"মোঃ আব্দুস সাত্তার" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তার প্রত্যক্ষভাবে কখনোই রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও আপাদমস্তক রাজনীতি লালন করা ব্যক্তিত্ব তিনি। শৈশবে স্কুলছাত্র থাকা অবস্থায়ই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ জন্মে; সেই থেকেই আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অন্তরে লালন করে পথ চলেছেন তিনি। নির্ভীক, সৎ, অসাম্প্রদায়িক, দেশপ্রেমী এই মানুষটির এবং তাঁর পরিবারের উপর অসংখ্যবার প্রাণনাশের হুমকি এলেও সততা-আদর্শের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপোষ করেননি তিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনামলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঘুরে নির্যাতিত আওয়ামীলীগ নেতাকর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ওয়ান-ইলেভেনের সেনাসমর্থিত সরকারের রাষ্ট্রপরিচালনার সময়কালের রাজনৈতিক মহাসংকটে কারান্তরীণ জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষে প্রথম স্বাক্ষরকারী ব্যক্তি ছিলেন প্রফেসর সাত্তার। যশোরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিলো তাঁর। আজীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালনকারী দেশবরেণ্য তুখোড় আলোচক এই বুদ্ধিজীবী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কেও গড়ে তুলেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়। যবিপ্রবির প্রধান ফটকেই রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের প্রতিকৃতি। যবিপ্রবির প্রথম একাডেমিক ভবনটির নামও রাখা হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নামে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রয়েছে ভাষা শহীদদের স্মরণে শহীদ মিনার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাহক ভাস্কর্য “অদম্য ৭১”। তারই নেতৃত্বে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ভেতর সর্বপ্রথম দেশরত্ন শেখ হাসিনার নামে আবাসিক ছাত্রী হল প্রতিষ্ঠা করেছে। একমাত্র ছাত্র হলটিরও নামকরণ করা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ একমাত্র জনপ্রতিনিধি শহীদ মসিয়ূর রহমানের নামানুসারে।
প্রফেসর সাত্তার বেশকিছু সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের কর্মকান্ডের সঙ্গেও সরাসরি জড়িত। এর ভেতর বাংলাদেশ রসায়ন সমিতির আজীবন সদস্য তিনি, সোসাইটি ফর ফার্মাসিউটিক্যালস অফ প্রফেশন্যালস এর কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি, এবং বাংলাদেশ এ্যাসোসিয়েশন অফ এ্যাডভান্স সাইন্সের আজীবন সদস্য।
শিক্ষকতার পাশাপাশি অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার একজন সফল গবেষক হিসেবেও দারুণ সুনাম কুড়িয়েছেন। বেশকিছু গবেষণা প্রকল্পের পরিচালকের দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেছেন তিনি। অনেক শিক্ষার্থী তাঁর তত্ত্বাবধানে এম. ফিল ও পি.এইচ.ডি ডিগ্রী অর্জন করেছেন। বেশকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পি.এইচ.ডি থিসিসেরথিkসিসের পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল পদে থেকে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন তিনি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রায় সত্তরটির মত গবেষণাপত্র রয়েছে তাঁর।
শুধু একজন সফল শিক্ষক, গবেষক কিংবা দক্ষ প্রশাসক হিসেবেই নয়, যশোরের সন্তান প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুস সাত্তার যশোরের উন্নয়নে বলিষ্ঠ কন্ঠস্বর হিসেবে প্রতিনিয়ত ভূমিকা রেখে চলেছেন। তাঁর জোরালো দাবির মুখে যশোরের শংকরপুরে স্থাপিত হচ্ছে সফটওয়্যার টেকনোলজী পার্ক। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে চক্ররেল সার্ভিস চালু করবার প্রচেষ্টায় অনেক আগে থেকেই সংগ্রাম করে চলেছেন তিনি, সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে দাবি জানিয়েছেন বারংবার, যার ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। ড. আব্দুস সাত্তারের দীর্ঘদিনের সংগ্রামের ফসল হিসেবে বর্তমান সরকার যশোরে আধুনিক শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলতে এবং যশোরের মণিরামপুর-কেশবপুর অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যুদ্ধপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে রাজপথে থেকে তরুণসমাজের আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন তিনি। বিএনপি-জামায়াতের আগুন সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রাজপথে নামার পাশাপাশি অচলাবস্থা থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে রক্ষার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন তিনি। তারই প্রচেষ্টায় হরতাল অবরোধের মাঝেও পুলিশি প্রহরায় পরিবহণ ব্যবস্থা চালু করে ক্লাস পরীক্ষা শুরু করেছিলো যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। যশোরের ক্রীড়া-সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে প্রফেসর ড. আব্দুস সাত্তারের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত। ব্যস্ত জীবনের মাঝে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন বিভিন্ন সংকটে-দুর্যোগে-সুখে-দুঃখে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে। গত আটটি বছরে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালনকালে তিনি হয়ে উঠেছেন যবিপ্রবি পরিবারের একান্ত আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দু;<ref>{{cite news |url=http://www.egramerkagoj.com/2017/04/09/ |title='পিতৃ'বিচ্ছেদের বেদনায় ভারাক্রান্ত যবিপ্রবি |language=Bengali |work=The Daily Gramer Kagoj |location=Jessore |publisher=Mobinul Islam |date=2017-04-09 |accessdate=2017-09-24 }}</ref> সেই সাথে যশোরবাসীর কাছেও ভরসার আশ্রয়স্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন নিজেকে।
 
 
২০টি

সম্পাদনা