অষ্টক গীত ও নৃত্য: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ঠিক কি কারণে বা কোথা থেকে “অষ্টক” নামক গীত / নৃত্যের উদ্ভব ঘটেছে সে সম্পর্কে সঠিকভাবে কোনো তথ্য-বৃত্তান্ত জানা যায় না; বরং এই বিষয়ে নান-ধরনের মতামত প্রচলিত রয়েছে। কেউ বলেন, “এতে আটটি বৈষ্ণবীয় প্রসঙ্গ থাকায়”; কেউ বলেন, “প্রতি দলে আট জনে মিলে রাধা-কৃষ্ণের উক্তি-প্রত্যুক্তিমূলক নাট্যধর্মী গীত পরিবেশন করায়”; কারো মতে, “এটি শ্রীকৃষ্ণের অষ্টপ্রহরের লীলা-সংক্রান্ত নাট্যগীতি হওয়ায়”- একে “অষ্টক গীত / নৃত্য” বলা হয়। আবার এ সম্পর্কে কোন কোন গবেষকের মতে, “এ-সব গানে সনাতন ধর্মীদের অষ্ট-অবতার রাধা, কৃষ্ণ, সুবল, বিশাখা, ললিতা, বৃন্দা, বড়িমাই ও বলরাম-এর বিভিন্ন কার্য-চরিত্রের সমন্বয় ঘটেছে বলে এটি অষ্টক গীত / নৃত্য বলে পরিচিত”; বিপরীতে অপর একদল বলেন, “অবতার শ্রীকৃষ্ণ তার অষ্ট বা আটজন সখীকে নিয়ে লীলা করতেন এবং এ-গানে সেই উপাখ্যান আলোচিত হয় বলে একে অষ্টক গীত / নৃত্য বলে”। অন্য-দিকে, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, এই গীত / নৃত্যে “বাসলী দেবী”-এর বন্দনাও রয়েছে, যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম নিদর্শন বড়ু চন্ডীদাস রচিত “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” কাব্যের ভণিতায়ও লক্ষ্যণীয়; তাই বলা যায় উৎস যা-ই হোক না কেন, লোক-সংস্কৃতির এই ধারাটি সুদূর প্রাচীন কাল হতে এদেশের লোক-মানসের সাথে প্রচলিত প্রথার একটি অংশ হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।<br />
 
বিভিন্ন অঞ্চলে একে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত করা হয়; যেমনঃ ওপার বাংলার মুর্শিদাবাদ ও মালদহ অঞ্চলে “অষ্টকগান” নামে, এপার বাংলার বৃহত্তর কুষ্টিয়া অঞ্চলে ‘‘অষ্টগান’’ নামে, ফরিদপুর / বরিশাল অঞ্চলে “অষ্টক গীত / নৃত্য” নামে এটি পরিচিত।<br />
 
 
==প্রচলিত অঞ্চল-সমূহ==
দেশ বিভাগের পর সনাতন ধর্মীদের একটি বড় অংশ ওপার বাংলায় চলে যাওয়ায় তাদের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাথে সম্পর্কিত লোকজ উৎসবগুলোও ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। অষ্টক গীত / নৃত্য বর্তমানে ওপার বাংলার মুর্শিদাবাদ এবং মালদহ জেলার অন্যতম প্রধান লোকজ উৎসব হলেও আমাদের দেশের কেবলমাত্র নিম্নবর্ণের সনাতন ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত অঞ্চলেই এর প্রসার লক্ষ্য করা যায়। বর্তমানে এদেশের বৃহত্তর খুলনা, যশোহর, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর ও বরিশাল অঞ্চলের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে অষ্টক গীত / নৃত্যের প্রচলন রয়েছে।
 
==শিল্পী-দের কথা==
২৯,০৮৪টি

সম্পাদনা