"কার্ল সেগান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে)
সেগান [[১৯৩৪]] সালের [[৯ নভেম্বর]]<ref name=poundstone>[[#Poundstone|Poundstone 1999]], pp. 363–364, 374–375</ref> নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে এক [[ইহুদী]] পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ''স্যাম সেগান'' ছিলেন পোশাক কারখানার সামান্য কর্মচারী<ref name="Internet Accuracy Project">{{cite web |title=Carl Sagan |url=http://www.accuracyproject.org/cbe-Sagan,Carl.html |website=Internet Accuracy Project |publisher=Internet Accuracy Project |location=Grandville, MI |accessdate=August 22, 2012}}</ref>। তার কাজ ছিল বিভিন্ন নকশা অনুযায়ী জামার কাপড় কেটেছেটে ঠিক করা। পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারে খারাপ না হলেও দারিদ্র্যসীমার সামান্য উপরে ছিল। কার্ল সেগান একবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছিলেন, [[১৯৩৯]] সালের কোন এক রবিবারে তার বাবা তাকে পাটিগণিতে শূন্যের ভূমিকা বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছিলেন এবং বলেছিলেন বড় সংখ্যা বলে কিছু নেই। কারণ যেকোন সংখ্যার সাথে এক যোগ করলেই আরেকটি বড় সংখ্যা পাওয়া যায়। বাবার কথায় তিনি এই বিষয়ে বিশেষ উৎসাহিত হয়ে পড়েন। শিশুসুলভ জিদের বশে তখনই ১ থেকে ১০০০ পর্যন্ত সংখ্যা লিখে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। তার হাতে লেখার জন্য কোন কার্ড না থাকায় বাবা তাকে লন্ড্রিতে জামা পাঠানোর সময় জমিয়ে রাখা একগাদা কার্ডবোর্ড এনে দেন। তবে কাজটি তার ধারণার চেয়ে ধীর গতিতে এগোচ্ছিল। তার উপর কিছু অংশ লিখার পর মা তাকে স্নানে যেতে বললেন। কাজ ফেলে তাই তখন তাকে উঠে পড়তে হয়। তার অনুপস্থিতিতে বাবা কাজটি চালিয়ে নিয়ে যান। তিনি স্নান শেষে এসে দেখেন ৯০০ পর্যন্ত লিখা শেষ। রাতের ঘুম কিছুটা নষ্ট করে তিনি সেদিনই ১০০০ পর্যন্ত লিখার কাজ সম্পন্ন করেন। সেই বাল্যকাল থেকেই সংখ্যা আর অঙ্কের প্রতি তার কোন ভয় ছিলনা।
 
তার জীবনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা বাল্যকালে [[১৯৩৯]] সালে বাবা-মা'র সাথে নিউইয়র্কের একটি ওয়ার্ল্ড ফেয়ারে গমন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন বিষয় তিনি সেখানে বিস্মিত হয়েছিলেন। সেখানে ছিল একটি ''টাইম ক্যাপসুল'' যাতে ভবিষ্যতের মানুষদের এ সময়কার মানুষ সম্বন্ধে অবহিত করার জন্য বর্তমানের বিভিন্ন জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা হয়েছিল। তাকে সবচেয়ে বিস্মিত করেছিল দুইটি জিনিস। এক স্থানে লিখা ছিল ''শব্দ দেখ'' এবং আরেক স্থানে ''আলোক শোন''। এর তাৎপর্য বালক সেগান বুঝতে না পারলেও তার শিশুসুলভ বিস্ময় তাকে যুগিয়েছিল পরবর্তী যুগে বিজ্ঞান সাধনার অনুপ্রেরণা। একটি টিউনিং ফর্ককে আঘাত করে ওসিলোস্কোপের সামনে ধরলে পর্দায় সুন্দর সাইন তরঙ্গ দেখা যায়। আবার আলোক কোষের উপর আলো ফেলে মটোরোলা বেতার যন্ত্র শোনানো হয়েছিল। এভাবেই শিশুকাল থেকেই সেগান বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে বেড়ে উঠেন। এক্ষেত্রে তার বাবা-মা'র অবদান ছিল অনস্বীকার্য। তার বাবা-মা বিজ্ঞান সম্বন্ধে তেমন কিছুই জানতেন না, কিন্তু ছেলেকে সবসময়ই বিজ্ঞানের নব নব আবিষ্কার ও বিশ্বজগতের সমস্যা নিয়ে চিন্তা করার সুযোগ করে দিয়েছেন<ref name="Carl Sagan">{{cite web |url=http://www.famousscientists.org/carl-saga |title=Carl Sagan |website=Famous Scientists |publisher=famousscientists.org |accessdate=August 22, 2012}}</ref>। আর্থিক অবস্থা তেমন ভাল না হওয়া সত্ত্বেও তারা সেগানের জ্যোতির্বিজ্ঞানী হওয়ার প্রশ্নে কোন দ্বিমত পোষণ করেননি। এ কারণে বাবা-মা'র প্রতি তিনি সবসময়ই কৃতজ্ঞতা অনুভব করেছেন।
 
=== জ্যোতির্বিজ্ঞানী হয়ে উঠার প্রেরণা ===
সেগান কিছুটা বড় হওয়ার পরপরই বাবা-মা তাকে প্রথম একটি লাইব্রেরি কার্ড ইস্যু করে দেন। গ্রন্থাগারটি ছিল ৮৫নং সড়কে যেখানে তিনি আগে কখনও যাননি। গ্রন্থাগারটিও ছিল তাই তার কাছে নতুন। সেখানে গিয়ে গ্রন্থাগারিকের কাছে তিনি তারকা-সংক্রান্ত একটি বই চান। গ্রন্থাগারিক মহিলা তাকে ক্লার্ক গ্যাব্‌ল এবং জ্যাঁ হারলো'র মত তারকাদের ছবি সংবলিত বই এনে দেন। বইয়ে কেবল নায়ক-নায়িকার ছবি দেখে অনুযোগ করলেন সেগান। মহিলাটি বুঝতে পেরে হাসলেন। এরপর তাকে এনে দেন জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর লেখা একটি বই। বইটি তার কাছে খুব ভাল লেগে যায়। আশ্চর্য সব জিনিস দেখতে পেয়ে বিস্মিত হন সেগান। জানতে পারেন আকাশের তারা-নক্ষত্র সম্বন্ধে অজানা সব তথ্য। এ সম্বন্ধে সেগান বলেছেন,
{{cquote|
<i>''আমি কৌণিক মাপজোক সম্বন্ধে কিছুই জানতাম না। আলোর বিপরীত বর্গীয় সূত্র সম্বন্ধে আমি ছিলাম সম্পূর্ণ অজ্ঞ। ফলে তারার দূরত্বের হিসাব-নিকাশ করার কোন সুযোগ ছিল না। কিন্তু তারপরও বলতে পারতাম তারাগুলো সূর্য হলে তাদের অবস্থান অনেক দূরে হতে হবে- ৮৫নং সড়ক থেকে দূরে, ম্যানহাটন থেকে দূরে, সম্ভবত নিউ জার্সি থেকেও দূরে। মহাবিশ্ব ছিল অনেক বড়, আমি যা ধারণা করেছিলাম তার থেকেও</i>''।<ref name="Davidson">[[#Davidson|Davidson 1999]]</ref>}}
এ সময় সেগান আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন। জানতে পারেন, পৃথিবীটা একটি গ্রহ এবং সূর্যের চারদিকে এমনি আরও অনেকগুলো গ্রহ আবর্তন করছে<ref>{{cite web |url=http://www.famousscientists.org/carl-saga |titlename="Carl Sagan |website=Famous Scientists |publisher=famousscientists.org |accessdate=August 22, 2012}}<"/ref>। কিছু গ্রহ সূর্য থেকে কাছে, কিছু আবার দূরে; পৃথিবী সূর্য থেকে দূরত্বের দিক থেকে তৃতীয়। এভাবে তিনি ভাবলেন, অন্য তারাগুলোরও নিশ্চয়ই এরকম গ্রহমণ্ডল থেকে থাকবে। তার এই চিন্তার বাস্তবায়ন জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারেননি। অতি সাম্প্রতিককালে সূর্য ছাড়াও অন্যান্য তারায় গ্রহমণ্ডল আবিষ্কৃত হচ্ছে। এছাড়া তখন থেকেই তিনি সেই সব অন্য গ্রহেও যে প্রাণ থাকতে পারে সে বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন। আর এর সাথে এ-ও বুঝতে পারেন যে এগুলো জানতে হলে তাকে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করতে হবে। এ কারণেই তিনি তার পথ বেছে নিয়েছেন। তার এই আগ্রহে সাহস যুগিয়েছিলেন তার বাবা, মা এবং শিক্ষকেরা। একই সাথে জন্মের সময়টিকেও সেগান ধন্যবাদ জানিয়েছেন। কারণ এর আগে জন্ম নিলে ইচছা থাকা সত্ত্বেও তিনি এ সকল প্রশ্নের উত্তর জানতে পারতেন না। কারণ জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ের মৌলিক আবিষ্কার শুরুই হয়েছে ঊনবিংশ শতকের প্রথম থেকে।
 
=== শিক্ষা জীবন ===
শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মাধ্যমে সেগান বিশুদ্ধ বিজ্ঞান শিক্ষার মৌলিক চেতনা লাভ করেন। এই কার্যক্রমের পরিচালক ছিলেন [[রবার্ট এম হাচিন্‌স]]। এই কার্যক্রমে বিজ্ঞানকে প্রকাশ করা হতো সমস্ত মানব জ্ঞানের অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে। সেখানে বোঝানো হতো, একজন পদার্থবিজ্ঞানীরও [[প্লেটো]], [[আরিস্টটল]], বাখ শেক্সপিয়ার, গিবন জানা থাকা প্রয়োজন। কার্যক্রমের পরিচিতিমূলক বিজ্ঞান ক্লাসে প্রথমত টলেমির পৃথিবীকেন্দ্রিক ব্যবস্থাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো যে, কোপারনিকাসের সৌরকেন্দ্রিক মতবাদ নিয়েও নতুনভাবে চিন্তা করতে হতো। এর ফলে ছাত্রদের চিন্তাধারায় ব্যাপক পরিবর্তন ঘটে যেতো। হাচিন্‌স কারিকুলামের শিক্ষকদের মানদণ্ড তাদের গবেষণার সাথে সম্পর্কযুক্ত ছিল না। এই শিক্ষকদের মান নির্ধারণ করে দেয়া হতো শিক্ষা দেয়ার পদ্ধতির ভিত্তিতে, কতটুকু তথ্য তারা পৌঁছে দিতে পারছেন, কতটুকু উৎসাহ যোগাতে পারছেন এবং নতুন কোন দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করতে পারছেন কি-না তার উপর। এই শিক্ষার ফলে তিনি মহাবিশ্বের কর্মকাণ্ডকে ব্যাপক দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত হয়েছিলেন। তার পঞ্চাশের দশকের শিক্ষকদের প্রতি তিনি সবসময়ই কৃতজ্ঞতা বোধ করেছেন। তথাপি তার শিক্ষা জীবন সম্বন্ধে তাকে বলতে শোনা যায়:
{{cquote|
<i>''কিন্তু আমি যদি পিছনে ফিরে তাকাই তাহলে এটা আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, আমি আমার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস স্কুল শিক্ষকদের কাছ থেকে নয়, এমন কি আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের কাছেও নয়, বরং শিখেছি আমার পিতামাতার কাছ থেকে, যাঁরা বলতে গেলে বিজ্ঞান সম্পর্কে কিছুই জানতেন না।</i>''}}
 
=== মৃত্যু ===
* '''Intelligent Life in the Universe''' (১৯৬৬) সহ-লেখক: আয়োসিফ সামুইলোভিচ স্ক্‌লভ্‌স্কি। রান্ডম হাউজ
=== সেগান সম্বন্ধে রচিত ===
 
 
== তথ্যসূত্র ==
১,৫২,৩৪১টি

সম্পাদনা