"রুডলফ কারনাপ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

কারনাপ জেনা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান-কালের এক্সিওম্যাটিক তত্ত্ব (axiomatic theory) নামের একটি থিসিস লেখার কাজ সম্পন্ন করেন। [[পদার্থবিদ্যা]] বিভাগের কাছে তার এ-থিসিস ‘খুব দার্শনিকতাপূর্ণ’ (Too much philosophical) এবং দর্শন বিভাগের ব্রুনো বাউখের (Bruno Bauch) কাছে ‘বিশুদ্ধ পদার্থবিদ্যা’ (pure physics) মনে হলো। ব্রুনো বাউখের দীক্ষায় এই থিসিস সম্পন্ন করার সময় তিনি সতর্কতার সাথে কান্তের ক্রিটিক অব পিওর রিজন (critique of pure reason)পড়েছিলেন। ব্রুনো বাউখের পরিদর্শনে তিনি আরো একটি থিসিস লেখার কাজ সম্পন্ন করেন, যেটা অনেকটা গোঁড়া কান্তীয় (Kantian)। এ-থিসিস ‘দার রউম’ (Der Raum, ১৯২২, বাংলায়, ‘স্থান’) নামে প্রকাশিত হয়েছিলো। এই থিসিসে তিনি ফরমাল, ফিজিক্যাল ও পারসেপচ্যুয়াল স্থানের (formal, physical and perceptual (e.g., visual) spaces) মধ্যকার পার্থক্য পরিষ্কার করেন।
গাণিতিক যুক্তিবিদ্যার (Mathematical Logic) গটলব প্রেগের (Gottlob Frege) কোর্সের নিয়মিত ছাত্র ছিলেন। ফ্রেগের কোর্সটা ছিল [[বার্ট্রান্ড রাসেল|বার্ট্রান্ড রাসেলের]] (Bertrand Russell) যুক্তিবিদ্যক ও দার্শনিক কাজের উপর। কোর্সটা থেকে তিনি একটা দার্শনিক বোধ লাভ করেন, যেটা পরবর্তীতে তার কাজের সহায়ক হয়েছিলো। তিনি যৌক্তিক অগ্রসরণের সাথে গতানুগতিক দর্শনকে অতিক্রম করার প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছেন। তিনি রাসেলকে চিঠি লিখেছেন। রাসেল কারনাপের উপকারের স্বার্থে তার Principia Mathematica থেকে একটা দীর্ঘ গদ্য দেওয়ার মাধ্যমে সাড়া দিয়েছেন। ১৯২৪ ও ১৯২৫ সালের দিকে তিনি ফেনোমেনোলজির প্রবর্তক এডমুন্ড হুসার্ল আয়োজিত এক সেমিনারে উপস্থিত হন।
কারনাপ ১৯২৩ সালের কনফারেন্সে হ্যান্স রিচেনবাখের (Hans Reichenbach) সাথে যখন পরিচিত হন, তখন এক আত্মীযতামূলক প্রেরণা আবিষ্কার করেন। রিচেনবাখ তাকে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক [[মরিস শ্লিক|মরিস শ্লিকের]] সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। শ্লিক কারনাপকে পরবর্তীতে ১৯২৬ সালে তার বিভাগে শিক্ষকতা করার সুযোগ করে দেন। তিনি [[ভিয়েনা চক্র|ভিয়েনা চক্রের]] সদস্য হন। এ-চক্রের সাথে বিখ্যাত আর যারা ছিলেন: হ্যান্স হ্যান, ফেডরিখ ভাইজম্যান, ওটো নিউরাথ ও হার্বাট ফেইগল। যখন [[লুডভিগ ভিটগেনস্টাইন|ভিতগেনস্তাইন]] ভিয়েনা পরিদর্শনে এসেছেন, তার সাথে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পান তিনি। তিনি হান ও নিউরাথের সাথে যুক্ত হয়ে ১৯২৯ সালে ভিয়েনা চক্রের মেনিফেস্টো রচনা করেন এবং হ্যান্স রিচেনবাখের সাথে দর্শন-জার্নাল Erkenntnis সম্পাদনা করেন।
 
===যৌক্তিক ইতিবাদ===
====বাক্য====
কারনাপ বলেন, দর্শনের একমাত্র কাজ হচ্ছে বিজ্ঞানের বাক্যসমূহকে যৌক্তিক বিশ্লেষণ করা এবং দর্শন ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণ ছাড়া আর কিছু নয়। দর্শনের অধিকাংশ কার্যাবলিই যুক্তিবিদ্যক। তার মতে, অসমাধানযোগ্য জটিল সমস্যা সম্বলিত [[দর্শন]] নামে পরিচিত বিদ্যার স্থান লজিক অব সায়েন্স (logic of science) দখল করে নেয়। কারনাপ তিন ধরণের [[বাক্য|বাক্যের]] কথা উল্লেখ করেন, যেমন- পদান্বয়ী বাক্য (syntactical sentence), বস্তুসংক্রান্ত বাক্য (object sentence) ও ছদ্ম-বস্তুসংক্রান্ত বাক্য (pseudo object sentence)। পদান্বয়ী বাক্য ভাষার বর্ণনা দেয়। বস্তুসংক্রান্ত বাক্য প্রাকৃতিক বস্তুর বর্ণনা দেয় এবং ছদ্ম-বস্তুসংক্রান্ত বাক্য বস্তুসংক্রান্ত বাক্য বলে প্রতীয়মান হলেও বিশ্লেষণে পদান্বয়ী বাক্য বলে ব্যক্ত হয়। এভাবে কারনাপ বিজ্ঞানের বাক্যসমূহকে যৌক্তিক বিশ্লেষণ বলে প্রদর্শন করেন এবং ভাষার যৌক্তিক বিশ্লেষণই দর্শনের কাজ বলে অভিমত দেন।
 
 
== তথ্যসূত্র ==
৩৭৫টি

সম্পাদনা