পূর্ণিমার জো’ তে খোলস নির্মোচন বেশি হয় ‘অমাবস্যার জো’এর তুলনায়। খোলস নির্মোচনের জন্য এদের অনেক শক্তির প্রয়োজন হয় তাই খোলস নির্মোচনের আগে এরা খাবার বেশি খায়। কিন্তু খোলস নির্মোচনের সময় এরা নিষ্ক্রিয় থাকে এবং খাবার কম খায় বা খায়না প্রায়। চাষকালীন সময়ে দৈনিক ৩ ঘন্টা পর পর পর্যবেক্ষণ করতে হয় এবং নির্মোচিত (Molted) কাকঁড়াগুলো সংগ্রহ করে স্বাদুপানিতে রাখা হয় কারণ লবণাক্ত পাানিতে খোলস তাড়াতাড়ি শক্ত হয়ে যায় যা মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করে। এরপর কাঁকড়াগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হয় রপ্তানি বা বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে। এ পদ্ধতিতে কাঁকড়ার মৃত্যুহার প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ।
১৫টি

সম্পাদনা