প্রধান মেনু খুলুন

পরিবর্তনসমূহ

তথ্য যোগ হল
কুন্তী বাল্যকালে ঋষি দুর্বাসার কাছ থেকে এক মন্ত্র লাভ করেন, যার মাধ্যমে যে কোনো ভগবানকে আহ্বান করা যায় ও বর চাওয়া যায়। কুন্তী কৌতূহলবশত সূর্যদেবকে আহ্বান করেন, সূর্যদেব তাঁকে এক পুত্রের বর দেন। কিন্তু লোকলজ্জার ভয়ে সবার অজান্তে কুন্তী ঐ শিশুপুত্রকে নদীতে ভাসিয়ে দেন, যে পরে অধিরথ সারথির কাছে পালিত হয় ও তার নাম হয় [[কর্ণ]]। ঐ মন্ত্রের দ্বারা কুন্তী ধর্মদেবের বরে [[যুধিষ্ঠির]], পবনের বরে [[ভীম]], ইন্দ্রের বরে [[অর্জুন]] নামে তিন গুণবান পুত্রের জন্ম দেন। মাদ্রী এই মন্ত্রের পাঠ করে অশ্বিনীকুমারদ্বয়ের বরে [[নকুল]] ও [[সহদেব]] নামে দুই পুত্র লাভ করেন। এই পাঁচ পুত্রই অত্যন্ত গুণবান ও সৎ ছিলেন, পরবর্তীতে এরা ‘পাণ্ডব’ নামে পরিচিত হন। কিন্তু একদিন কামোদ্যত পাণ্ডু মাদ্রীকে আলিঙ্গন করতে গিয়ে মারা যান। দুঃখে মাদ্রী পাণ্ডুর চিতায় সহমরণ গ্রহণ করেন। শিশুপুত্রদের ভার পড়ে কুন্তীর ওপর।
 
এদিকে যুধিষ্ঠির ও ভীমের জন্মের পর একশোটি ঘৃতপূর্ণ কলশ থেকে ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর ১০০ সন্তান জন্মায়। এদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ হল [[দুর্যোধন]] ও এরপর [[দুঃশাসন]], বিকর্ণ প্রভৃতি, এছাড়া ধৃতরাষ্ট্রর [[দুঃশলা]] নামে এক কন্যাও হয়। ধৃতরাষ্ট্রের পুত্ররা ‘কৌরব’ নামে পরিচিত হয়, বিকর্ণ ব্যতীত এই কৌরবরা তেমন সচ্চরিত্রবান ও ধার্মিক ছিল না।
 
=== জতুগৃহদাহ ===
=== দ্যূতক্রীড়া ও বস্ত্রহরণ ===
[[File:Disrobing of Draupadi.jpg|thumb|[[দুঃশাসন]] কর্তৃক [[দ্রৌপদী|দ্রৌপদীর]] বস্ত্রহরণ|210x210px]]
পাণ্ডবদের ওপর প্রতিশোধ নেবার জন্য এবার [[শকুনি]] যুধিষ্ঠিরের সঙ্গে কপট [[পাশা|পাশা খেলার]] আয়োজন করেন। শকুনির ছলনায় যুধিষ্ঠির তাঁর রাজ্য, সম্পত্তি সমস্ত হারান। শেষে নিঃস্ব হয়ে ভাইদেরকে, এমনকি নিজেকেও বাজি রাখেন এবং সবাই দাসে পরিণত হন। এবার খেলার নেশায় ধর্মজ্ঞান হারিয়ে তিনি স্ত্রী [[দ্রৌপদী|দ্রৌপদীকে]] বাজি রাখেন ও হেরে তিনিও দাসী হন। [[দুর্যোধন|দুর্যোধনের]] নির্দেশে [[দুঃশাসন]] অন্তঃপুর থেকে [[দ্রৌপদী|দ্রৌপদীকে]] কেশাকর্ষণ করে সভায় টেনে আনেন, অথচ সভায় উপস্থিত ধার্মিক [[ভীষ্ম]], [[দ্রোণাচার্য|দ্রোণ]], [[বিদুর]],পাণ্ডবরা ধর্মসংকটে পড়ে অবিচারের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেন না। [[কর্ণ|কর্ণও]] কৌরবদের সায় দিয়ে দ্রৌপদীকে অপমান করেন। যদিও কৌরব ভ্রাতা বিকর্ণ এর প্রতিবাদ করেন। এবার [[দুঃশাসন]] দ্রৌপদীকে সর্বসমক্ষে বস্ত্রহীন করতে গেলে অসহায় দ্রৌপদী [[কৃষ্ণ|ভগবান কৃষ্ণকে]] স্মরণ করেন। [[কৃষ্ণ]] মায়ার প্রভাবে দ্রৌপদীর গায়ে কাপড় জড়িয়ে তাঁর সম্মানরক্ষা করেন।
 
তখন ধৃতরাষ্ট্র ভয়ভীত হয়ে পাণ্ডবদের সকল সম্পত্তি ফিরিয়ে দেন। স্বাভাবিকভাবেই, [[দুর্যোধন]] অসন্তুষ্ট হয় ও পুনর্বার পাশা আয়োজিত হয়। এবার পাণ্ডবরা হেরে গেলে তাঁদের জন্য ১২ বছরের বনবাস ও ১ বছরের অজ্ঞাতবাস নির্ধারিত হয়। স্থির হয়, এই সময়কালে কৌরবরা পাণ্ডবদের সমস্ত সম্পত্তি ভোগ করবে। অজ্ঞাতবাসের সময় পাণ্ডবদের নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে হবে, কিন্তু কৌরবদের দ্বারা সেই পরিচয় আবিষ্কৃত হলে পাণ্ডবদের আবার ১২ বছর বনবাস ভোগ করতে হবে।
প্রথমে যুদ্ধ [[পাণ্ডব]] ও [[কৌরব]]পক্ষে যথাক্রমে [[ধৃষ্টদ্যুম্ন]] ও [[ভীষ্ম|ভীষ্মকে]] সেনাপতি পদে বরণ করা হয়। উভয়পক্ষই এইসময় যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য নীতিভঙ্গ করতে থাকে –
 
ভীষ্ম প্রবল পরাক্রান্ত হয়ে উঠলে স্বয়ং কৃষ্ণ তাকে প্রতিরোধ করতে গিয়ে 'যুদ্ধে যোগদান না করার' প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করেন। যুদ্ধের ১০ম দিনে [[অর্জুন]] [[শিখণ্ডী|শিখণ্ডীকে]] (পূর্বজন্মে [[অম্বা (মহাভারত)|অম্বা]]) সাথে রেখে নিরস্ত্র ভীষ্মের ওপর ক্রমাগত বাণবর্ষণ করতে থাকেন ও এই বাণ দ্বারা ভীষ্ম শরশয্যায় শায়িত হয় ও তার পতন ঘটে। কৌরব পক্ষের সেনাপতি হন অস্ত্রগুরু দ্রোন। অর্জুনের পুত্র [[অভিমন্যু]] কৌরবদের চক্রব্যুহে প্রবেশ করলেও বের হবার উপায় না জানায় একা ‘সপ্তরথী’র সাথে যুদ্ধ করে নিহত হয়।এরপরহয়। এরপর কৃষ্ণের মন্ত্রণায় [[ভীম]] অশ্বত্থামা নামে একটি হাতিকে মারে ও সত্যবাদী [[যুধিষ্ঠির]] [[দ্রোণাচার্য|দ্রোণকে]] তাঁর পুত্রের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ জানায় '''(“'''[[অশ্বত্থামা|''অশ্বত্থামা'']] ''হত, ইতি গজ।''”)। শোকে দ্রোণ অস্ত্রত্যাগ করলে দ্রৌপদীর ভ্রাতা [[ধৃষ্টদ্যুম্ন]] তাঁকে বধ করেন। ভীম [[দুঃশাসন|দুঃশাসনের]] বুক চিরে রক্তপান করেন। সেনাপতি কর্ণ সারথি হিসেবে পান মহাবীর শল্যকে। কর্ণ ও অর্জুনের প্রবল দ্বৈরথ হয়। [[কর্ণ]]-অর্জুনের যুদ্ধে কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে যায় ও [[কর্ণ]] চাকা তুলতে গেলে অর্জুন তাঁকে বধ করেন। যুধিষ্ঠির [[শল্য|শল্যকে]] ও [[সহদেব]] [[শকুনি|শকুনিকে]] বধ করেন। একে একে সবার মৃত্যু হয়। শেষে [[ভীম]] কৃষ্ণের ইঙ্গিতে অন্যায়ভাবে গদা দ্বারা [[দুর্যোধন|দুর্যোধনের]] ঊরুভঙ্গ করে তাঁকে বধ করেন। কিন্তু গভীর রাতে [[অশ্বত্থামা]] পাণ্ডব শিবিরে প্রবেশ করে দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র, ধৃষ্টদ্যুম্ন প্রভৃতিদের হত্যা করেন। ক্রুদ্ধ পাণ্ডবেরা অশ্বত্থামার মস্তকের মণি হরণ করেন ও জরাগ্রস্ত অমর অশ্বত্থামা নিরুদ্দিষ্ট হন।
 
এই রূপে ১৮ দিনের মহাযুদ্ধে পাণ্ডবেরা জয়ী ঘোষিত হন।
কিন্তু ৩৬ বছর পর গান্ধারীর অভিশাপের ফলস্বরূপ [[কৃষ্ণ|কৃষ্ণের]] যদুবংশের সদস্যরা প্রভাস তীর্থে মদ্যপ অবস্থায় পরস্পরের সাথে অন্তর্দ্বন্দ্বে লিপ্ত হয়ে মুষল যুদ্ধে প্রাণ হারান। [[বলরাম]] শেষনাগ রূপে দেহত্যাগ করেন এবং সামান্য এক ব্যাধের নিক্ষিপ্ত শরে কৃষ্ণ নির্বাণপ্রাপ্ত হন। এমনকি [[দ্বারকা]] নগরীও সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়।
 
এসমস্ত অশুভ লক্ষণ প্রত্যক্ষ করে [[পাণ্ডব|পাণ্ডবেরা]] রাজ্যত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন ও অভিমন্যুর পুত্র [[পরীক্ষিৎ|পরীক্ষিৎকে]] সিংহাসনে বসিয়ে পঞ্চপাণ্ডব ও [[দ্রৌপদী]] হিমালয়ের পথে গমন করেন। কুকুররূপী ধর্ম তাদের পেছনে এই যাত্রায় সংগী হন। এটি ‘মহাপ্রস্থান’ নামে পরিচিত। কিন্তু নিজেদের জীবনের কিছু ত্রুটি থাকার দরুন যুধিষ্ঠির বাদে কেউই স্বশরীরে স্বর্গে যেতে পারেন না, পথেই তাঁদের মৃত্যু হয়। তবে দ্রোণকে মিথ্যা বলবার জন্য [[যুধিষ্ঠির|যুধিষ্ঠিরকেও]] একবার [[নরক]] দর্শন করতে হয়। এইভাবে তাঁরা সুখে-শান্তিতে স্বর্গসুখ ভোগ করতে থাকেন।
 
== বিভিন্ন সংস্করণ ও অনুবাদ ==