রাষ্ট্রবিজ্ঞান: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

প্রাচীন ভারতের মতোই মধ্যযুগেও ভারতে রাষ্ট্রচিন্তার এক উল্লেখযোগ্য ধারা পরিলক্ষিত হয়। [[সুলতানী সাম্রাজ্যে]]<nowiki/>র মতোই [[মুঘল সাম্রাজ্য|মোঘল সাম্রাজ্যে]]<nowiki/>ও রাজনীতি এক বিশেষ প্রায়োগিক রূপলাভ করে। এ সময়ে [[আকবর|আকবর,]] [[শাহ জাহান|শাহজাহা]]<nowiki/>ন,(একইসাথে [[শের শাহ সুরি|শেরশাহ]]) প্রভৃতি বাদশাহদের পররাষ্ট্রনীতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। এসময়ে এক কেন্দ্রীভূত রাষ্ট্রব্যবস্থা যেমন গড়ে ওঠে, তার পাশাপাশি [[জায়গীরদারি ব্যাবস্থা|জায়গীরদারি ব্যাবস্থা]]<nowiki/>র মাধ্যমে অর্থনীতির বিকেন্দ্রীভবনও বহুলাংশে সম্ভবপর হয়। [[আবুল ফজল ইবনে মুবারক|আবুল ফজল]] সহ আরও বহু লেখকের লেখা সেসময়কার রাষ্ট্রব্যাবস্থার প্রামান্য দলিল হয়ে রয়েছে।
 
সাধারণভাবে ভারতে ইউরোপীয় বণিকশক্তি, পাশাপাশি রাজশক্তির আগমণের মাধ্যমেই আধুনিক যুগের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হয়। আধুনিক যুগের সূচনায় ভারতীয় রাজনীতি এক সম্পূর্ণ নতুন রূপ পরিগ্রহ করে। রাষ্ট্রব্যাবস্থার বিস্তার ঘটার পাসাপাশিপাশাপাশি টাতা আরও জটিল রূপলাভ করে। ভারতে বিদেশী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় রাজনৈতিক চিন্তার যে কটি ধারা বিশেষ প্রবল রূপলাভ করে সেগুলি হলঃ-
 
১) সাম্রাজ্যবাদের বিরোধিতা হিসেবে জাতীয়তাবাদের বিকাশ। এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে, [[ইউরোপের সার্বভৌম রাষ্ট্র এবং নির্ভরশীল অঞ্চলসমূহের তালিকা|ইউরোপে]] জাতীয়তাবাদের বিকাশ ঘটেছিল এক স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়। সে-সময়কার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিতে [[সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা]]<nowiki/>র বিরুদ্ধে [[বুর্জোয়া|বুর্জোয়া]] অর্থনীতির বিকাশের এক হাতিয়ার হিসেবে। কিন্তু ভারতে জাতীয়তাবাদের বিকাশের পটভূমি সম্পূর্ণ পৃথক, যা পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতে জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্রচিন্তার ক্ষেত্রে কয়েকজন পুরোধা ব্যক্তি হলেনঃ- [[বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়|বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়]], [[স্বামী বিবেকানন্দ]], ইত্যাদি। এঁরা বিদেশী রাষ্ট্রের সম্পুর্ণ বিরোধীতা করে এক যথার্থ ভারতবর্ষের কল্পনা করেছিলেন।
 
২) উপনিবেশিক শক্তির সাহায্যে ভারতীয় সমাজের উন্নয়ন ঘটানোর প্রয়াস একদল চিন্তাবিদের কাজকর্মের মধ্যে প্রতিফলিত হয়। যেমন [[রাজা রাম্মহন রায়।|রাজা রাম্মহন রায়।]]
 
৩) জাতীয়তাবাদের সংকীর্ন গন্ডীকে পেরিয়ে এসময় কতিপয় ভারতীয় দার্শনিক আন্তর্জাতিকতাবাদের প্রসস্থ পথেই মানবমুক্তির কথা বলেন। এদের অন্যতম হলেন [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রাজনৈতিক মতাদর্শ|রবীন্দ্রনাথ।]]
 
৪) বিংশ শতকের বিশের দশকের গোড়া থেকেই [[সোভিয়েত বিপ্লবে|সোভিয়েত বিপ্লবে]]<nowiki/>র সাফল্যে অনুপ্রানিত হয়ে [[মানবেন্দ্রনাথ রায়|মানবেন্দ্রনাথ রায়]], [[অবনী মুখার্জী]] প্রমুখেরা [[মার্ক্সবাদী রাজনীতি]]<nowiki/>র একটি বিকল্প ধারা গড়ে তোলেন।
 
৫) এর পাশাপাশি বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার উপনিবেশিক ভারতে ধর্মের ভিত্তিতেও রাজনীতির তথা রাষ্ট্রচিন্তার এক ধারা লক্ষ করা যায়, যা পরবর্তীকালে প্রবল হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে [[সৈয়দ আহমদ খান|সৈয়দ আহমেদ খান]], [[সাভারকার]], [[গোলয়ালকার|গোলয়ালকার]] প্রভৃতির নাম উল্লেখ করা যায়। এবং ধর্মীয় সংগঠন হিসেবে মুসলিম লিগ, [[রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ|রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ]] প্রভৃতির কথা বলা যায়।
 
== তথ্যসূত্র ==
২০টি

সম্পাদনা