প্রধান মেনু খুলুন

পরিবর্তনসমূহ

 
''দেবীভাগবত পুরাণ'' গ্রন্থের দ্বাদশ স্কন্ধে দেবীকে বেদজননী, ‘আদ্যাশক্তি’ (আদি পরমা শক্তি) ও [[গায়ত্রী মন্ত্র|গায়ত্রী মন্ত্রের]] সার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।{{Sfn|Rocher|1986|pp=171-172}} শ্লোকগুলিতে গায়ত্রী মন্ত্রের প্রত্যেকটি অক্ষর থেকে হিন্দু ধর্মীয় প্রথায় গুরুত্বপূর্ণ ১০০৮টি নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।{{Sfn|Rocher|1986|pp=171-172}} এই নামগুলি ঐতিহাসিক ঋষিগণ, দেবদেবী, সাংগীতিক ছন্দ, মুদ্রা ও দেবীর মাহাত্ম্যসূচক নাম।{{Sfn|Rocher|1986|pp=171-172}}
 
==প্রতিক্রিয়া==
ফাউলস্টন ও অ্যাবটের মতে, ''দেবীভাগবত পুরাণ'' গ্রন্থের শ্লোকসমূহ ও ধারণাগুলি [[উপনিষদ্‌|ঔপনিষদ্‌]] ভিত্তির উপর স্থাপিত। এই গ্রন্থে [[অদ্বৈত বেদান্ত|অদ্বৈতবাদ]] এবং [[ব্রহ্ম]] ও [[আত্মা (হিন্দু দর্শন)|আত্মার]] একত্ব প্রতিপাদিত হয়েছে।{{Sfn|Lynn Foulston |Stuart Abbott|2009|pp=75-76}}{{Sfn|Rocher|1986|p=170}} সি. ম্যাকেঞ্জি ব্রাউন ও অন্যান্য গবেষকের মতে, ''দেবীভাগবত পুরাণ'' [[আদি শঙ্কর|আদি শঙ্করের]] অদ্বৈত বেদান্ত শাখার দর্শন ও রূপকালঙ্কারগুলি ব্যবহার করেছে। যদিও এই ধারণাগুলি এই গ্রন্থে দেবীকে কেন্দ্র করে পুনঃসৃজিত হয়েছে।{{Sfn|Lynn Foulston |Stuart Abbott|2009|p=75}}{{Sfn|Cheever Mackenzie Brown|1998|p=12-17}} ট্রেসি পিঞ্চম্যানের মতে, এই গ্রন্থে দেবী শুধুমাত্র ব্রহ্ম-আত্মা নন, তিনি [[মায়া]] বা নিত্য-পরিবর্তনশীল জাগতিক সত্যও বটে।{{Sfn|Tracy Pintchman|2014|p=29-30}}
 
''দেবীভাগবত পুরাণ'' গ্রন্থে দেবী হলেন একাধারে ‘অবিদ্যা’র (অজ্ঞানতা) মাধ্যমে আত্ম-বন্ধনের এবং ‘বিদ্যা’র (জ্ঞান) মাধ্যমে আত্ম-মোক্ষ লাভের কারণ।{{Sfn|Lynn Foulston |Stuart Abbott|2009|p=75}} এই গ্রন্থ অনুসারে, তিনি ব্রহ্ম নামে পরিচিত বৈদিক [[অধিবিদ্যা|অধিবিদ্যামূলক]] সত্যের ধারণাটির অনুরূপ। অন্যদিকে তিনি [[মহাশক্তি]], ব্রহ্মাণ্ডের চালিকাশক্তি, মহানায়িকা, গুপ্তশক্তি, শক্তি এবং সকলের অন্তরে নিহিত আনন্দ।{{Sfn|Lynn Foulston |Stuart Abbott|2009|pp=75-76}}{{Sfn|Tracy Pintchman|2015|pp=128, 131-138}}{{Sfn|David Kinsley|1997|pp=131-134}} কিনসলের মতে, এই পুরাণে উল্লিখিত দেবীই হলেন সকল পদার্থ, ধরিত্রী মাতা, ব্রহ্মাণ্ড ও পরমাপ্রকৃতি।{{Sfn|David Kinsley|1988|pp=179-180}} ব্রাউন বলেছেন, এই গ্রন্থে দেবীকে ‘ব্রহ্মাণ্ডের গর্ভাশয়’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি তাঁর সন্তানদের কাজকর্ম প্রত্যক্ষ করেন, তাঁদের সত্য প্রকৃতি আবিষ্কার ও উপলব্ধি করতে সাহায্য করেন, তাঁদের ভ্রান্তি ক্ষমা করেন, যাঁরা তাঁর সন্তানদের ভীতিপ্রদর্শন করেন, তাঁদের প্রতি ভয়ংকরী মূর্তি ধারণ করেন এবং তিনি সকল আত্মার বন্ধু হন।{{Sfn|C Mackenzie Brown|1990|pp=129-130}}
 
সিনথিয়া হিউমস খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে রচিত ''[[শ্রীশ্রীচণ্ডী|দেবীমাহাত্ম্যম্‌]]'' গ্রন্থে প্রদত্ত দেবীর বিবরণের সঙ্গে পরবর্তীকালে রচিত ''দেবীভাগবত পুরাণ'' গ্রন্থে প্রদত্ত দেবীর বিবরণের তুলনা করেছেন।{{Sfn|Alf Hiltebeitel|Kathleen M. Erndl|2000|pp=139-140 (Cynthia Humes)}} হিউমস বলেছেন, উভয় গ্রন্থেই নারীশক্তিকে বন্দনা করা হয়েছে। তবে দুই গ্রন্থের মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।{{Sfn|Alf Hiltebeitel|Kathleen M. Erndl|2000|pp=139-140 (Cynthia Humes)}} ''দেবীমাহাত্ম্যম্‌'' গ্রন্থে নারীর সম্পর্কে কোথাও নেতিবাচক কিছু বলা হয়নি। বরং বলা হয়েছে, “সকল নারীই দেবীর অংশসম্ভূতা”।{{Sfn|Alf Hiltebeitel|Kathleen M. Erndl|2000|pp=139-142 (Cynthia Humes)}} অপর দিকে ''দেবীভাগবত পুরাণ'' গ্রন্থে নারীর ধারণাটি জটিলতর।{{Sfn|Alf Hiltebeitel|Kathleen M. Erndl|2000|pp=139-142 (Cynthia Humes)}} এই গ্রন্থে কয়েকটি শ্লোকে নারীর সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, নারীর আচরণ “অবিমৃষ্যকারিতা, ভ্রান্ত, নিষ্ঠূর, অসৎ” হতে পারে। এই রকম আরও কিছু শ্লোক রয়েছে। এই পুরাণে নারীর বন্দনাও করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে তাঁর আচরণ “নায়িকাসুলভ, স্নেহশীল, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, শক্তিশালী” হতে পারে। এই রকম শ্লোকও এই পুরাণে পাওয়া যায়।{{Sfn|Alf Hiltebeitel|Kathleen M. Erndl|2000|pp=139-142 (Cynthia Humes)}}
 
জুন ম্যাকড্যানিয়েলের মতে, ''দেবীভাগবত পুরাণ'' একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভক্তিমূলক শাক্ত ধর্মগ্রন্থ।{{Sfn|June McDaniel|2004|pp=158-161}}
 
==আরও দেখুন==