ধর্মের সমালোচনা: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান সংশোধন
(বানান সংশোধন)
'''ধর্মের সমালোচনা''' ({{lang-en|'''Criticism of religion'''}}) বলতে বোঝানো হয় ধর্মীয় ধ্যান-ধারণা, ধর্মীয় মতবাদ, ধর্মের যথার্থতা ও ধর্মচর্চার সাথে সংশ্লিষ্ট আচার-অনুষ্ঠান, প্রথা, রীতি-নীতি এবং তৎসংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক ঈঙ্গিতসমূহের গঠনমূলক সমালোচনা।<ref>{{Cite book| last=Beckford|first=James A.|title=Social Theory and Religion| page=2| year=2003| publisher=Cambridge University Press|location=Cambridge, UK|isbn=0-521-77431-4|oclc=829713403}}</ref>
 
[[ধর্ম|ধর্মের]] সমালোচনার একটি সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।&nbsp;সুদূর অতীতে [[প্রাচীন গ্রিস|প্রাচীন গ্রিসে]], খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দিতেশতাব্দীতে দার্শনিক ‘মেলোসের [[নাস্তিক]]’ ‍দিয়াগোরাসের (Diagorus 'the Atheist' of Melos) মতবাদ থেকে শুরু করে, [[প্রাচীন রোম|প্রাচীন রোমে]], খ্রিষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দিতেশতাব্দীতে রচিত দার্শনিক [[লুক্রেতিউস|লুক্রেশিয়াসের]] রচনা ''De Rerum Natura'' (On the Nature of Things) প্রভৃতি ধর্মের সমালোচনার আদিমতম নিদর্শনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ধর্মের সমালোচনার বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে কারণ পৃথিবীর বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ভাষায় ধর্মের বিচিত্র সব সংজ্ঞা ও ধারণা পাওয়া যায় যেগুলো একটি আরেকটির থেকে নানাভাবে আলাদা। ধর্মীয় মতবাদসমূহের মধ্যে [[একেশ্বরবাদ]], [[বহু-ঈশ্বরবাদ]], [[সর্বেশ্বরবাদ]], [[নিরীশ্বরবাদ]] প্রভৃতি শাখা-প্রশাখার এবং [[খ্রিষ্ট ধর্ম]], [[ইহুদী ধর্ম|ইহুদি ধর্ম]], [[ইসলাম ধর্ম]], তাওইজম, [[বৌদ্ধ ধর্ম]] এবং এরূপ অসংখ্য সুনির্দিষ্ট বিচিত্র মতবাদের অস্তিত্ব থাকায়, প্রায়শই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হয় না, যে ঠিক কোন ধর্মীয় মতবাদকে উদ্দেশ্য করে সমালোচনা করা হচ্ছে।
 
পৃথিবীর সব স্বতন্ত্র ধর্মই নিজেদের মতবাদের সত্যতা দাবি করে এবং অন্য সব স্বতন্ত্র ধর্মীয় মতবাদসমূহকে নাকচ করে।<ref name=hatespeech1>{{cite web | quote = The Court has repeatedly stated that members of a religious community must tolerate the denial by others of their religious beliefs. | title = Human Rights in a Multicultural Society - Hate Speech | url = https://www.coe.int/t/dghl/standardsetting/media/confantiterrorism/GTDHDEVA(2006)008_en.asp | access-date= September 21, 2016 | archive-url = https://www.coe.int/t/dghl/standardsetting/media/confantiterrorism/GTDHDEVA(2006)008_en.asp | archive-date = February 9, 2007 | dead-url = no | publisher = [https://www.coe.int Council of Europe]}}</ref><ref name=gelber2007>{{cite book | first1 = Katharine | last1 = Gelber | first2 = Adrienne | last2 = Sarah Ackary Stone | title = Hate Speech and Freedom of Speech in Australia | url = https://books.google.com/books?id=Y3oYYweMrF8C | year = 2007 | publisher = Federation Press | isbn = 978-1-86287-653-8 | quote = In some belief systems, religious leaders and believers maintain the right to both emphasise the benefits of their own religion and criticise other religions; that is, they make their own claims and deny the truth claims of others. | page = 179}}</ref><ref name=herz2012>{{cite book | quote = ...people of every religion, as well as of no religion, have a reason for wanting it to be possible to face other people with challenges to their faith, namely that this is the only way those people can be brought to see the truth. | first1 = Michael | last1 = Herz | first2 = Peter | last2 = Molnar | title = The Content and Context of Hate Speech: Rethinking Regulation and Responses | url = https://books.google.com/books?id=KC0gAwAAQBAJ | date = April 9, 2012 | publisher = Cambridge University Press | isbn = 978-1-107-37561-1}}</ref><ref name=quilliam>{{cite web | quote = Due to the nature of religious belief, one person’s faith often implies that another’s is wrong and perhaps even offensive, constituting blasphemy. For example, the major world religions often have very different formulations and beliefs concerning God, Muhammad, Jesus, Buddha and the Hindu deities, as well as about various ethical and social matters | title = No Compulsion in Religion: An Islamic Case Against Blasphemy Laws | publisher = [http://www.quilliamfoundation.org Quilliam Foundation] | url = http://www.quilliamfoundation.org/wp/wp-content/uploads/publications/free/no-compulsion-in-religion.pdf | format = PDF | access-date= September 21, 2016}}</ref> সমালোচনাকারীরা ধর্মের সমালোচনা করার সময় সাধারণত ধর্মগুলোকে সেকেলে, অনুসারী ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর, সমাজের জন্য ক্ষতিকর, বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতাস্বরূপ, অনৈতিক আচরণ ও প্রথার উৎস এবং সামাজিক নিয়ন্ত্রণের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করে থাকেন।
''Religion'' (উচ্চারণ: ''রিলিজিওন'', অর্থ: উপসনা ধর্ম) শব্দটির উৎপত্তি [[ফরাসি ভাষা|ফরাসি]] ''religion ''থেকে, যেমন, "religious community" (উচ্চারণ: ''রিলিজিয়াস কম্যুনিটি'', অর্থ: ধর্মীয় সম্প্রদায়)। আবার এটি এসেছে [[লাতিন ভাষা|লাতিন]] ''religionem'' থেকে (nom. ''religio'') যার অর্থ “পবিত্র বিষয়ের প্রতি শ্রদ্ধা, [[ঈশ্বর|ঈশ্বরদের]] প্রতি নিষ্ঠা” ("respect for what is sacred, reverence for the gods"),<ref>{{cite web | last = Harper | first = Douglas | url = http://www.etymonline.com/index.php?term=Religion | title = Religion | website = [http://www.etymonline.com/ Online Etymology Dictionary] | access-date = September 18, 2016}}</ref> এবং “বাধ্যতা, যা মানুষ ও ঈশ্বরদের মধ্যে সেতুবন্ধনস্বরূপ” ("obligation, the bond between man and the gods"),<ref>{{ cite book | title = Shorter Oxford English Dictionary | publisher = Oxford University Press | location = London | edition = 6th | date = September, 2007 | isbn = 978-0-199-23324-3 }}</ref> যেটি আবার লাতিন ''religiō'' থেকে পাওয়া।
 
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় পৃথিবীতে, আধুনিক ‘religion’ শব্দের ব্যুৎপত্তিগত লাতিন শব্দমূল ''religio'' -কে বোঝা হতো ব্যক্তিবিশেষের উপাসনা করার গুণ হিসেবে; কখনই মতবাদ, চর্চা কিংবা [[জ্ঞান|জ্ঞানের]] উৎসকে নির্দেশ করতে ব্যবহৃত হতো না।<ref name="Harrison Territories">{{cite book|last1=Harrison|first1=Peter|title=The Territories of Science and Religion|date=2015|publisher=University of Chicago Press|isbn=978-0-226-18448-7| url = http://www.amazon.com/Territories-Science-Religion-Peter-Harrison/dp/022618448X/ref=asap_bc?ie=UTF8 | website = [http://www.amazon.com Amazon.com] | others = [http://press.uchicago.edu/books/excerpt/2015/Harrison_Territories.html Read excerpt]}}</ref> ধর্মের আধুনিক ধারণা এমন এক বিমূর্ততা, যা ধর্মকে কতকগুলো স্বতন্ত্র বিশ্বাস বা মতবাদের সমষ্টি হিসেবে উপস্থাপন করে। ধর্মের অর্থ হিসেবে এটি অতি সাম্প্রতিক একটি উদ্ভাবন, [[ইংরেজি ভাষায়]] যার ব্যাপক ব্যবহার সপ্তাদশ শতাব্দিশতাব্দী থেকে লক্ষণীয়। এসময় ‘ধর্ম’ বলতে বোঝানো হতে থাকে ‘উপাসনা ধর্মকে’। ইতিহাসবেত্তারা এর কারণ হিসেবে প্রটেস্ট্যান্ট সংস্কারের সময়ে খ্রিষ্ট ধর্মের বিভাজন ও ভ্রমণের যুগে [[বিশ্বায়ন|বৈশ্বায়নকে]] দায়ী করে থাকেন।<ref name="Harrison Territories" /> এ যুগে, [[ইউরোপীয় ইউনিয়ন|ইউরোপীয়দের]] সাথে অসংখ্য ভিন্ন [[সংস্কৃতি|সংস্কৃতির]] ও ভাষার দেশী-বিদেশী জনপদের যোগাযোগ স্থাপন আরও সাধারণ একটি ব্যাপারে পরিণত হয়। আবার এসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেকেরই নিজ ভাষায় ধর্মীয় ভাব প্রকাশের জন্য ‘religion’ -এর সমতূল্য ধারণা বা সমার্থক শব্দ ছিল না।<ref name="Harrison Territories" /> সপ্তাদশ শতকই সেই সময়, যখন ধর্মের ধারণা আধুনিক আকার পেতে শুরু করে। যদিও [[বাইবেল]], [[কুরআন]] এবং অন্যান্য প্রাচীন পবিত্র [[ধর্মগ্রন্থ|ধর্মগ্রন্থসমূহের]] মূল ভাষায় লিখিত সংস্করণে ধর্মের ধারণার কোন সুস্পষ্ট উল্লেখ ছিল না। এমনকি যে সংস্কৃতিতে এই ধর্মগ্রন্হসমূহ লেখা হয় কিংবা যারা এই গ্রন্হগুলো অনুসরণ করতেন তাদেরও ধর্মের কোন সুস্পষ্ট ধারণা ছিল না।<ref name=Nongbri>{{cite book|last1=Nongbri|first1=Brent|title=Before Religion: A History of a Modern Concept|date=2013|publisher=Yale University Press|isbn=030015416X}}</ref> উদাহরণস্বরূপ, [[গ্রিক ভাষা|গ্রিক]] শব্দ ''threskeia ''(উচ্চারণ: ''থ্রেসকিয়া বা থ্রিসকিয়া'') -এর কথা বলা যায়, যেটি [[হিরোডোটাস]] ও জোসিফাসের মত প্রখ্যাত গ্রিক লেখকেরা ‘উপাসনা’ অর্থে ব্যবহার করতেন। অথচ আজকের দিনে [[নূতন নিয়ম|নিউ টেস্টামেন্টে]] এর অনুবাদ করা হয়েছে ‘ধর্ম’ হিসেবে। মধ্যযুগেও উক্ত শব্দটি ‘উপাসনা’ কিংবা এর সমার্থক ভাব প্রকাশে ব্যবহৃত হতো।<ref name="Nongbri" /> আবার কুরঅানের ক্ষেত্রে, অধিকাংশ সময়ই [[আরবী]] শব্দ دين (উচ্চারণ: ''দ্বীন'') -এর আধুনিক ইংরেজি অনুবাদ করা হয় ‘religion’ বা ধর্ম হিসেবে, কিন্তু সপ্তাদশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত অনুবাদকেরা এই শব্দটি ব্যবহার করতেন ‘[[আইন]]’ বোঝাতে।<ref name="Nongbri" /> এমনকি খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতকেও গ্রিক দার্শনিক জোসিফাস গ্রিক শব্দ ''ioudaismos ''(উচ্চারণ: ''ইউদাইসমোস'') -কে ‘সম্প্রদায়’ অর্থে ব্যবহার করতেন, যার সাথে আধুনিককালের এক সেট বিমূর্ত ধারণা ও বিশ্বাসের সমাহার হিসেবে ধর্মের যে সংজ্ঞা প্রণীত হয়েছে তার কোন সম্পর্ক নেই। যদিও বর্তমানকালে অনেকেই&nbsp;''ioudaismos'' -কে ‘ইহুদি ধর্ম’ (Judaism) হিসেবে অনুবাদ করেন।<ref name="Nongbri" /> উনবিংশ শতকেই প্রথম চলিত ভাষায় ‘বৌদ্ধ ধর্ম’ (Buddhism), ‘[[হিন্দু ধর্ম]]’ (Hinduism), ‘তাওবাদ’ (Taoism), ‘কনফুসিয়ানিজম’ (Confucianism) প্রভৃতি শব্দের উন্মেষ ঘটে।<ref name="Harrison Territories" /><ref name="Invention Japan">{{cite book | last1 = Josephson | first1 = Jason Ānanda | title = The Invention of Religion in Japan | date = 2012 | publisher = University of Chicago Press | isbn = 0226412342}}</ref> [[জাপান|জাপানের]] সুদীর্ঘ ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, [[জাপানের ধর্মবিশ্বাস|জাপানে কখনই কোথাও ‘ধর্মের’ কোন ধারণা ছিল না]]। যেহেতু [[জাপানি ভাষা|জাপানী ভাষায়]] ‘ধর্ম’ বোঝাতে কোন শব্দ ছিল না, এমনকি এর কাছাকাছি ভাব প্রকাশ করে এমন কোন শব্দও না থাকায়, যখন ১৮৫৩ সালে [[মার্কিন]] রণতরীগুলো জাপানের উপকূলে এর জলসীমায় অবস্থান নেয় এবং তৎকালীর জাপান [[সরকার|সরকারকে]] অন্যান্য অনেক বিষয়ের সাথে ধর্মের স্বাধীনতাকেও রাষ্ট্রনীতি হিসেবে স্বীকার করে সন্ধিপত্রে স্বাক্ষরের জন্য চাপ দিতে থাকে, তখন জাপান সরকার বাধ্য হয় এই পশ্চিমা ধারণা গ্রহন করতে।<ref name="Invention Japan" />
 
উনিশ শতকের প্রখ্যাত [[ভাষাবিজ্ঞান|ভাষাতত্ত্ববিদ]] [[ম্যাক্স মুলার|ম্যাক্স মুলারের]] মতে, ইংরেজি ভাষায় ব্যবহৃত ‘religion’ শব্দটির শব্দমূল, লাতিন ''religio'' (উচ্চারণ: ''রিলিজিও'') শব্দটি মূলত ব্যবহৃত হতো “ঈশ্বর কিংবা ঈশ্বরবর্গের প্রতি নিষ্ঠা, পবিত্র বিষয়সমূহ সম্পর্কে সাবধানী চিন্তা ও [[ভক্তি]] (যেটিকে পরবর্তীতে [[সিসারো]] ‘অধ্যাবসায়’ হিসেবে ব্যাক্ত করেন)” অর্থে।<ref>{{cite book|first=Max|last=Müller|title=Natural Religion|publisher=Longmans, Green, and Co.|location=London, UK; New York, USA|page=33|year=1889|oclc=560888}}</ref><ref>[http://www.perseus.tufts.edu/hopper/text?doc=Perseus%3Atext%3A1999.04.0059%3Aentry%3D%2340976 Lewis & Short, ''A Latin Dictionary'']</ref> ম্যাক্স মুলার পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের বহু সংস্কৃতিকে ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে অনুরূপ ক্ষমতা-কাঠামোর অধিকারী হিসেবে চিন্হিত করেন, যেগুলোর মধ্যে [[প্রাচীন মিশরীয় ধর্ম|মিশরীয়]], [[পারস্য|পারস্যীয়]] ও [[ভারতের ইতিহাস|ভারতীয়]] সংস্কৃতিও অন্তর্ভূক্ত। তার মতে আজ যেগুলোকে আদিম ধর্মমত বলা হয়, তৎকালীন মানুষের কাছে সেগুলো ছিল কেবলই ‘আইন’ মাত্র।<ref>{{cite book|first=Friedrich Max|last=Müller|title=Introduction to the science of religion|year=1978|url=https://books.google.com/books?pg=PA28&id=aM0FAAAAQAAJ&as_brr=4||publisher=Arno Press|location=New York, USA|page=28|oclc=3447055|isbn=978-0405-10554-8|others=Reprint of the 1873 ed. published by Longmans, Green, London.}}</ref>
 
== ধর্মের সমালোচনার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ==
খ্রিষ্টপূর্ব ১ম শতাব্দিরশতাব্দীর বিখ্যাত রোমান কবি [[লুক্রেতিউস|টাইটাস লুক্রেশিয়াস কেরাস]] তার রচনা ''দে রেরুম নাতুরা'' -তে বলেন: {{উক্তি ২|কিন্তু এই একই ধর্ম প্রায়শই / মানুষের [মনে] নোংরা ধর্মদ্রোহিতার জন্ম দেয়।|লুক্রেতিউস|But 'tis that same religion oftener far / Hath bred the foul impieties of men.<ref name=titus1>{{cite book|url=http://books.mirror.org/gb.lucretius.html |first=Titus |last =Lucretius Carus| authorlink=লুক্রেতিউস|trans-title=On the Nature of Things|title=De Rerum Natura |accessdate=August 31, 2016 |archive-url=http://books.mirror.org/gb.lucretius.html| website=[http://books.mirror.org Mirror.org]| archive-date=August 31, 2016|format=HTML}}</ref>|ভাষা=en}} [[এপিকুরোস|এপিকুরিয়]] মতাদর্শের একজন দার্শনিক হিসেবে, লুক্রেশিয়াস বিশ্বাস করতেন যে, সমগ্র বিশ্বজগৎ পদার্থ ও শূণ্যস্থানের সমণ্বয়ে গঠিত এবং সকল জাগতিক ঘটনাকেই প্রাকৃতিক কারণের ফলাফল হিসেবে অনুধাবন করা সম্ভব। এপিকুরাসের ন্যায় লুক্রেশিয়াসও মনে করতেন যে ভয় ও অজ্ঞতা থেকেই ধর্ম জন্মলাভ করেছে এবং প্রকৃতিজগৎকে কার্যকারণ সম্পর্কের ভিত্তিতে অনুধাবনের মাধ্যমেই মানুষ ধর্মের শেকল থেকে মুক্তি পাবে;<ref>{{cite web| url=http://www.utm.edu/research/iep/l/lucretiu.htm |first=Titus |last =Lucretius Carus| title=Lucretius (c.99&nbsp;– c.55 BCE) |publisher=Internet Encyclopedia of Philosophy |accessdate=August 31, 2016 |archive-url=http://www.utm.edu/research/iep/l/lucretiu.htm|archive-date=August 31, 2016}}</ref> যদিও, তিনি ঈশ্বরদের অস্তিত্বে বিশ্বাস করতেন।<ref name="Stanford - Lucretius">{{cite web|title=Lucretius – Stanford Encyclopedia|url=http://plato.stanford.edu/entries/|accessdate=April 19, 2012|archive-url=http://plato.stanford.edu/entries/|archive-date=April 19, 2012}}</ref> তিনি কখনই ধর্ম কিংবা ধর্মসংশ্লিষ্ট কোন বিষয়ের বিরুদ্ধে ছিলেন না; কিন্তু তৎকালীন সমাজের প্রথাগত ধর্মসমূহকে তিনি অন্ধবিশ্বাস হিসেবে দেখতেন কারণ তার মতে সেগুলো এই শিক্ষা ‍দিতো যে, ঈশ্বরগণও প্রাকৃতিক জগতে হস্তক্ষেপ করে থাকেন।<ref name="Latin-English: On Nature">{{cite book| first=Titus |last =Lucretius Carus|trans-title=On the Nature of Things|title=De Rerum Natura|language=English|year=1992|location=Cambridge, Massachusetts|publisher=Harvard University Press|isbn=0-674-99200-8|page=8|quote=This (superstition) or "false religion", not "religion," is the meaning of "religio". The Epicureans were opposed, not to religion (cf. 6.68–79), but to traditional religion which taught that the gods govern the world. That Lucretius regarded "religio" as synonymous with "superstitio" is implied by "super....instans" in [line] 65।|others=(Loeb Classical Library No. 181), W.H.D. Rouse কর্তৃক অনূদিত, M. F. Smith কর্তৃক পরিমার্জিত এবং ১৯২৪ সালের পরিমার্জিত সংস্করণের সাথে পুনঃমুদ্রিত}}</ref>
 
ষোড়শ শতকের শুরুর দিকে [[নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি]] বলেন: {{উক্তি ২|আমরা ইতালীয়রাই সবার থেকে বেশি অধার্মিক ও দুর্নীতিবাজ... কারণ চার্চ এবং তার প্রতিনিধিত্বকারীরা আমাদের জন্য নিকৃষ্ট দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।|নিক্কোলো মাকিয়াভেল্লি<ref name="isbn014044534x">{{Cite book|author1=Middlemore, S. G. C. |author2=Burckhardt, Jacob |author3=Murray, Peter |author4=Burke, Peter |title=The Civilization of the Renaissance in Italy |publisher=Penguin Classics |location= |year= 1990|isbn=0-14-044534-X |oclc= |doi=}}</ref>|We Italians are irreligious and corrupt above others... because the church and her representatives have set us the worst example.|ভাষা=en}} মাকিয়াভেল্লির দৃষ্টিতে ধর্ম ছিল শুধুই একটি হাতিয়ার, যেটি জনমত নিয়ন্ত্রণে ইচ্ছুক শাসকদের খুব কাজে আসে।<ref name=prince1964>{{cite book | url = http://www.gutenberg.org/files/1232/1232-h/1232-h.htm | trans-title = The Prince | title = Il Principe | language = English | publisher = Penguine Books | location = London | website = | work = [http://www.gutenberg.org Project Gutenberg] | isbn = 978-0-14-044915-0 | first = Niccolò | last = Machiavelli | orig-year = 1532 | year = 1961 | accessdate = August 31, 2016 | archive-url = http://www.gutenberg.org/files/1232/1232-h/1232-h.htm | archive-date = August 31, 2016 | others = Translated by George Bull }}</ref>
এছাড়াও আঠারো শতকের অন্যতম প্রোথিতযশা দার্শনিক ও প্রাবন্ধিক [[ডেভিড হিউম]] ধর্মের সত্যতার সপক্ষে করা উদ্দেশ্যবাদী বা বুদ্ধিদীপ্ত পরিকল্পনা যুক্তির সমালোচনা করেন। হিউমের মতে, মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খলার কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক কার্যকারণ সম্পর্কযুক্ত ব্যাখ্যাই অনেক বেশি যৌক্তিক। ধর্মের দার্শনিক ভিত্তির অযৌক্তিকতা তুলে ধরা ছিল হিউমের সাহিত্যকর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য।<ref>{{cite web | url = http://plato.stanford.edu/entries/hume-religion/ | title = Hume on Religion | publisher = [http://plato.stanford.edu/ Stanford Encyclopedia of Philosophy] | accessdate = September 18, 2016 | archive-url = http://plato.stanford.edu/entries/hume-religion/ | archive-date = February 11, 2013}}</ref>
 
একবিংশ শতাব্দিরশতাব্দীর শুরুর দিককার সময়ে, নব্য [[নাস্তিক্যবাদ|নাস্তিক্যবাদের]] সমর্থক ও ধর্মের কঠোর সমালোচক হিসেবে স্যাম হ্যারিস, ড্যানিয়েল ডেনেট, [[রিচার্ড ডকিন্স]], ক্রিস্টোফার হিচেন্স প্রমুখ প্রখ্যাত ব্যক্তির নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।<ref>{{cite web | last=Bailey | first=David | title=What are the merits of recent claims by atheistic scholars that modern science proves religion to be false and vain?| url=http://www.sciencemeetsreligion.org/theology/atheists.php | accessdate=August 31, 2016 | archive-url=http://www.sciencemeetsreligion.org/theology/atheists.php | archive-date = August 31, 2016}}</ref><ref>{{cite web | first = James E. | last = Taylor | title = The New Atheists | location = [http://www.westmont.edu/ Westmont College, U.S.A.]| url = http://www.iep.utm.edu/n-atheis/ | website = [http://www.iep.utm.edu/ Internet Encyclopedia of Philosophy] | accessdate = August 31, 2016 | archive-url = http://www.iep.utm.edu/n-atheis/ | archive-date = August 31, 2016 | issn = 2161-0002}}</ref>
 
== ধর্মীয় ধারণাসমূহের সমালোচনা ==
মতবিরোধ তত্ত্বের (Conflict thesis) প্রবক্তা জন উইলিয়াম ড্রেপার ও অ্যান্ড্রু ডিকসন, যুক্তি দেখিয়েছেন যে, যখন কোন বিশেষ ধর্ম [[জীবনের উদ্দেশ্য]], [[নৈতিকতা]], [[জীবনের উৎপত্তি]] ও বিজ্ঞানের মত জাগতিক মৌলিক বিষয়গুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল প্রশ্নের সোজাসাপ্টা উত্তর দিতে শুরু করে, তখন সেটি একদিকে যেমন উক্ত ধারণাগুলোর অধিকতর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণকে নিরুৎসাহিত করে তেমনি আবার অন্যদিকে কৌতুহলকে অবদমন করে ও স্বীয় বিশ্বাসীদের বিস্তৃত দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে। যার ফলশ্রূতিতে, সামাজিক, নৈতিক ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ব্যাহত হয়। উদাহরণ হিসেবে তারা, গ্যালিলিওর প্রতি হওয়া অবিচার ও [[জর্দানো ব্রুনো|জিওর্দানো ব্রুনোর]] মৃত্যুদন্ডের ঘটনা উল্লেখ করেন।
 
সমগ্র উনবিংশ শতক জুড়েই মতবিরোধ তত্ত্ব বিকাশ লাভ করে। এই মডেল অনুসারে, বিজ্ঞান ও ধর্মের মাঝে যেকোন ধরনের মিথষ্ক্রিয়া একসময় অনিবার্যভাবেই প্রকাশ্য শত্রুতার দিকে ধাবিত হবে, যেখানে ধর্মকেই সাধারণত নতুন বৈজ্ঞানিক ধ্যান-ধারণার বিরুদ্ধে আগ্রাসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখা যাবে।<ref>{{Cite book|last=Wilson|first=David B.|editor=Gary Ferngren|title=Science & Religion: A Historical Introduction|year=2002|publisher=Johns Hopkins University Press|location=Baltimore|isbn=0-8018-7038-0}}</ref> উনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দিব্যাপীশতাব্দীব্যাপী ঐতিহাসিক মতবিরোধ মডেলটিই ছিল বিজ্ঞানের ইতিহাসের অধ্যাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিগমন। কিন্তু বর্তমানকালের পন্ডিতরা প্রায় সম্পূর্ণরূপেই এই মডেলের আদি রূপকে পরিত্যাগ করেছেন।<ref>{{Cite book|last=Russell|first=Colin A.|editor=Gary Ferngren|title=Science & Religion: A Historical Introduction|year=2002|publisher=Johns Hopkins University Press|location=Baltimore|isbn=0-8018-7038-0|page=7|chapter=The Conflict Thesis |quote=The conflict thesis, at least in its simple form, is now widely perceived as a wholly inadequate intellectual framework within which to construct a sensible and realistic historiography of Western science}}</ref><ref name="Shapin1996">{{Cite book
| author = Shapin, S.
| orig-year = 1996
১,৮৬১টি

সম্পাদনা