"বৃহস্পতি গ্রহ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
}}
 
'''বৃহস্পতি গ্রহ''' ([[ইংরেজি ভাষা|ইংরেজি]]: Jupiter ''জূপিটার্‌'', [[আ-ধ্ব-ব]]: ˈdʒu:.pɪ.tə(ɹ)) সূর্য থেকে দূরত্বের দিক দিয়ে পঞ্চম এবং আকার আয়তনের দিক দিয়ে [[সৌরজগৎ|সৌরজগতের]] বৃহত্তম গ্রহ। বৃহস্পতি ব্যতিত সৌর জগতের বাকি সবগুলো গ্রহের ভরকে একত্র করলেও বৃহস্পতির ভর তা থেকে আড়াই গুণ বেশি হবে। বৃহস্পতিসহ আরও তিনটি গ্রহ অর্থাৎ [[শনি গ্রহ|শনি]], [[ইউরেনাস]] এবং [[নেপচুন|নেপচুনকে]] একসাথে [[গ্যাস দানব]] বলা হয়। এই চারটির অপর জনপ্রিয় নাম হচ্ছে [[জোভিয়ান গ্রহ]]। জোভিয়ান শব্দটি জুপিটার শব্দের বিশেষণ রুপ। জুপিটারের গ্রিক প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয় [[জিউস]]। এই জিউস থেকেই ''জেনো-'' মূলটি উৎপত্তি লাভ করেছে। এই মূল দ্বারা বেশ কিছু জুপিটার তথা বৃহস্পতি গ্রহ সংশ্লিষ্ট শব্দের সৃষ্টি হয়েছে। যেমন: জেনোগ্রাফিক।<ref>See for example [http://cfa-www.harvard.edu/iauc/02800/02844.html IAUC 2844: ''Jupiter''] ([[1975]] [[October 1]]). That particular word has been in use [http://adsabs.harvard.edu/cgi-bin/nph-abs_connect?db_key=AST&text=zenographic since at least 1966].</ref> পৃথিবী থেকে দেখলে বৃহস্পতির [[আপাত মান]] পাওয়া যায় ২.৮। এটি পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান তৃতীয় উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। কেবল [[চাঁদ]] এবং [[শুক্র গ্রহ|শুক্র গ্রহের]] উজ্জ্বলতা এর থেকে বেশি। অবশ্য কক্ষপথের কিছু বিন্দুতে মঙ্গল গ্রহের উজ্জ্বলতা বৃহস্পতির চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। সুপ্রাচীনকাল থেকেই গ্রহটি জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিষীদের কাছে পরিচিত ছিল। বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রচুর পৌরাণিক কাহিনী এবং ধর্মীয় বিশ্বাসও আবর্তিত হয়েছে বৃহস্পতিকে কেন্দ্র করে। রোমানরা গ্রহটির নাম রেখেছিল পৌরাণিক চরিত্র [[জুপিটার|জুপিটারের]] নামে। জুপিটার রোমান পুরাণের প্রধান দেবতা। এই নামটি [[প্রাক-ইন্দো-ইউরোপীয় ধর্ম|প্রাক-ইন্দো-ইউরোপীয়]] ভোকেটিভ কাঠামো থেকে এসেছে যার অর্থ ছিল ''আকাশের পিতা''।<ref>{{cite web | last = Harper | first = Douglas | date = November 2001 | url = http://www.etymonline.com/index.php?term=Jupiter | title = Jupiter | publisher = Online Etymology Dictionary | accessdate = 2007-02-23 }}</ref>
 
বৃহস্পতি গ্রহের প্রাথমিক উপাদান হচ্ছে [[হাইড্রোজেন]] এবং সামান্য পরিমাণ [[হিলিয়াম]]। এতে অপেক্ষাকৃত ভারী মৌলসমূহ দ্বারা গঠিত একটি কেন্দ্রও থাকতে পারে। খুব দ্রুত ঘূর্ণনের কারণে এর আকৃতি হয়েছে [[কমলাকৃতি|কমলাকৃতির]] গোলকের মত, বিষুবের নিকটে ক্ষুদ্র কিন্তু চোখে পড়ার মত উল্লেখযোগ্য একটি স্ফীতি অংশ রয়েছে। বাইরের বায়ুমণ্ডল বিভিন্ন অক্ষাংশে বিভিন্ন ব্যান্ডে বিভক্ত যেগুলো বেশ সহজেই চোখে পড়ে। এ কারণে একটি ব্যান্ডের সাথে অন্য আরেকটি ব্যান্ডের সংযোগস্থলে ঝড়-ঝঞ্ঝাপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করে। এ ধরণের পরিবেশের একটি অন্যতম ফলাফল হচ্ছে [[মহা লাল বিন্দু]] (great red spot)। এটি মূলত একটি অতি শক্তিশালী ঝড় যা সপ্তদশ শতাব্দী থেকে একটানা বয়ে চলেছে বলে ধারণা করা হয়। গ্রহটিকে ঘিরে এবটি দুর্বল [[গ্রহীয় বলয়]] এবং শক্তিশালী [[ম্যাগনেটোস্ফিয়ার]] রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে কমপক্ষে ৬৩টি উপগ্রহ যাদের মধ্যে চারটি উপগ্রহ বৃহৎ আকৃতির। এই চারটিকে [[গ্যালিলীয় উপগ্রহ]] বলা হয়। কারণ [[১৬১০]] সালে গ্যালিলিও প্রথম এই চারটি উপগ্রহ আবিষ্কার করেছিলেন। সর্ববৃহৎ উপগ্রহ [[গ্যানিমেড|গ্যানিমেডের]] আকৃতি [[বুধ গ্রহ|বুধ গ্রহের]] চেয়েও বেশি। বিভিন্ন সময় বৃহস্পতি গবেষণার উদ্দেশ্যে মহাশূন্য অভিযান প্রেরিত হয়েছে। [[পাইওনিয়ার প্রোগ্রাম|পাইওনিয়ার]] এবং [[ভয়েজার প্রোগ্রাম|ভয়েজার প্রোগ্রামের]] মহাশূন্যযানসমূহ এর পাশ দিয়ে উড়ে গেছে। এর পরে [[গ্যালিলিও অরবিটার]] প্রেরিত হয়েছে। সবশেষে প্রেরিত অভিযানের নাম [[নিউ হরাইজন্‌স]] যা মূলত প্লুটোর উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে। [[২০০৭]] সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এটি বৃহস্পতির নিকট দিয়ে গেছে। পরবর্তীতে [[ইউরোপা]] উপগ্রহের উদ্দেশ্যে অভিযান পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
২৪৯টি

সম্পাদনা