প্রধান মেনু খুলুন

পরিবর্তনসমূহ

বানান
'''সুবিমল বসাক''' ( জন্ম ১৫.ডিসেম্বর.[[১৯৩৯]] ) বাংলা সাহিত্যে [[হাংরি আন্দোলন]]-এর একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক।
'''সুবিমল বসাক''' ( জন্ম ১৫.ডিসেম্বর.[[১৯৩৯]] ) বাংলা সাহিত্যে [[হাংরি আন্দোলন]]-এর একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক । তাঁর জন্ম ও পড়াশোনা বিহারের রাজধানী পাটনায় । তিনি তন্তুবায় পরিবারের সন্তান । তাঁর বাবা তারকনাথ বসাক ছিলেন ঢাকা শহরের আদি-নিবাসী । দেশভাগের সময়ে পরিবারটি পাটনায় স্হানান্তরিত হয় । তারকনাথ সেখানে স্বর্ণকারের পেশা অবলম্বন করেন । গোল্ড কনট্রোল আইন লাগু হবার কারনে তারকনাথ দেউলিয়া হয়ে যান এবং আত্মহত্যা করেন । তিন ভাই ও এক বোনের দায়িত্ব শৈশব থেকে সুবিমল বসাকের ওপর বর্তায় । পরিবারটি পাটনার অপরাধীদের পাড়া হিসাবে কুখ্যাত লোদিপুর অঞ্চলে থাকতে বাধ্য হয় । এই অঞ্চলের ভাষা সুবিমল বসাককে শৈশব থেকে আকৃষ্ট করেছে এবং সাহিত্যে তাঁর প্রবেশ বাংলার সঙ্গে মিশ্রিত এই অঞ্চলের ভাষার কারনে ।
 
== প্রারম্ভিক জীবন ==
'''সুবিমল বসাক''' ( জন্ম ১৫.ডিসেম্বর.[[১৯৩৯]] ) বাংলা সাহিত্যে [[হাংরি আন্দোলন]]-এর একজন প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক । তাঁর জন্ম ও পড়াশোনা বিহারের রাজধানী পাটনায় । তিনি তন্তুবায় পরিবারের সন্তান । তাঁর বাবা তারকনাথ বসাক ছিলেন [[ঢাকা]] শহরের আদি-নিবাসী । দেশভাগের সময়ে পরিবারটি পাটনায় স্হানান্তরিত হয় ।হয়। তারকনাথ সেখানে স্বর্ণকারের পেশা অবলম্বন করেন ।করেন। গোল্ড কনট্রোল আইন লাগু হবার কারনে তারকনাথ দেউলিয়া হয়ে যান এবং আত্মহত্যা করেন । তিন ভাই ও এক বোনের দায়িত্ব শৈশব থেকে সুবিমল বসাকের ওপর বর্তায় ।বর্তায়। পরিবারটি পাটনার অপরাধীদের পাড়া হিসাবে কুখ্যাত লোদিপুর অঞ্চলে থাকতে বাধ্য হয় । এই অঞ্চলের ভাষা সুবিমল বসাককে শৈশব থেকে আকৃষ্ট করেছে এবং সাহিত্যে তাঁর প্রবেশ বাংলার সঙ্গে মিশ্রিত এই অঞ্চলের ভাষার কারনে ।
 
== হাংরি আন্দোলন ==
 
পাটনা নিবাসী হবার কারণে [[হাংরি আন্দোলন]]-এর স্রষ্টা মলব রায়চৌধুরীর সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয় । [[মলয় রায়চৌধুরী]] তাঁকে [[দেবী রায়]]-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন । এনাদের কার্যকলাপের কারনে অচিরে কলকাতায় এই তিনজন হাংরি ত্রিমূর্তি নামে খ্যাত হন ।হন। হাংরি বুলেটিনগুলিতে প্রকাশিত স্কেচগুলি আঁকার দায়িত্ব নেন সুবিমল বসাক ।বসাক। বেশ কিছু হাংরি বুলেটিন এবং [[হাংরি আন্দোলন]]-এর পত্রিকার প্রচ্ছদের জন্য তিনি কাঠখোদাই করে দিয়েছিলেন । স্কেচগুলি অশ্লীলতার অভিযোগে আক্রান্ত হয় এবং সুবিমল বসাক সম্পাদকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । হাংরি আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে ১৯৬৪ সালের সেপটেমবরেসেপ্টেমবরে অন্যান্যদের সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপতারিগ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল ।
 
== সাহিত্যধারা ==
১৯৬৫ সালে তিনি '''ছাতামাথা''' নামে একটি উপন্যাস লেখেন । উপন্যাসটিতে ন্যারেটিভ লিখিত হয় পূর্ব বঙ্গের কথ্য ভাষায় এবং সংলাপ লিখিত হয় কলকাতার কথ্য ভাষায় । বাংলা ভাভায়বাংলায় পূর্ব বঙ্গের ভাষায় লেখা উপন্যাস সম্ভবত এইটিই প্রথম ।প্রথম। সেসময়ে সুবিমল বসাক সাহিত্যের ভাষাকে কলুষিত করছেন বলে সমালোচিত হলেও, পরবর্তীকালে, বিশেষ করে পূর্ববঙ্গে এই ভাষায় সাহিত্য রচনা এখন স্বীকৃত ।স্বীকৃত। এর পর তিনি ঢাকা শহরের কথ্য ভাষায় একট কাব্যগপন্হকাব্যগ্রন্হ প্রকাশ করেন এবং তার নাম দেন '''হাবিজাবি''' । ন্যারেটিভের মাধ্যম নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা তিনি হাংরি আন্দোলন ফুরিয়ে যাবার পরও বজায় রেখেছিলেন । তাঁর পরবর্তী উপন্যাস '''প্রত্নবীজ'''-এ তিনি শৈশবের লোদিপুর পাড়ার কথ্য ইনগদির সঙ্গে মিশ্রিত বাংলা, যা ওই অঞ্চলের বাঙালিরা ব্যবহার করেন সেটি প্রয়োগ করেন । পশ্চিমবঙ্গে কালক্রমে একটি মিশ্রিত ভাষায় ন্যারেটিভ তৈরির চল হয়েছে যেটি বহির্বঙ্গীববহির্বঙ্গীয় বাঙালিরা ব্যবহার করেন ।
 
== ক্ষেত্রসমীক্ষা ==
২০০৭ সালে অনুবাদের জন্য তিনি [[সাহিত্য অকাদেমী পুরস্কার]] পান ।
== ফিল্ম ==
২০১১ সালে সৃজিৎ মুখোপাধ্যায় '''বাইশে শ্রাবণ''' নামে একটি ফিল্ম পরিচালনা করেছেন যাতে সুপ্রসিদ্ধ পরিচালক গৌতম ঘোষ একজন হাংরি আন্দোলনকারীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বাংলা সিনেমায় এই প্রথম হাংরি আন্দোলনকে একটি ফিল্মে কেন্দ্রে আনা হল।
 
 
== তথ্যসূত্র ==
* মিলন সুবিমল বসাক সংখ্যা (জানুয়ারি ২০০৭ ) । সম্পাদক: বিশ্বজিৎ নন্দী । চারুকুঠী, পো: তুরা, মেঘালয় ৭৯৪০০১ ।