"অক্তাবিও পাজ" পাতাটির দুইটি সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

(ক্ষুদ্র সংশোধন)
১৯২০-এর দশকে পাজ ইউরোপীয়ান কবি [[জেরারদো ডিয়োগো]], [[রোয়ান রেমন জিমেনেজ]] এবং [[এন্তোনিও মাচোদা]] প্রমুখের কবিতার সাথে পরিচিত লাভ করেন। পাজের প্রারম্ভিক সাহিত্যে স্প্যানিশ লেখক আন্তোনিও মাচোদার প্রভাব গভীরভাবে পরিলক্ষিত হয় <ref>Jaime Perales Contreras: "Octavio Paz y el circulo de la revista Vuelta". Ann Arbor, Michigan: Proquest, 2007. p.46-47. UMI Number 3256542</ref>। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে [[ডি এইচ লরেন্স]] অনুপ্রাণিত কিশোর পাজ '''ক্যাবেরেল্লা''' সহ তার প্রথম জীবনের কিছু কবিতা প্রকাশ করেন। দুই বছর পরে, ১৯ বছর বয়সে পাজ তার কবিতা সংগ্রহ '''লুনা সিল্ভেস্টার''' (বুনো চাঁদ) প্রকাশ করেন। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দের পাজ নিজেকে প্রধানত কবি হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
 
১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে পাজ তার আইন শিক্ষা ছেড়ে দেন। তিনি [[মেক্সিকো|মেক্সিকোর]] অন্যতম প্রদেশ ইউকাতানের রাজধানী মেরিদায় চলে যান এবং সেখানে দরিদ্র কৃষক ও শ্রমিকদের ছেলে মেয়েদের শিক্ষকতার কাজে আত্মনিয়োগ করেন <ref>Guillermo Sheridan: ''Poeta con paisaje: ensayos sobre la vida de Octavio Paz''. México: ERA, 2004. p. 163. ISBN 968-411-575-X</ref>। সেসময় ই তিনি তার দীর্ঘ কবিতাগুলো, যেমন '''বিটুইন দি স্টোন এন্ড দি ফ্লাওয়ার''' লিখতে শুরু করেন। '''বিটুইন দি স্টোন এন্ড দি ফ্লাওয়ার''' কবিতায় তিনি এক লোভী জোতদারের কবলে নিষ্পেষিত এক কৃষকের চিত্রকল্প এঁকেছেন শব্দে <ref>{{cite book |title= Octavio Paz |last= Wilson |first= Jason |authorlink= |coauthors= |year= 1986 |publisher= G. K. Hall |location= Boston |isbn= |pages= |url= }}</ref>। তার এ সময়ের কবিতাগুলো টি এস এলিয়ট দ্বারা প্রভাবিত।
 
১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে মেক্সিকোতে যখন গৃহযুদ্ধ চলছিল, তখন পাজ [[স্পেন|স্পেনে]] অনুষ্ঠেয় দ্বিতীয় সংস্কৃতি রক্ষা আন্তর্জাতিক লেখক সম্মেলনে আমন্ত্রণ পান। সেই সম্মেলনে পাজ রিপাবলিকানদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন এবং [[ফ্যাসীবাদ|ফ্যাসীবাদের]] বিরোধিতা করেন। স্পেন থেকে মেক্সিকোতে ফেরার পর ১৯৩৮ সালে পাজ '''টলার''' ("প্রশিক্ষণশালা") নামে একটি সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেন। ১৯৪১ সাল পর্যন্ত তিনি এই সাময়িকীতে লিখেছিলেন। ১৯৩৮ সালেই পাজ, এলোনা গ্যারো নাম্নী এক তরুণীর সঙ্গে পরিচিত হোন এবং সে বছরই তারা বিয়ে করেন। বর্তমানে এলিনা গ্যারো মেক্সিকোর প্রথমসারির একজন লেখিকা। হেলেনা নামে তাদের একটি কন্যা সন্তান ছিল। পরবর্তিতে, ১৯৫৯ সালে তাদের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে।
 
১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দে পাজ '''গাগেনহেইম''' নামক একটি ফেলোশিপ পান এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলে তে পড়াশোনা শুরু করেন। দুই বছর পর তিনি মেক্সিকোর কূটনৈতিক সংস্থায় চাকুরি গ্রহণ করেন এবং কিছুদিনের জন্য নিউইউর্কে কর্মরত থাকেন। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে পাজ [[ফ্রান্স|ফ্রান্সে]] বদলি হোন। সেখানেই তিনি রচনা করেন মেক্সিকান আত্মপরিচয় ও চিন্তা নিয়ে '''এল ল্যাবিরিন্তো দে লা সোলেদাদ''' (একাকীত্বের গোলকধাঁধা)নামক অনুসন্ধানমূলক নয়টি বৈপ্লবিক প্রবন্ধ। ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে পাজ প্রথম বারের মত [[ভারত]] ভ্রমণে আসেন। একই বছর তিনি দাপ্তরিক কাজে [[টোকিও|টোকিওতে]] এবং পরে [[জেনেভা|জেনেভায়]] গমন করেন। ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি [[মেক্সিকো সিটি|মেক্সিকো সিটিতে]] ফিরে আসেন। মেক্সিকো সিটিতেই ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দে তিনি তার মহান কবিতা '''পিয়েরদা দি সল''' (সূর্যপাথর) রচনা করেন। একই বছর বের হয় তার কবিতা সংকলন '''লিবারতাদ বাজো প্যালাব্রা'''(মুক্তির শপথ)। ১৯৫৯ সালে দাপ্তরিক কাজে আবার [[প্যারিস|প্যারিসে]] যান। ১৯৬২ সালে মেক্সিকোর রাষ্ট্রদূত হিসেবে আবার ভারতে আসেন।
 
ভারতে থাকাকালীন সময়ে পাজ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সমাধা করেন। এর মধ্যে '''এল মনো গ্রামাটিকোগ্রামাতিকো''' (বাঁদর ব্যাকরণবিদ) এবং '''লাদেরা এস্তে''' (পূর্বের ঢাল) অন্যতম। ভারতে থাকাকালে পাজ সেখানকার '''ক্ষুধার্থক্ষুধার্ত প্রজন্ম''' নামক লেখকগোষ্ঠীর সাথে পরিচিত হোন এবং তাদের উপর প্রভূত প্রভাব বিস্তার করেন।
 
১৯৬৩ খ্রিস্টাব্দে তার ফরাসী বান্ধবী বোনার সাথে তার বিচ্ছেদ ঘটে। একই বছর মেরী জোসেহোসে ত্রামিনি নাম্নী আরেক ফরাসী রমনীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন। জীবনের বাকী সময়টুকু পাজ মেরীর সাথেই কাটিয়েছেন। ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে ত্লাতেলোকো এর প্লাজা দি লাস ত্রেস কালচারাসকালতুরাস নামক চত্ত্বরে সরকারী আদেশে প্রতিবাদী ছাত্রজনতা হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে পাজ কূটনীতিবিদের চাকুরিচাকরি থেকে ইস্তফা দেন <ref>Preface to ''The Collected Poems of Octavio Paz: 1957-1987'' by Eliot Weignberger''''</ref>। এরপর কিছুদিনের জন্য পেরিসেপ্যারিসে চলে যান এংএবং পরের বছরই ম্যক্সিকোমেক্সিকো ফিরে আসেন। এসময়এ সময় পাজ কিছু স্বাধীনচেতা মেক্সিকান ল্যাটিনলাতিন আমেরিকান লেখককে সাথে নিয়ে '''প্লুরাল'''(১৯৭০-১৯৭৫) নামক ম্যাগাজিন পত্রিকা বের করেন। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পাজ হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে চার্লস এলিয়ট নর্টন অধ্যাপক হিসেবে অধ্যাপনা করেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যলয়ে সে সময়ে দেয়া লেকচার থেকেই জন্ম নেয় তার আরেকটি কীর্তি '''লস হিজসইহোস দেল লিমো''' (কর্দমার শিশু)। ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে মেক্সিকান সরকার বন্ধ করে দেয়। সেবছরই পাজ, '''ভুলেতাবুলেতা''' নামক আরেকটি প্রকাশনা বের করেন। ভুলেতাবুলেতা এর ভাবাদর্শ প্লুরাল এর অনুগামী থেকে যায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাজ এই প্রকাশনার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সাহিত্যে ব্যক্তিস্বাধীনতার আবেদন উপজীব্য হবার কারনেকারণে ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে পাজ সাহিত্যে জেরুজালেম পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে পাজ [[হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়]] থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দে তিনি '''নিউতস্তাদত''' পুরস্কার পান। ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত লিখিত কবিতাগুলোর একটি সংকলন বের হয়। ১৯৯০ সালেই পাজ নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তপুরস্কারে হোনভূষিত হন <ref>[http://nobelprize.org/literature/laureates/1990 Literature 1990<!-- Bot generated title -->]</ref>।
 
ভারতে থাকাকালীন অবস্থায় ক্ষুধার্থক্ষুধার্ত আন্দোলনের কবিগোষ্টীদেরকবিগোষ্ঠীদের ৩৫ মাসের দীর্ঘ বিচার চলাকালীন সময়ে প্রভূত সাহায্য করেন।
 
পাজ ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
 
== সৃষ্টিকর্ম ==