"তেজস্ক্রিয়তা" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(202.142.123.207-এর সম্পাদিত সংস্করণ হতে WikitanvirBot-এর সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণে ফেরত)
ট্যাগ: দৃশ্যমান সম্পাদনা মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
'''তেজস্ক্রিয়তা''' হলো কোন কোন ভারী মৌলিক পদার্থের একটি গুণ যেগুলোর নিউক্লিয়াস থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত [[আলফা কণা|আলফা]], [[বিটা কণিকা|বিটা]][[গামা রশ্মি]] বিকরীত হয়।
 
== আবিষ্কার ==
[[চিত্র:Alfa beta gamma radiation.svg|right|300px|thumb|আলফা কণিকা কাগজের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে, বিটা কণিকা অ্যালুমিনিয়াম প্লেটের মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণভাবে এবং গামা রশ্মি সীসার মধ্যে দিয়ে আংশিকভাবে প্রতিহত<!-- এর চেয়ে ভালো শব্দ মনে আসছে না --> হচ্ছে]]
ফরাসি বিজ্ঞানী [[হেনরী বেকরেল]] ১৮৯৬ সালে [[এক্সরে]] নিয়ে গবেষনা করার সময় এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত প্রাকৃতিক ঘটনা আবিষ্কার করে ফেলেন যা সারা বিশ্বের বিজ্ঞান জগতে দারুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি দেখতে পান যে, [[ইউরেনিয়াম]] ধাতুর [[নিউক্লিয়াস]] থেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অবিরত বিশেষ ভেদন শক্তি সম্পন্ন রশ্মি বা বিকিরন নির্গত হয়। তাঁর নামানুসারে এই রশ্মির নাম দেওয়া হয় [[বেকরেল রশ্মি|বেকারেল রশ্মি]]। তিনি লক্ষ করেন যে মৌল থেকে এই রশ্মি নির্গত হয়, তা একটি সম্পূর্ন নতুন মৌলে রুপান্তরিত না হওয়া পর্যন্ত এই রশ্মি নির্গমন অব্যাহত থাকে। পরবর্তীকালে [[মারি ক্যুরি|মাদাম কুরি]] ও তাঁর স্বামী [[পিয়ারেপিয়ের ক্যুরি|পিয়ের কুরি]] ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে দেখতে পান যে [[রেডিয়াম]], [[পোলোনিয়াম]], [[থোরিয়াম]], [[আ্যক্টিনিয়াম]] প্রভৃতি ভারী মৌলের নিউক্লিয়াস থেকেও বেকরেল রশ্মির মত একই ধরনের রশ্মি নির্গত হয়, যা এখন তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নামে পরিচিত। যে সব মৌল হতে তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় তাদেরকে তেজষ্ক্রিয় মৌল বলে। তেজষ্ক্রিয় রশ্মি নির্গমনের এই ঘটনাকে তেজষ্ক্রিয়তা(Radioactivity) বলে।
 
== সংজ্ঞা ==
 
== ব্যবহার ==
(১)* ক্যান্সার রোগ নিরাময়ের কাজে তেজষ্ক্রিয়তার ব্যবহার করা হয়।
(২)* উন্নত বীজ তৈরির গবেষনায় তেজষ্ক্রিয়তা সফল ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
(৩)* খনিজ পদার্থে বিভিন্ন ধাতুর পরিমাণ নির্ণয়ে উক্ত ধাতুর তেজষ্ক্রিয় আইসোটোপ তেজষ্ক্রিয় প্রদর্শক হিসেবে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।
(৪)* ঘড়ির কাঁটায় তেজষ্ক্রিয় থোরিয়ামের সাথে জিঙ্ক সালফাইড মিশিয়ে ঘড়ির কাঁটা ও নম্বরে প্রলেপ দেওয়া হয় ফলে এরা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করে।
(৫)* তেজস্ক্রীয় আইসোটোপ থেকে ফিশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত তাপ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইন ও জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
(৬)* নির্মাণ বা উৎপাদন-শিল্পে কাগজ, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম ইত্যাদি বিভিন্ন বস্তুর পুরুত্ব, ঘনত্ব ও উপাদানের সঠিক পরিমাণ নির্ণয়ে আলফা ও বিটা রশ্মিকে ব্যবহার করা হয়।
(৭)* কার্বন ডেটিং পদ্ধতিতে (তেজস্ক্রীয়তাতেজস্ক্রিয়তা-ক্ষয়ের পরিমাপ) বিশ্লেষণ করে জীবাশ্মসংক্রান্ত নমুনা ও শিলাখন্ডের বয়স নির্ধারণ করা হয়।
 
== তেজষ্ক্রিয়তার বিপদ ==
(১)* এই রশ্মি জীবদেহে মারাত্নক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
(২)* উচ্চ মাত্রার তেজষ্ক্রিয় বিকিরন মানবদেহে নানা রকম ক্যান্সারের জন্ম দিতে পারে।
(৩)* দীর্ঘদিন মাত্রাতিরিক্ত তেজষ্ক্রিয় বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়, মানসিক বিকার এমন কি বিকলাঙ্গতাও দেখা দিতে পারে।
(৪)* এর ক্ষতিকর প্রভাব বংশ পরস্পরায়ও পরিলক্ষিত হয়।
(৫)* তেজষ্ক্রিয় বর্জ্য পদার্থ মানব সভ্যতার জন্য হুমকি স্বরূপ।
 
== তেজষ্ক্রিয়তার প্রতিকার ও চিকিৎসা ==
(১)* প্রখর সূর্যকিরণে (দুপুর ১২ - ২টা) বাহিরে যাওয়া থেকে বিরত থাকা।
(২)* যতটুকু সম্ভব বৃষ্টির পানিকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা।
(৩)* ক্লোরোফিল ও অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা।
(৪)* খাবারে আয়োডিন ব্যবহার করা (আয়োডিনযুক্ত লবণ)।
(৫)* দিনের বেলায় বাহিরে বের হলে সান-গ্লাস ব্যবহার করা।
(৬)* বিভিন্ন রেডিয়েশন থেরাপি অতিমাত্রায় গ্রহণ না করা।
(৭)* এক্স-রে ও রেডিয়েশন হয় এমন সব মেশিন থেকে দূরে থাকা।
(৮)* দিনের বেলায় বাহিরে বের হলে শরীর ঢেকে রাখা বা সান-লোশন বা ক্রিম ব্যবহার করা।
 
== তথ্যসূত্র ==
১,৩১৬টি

সম্পাদনা