"ভারতে জরুরি অবস্থা (১৯৭৫-১৯৭৭)" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

শ্রীমতী
(কবিতার লাইনগুলীলাইনগুলো মাঝখানে নিয়ে এলাম।)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা দৃশ্যমান সম্পাদনা
(শ্রীমতী)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা দৃশ্যমান সম্পাদনা
কে পরিবে পায়।”
 
পরাধীন ভারতবাসীর উদ্দেশ্যে লেখা কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বজনবিদিত এই সংগীতটি ভারতবর্ষের জরুরি অবস্থার (১৯৭৫-১৯৭৭) ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ, এই জরুরি অবস্থা ভারতবর্ষের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারকে প্রায় সম্পূর্ণভাবে হরণ করেছিল। তাই বলা হয়, ভারতবর্ষের সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধি প্রবর্তিত জরুরি অবস্থা এক কলঙ্কিত অধ্যায়। আর দীর্ঘ একুশ মাস ধরে চলতে থাকা এই জরুরি অবস্থার সূচনা হয়েছিলো ১৯৭৫ সালের ২৬-এ জুন সকালবেলায়। তবে এর প্রস্তুতি চলেছিল অনেক আগে থেকেই। আমরা দেখতে পেয়েছিলাম যে, দেশের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে ১৯৭৫-এর ১২ জুন এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বেরিয়েছিল। মুলত এই রায়ে রাজনারায়ণের আনা মামলায় ইন্দিরা গান্ধি নির্বাচনে দুর্নীতির অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং ৬ বৎসর পার্লামেন্টারি রাজনীতি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।১ শুধু তাই নয়, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহনলাল সিংহ রায়বেরিলি লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী হিসাবে শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধির নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অধিকার তিনি খারিজ করে দিয়েছিলেন। যাইহোক, এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বেরোনোর দিনই গুজরাট বিধানসভার নির্বাচনের ফলাফল বেরিয়েছিল এবং তাতে কংগ্রেস পরাজিত হয়েছিল।২
 
    এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় বেরোনোর ১৩ দিন পর অর্থাৎ ২৫-শে জুন বিরোধী দলগুলি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, তাঁরা এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সারা দেশে এক সপ্তাহব্যাপী শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ দেখাবে এবং ঐ দাবি জানাতে তাঁরা একদিন প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতেও যাবে। কিন্তু বিরোধী দলগুলি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধি বেছে নিয়েছিলেন মানুষের অধিকার হরণের রাস্তাটিকে। আসলে নেতৃত্ব ও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে তিনি এতটাই আতঙ্ক হয়ে পড়েছিলেন যে তাঁর প্রতিটি কাজের মধ্যে ভীত ও সন্ত্রস্ত মনোভাবের পরিচয় পাওয়া গিয়েছিল। আর সেই কারণে দলের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি যে স্বৈরতান্ত্রিক আধিপত্য কায়েমের চেষ্টা করে আসছিলেন, সেটা আরও প্রবল হয়ে উঠেছিল। এমন অবস্থায় ক্ষমতাই থাকার ভবিষ্যৎ তাঁর যতই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল ততই তিনি ক্ষমতাই থাকতে চাইছিলেন। অর্থাৎ, সমস্যা সমাধানের কোনো কল্যাণকামী নীতি গ্রহণ তাঁর পক্ষে নেওয়া সম্ভব ছিল না, তাঁর বা তাঁর দলের শ্রেণিস্বার্থেই। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন এই রাস্তাটিকে। ইতিমধ্যে ২৫-এ জুন জয়প্রকাশ নারায়ণ দিল্লিতে ঘোষণা করেছিলেন যে, ইন্দিরা গান্ধি ভারতে একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চলেছেন এবং জনসাধারণকে এজন্য সতর্ক হতে বলেন (‘দি টাইমস-লন্ডন, ২৭ জুন, ১৯৭৫)। সেই ২৫ জুন রাত্রেই শুরু হয়েছিল ভারতের বিভিন্ন স্থানে সি. পি. আই বাদে অন্য বিরোধী দলগুলির নেতা ও কর্মীদের গ্রেপ্তার। ২৬ জুন রাষ্ট্রপতি ফকিরুদ্দিন আলি আহমেদ সংবিধানের ৩৫২ নং ধারার, ১ উপধারা অনুসারে দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিলেন এবং বলেছিলেন- ‘a grave emergency exists whereby the security of India is threatend by internal disturbances.’।৩ এর ফলে ভারতের রাজনীতিতে স্বৈরতন্ত্র একটা পাকাপাকি ভিত্তি পেয়ে গিয়েছিল।
৭টি

সম্পাদনা