"পাখি পরিযান" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

বানান সংশোধন
(বট: 4 টি আন্তঃউইকি সংযোগ স্থানান্তর করেছে, যা এখন উইকিউপাত্তের - d:Q216507 এ রয়েছে)
(বানান সংশোধন)
[[File:Waders in flight Roebuck Bay.jpg|thumb|পরিযায়ী পাখির ঝাঁক বেঁধে পরিযায়নপরিযান]]
[[File:Grus grus -migrating north-6a.jpg|thumb|পরিযায়ী [[সারস]]]]
 
'''পাখি পরিযায়নপরিযান''' বলতে নির্দিষ্ট প্রজাতির কিছু পাখির প্রতি বছর বা কয়েক বছর পর পর একটি নির্দিষ্ট ঋতুতে বা সময়ে কম করে দু’টি অঞ্চলের মধ্যে আসা-যাওয়াকেই বোঝায়। জীবজন্তুর ক্ষেত্রে '''মাইগ্রেশন''' (''Migration'') এর সঠিক [[পরিভাষা]] হচ্ছে সাংবাৎসরিক পরিযায়ন।পরিযান।<ref name="আলী রেজা">''বাংলাদেশের পাখি'', রেজা খান, বাংলা একাডেমী, ঢাকা (২০০৮), পৃ. ২৩।</ref> যে সব প্রজাতির পাখি পরিযায়নেপরিযানে অংশ নেয়, তাদেরকে '''পরিযায়ী পাখি''' বলে। এ পাখিরা প্রায় প্রতিবছর পৃথিবীর কোন এক বা একাধিক দেশ বা অঞ্চল থেকে বিশ্বের অন্য কোন অঞ্চলে চলে যায় কোন একটি বিশেষ ঋতুতে। সে ঋতু শেষে সেগুলো আবার ফিরে যায় যেখান থেকে এসেছিল সেখানে। এমন আসা যাওয়া কখনো এক বছরে সীমিত থাকে না। এ ঘটনা ঘটতে থাকে প্রতি বছর এবং কমবেশি একই সময়ে।
 
কিছু প্রজাতির মাছ, স্তন্যপায়ী প্রাণী এমনকি পোকামাকড়ও ফিবছর পরিযায়নপরিযান ঘটায়। তবে পাখির মত এত ব্যাপক আর বিস্তৃতভাবে কেউই পরিযায়নেপরিযানে অংশ নেয় না। পৃথিবীর প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখির মধ্যে ১৮৫৫ প্রজাতিই (প্রায় ১৯%) পরিযায়ী।<ref name="BirdLife's Flyways Programme">[http://www.birdlife.org/flyways/index.html], BirdLife International এ পাখি পরিযায়নপরিযান বিষয়ক নিবন্ধ।</ref>
 
==পরিযায়নেরপরিযানের কারণ==
 
পাখি পরিযায়নেরপরিযানের অন্যতম দু’টি কারণ হচ্ছে খাদ্যের সহজলভ্যতা আর বংশবৃদ্ধি। [[উত্তর গোলার্ধ|উত্তর গোলার্ধের]] অধিকাংশ পরিযায়ী পাখি বসন্তকালে উত্তরে আসে অত্যধীক পোকামাকড় আর নতুন জন্ম নেয়া উদ্ভিদ ও উদ্ভিদাংশ খাওয়ার লোভে। এসময় খাদ্যের প্রাচুর্যের কারণে এরা বাসা করে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। শীতকালে বা অন্য যে কোন সময়ে খাবারের অভাব দেখা দিলে এরা দক্ষিণে রওনা হয়।<ref name="migration">[http://www.birds.cornell.edu/AllAboutBirds/studying/migration/], ''Migration'', All about birds.</ref><ref name=Lincoln>{{cite book|author=Lincoln, F. C.|year=1979|title=Migration of Birds.|publisher=Fish and Wildlife Service. ''Circular 16'.|url=http://www.archive.org/details/migrationofbirds00lincrich}}</ref>
 
আবহাওয়াকে পাখি পরিযায়নেরপরিযানের অন্য আরেকটি কারণ হিসেবে ধরা হয়। শীতের প্রকোপে অনেক পাখিই পরিযায়ী হয়। [[হামিংবার্ড|হামিংবার্ডও]] এর ব্যতিক্রম নয়। তবে খাবারের প্রাচুর্য থাকলে প্রচণ্ড শীতেও এরা বাসস্থান ছেড়ে নড়ে না।<ref name="migration"/>
 
==পরিযায়নেরপরিযানের প্রকার==
 
পাখিদের মধ্যে সাধারণত তিন ধরনের পরিযায়নপরিযান লক্ষ্য করা যায়।<ref name="migration"/> পরিযায়নেরপরিযানের প্রকারগুলো হল-
 
[[Image:Migrationroutes.svg|thumb|300px|কতিপয় দীর্ঘদৈর্ঘ্যের পরিযায়ী পাখির পরিযায়নপথপরিযানপথ]]
# '''স্বল্পদৈর্ঘ্য পরিযায়নপরিযান:''' এধরনের পরিযায়ী পাখিগুলো প্রধানত স্থায়ী। তবে খাদ্যাভাব দেখা দিলে এরা তাদের স্বাভাবিক বিচরণক্ষেত্রের আশেপাশে অন্য অঞ্চলে গমন করে। এদের পরিযায়নপরিযান অনিয়মিত। [[চাতক]], [[পাপিয়া]], [[লালপাখাখয়েরি-ডানা কোকিলপাপিয়া|খয়েরিডানা পাপিয়া]] স্বল্পদৈর্ঘ্যের পরিযায়ী পাখি।
# '''মধ্যদৈর্ঘ্য পরিযায়নপরিযান:''' এ প্রজাতির পাখিরা প্রায়শ পরিযায়নপরিযান ঘটায়, তবে পরিযায়নেরপরিযানের বিস্তার স্বল্পদৈর্ঘ্যের পরিযায়ী পাখিদের তুলনায় অনেক বেশি হয়।
# '''দীর্ঘদৈর্ঘ্য পরিযায়নপরিযান:''' এ প্রজাতির পাখিদের পরিযায়নপরিযান এক বিশাল এলাকা জুড়ে ঘটে। এ ধরনের পাখিদের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যেতে এক বা একাধিক সপ্তাহ লাগে। এসময় এরা হাজার হাজার মাইল দূরত্ব পাড়ি দেয়। [[নীলশির]], [[লালশির]], [[কালো হাঁস]], [[লেনজালেন্জা হাঁস]], [[ক্ষুদে গাংচিল]] দীর্ঘদৈর্ঘ্যের পরিযায়ী পাখি।<ref name="Migratory Patterns">[http://www.birds.cornell.edu/AllAboutBirds/studying/migration/], ''Migratory Patterns'', All about birds.</ref>
 
==পরিযায়নপরিযান প্রক্রিয়া==
 
==পরিযায়ন প্রক্রিয়া==
দীর্ঘ যাত্রায় পাখিরা কিভাবে পথ চেনে, সে এক রহস্য। দেখা গেছে পথ চেনাতে অভিজ্ঞ পাখিরাই ঝাঁকের সামনের দিকে থাকে। নতুনরা থাকে পেছনে। এ ক্ষেত্রে পাখিরা উপকূলরেখা, পাহাড়শ্রেণী, নদী, সূর্য, চাঁদ, তারা ইত্যাদির মাধ্যমেই পথ খুঁজে নেয় বলে ধারণা করা হয়। যেসব পাখি একা ভ্রমণ করে তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, জীবনে প্রথমবার গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এলাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেও তারা গন্তব্যে পৌঁছে যায়। এ জন্য বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর চৌম্বকক্ষেত্রই পাখিদের পথ চেনায়।<ref name="test">[http://www.dailykalerkantho.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=09-02-2010&feature=yes&type=single&pub_no=69&cat_id=3&menu_id=22&news_type_id=1&index=0], ''পরিযায়ী পাখি'', মনিরুল খান, দৈনিক কালের কণ্ঠ।</ref>
[[File:Phoenicopterus roseus 2 (Martin Mecnarowski).jpg|thumb|left|[[ফ্লেমিঙ্গো]]]]