প্রধান মেনু খুলুন

পরিবর্তনসমূহ

পরিমার্জন
'''মহাভারত''' ([[সংস্কৃত]]: महाभारतम्) [[সংস্কৃত ভাষা|সংস্কৃত ভাষায়]] রচিত [[ভারতের ইতিহাস|প্রাচীন ভারতের]] দুটি প্রধান [[ভারতীয় মহাকাব্য|মহাকাব্যের]] অন্যতম (অপরটি হল ''[[রামায়ণ]]'')। এই মহাকাব্যটি হিন্দুশাস্ত্রের ''[[ইতিহাস (হিন্দুধর্ম)|ইতিহাস]]'' অংশের অন্তর্গত।
 
''মহাভারত''-এর মূল উপজীব্য বিষয় হল [[কৌরব]] ও [[পাণ্ডব|পাণ্ডবদের]] গৃহবিবাদ এবং [[কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ|কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের]] পূর্বাপর ঘটনাবলি। তবে এই আখ্যানভাগের বাইরেও [[হিন্দু দর্শন|দর্শন]] ও [[ভক্তিযোগ|ভক্তির]] অধিকাংশ উপাদানই এই মহাকাব্যে সংযোজিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, [[ধর্ম (হিন্দু দর্শন)|ধর্ম]], [[অর্থ (হিন্দু দর্শন)|অর্থ]], [[কাম (পুরুষার্থ)|কাম]] ও [[মোক্ষ]] – এই চার [[পুরুষার্থ]]-সংক্রান্ত একটি আলোচনা (১২।১৬১) সংযোজিত হয়েছে এই গ্রন্থে। ''মহাভারত''-এর অন্তর্গত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রচনা ও উপাখ্যানগুলি হল ''[[ভগবদ্গীতা]]'', [[দময়ন্তী|দময়ন্তীর]] উপাখ্যান, ''রামায়ণ''-এর একটি সংক্ষিপ্ত পাঠান্তর ইত্যাদি।ভগবদগীতাইত্যাদি; স্বয়ংতবে ভগবানেরএগুলিকে মুখনিঃসৃত''মহাভারত''-রচয়িতার বাণী।নিজস্ব রামায়ণসৃষ্টি অংশটিবলে পরবর্তীতে সংযুক্তমনে করা হয়েছে।হয়।
 
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ''মহাভারত''-এর রচয়িতা [[ব্যাসদেব]]। অনেক গবেষক এই মহাকাব্যের ঐতিহাসিক বিকাশ ও রচনাকালীন স্তরগুলি নিয়ে গবেষণা করেছেন। অধুনা প্রাপ্ত পাঠটির প্রাচীনতম অংশটি মোটামুটি ৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ রচিত হয়।<ref name=Brockington>Brockington (1998, p. 26)</ref> মহাভারতের মূলপাঠটি তার বর্তমান রূপটি পরিগ্রহ করে [[গুপ্ত সাম্রাজ্য|গুপ্তযুগের]] প্রথমাংশে (খ্রিষ্টীয় চতুর্থ শতাব্দী)।<ref>Van Buitenen; The Mahabharata - 1; The Book of the Beginning. Introduction (Authorship and Date)</ref> ''মহাভারত'' কথাটির অর্থ হল ''[[ভরত]] বংশের মহান উপাখ্যান''। গ্রন্থেই উল্লিখিত হয়েছে যে ''ভারত'' নামে ২৪,০০০ শ্লোকবিশিষ্ট একটি ক্ষুদ্রতর আখ্যান থেকে ''মহাভারত'' মহাকাব্যের কাহিনিটি বিস্তার লাভ করে।<ref>''bhārata'' means the progeny of ''[[Bharata (emperor)|Bharata]]'', the legendary king who is claimed to have founded the ''[[Bhāratavarsha]]'' kingdom.</ref>
''মহাভারত''-এ এক লক্ষ শ্লোক ও দীর্ঘ গদ্যাংশ রয়েছে। এই মহাকাব্যের শব্দসংখ্যা প্রায় আঠারো লক্ষ। ''মহাভারত'' মহাকাব্যটির আয়তন ''[[ইলিয়াড]]'' ও ''[[ওডিসি]]'' কাব্যদ্বয়ের সম্মিলিত আয়তনের দশগুণ এবং ''[[রামায়ণ]]''-এর চারগুণ।<ref>[[Howard Spodek|Spodek, Howard]]. Richard Mason. The World's History. Pearson Education: 2006, New Jersey. 224, 0-13-177318-6</ref><ref>Amartya Sen, ''The Argumentative Indian. Writings on Indian Culture, History and Identity'', London: Penguin Books, 2005.</ref>
 
{{হিন্দুধর্ম}}
 
== গঠন ও প্রসঙ্গ ==
 
* '''[[দ্বারকা]]'''
ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগ [[গুজরাত|গুজরাতের]] পশ্চিম উপকূলে সমুদ্রের গভীরে  &nbsp;প্রায় ৩৫০০-৪০০০ বছর পুরাতন একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত নগরী আবিষ্কার করেছে। এই নগরীকে মহাভারতে বর্ণিত যাদবদের [[দ্বারকা|দ্বারকা নগরী]] বলে অনুমান করা হয়েছে। প্রোফেসর এস. আর. রাও একে [[দ্বারকা]] বলেই চিহ্নিত করেছেন। যদিও এই ধারণার বিরুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়েছে ঐ অঞ্চলের নিকটে প্রাপ্ত ৩৫০০ বছর পুরোনো অন্য একটি ডুবন্ত নগরী।
 
               &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp; এই সমস্ত তথ্য ও মহাভারতের জ্যোতিষীয় তিথি, ভাষা বিশ্লেষণ ও বিদেশী সূত্রের প্রমাণ নিরীখে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় যে, মূল মহাভারতে রচনা ৩০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ অথবা ১৯০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে হয়েছিল। যদিও আধুনিক সংস্করণ গুলি ৬০০-২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে তৈরী হয়েছিল।
 
== ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ==
* ''[[সহদেব]]'' :'''<span lang="BN"></span>''' <span lang="BN">অশ্বিনীকুমারের বরজাত মাদ্রীর পুত্র শেষ পাণ্ডব, জ্যোতিষবিদ্যায় পারদর্শী।</span>
 
             &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;      &nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;&nbsp;এছাড়াও মহাভারতে [[কৃপাচার্য|''কৃপাচার্য'']]''',''' [[ঘটোৎকচ|''ঘটোৎকচ'']]''',''' [[দ্রুপদ|''দ্রুপদ'']]''',''' [[বলরাম|''বলরাম'']]''',''' [[বিরাট|''বিরাট'']]''',''' [[শান্তনু|''শান্তনু'']] এবং অসংখ্য প্রধান-অপ্রধান চরিত্র রয়েছে।
 
=== কুরু পরিবারের বংশতালিকা ===
প্রথমে যুদ্ধ [[পাণ্ডব]] ও [[কৌরব]]পক্ষে যথাক্রমে [[ধৃষ্টদ্যুম্ন]] ও [[ভীষ্ম|ভীষ্মকে]] সেনাপতি পদে বরণ করা হয়। উভয়পক্ষই এইসময় যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য নীতিভঙ্গ করতে থাকে –
 
যুদ্ধের ১০ম দিনে [[অর্জুন]] [[শিখণ্ডী|শিখণ্ডীকে]] (পূর্বজন্মে [[অম্বা (মহাভারত)|অম্বা]]) সাথে রেখে নিরস্ত্র ভীষ্মের ওপর ক্রমাগত বাণবর্ষণ করতে থাকেন ও এই বাণ দ্বারা ভীষ্ম শরশয্যায় শায়িত হয় ও তার পতন ঘটে। অর্জুনের পুত্র [[অভিমন্যু]] কৌরবদের চক্রব্যুহে প্রবেশ করলেও বের হবার উপায় না জানায় একা ‘সপ্তরথী’র সাথে যুদ্ধ করে নিহত হয়।এরপর কৃষ্ণের মন্ত্রণায় [[ভীম]] অশ্বত্থামা নামে একটি হাতিকে মারে ও সত্যবাদী [[যুধিষ্ঠির]] [[দ্রোণাচার্য|দ্রোণকে]] তাঁর পুত্রের মৃত্যুর মিথ্যা সংবাদ জানায় '''(“'''[[অশ্বত্থামা|''অশ্বত্থামা'']] ''হত, ইতি গজ।''”)। শোকে দ্রোণ অস্ত্রত্যাগ করলে দ্রৌপদীর ভ্রাতা [[ধৃষ্টদ্যুম্ন]] তাঁকে বধ করেন। ভীম [[দুঃশাসন|দুঃশাসনের]] বুক চিরে রক্তপান করেন। [[কর্ণ]]-অর্জুনের যুদ্ধে কর্ণের রথের চাকা মাটিতে বসে যায় ও [[কর্ণ]] চাকা তুলতে গেলে &nbsp;অর্জুন তাঁকে বধ করেন। যুধিষ্ঠির [[শল্য|শল্যকে]] ও [[সহদেব]] [[শকুনি|শকুনিকে]] বধ করেন। একে একে সবার মৃত্যু হয়। শেষে [[ভীম]] কৃষ্ণের ইঙ্গিতে অন্যায়ভাবে গদা দ্বারা [[দুর্যোধন|দুর্যোধনের]] ঊরুভঙ্গ করে তাঁকে বধ করেন। কিন্তু গভীর রাতে [[অশ্বত্থামা]] পাণ্ডব শিবিরে প্রবেশ করে দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র, ধৃষ্টদ্যুম্ন প্রভৃতিদের হত্যা করেন। ক্রুদ্ধ পাণ্ডবেরা অশ্বত্থামার মস্তকের মণি হরণ করেন ও জরাগ্রস্ত অমর অশ্বত্থামা নিরুদ্দিষ্ট হন।
 
এই রূপে ১৮ দিনের মহাযুদ্ধে পাণ্ডবেরা জয়ী ঘোষিত হন।
২৭,৫৪৮টি

সম্পাদনা