সাবাশ বাংলাদেশ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

সম্পাদনা সারাংশ নেই
(বট: 1 টি আন্তঃউইকি সংযোগ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা এখন উইকিউপাত্তের - d:q7460044 এ রয...)
সম্পাদনা সারাংশ নেই
'''সাবাশ বাংলাদেশ - রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়'''
[[চিত্র:Sabash Bangladesh - RU - 3.JPG|thumb|220px|শাবাশ বাংলাদেশ, [[রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়]]]]
'''শাবাশ বাংলাদেশ''' [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ|বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের]] স্মৃতিবিজরিত ভাস্কর্যগুলোর অন্যতম। এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটি [[রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়|রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে]] অবস্থিত। এর স্থপতি শিল্পী [[নিতুন কুণ্ডু]]। এটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতীকী ভাস্কর্য। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের যে প্রতীকি ভাস্কর্যগুলো রয়েছে তার মধ্যে প্রকাশভঙ্গীর সরলতা, গতিময়তা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার তেজস্বী প্রকাশ এবং নন্দনতাত্বিক দিক থেকে এই ভাস্কর্যটি অনবদ্য
 
==স্থাপত্য তাৎপর্য==
 
স্বাধীনতার জ্বলন্ত প্রমাণকে ধরে রাখার জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে স্মারক ভাস্কর্য সাবাস বাংলাদেশ । ১৯৬৯ সালের গণ আন্দোলনের সময় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র –শিক্ষক- কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বলিষ্ঠ সাহসী ভূমিকা ছিল। সে সময় এমন ঘটনার আর্বত সৃষ্টি হয় যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলই তাতে জড়িয়ে পড়েন এবং অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা শাহাদাৎ বরণ করেন। এরপর ১৯৭১ সালের ২৫মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী অতর্কিত আক্রমণ চালিয়ে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ নিশ্চিহৃ করার যে ব্যর্থ প্রয়াসের সূচনা করে তাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও আক্রান্ত হয়। কয়েকদিনের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর যে দল রাজশাহীতে সক্রিয় ছিল তা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং অবশেষে স্থানীয় ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় গ্রহণ করতে বাধ্য হয় । রাজশাহী শহর তৎকালীন ই.পি.আর. নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি বিপুল অংশ শহরে প্রবেশ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ঘাটি স্থাপন করে। জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবপূর্ণ অবদান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল। তাদের বিতাড়িত করতে শাহাদৎ বরণ করেন অধ্যাপক হবিবুর রহমান, অধ্যাপক সুখরঞ্জন সমাদ্দার, অধ্যাপক মীর আক্ষদুল কাউযুম, কর্মকর্তা- কর্মচারী ও ছাত্র।
 
জানা গেছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক শিক্ষক-ছাত্র শহীদ হওয়ায় এর স্মৃতিকে চির অম্লানকরেঅম্লান করে রাখার জন্য উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। তারপর নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ হয় সিনেট ভবনের দক্ষিণে। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের উদ্যোগে শিল্পী নিতুন কুন্ডুর উপাস্থপনায় নির্মাণ কাজ শুরু হয়। নির্মাণ কাজ শেষে হলে এর ফলক উম্মোচন করেন শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। ভাস্কর্যে স্থান পেয়েছে তরুণ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার কয়েকটি লাইন। যা হলো ’সাবাস বাংলাদেশ/এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয় / জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার/তবু মাথা নোয়াবার নয়’। ভাস্কর্যটি দাড়িয়ে আছে ৪০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে যেখানে রয়েছে দুজন বীর মুক্তিযুদ্ধার প্রতিকৃতি। একজন রাইফেল উচু করে দাঁড়িয়ে আর তার বাঁ বাহুটি মুষ্টিবদ্ধ করে জাগানো। অন্যজন রাইফেল হাতে দৌড়ের ভঙ্গিতে রয়েছে। যার পরনে প্যান্ট, মাথায় এলোমেলো চুলের প্রাচুর্য যা কিনা আধুনিক সভ্যতার প্রতীক । এ দু’জন মুক্তিযুদ্ধার পেছনে ৩৬ ফুট উঁচু একটি দেয়ালও দাড়িয়ে আছে। দেয়ালের উপরের দিকে রয়েছেএক শুন্য বৃত্ত যা দেখতে সূর্যের মতোই। ভাস্কর্যটির নিচের দিকে ডান ও বাম উভয় পাশে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট উঁচু দুটি ভিন্ন চিত্র খোদাই করা হয়েছে। ডানদিকের দেয়ালে রয়েছে দু’জন যুবক -যুবতী। যুবকের কাঁধে রাইফেল, মুখে কালো দাড়ি, কোমরে গামছা বাধা যেন বাউল। আর যুবতীর হাতে একতারা। গাছের নিচে মহিলা বাউলের ডান হাত আউলের বুকে বাম দিকের দেয়ালে রয়েছে মায়ের কোলে শিশু, দু’জন যুবতী একজনের হাতে পতাকা। পতাকার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে গেঞ্জী পড়া এক কিশোর। \
'''’সাবাস বাংলাদেশ
এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুড়ে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয়’।'''
 
=== বিবরণ===
 
৪০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়েছে। পুরো ভাস্কর্যটি একট বিশাল বেদীর ওপর স্থাপিত। কয়েকধাপ সিঁড়ি দিয়ে ভাস্কর্যের মূল বেদীতে উঠতে হয়।ভাস্কর্যের কেন্দ্রীয় অংশে রয়েছে দু'জন বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতি। একজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা রাইফেল হাতে এগিয়ে যাওয়ার ভঙ্গিতে বাঁ পা বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর এক হাতে রাইফেল, অন্য হাত মাথার সামান্য উপরে দৃঢ় মুষ্টিবদ্ধভাবে রয়েছে।তাঁর পরনে লুঙ্গি। উর্ধাংগ উন্মুক্ত। তরুণ মুক্তিযোদ্ধার পেশীবহুল দেহ অমিত শক্তির আভাস দিচ্ছে। তরুণের চুল ঘন ও প্রশস্ত ললাট দৃঢ়তা ও উদারতার প্রতীক। এই মুক্তিযোদ্ধা সাধারণ গ্রামীণ তরুণের প্রতীক যাঁরা দেশকে স্বাধীন করার জন্য বীরবিক্রমে মরণপণ যুদ্ধ করেছেন। অন্য প্রতিকৃতিতে তরুণ মুক্তিযোদ্ধা দুহাতে দৃঢ়ভাবে রাইফেলধরে দৌড়ের ভঙ্গিতে রয়েছেন। এই তরুণ মুক্তিযোদ্ধার পরণে প্যান্ট ও হাফ হাতা শার্ট। বুকের কাছে শার্টের বোতাম কিছুটা খোলা।তরুণের মাথায় এলোমেলো চুলের প্রাচুর্য। চোখের শাণিত দৃষ্টিতে মেধা ও সাহসের ছাপ। দৌড়ের ভঙ্গিতে রয়েছে গতি,সাহস ও বীরত্বের প্রকাশ। তরুণের ঝাকড়া চুল আধুনিক সভ্যতার প্রতীক। এই তরুণ বাংলাদেশের নগরের শিক্ষার্থী মুক্তিযোদ্ধার প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিপুল সংখ্যায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। বস্তুত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি বড় অংশই ছিল তরুণ ছাত্রসমাজ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়েরও বহু ছাত্র যুদ্ধে অংশ নেন,বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করেন। ছাত্র যোদ্ধাদের প্রতীক এই ভাস্কর্যের তরুণ।
 
এ দুজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতিকৃতির পিছনে রয়েছে ৩৬ ফুট উঁচু একটি দেয়াল। দেয়ালে উপরের অংশে রয়েছে একটি বৃত্ত। এই বৃত্ত স্বাধীনতার সূর্যের প্রতীক। ভাস্কর্যটির নিচের দিকে ডান ও বাম উভয় পাশে ৬ ফুট বাই ৫ ফুট আয়তাকার দুটি দেয়াল চিত্র রয়েছে। দেয়ালে খোদাই করা রয়েছে দুটি ভিন্ন চিত্র।ডানদিকের দেয়ালে রয়েছে দু'জন যুবক যুবতী। যুবকের কাঁধে রাইফেল,মুখে কালো দাঁড়ি,কোমরে গামছা বাঁধা।এই যুবক মুক্তিযোদ্ধা বাউলের প্রতীক। মুক্তিযুদ্ধে বাউল,লোকজ শিল্পীসহ বাংলাদেশের যে সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন তা তুলে ধরা হয়েছে এখানে। বাউল তরুনের পাশে রয়েছে একতারা হাতে বাউল তরুণী। ডানদিকের দেয়ালে রয়েছে মায়ের কোলে শিশু,দু'জন তরুণী একজনের হাতে পতাকা।পতাকার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে গেঞ্জি পরা এক কিশোর। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ। এ জনযুদ্ধে নারী শিশু সহ সর্ব স্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছিল। এই জনতার প্রতীক হলো দেয়ালের প্রতিকৃতিগুলো।
 
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের চিরন্তন স্মৃতি বহণ করছে স্মারক ভাস্কর্য সাবাশ বাংলাদেশ।
 
=তথ্য সূত্র=
১. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস, লেখক- বায়েজিদ আহমেদ, পৃষ্ঠা নং ৬৪-৬৫
২. দৈনিক ইত্তেফাক, ১৫.১২.১০
৩. http://bengali.cri.cn/461/2012/03/23/41s122049.htm
 
 
{{অসম্পূর্ণ}}
১৫৫টি

সম্পাদনা