"শৈবধর্ম" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
(বট নিবন্ধ পরিষ্কার করেছে)
'''শৈবধর্ম''' বা '''শৈবপন্থ''' ([[সংস্কৃত]]: शैव पंथ) [[হিন্দুধর্ম|হিন্দুধর্মের]] চারটি প্রধান সম্প্রদায়ের অন্যতম (অন্য সম্প্রদায়গুলি হল [[বৈষ্ণবধর্ম]], [[শাক্তধর্ম]] ও [[স্মার্তধর্ম]])। এই ধর্মের অনুগামীদের "শৈব" নামে অভিহিত করা হয়। শৈবধর্মে ভগবান [[শিব|শিবকে]] একমাত্র সর্বোচ্চ ঈশ্বর বলে মনে করা হয়; এই ধর্মের অনুগামীরা ভগবান শিব কেই স্রষ্টা, পালনকর্তা, ধ্বংসকর্তা, সকল বস্তুর প্রকাশ ও ব্রহ্মস্বরূপ হিসেবে পুজার্চ্চনা করেন। [[ভারত]], [[নেপাল]] ও [[শ্রীলঙ্কা|শ্রীলঙ্কায়]] শৈবধর্ম সুপ্রচলিত। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার [[মালয়েশিয়া]], [[সিঙ্গাপুর]] ও [[ইন্দোনেশিয়া|ইন্দোনেশিয়াতেও]] শৈবধর্মের প্রসার লক্ষিত হয়।
 
শৈবধর্মের প্রাচীন ইতিহাস নিরুপণের কাজটি দুঃসাধ্য। হিন্দুধর্মের মহান গ্রন্থ [[মহাভারত|মহাভারতের]] বর্ণণা অনুযায়ী কুরু বংশের [[ কুল দেবতা ]] ছিলেন [[ভগবান শিব]]। আর একারনেই কুরু বংশের [[একশত কৌরব]] ও [[পঞ্চ পান্ডব]] এবং তাদের পিতৃপুরুষ সকলেই শৈবধর্মের উপাসক ছিলেন। বিগত [[২০১৩]] সালে [[ভারতীয়]] টিভি চ্যানেল [[ Star plus]] নির্মিত [[মহাভারত]] নামক টিভি সিরিয়ালটিতে বিষয়টি লক্ষ্য করা যায়। প্রাচীন যুগে বাংলার গৌড়েশ্বর [[মহারাজ শশাংক]] ছিলেন শৈবধর্মের উপাসক। তিনি তার নামের প্রথমে [[পরম শৈব]] উপাধি ব্যবহার করতেন। আর্যাবর্তে [[পাশুপত সম্প্রদায়]] সবচেয়ে প্রাচীন শৈব ধর্মাবলম্বী। এছাড়া প্রাচীন বাংলার সেন বংশীয় রাজারা ছিলেন শৈবধর্মের উপাসক। সেন রাজারা তাদের রাজকার্যের শুরুতে ভগবান শিবের স্তবের প্রচলন করেছিলেন। কিন্তু সেন বংশের শেষ রাজা [[লক্ষন সেন]] পিতামহ ও পিতৃদেবের শৈবধর্মের প্রতি অনুরাগ ত্যাগ করে [[বৈষ্ণব ধর্ম]] গ্রহন করেন। এর ফলে রাজা লক্ষনকে অনেক দূর্গতি পোহাতে হয়েছিল। শৈবধর্মের সুন্দর নিয়ম নীতি ত্যাগ করে তিনি বৈষ্ণবীয় নিয়ম নীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। ফলে রাজকার্যে অমনোযোগী হয়ে পড়েন। তারপর একজন মুসলিম তুর্কি সেনাপতি মাত্র ১৮ জন অশ্বারোহী সৈন্যদলের দ্বারা আক্রমনের শিকার হয়ে রাজপ্রাসাদের পিছনের দরজা দিয়ে পলায়ন করে সপরিবারে প্রথম রাজধানী নবদ্বীপ / নদীয়া নৌকাযোগে থেকে দ্বিতীয় রাজধানী পূর্ববঙ্গের মুন্সীগঞ্জের বিক্রমপুরে চলে আসেন। ধারণা করা হয় পিতামহ ও পিতৃদেবের শৈবধর্ম ত্যাগ করার কারনেই লক্ষন সেনের এরকম দূর্গতির কারন ছিল। সংগ্রহিত -[[বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা ]]<ref>'{{Harvnb|Tattwananda|1984|p=45}}.</ref> ''[[শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ]]'' (৪০০-২০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ) <ref name="Flood 1996 p. 86">For dating to 400-200 BCE see: Flood (1996), p. 86.</ref> শৈবধর্মের প্রথম সুসংহত দর্শনগ্রন্থ।<ref name="Chakravarti 1994 9">For {{IAST|Śvetāśvatara}} Upanishad as a systematic philosophy of Shaivism see: {{Harvnb|Chakravarti|1994|p=9}}.</ref> গেভিন ফ্লাডের মতে:
<blockquote class="toccolours" style="float:none; padding: 10px 15px 10px 15px; display:table;">... A theology which elevates Rudra to the status of supreme being, the Lord (Sanskrit: {{IAST|Īśa}}) who is transcendent yet also has cosmological functions, as does Shiva in later traditions.<ref>Flood (1996), p. 153.</ref></blockquote>
[[গুপ্ত সাম্রাজ্য|গুপ্তযুগে]] (৩২০ – ৫০০ খ্রিষ্টাব্দ) পৌরাণিক হিন্দুধর্ম বিকাশলাভ করে। এই সময়ই শৈবধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটেছিল। ক্রমে পৌরাণিক উপাখ্যানের কথক ও গায়কদের মাধ্যমে এই ধর্ম সমগ্র উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।<ref>For Gupta Dynasty (c. 320 - 500 CE) and Puranic religion as important to the spread across the subcontinent, see: Flood (1996), p. 154.</ref>
স্থান, প্রথা ও দর্শন ভেদে শৈবদের ভিন্ন ভিন্ন শাখা রয়েছে।<ref>For an overview of the Shaiva Traditions, see Flood, Gavin, "The Śaiva Traditions", in: Flood (2003), pp. 200-228. For an overview that concentrates on the Tantric forms of Śaivism, see [[Alexis Sanderson]]'s magisterial survey article ''Śaivism and the Tantric Traditions'', pp.660--704 in ''The World's Religions'', edited by Stephen Sutherland, Leslie Houlden, Peter Clarke and Friedhelm Hardy, London: Routledge, 1988.</ref> শৈবধর্মের সুবিশাল ধর্মীয় সাহিত্যে একাধিক দার্শনিক মতের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর মধ্যে "অভেদ" (অদ্বৈত), "ভেদ" (দ্বৈত) ও "ভেদাভেদ" (অদ্বৈত ও দ্বৈতের মিশ্রণ) শাখা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।<ref>{{Harvnb|Tattwananda|1984|p=54}}.</ref>
==শৈব ধর্মগ্রন্থ ও সাহিত্য==
''[[শ্বেতাশ্বেতর উপনিষদ্‌]]'' (রচনাকাল: খ্রিস্টপূর্ব ৪০০ - ২০০ অব্দ)<ref>For dating to 400-200 BCE see: name="Flood (1996), p. 86.<"/ref> শৈব দর্শনের প্রাচীনতম গ্রন্থ। এই গ্রন্থেই প্রথম শৈব দর্শন সুসংহতভাবে ব্যাখ্যা করা হয়।<ref>For {{IAST|Śvetāśvatara}}name="Chakravarti Upanishad1994 as a systematic philosophy of Shaivism see: {{Harvnb|Chakravarti|1994|p=9}}.<"/ref> ''[[শিব পুরাণ]]'', ''[[লিঙ্গ পুরাণ]]'', ''[[স্কন্দ পুরাণ]]'', ''[[অগ্নি পুরাণ]]'' ও ''[[বায়ু পুরাণ]]'' হল শৈবদের প্রধান পুরাণ গ্রন্থ। এগুলি সবকটিই [[মহাপুরাণ]]।<ref name="Nair 2008 266">{{cite book|last=Nair|first=Shantha N.|title=Echoes of Ancient Indian Wisdom: The Universal Hindu Vision and Its Edifice|year=2008|publisher=Hindology Books|isbn=978-81-223-1020-7|page=266|url=http://books.google.co.in/books?id=ekehXVP3W8wC&pg=PA266&dq=Vaishnava+Shaiva+Brahma+Puranas#v=onepage&q=Vaishnava%20Shaiva%20Brahma%20Puranas&f=false|location=Delhi}}</ref> শৈবদের প্রধান উপপুরাণগুলি হল ''[[শিব পুরাণ (উপপুরাণ)|শিব পুরাণ]]'', ''[[সৌর পুরাণ]]'', ''শিবধর্ম পুরাণ'', ''শিবধর্মোত্তর পুরাণ'', ''[[শিব রহস্য পুরাণ]]'', ''একাম্র পুরাণ'', ''পরাশর পুরাণ'', ''বশিষ্ঠ লিঙ্গ পুরাণ'' ও ''বিখ্যাদ পুরাণ''।<ref name="Rocher1986a">{{cite book|last=Rocher|first=Ludo|editor=Jan Gonda (ed.)|title=A History of Indian Literature |volume=Vol.II, Epics and Sanskrit religious literature, Fasc.3|year=1986|publisher=Otto Harrassowitz Verlag|location=Wiesbaden|isbn=3-447-02522-0|page=228|chapter=The Purāṇas}}</ref>
 
== পাদটীকা ==
১,৮৬,১২৭টি

সম্পাদনা