"নিকারাগুয়া" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট বানান ঠিক করছে, কোনো সমস্যায় তানভিরের আলাপ পাতায় বার্তা রাখুন
(বট বানান ঠিক করছে, কোনো সমস্যায় তানভিরের আলাপ পাতায় বার্তা রাখুন)
(বট বানান ঠিক করছে, কোনো সমস্যায় তানভিরের আলাপ পাতায় বার্তা রাখুন)
|footnote1 = [[English language|ইংরেজি]] এবং আরও কিছু স্থানীয় ভাষা ক্যারিবীয় উপকূল অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়।
}}
'''নিকারাগুয়া''' ([[স্পেনীয় ভাষা|স্পেনীয় ভাষায়]] Nicaragua ''নিকারাউয়া'') মধ্য আমেরিকার একটি প্রজাতন্ত্র। এর সরকারীসরকারি নাম '''নিকারাগুয়া প্রজাতন্ত্র''' (República de Nicaragua ''রেপুব্লিকা দে নিকারাউয়া''). যদিও নিকারাগুয়া মধ্য আমেরিকার বৃহত্তম রাষ্ট্র, এর জনসঙ্খ্যা কম। এর উত্তরদিকে রয়েছে [[হন্ডুরাস]], দক্ষিণদিকে [[কোস্তা রিকা]]। নিকারাগুয়ার পশ্চিমদিকে রয়েছে [[প্রশান্ত মহাসাগর]], পূর্বদিকে [[ক্যারিবীয় সাগর]]। হন্ডুরাসের সাথে এ'দেশের সীমান্ত দৈর্ঘ্য ৯২২ কিমি ও কোস্তা রিকার সাথে ৩০৯ কিমি। অর্থাৎ প্রতিবেশী দুই দেশের সাথে দেশটির মোট সীমান্ত দৈর্ঘ্য ১২৩১ কিমি। দু'টি বৃহৎ মিষ্ট জলের হ্রদ - [[মানাগুয়া হ্রদ]] ও [[লেক নিকারাগুয়া|নিকারাগুয়া হ্রদ]], অনেকগুলি সুপ্ত ও জীবন্ত [[আগ্নেয়গিরি]] ও বিস্তীর্ণ [[অতিবৃষ্টি অরণ্য|রেনফরেস্ট]] এই দেশের সবচেয়ে বড় ভৌগলিক বৈশিষ্ট্য। দেশের জীববৈচিত্রের প্রাচুর্য এ' দেশকে মেসোআমেরিকার এক অন্যতম জৈবসম্পদে পূর্ণ দেশে পরিণত করেছে।
 
== নিকারাগুয়া নামের উদ্ভব ==
 
=== প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিম্নভূমি ===
পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিম্নভূমি অঞ্চলটি মুলত চওড়া ও উর্বর সমভূমি নিয়ে গঠিত। এই অঞ্চলটিতেই দেশের বেশিরভাগ জনবসতি অবস্থিত। কিন্তু [[কর্ডিলেরা লস মারিবিওস]] পর্বতশ্রেণীর বিভিন্ন আগ্নেয় পর্বত এই সমভূমিতে প্রবেশ করে একে মাঝেমাঝেই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন কয়েকটি উর্বর সমভূমি অঞ্চলে পরিণত করেছে। এই নিম্ন-সমভূমি অঞ্চলটি উত্তরে [[ফনসেকা উপসাগর]]'এর তীর থেকে শুরু হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের তীর বরাবর দক্ষিণে লেক নিকারাগুয়া পেরিয়ে কোস্তা রিকা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চলের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ভৌগলিকভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য হল মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে বড় দুটি অন্তর্দেশীয় হ্রদের উপস্থিতি - নিকারাগুয়া হ্রদ (লাগো কোকিবোলকা) ও মানাগুয়া হ্রদ। এর মধ্যে নিকারাগুয়া হ্রদটি দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ও আয়তনে অপেক্ষাকৃত বড়। এটি মধ্য আমেরিকার সবচেয়ে বড় মিষ্ট জলের হ্রদ (আয়তন ৮০০১ বর্গ কিমি, সর্বাধিক দৈর্ঘ্য ১৭৭ কিমি, সর্বাধিক গভীরতা ৭০ মিটার বা ২৩০ ফুট। আয়তনের বিচারে বিশ্বে ১৯তম।)। <ref>[http://www.factmonster.com/ipka/A0001777.html Large Lakes of the World]</ref> এই হ্রদটি থেকেই দেশের প্রধান নদী রিও সান হুয়ান নদীর উৎপত্তি, যা দেশটির দক্ষিণ সীমান্ত বরাবর পূর্বমুখে প্রবাহিত হয়ে অবশেষে ক্যারিবীয় উপসাগরে পড়েছে।
 
=== মধ্যভাগের উচ্চভূমি ===
সাধারণভাবে নিকারাগুয়ায় তাপমাত্রা সারাবছরই প্রায় একরকম থাকে। ঋতুভেদে তাপমাত্রার পার্থক্য ঘটে কম। তবু অঞ্চলভেদে নিকারাগুয়ার জলবায়ুর মধ্যে যথেষ্ট প্রভেদ পরিলক্ষিত হয়। পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিম্নভূমি অঞ্চল ও পূর্বে আতলান্তিক উপকূলে ক্যারিবীয় নিম্নভূমি অঞ্চল সারাবছরই বেশ উষ্ণ। এই অঞ্চলের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য ক্রান্তীয় অঞ্চলের মতো। কিন্তু দেশের মধ্যভাগে আগ্নেয়গিরি শৃঙ্খল ও তৎসন্নিহিত উচ্চভূমি অঞ্চলে ঋতুভেদে তাপমাত্রা যথেষ্ট ওঠানামা করে থাকে। শীতকালে এই অঞ্চলে ঠাণ্ডা পড়ে, তবে বৃষ্টিপাত ও জীবন্ত আগ্নেয়গিরিগুলি থেকে মাঝেমাঝেই অগ্ন্যুৎপাতের ফলে তাপমাত্রার স্থিরতা সময়ে সময়ে বিঘ্নিত হতে দেখা যায়।<br />
প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিম্নভূমি অঞ্চলটি জলবায়ুর দিক থেকে ''তিয়েরা কালিয়েন্তে'' বা উষ্ণ মণ্ডল হিসেবে পরিচিত। সারা বছরই এখানে তাপমাত্রা মোটামুটি একই রকম থাকে, {{convert|85|and|90|°F|°C|1|abbr=on|disp=flip}}'এর মধ্যে ঘোরাফেরা করে। নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত আবহাওয়া এই অঞ্চলে মোটামুটি শুকনো থাকে। কিন্তু মে মাস থেকে বর্ষা শুরু হয়ে অক্টোবর পর্যন্ত চলতে থাকে। সারা বছরে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০ - ৬০ মিলিমিটার। পূর্বে ক্যারিবীয় সাগর থেকে বয়ে আসা জলীয় বাস্প পূর্ণ বায়ু মধ্যভাগের উঁচু পর্বতমালায় বাধা পাওয়ার ফলে ঐ উচ্চভূমির পূর্ব ঢালের তুলনায় পশ্চিম ঢালে স্বভাবতই বৃষ্টির পরিমাণ কম। তবুও ভালো বৃষ্টিপাত, উর্বর জমি এবং অনুকূল জলবায়ুর কারণে দেশের এই পশ্চিম অঞ্চল আজ দেশের অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। দেশের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এই অঞ্চলেই বাস করেন।<br />
মধ্যভাগের উচ্চভূমি অঞ্চলটি দেশের ''তিয়েরা তেমপ্লাদা'' বা নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলের জলবায়ু প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিম্নভূমি অঞ্চলের তুলনায় শীতল। এখানকার গড় উষ্ণতা {{convert|75|to|80|°F|°C|1|abbr=on|disp=flip}}। বর্ষাকাল এখানে আরও দীর্ঘস্থায়ী, বৃষ্টিপাতের পরিমাণও বেশি। বৃষ্টিপাতের ফলে পাহাড়ী অঞ্চলে মাঝেমাঝেই ধ্বসধ্স নামে। সাধারণভাবে এই অঞ্চলে ভূমি রুক্ষ, জনঘনত্বও কম। তবে এই অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিমের ঢালে যে উপত্যকাটি দেখতে পাওয়া যায়, সেটি যথেষ্ট উর্বর। ফলে এই অঞ্চলে জনঘনত্বও অপেক্ষাকৃত বেশি।<br />
দেশের পূর্ব উপকূলের ক্যারিবীয় নিম্নভূমির জলবায়ুও সম্পূর্ণ ক্রান্তীয় অঞ্চলের উষ্ণ মণ্ডলীয় জলবায়ু। এই অঞ্চলের তাপমাত্রা অপেক্ষাকৃত বেশি, বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতাও যথেষ্ট বেশি। এই অঞ্চলে প্রচূর বৃষ্টিপাত হয়। বস্তুত এই অঞ্চল সমগ্র মধ্য আমেরিকার মধ্যে সবচেয়ে বৃষ্টিবহুল অঞ্চল। বছরে এর মোট পরিমাণ ২৫০০-৬৫০০ মিলিমিটার। অপেক্ষাকৃত কম জনবসতিপূর্ণ এই অঞ্চলের এক বড় অংশ জুড়ে ক্রান্তীয় [[রেনফরেস্ট]] দেখতে পাওয়া যায়।
বর্ষাকালে পূর্বদিকের ক্যরিবীয় নিম্নভূমি অঞ্চলের উপর দিয়ে বয়া বিভিন্ন নদীগুলির নিম্ন, মধ্য ও এমনকী কিছু কিছু ক্ষেত্রে উচ্চপ্রবাহ অঞ্চলেও বন্যার প্রকোপ দেখা যায়। প্রতিবছর এই বন্যার ফলে চাষবাস ও নদী অববাহিকাগুলি ঘিরে থাকা বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। এছাড়া মূলত জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে মাঝেমাঝেই প্রবল সামুদ্রিক ঝড় বা হ্যারিকেনের প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। এই সব ঝড়েও ক্যারিবীয় উপকূলীয় অঞ্চলের জীবনযাত্রা বহুসময়েই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে থাকে।
বর্তমানে ক্যাথলিক চার্চ সমগ্র দেশকে ৮টি ডায়াসেশনে ভাগ করেছে। দেশের মোট প্রায় ৪৩.৫ লক্ষ মানুষ তাদের অনুসরণ করেন। মোট ৩৬৭ জন ক্যাথলিক প্যারিস প্রিস্টের অধীনে এই অনুগামীরা বিন্যস্ত। একেকজন প্রিস্টের অধীন এলাকা প্রায় ৩২৬ বর্গ কিলোমিটার ও গড়ে ১১,৮০০ অধিবাসী তাঁদের অনুসরণ করেন।<br />
ঊনবিংশ শতাব্দী থেকে খ্রিষ্ট ধর্মের অন্য শাখাগুলিও নিকারাগুয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে শুরু করে। এদের মধ্যে প্রোটেস্টান্ট চার্চ, মোরাভীয় চার্চ, দ্য চার্চ অফ নাজারিন, দ্য অ্যাসেম্বলিজ অফ গড, প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। মূলত দেশের পশ্চিম অংশে এদের প্রভাব বেশি দেখা যায়। এদের মধ্যে মোরাভীয় চার্চের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঊনবিংশ শতাব্দীতে [[জার্মানি]] থেকে এই ধর্ম প্রচারকরা নিকারাগুয়ায় আসেন। বিশেষ করে অস্পেনীয় স্থানীয় বিভিন্ন উপজাতি, যেমন মেস্কিটো, সুমু, রামা ও ক্রেওল জনসাধারণের কাছে এই চার্চ ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৯০ এর দশক থেকে দেখা যাচ্ছে, [[প্রোটেস্টান্ট ধর্ম| প্রোটেস্টান্ট ধর্মের]] অনুরাগীর সংখ্যা দেশে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।<ref name="DOCID">[http://lcweb2.loc.gov/cgi-bin/query/r?frd/cstdy:@field(DOCID+ni0040) Nicaraguya: Religion,Country Studies (Library of Congress). সংগৃহীত ৭ আগস্ট, ২০১৪]</ref><br />
নিকারাগুয়ার মানুষ সাধারণভাবে ধর্মভীরু। প্রতি রবিবার নিয়ম করে গির্জার প্রার্থনায় যোগ দেওয়ার অভ্যাসে তাদের ঘাটতি থাকলেও, জনজীবনে ও এমনকী রাজনীতিতেও ক্যাথলিক বিশপদের বিশেষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বিশেষ করে ১৯৭০ ও ৮০'র দশকে সোমোথা সরকারের বিরুদ্ধে দেশ জুড়ে আন্দোলনে এঁদের প্রভাব ব্যাপকভাবে মানুষকে সংগঠিত করে। পরবর্তীকালে সান্দানিস্তা আন্দোলনের জনভিত্তি তৈরির ক্ষেত্রেও ক্যাথলিক গির্জার যথেষ্ট ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের গরীবগরিব মানুষকে এই আন্দোলনের পিছনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এরা অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা পালন করে।<br />
ধর্মাচরণের দিক থেকে দেখলে নিকারাগুয়ায় পালিত সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যাথলিক জনগোষ্ঠীর কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়। লাতিন আমেরিকার অন্য অনেক দেশের মতো এদেশে চালু ধর্মাচরণ বাস্তবে খ্রিষ্ট ধর্মের সাথে স্থানীয় আদিবাসী মানুষের প্রাচীন ধর্মাচরণের একটি মিশ্রণ নয়। এদেশে ষোড়শ শতকেই স্থানীয় অধিবাসীদের খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তকরণ একরকম সম্পূর্ণ হওয়া ও বাকিদের অনেককেই দেশ থেকে নির্বাসনের ফলে স্থানীয় মানুষের প্রাচীন ধর্মগুলির প্রভাব এদেশের মানুষের উপর পরবর্তীকালে আর তেমন পরিলক্ষিত হয় না। কিন্তু এদেশে খ্রিষ্টীয় সন্তদের জনপ্রিয়তা অত্যন্ত বেশি। সাধারণ মানুষের ধর্মাচরণ মূলত এঁদের ঘিরেই আবর্তিত হয়। সন্তদের ছবি, কুয়াদ্রোস, এদেশে প্রায় ঘরে ঘরে দেখতে পাওয়া যায়। সমাজের বিভিন্ন অংশ এঁদের মধ্যে বিশেষ কাউকে তাদের প্যাট্রন সেন্ট বলেও মনে করে থাকে। ফলে এইসব সন্তদের নামে উৎসর্গীকৃত দিবসগুলি এদেশে অত্যন্ত আড়ম্বর ও উৎসাহের সাথে পালিত হয়। যেমন রাজধানী মানাগুয়ায় সন্ত দমিনিক'এর সম্মানে আগস্ট মাসে দুইদিন ব্যাপী অত্যন্ত আড়ম্বরপূর্ণ মিছিলের আয়োজন করা হয়। দেশের নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষ বিশেষ করে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে থাকে।<ref name = DOCID/><br />
তবে বর্তমানে নিকারাগুয়ায় সরকারিভাবে ধর্মনিরপেক্ষ নীতি অনুসরণের ফলে, ও অন্যদেশ থেকে অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অন্যান্য ধর্মেরও প্রচলন ঘটেছে এবং তাদের প্রভাবও বৃদ্ধি পেয়েছে। এদের মধ্যে বৌদ্ধদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।<ref>[http://archivo.elnuevodiario.com.ni/2004/octubre/24-octubre-2004/mundo_oculto/mundo_oculto-20041020-01.html "El Budismo en Nicaragua", Con Todo El Podar de la Informcion, El Nuevo Diario,Domingo 24 de Octubre de 2004. সংগৃহীত ০৮ আগস্ট, ২০১৪।]</ref>
৬৫,৫০৯টি

সম্পাদনা