"ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(→‎স্মৃতিস্তম্ভ ও ভাস্কর্য: বিশয়বস্তু সংযোজন)
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা
[[চিত্র:Syed Nawab Ali Chowdhury.JPG||right|thumb|150px||নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান প্রস্তাবক]]
 
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকালে স্বাধীন জাতিসত্ত্বার বিকাশের লক্ষ্যে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ব্রিটিশ ভারতে তত্কালীন শাসকদের অন্যায্য সিদ্ধান্তে পূর্ববঙ্গের মানুষের প্রতিবাদের ফসল হচ্ছে এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এ সম্পর্কে প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ [[মুনতাসীর মামুন]] ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী গ্রন্থে লিখেছেন, “বঙ্গভঙ্গ রদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। [[লর্ড লিটন]] যাকে বলেছিলেন ‘স্পেল্নডিড ইম্পিরিয়াল কমপেনসেশন’। পূর্ববঙ্গ শিক্ষাদীক্ষা, অর্থনীতি সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিল। বঙ্গভঙ্গ হওয়ার পর এ অবস্থার খানিকটা পরিবর্তন হয়েছিল, বিশেষ করে শিক্ষার ক্ষেত্রে।<ref>http://archive.prothom-alo.com/detail/news/5587</ref>[[১৯১২]] সালের [[ফেব্রুয়ারি ২|২ ফেব্রুয়ারি]] ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের [[ভাইসরয়]] [[লর্ড হার্ডিঞ্জ]]। এর মাত্র তিন দিন পূর্বে [[ভাইসরয়]] এর সাথে সাক্ষাৎ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আবেদন জানিয়ে ছিলেন ঢাকার [[খাজা সলিমুল্লাহ|নবাব স্যার সলিমুল্লাহ]], ধনবাড়ীর [[সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী|নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী]], [[আবুল কাশেম ফজলুল হক|শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক]] এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। [[মে ২৭|২৭ মে]] বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য প্রস্তাব করেন ব্যারিস্টার আর. নাথানের নেতৃত্বে ডি আর কুলচার, [[নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী]], [[নবাব সিরাজুল ইসলাম]], ঢাকার প্রভাবশালী নাগরিক [[আনন্দচন্দ্র রায়]], [[ঢাকা কলেজ|ঢাকা কলেজের]] অধ্যক্ষ [[ডব্লিউ.এ.টি. আচির্বল্ড]], [[বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়| (জগন্নাথ কলেজ])]-এর অধ্যক্ষ [[ললিত মোহন চট্টোপাধ্যায়]], [[ঢাকা মাদ্রাসা]]র (বর্তমান [[কবি নজরুল সরকারি কলেজ]]) তত্ত্বাবধায়ক শামসুল উলামা [[আবু নসর মুহম্মদ ওয়াহেদ]], [[মোহাম্মদ আলী]] (আলীগড়), প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যক্ষ এইচ.এইচ.আর.জেমস, প্রেসিডেন্সি কলেজের অধ্যাপক সি.ডব্লিউ. পিক, এবং সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ [[সতীশ্চন্দ্র আচার্য]]। [[১৯১৩]] সালে প্রকাশিত হয় নাথান কমিটির ইতিবাচক রিপোর্ট এবং সে বছরই ডিসেম্বর মাসে সেটি অনুমোদিত হয়। [[১৯১৭]] সালে গঠিত স্যাডলার কমিশনও ইতিবাচক প্রস্তাব দিলে ১৯২০ সালের ১৩ মার্চ [[ভারতীয় আইন সভা]] পাশ করে 'দি ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট (অ্যাক্ট নং-১৩) ১৯২০'। পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে রফিকুল ইসলামের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০ বছর গ্রন্থ থেকে জানা যায়, [[নাথান কমিটি]] রমনা অঞ্চলে ৪৫০ একর জায়গায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। এই জায়গায় তখন ছিল [[ঢাকা কলেজ]], [[গভর্নমেন্ট হাউস]], [[সেক্রেটারিয়েট]] ও গভর্নমেন্ট প্রেসসমূহ।
সৃষ্টির শুরুতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নানা প্রতিকূলতার মুখে পড়ে। কলকাতার তত্কালীন একটি শিক্ষিত মহল ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে। বিশেষ করে যারা [[১৯০৬]] সালে বঙ্গভঙ্গের বিরোধিতা করেছিল তারাই এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কে মেনে নিতে পারেনি । বঙ্গভঙ্গ রদের কারনে যে ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সূর্য ডুবে যায় ,তেমনি ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কে বিগ্নিত করতে পারলে এ অঞ্চলের মানুষের সাধিনতার স্পিহা ও আর তৈরি হতনা , কবি গুরু [[রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর]] তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কে ব্যাঙ্গ করে ( মক্কা বিশ্ববিদ্যালয় ) বলেছিলেন । এ ছাড়া [[১৯১৪]] সালে [[প্রথম বিশ্বযুদ্ধ]] শুরু হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এর ফলে পূর্ব বাংলার মানুষ হতাশা প্রকাশ করে। ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে [[সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী]] সরকারের কাছে অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিল পেশের আহ্বান জানান।
[[১৯২০]] সালের ২৩ মার্চ গভর্নর জেনারেল এ বিলে সম্মতি দেন। এ আইনটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ভিত্তি। এ আইনের বাস্তবায়নের ফলাফল হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বেনামী ব্যবহারকারী